WEATHER

Top News


সামনেই বর্ষাকাল। তার আগেই কাকদ্বীপ মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় নদী বাঁধের বেহাল অবস্থাকে ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ। একাধিক জায়গায় বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ায় আশঙ্কায় রয়েছেন নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তড়িঘড়ি প্রশাসনিক বৈঠক করলেন কাকদ্বীপ মহকুমা শাসক।

বুধবার কাকদ্বীপ মহকুমা শাসকের দপ্তরে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মহকুমার বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকদের উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন কাকদ্বীপের বিধায়ক দীপঙ্কর জানা এবং সাগরের বিধায়ক সুমন্ত মন্ডল।

সূত্রের খবর, বর্ষার আগে কোন কোন এলাকায় নদী বাঁধ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কোথায় দ্রুত মেরামতির প্রয়োজন এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় কী কী প্রস্তুতি নেওয়া দরকার, তা নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয় বৈঠকে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর বর্ষার সময় দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে নদী বাঁধ ভেঙে জল ঢোকার ঘটনা ঘটে। ফলে চাষের জমি, বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাট ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। তাই এবার আগেভাগেই প্রস্তুতি নিতে তৎপর প্রশাসন।

সাগর থেকে সৌরভ নস্করের রিপোর্ট কাকদ্বীপ ডট কম
ভোট গণনার ফল প্রকাশের পর থেকেই কাকদ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে উৎসবের আবহ। কাকদ্বীপ বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী দীপঙ্কর জানার জয়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই আনন্দে মেতে ওঠেন দলীয় কর্মী-সমর্থকরা। বিভিন্ন বুথে বুথে শুরু হয় উদযাপন, আর সেই ছবিই এবার ধরা পড়ল কাকদ্বীপের ১২০ নম্বর বুথে।

এলাকার রাস্তাজুড়ে দেখা যায় লাড্ডু বিতরণ, গেরুয়া আবির খেলা এবং ডিজে বক্সের তালে তালে নাচে মেতে ওঠার দৃশ্য। বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ এলাকাবাসীরাও এই আনন্দে সামিল হন। বিজয়ের উচ্ছ্বাসে দিনভর উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয় গোটা এলাকায়।

জানা গিয়েছে, কাকদ্বীপ বিধানসভার অন্তর্গত স্বামী বিবেকানন্দ অঞ্চলের ১২০ নম্বর বুথে ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে এদিন একটি “বিজয় অভিযান” কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ওই বিজয় যাত্রায় উপস্থিত ছিলেন বুথের কার্যকর্তারা, বুথ সভাপতি, বিশিষ্ট দলীয় নেতৃত্ব এবং এলাকার একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি।
দলীয় কর্মীদের দাবি, ১২০ নম্বর বুথে সাধারণ মানুষের বিপুল সমর্থনেই কাকদ্বীপ বিধানসভায় এই জয় সম্ভব হয়েছে। তাই সেই জয়ের আনন্দ ভাগ করে নিতেই এদিনের এই বিশেষ বিজয় অভিযান ও উদযাপনের আয়োজন করা হয়।


স্টাফ রিপোর্টার সৌম্য সুন্দর 


শেষ ৫ ম্যাচে ৪ জয়, রীতিমতো খাদের কিনারা থেকে ফিরে আসা। স্বপ্ন তো দেখবেনই সমর্থকরা। যদিও এই মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে একসময় সেই চেনা ভুল করছিল কেকেআর। মাঠে ফেলে আসছিল ম্যাচ, কিন্তু ভাগ্য যার সঙ্গে থাকে, তাকে কি কেউ কোনওভাবে মারতে পারে ?

মুম্বইকে হারিয়েও দুশ্চিন্তা নাইট শিবিরে, কোন অঙ্কে শেষ চারে খেলবেন রাহানেরা?

গতকাল মুম্বইকে (Mumbai Indians) ৪ উইকেটে হারানোর পর যখন কেকেআর (Kolkata Knight Riders) অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে (Ajinkya Rahane) সম্প্রচারকারী সংস্থার সামনে সাক্ষাৎকার দিতে এলেন, তাঁকে দেখে মনে হল, অনেকটা রিল্যাক্সড রয়েছেন। সেটা থাকাটাই স্বাভাবিক। শেষ ৫ ম্যাচে ৪ জয়, রীতিমতো খাদের কিনারা থেকে ফিরে আসা। স্বপ্ন তো দেখবেনই সমর্থকরা। যদিও এই মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে একসময় সেই চেনা ভুল করছিল কেকেআর। মাঠে ফেলে আসছিল ম্যাচ, কিন্তু ভাগ্য যার সঙ্গে থাকে, তাকে কি কেউ কোনওভাবে মারতে পারে ? না। সেই কারণেই মুম্বইকে হারিয়ে এখনো প্লে অফের (IPL Play Off) অঙ্কে বেঁচে নাইটরা।

কিভাবে প্লে অফ খেলবে কলকাতা?



এই মুহূর্তে ১৩ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট রয়েছে কলকাতার। আগামী রবিবার তাদের শেষ ম্যাচ রয়েছে দিল্লির সঙ্গে। সেই ম্যাচ যদি কেকেআর জিতে যায়, তাহলে তাদের পয়েন্ট হবে ১৫। আবার রাজস্থান রয়্যালস শেষ ম্যাচে মুম্বইকে হারিয়ে দিলে কেকেআরের সব আশা শেষ। রাজস্থান যদি শেষ ম্যাচে হারে তাহলে কেকেআরের সঙ্গে সুযোগ থাকবে পাঞ্জাব কিংসের, কারন পাঞ্জাবেরও ১৩ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট রয়েছে। যদি পাঞ্জাব নিজেদের শেষ ম্যাচে লখনৌকে হারায়, এবং কেকেআরও দিল্লিকে হারায়, তাহলে দুই দলেরই পয়েন্ট হবে ১৫। সেক্ষেত্রে দেখা হবে রানরেট। এই মুহূর্তে পাঞ্জাবের রান রেট কলকাতার থেকে ভাল। পাঞ্জাবের রান রেট +০.২২৭। কলকাতার রান রেট +০.০১১।

গতকাল ইডেনের ম্যাচে ফিরেছিলেন মুম্বই অধিনায়ক হার্দিক। কিন্তু মাত্র ২৬ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। ৬ বলে ১৫ করে আউট হয়ে যান রোহিত। করবিন বশের বদান্যতায় ২০ ওভার শেষে ১৪৭ রান বোর্ডে তুলেছিল মুম্বই। কৃপণ বোলিং করলেন সুনীল নারিন। ৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে দিলেন মাত্র ১৩ রান। তবে এই রান তুলতেও কেকেআরের লাগল ১৯ ওভার, হারাতে হল ৬টা উইকেট। ব্যাটিংয়ের পর বোলিংয়েও ৩ উইকেট পেলেন বশ। যদিও, এই রানরেটই না শেষে পার্থক্য গড়ে দেয়, নাহলে এই টানা জেতার যে কোনও দামই থাকবে না।

বিধানসভার আম্বেদকর মূর্তির পাদদেশে তৃণমূূলের বিধায়করা প্রতিবাদ অবস্থানে সামিল হন। ভোট পরবর্তী হিংসা, বুলডোজার রাজ, সংবিধান প্রদত্ত কর্তৃক অধিকার, ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, এইসব ইস্যুতে প্রতিবাদে সামিল হন তাঁরা। কিন্তু নতুন সরকার গঠনের পর বিরোধী দল হিসাবে তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের অর্ধেক বিধায়ককেও আম্বেদকরের মূর্তির পাদদেশে দেখা গেল না। কিন্তু কেন?

ভাঙা হাট? বিধানসভায় ধরা পড়ল TMC বিধায়কদের ছন্নছাড়া পরিস্থিতি, কীরকম?
বিধানসভায় তৃণমূলের বিক্ষোভ

বিধানসভায় তৃণমূলের ভাঙা হাট! বুধবার বিধানসভায় ধরা পড়ল তৃণমূল বিধায়কদের ছন্নছাড়া পরিস্থিতি। দলীয় কর্মসূচিতে ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি অনুপস্থিত। ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস, হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে মাত্র আধ ঘণ্টাতেই শেষ হয়ে গেল তৃণমূলের প্রতিবাদ।

বিধানসভার আম্বেদকর মূর্তির পাদদেশে তৃণমূূলের বিধায়করা প্রতিবাদ অবস্থানে সামিল হন। ভোট পরবর্তী হিংসা, বুলডোজার রাজ, সংবিধান প্রদত্ত কর্তৃক অধিকার, ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, এইসব ইস্যুতে প্রতিবাদে সামিল হন তাঁরা। কিন্তু নতুন সরকার গঠনের পর বিরোধী দল হিসাবে তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের অর্ধেক বিধায়ককেও আম্বেদকরের মূর্তির পাদদেশে দেখা গেল না। কিন্তু কেন?



এ প্রসঙ্গে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “আমাদের পরিষদীয় দলের বৈঠক থেকে এই কর্মসূচিটা হয়েছে। আমরা সেটা ভাগ করে নিয়েছি। কয়েকজন আমরা এখানে বসব, যারা এলাকা সামলেও আসতে পারবেন। আবার বহু এলাকায় মানুষ ঘরছাড়া, যেখানে মানুষ এখনও বাড়িই ঢুকতে পারছে না, থানার সঙ্গে কো অর্ডিনেটর করা দরকার, সেই সমস্ত বিধায়কদের বলা হয়েছে. অবিলম্বে সেখানে চলে যেতে।” কুণালের পাল্টা প্রশ্ন, “মানুষের পাশে বসে না থেকে, সবাই এখানে থাকবেন?আবার এরকমও হতে পারে ক’দিন বাদে, তাঁরা এসে কোনও ইস্যুতে বসবেন, আমরা এলাকায় থাকব।”

বুলডোজার রাজ নিয়ে কুণাল বলেন, “বুলডোজার দিয়ে গরিবের পেটে লাথি মারা এটা সিপিএম করে এসেছে। ১৯৯৬ সালে হাতিবাগান থেকে গড়িয়াহাট গরিবের পেটে বুলডোজার কে চালিয়েছিল? আজ বিজেপি ভাঙছে, আর সিপিএম বাঘ ছাল পরিয়ে এলাকায় ঢুকিয়ে নেতা বানানো হচ্ছে?”
বিধানসভার সচিব একটি চিঠি পেশ করে জানান, তৃণমূলের পক্ষ থেকে যে আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল, তার সঙ্গে বিধায়কদের কোনও ‘রেজুলিউশন কপি’ বা সমর্থনপত্র যুক্ত ছিল না। অর্থাৎ, শোভনদেবকে বিরোধী দলনেতা হিসাবে দলের কতজন বিধায়ক সমর্থন করছেন, তার কোনও লিখিত প্রমাণ বা উল্লেখ সেখানে ছিল না। একই ত্রুটি ছিল ফিরহাদ হাকিমকে চিফ হুইপ করার আবেদনের ক্ষেত্রেও।

 শোভনদেবের বিরোধী দলনেতা হওয়া নিয়ে চরম জটিলতা! অবস্থান স্পষ্ট করল বিধানসভা
শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়

বিধানসভায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে এখনও পর্যন্ত বিরোধী দলনেতার মর্যাদা না দেওয়া এবং তাঁর আরটিআই (RTI) করাকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক। এই পরিস্থিতিতে এবার পুরো বিষয়টি নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করলেন বিধানসভার সচিব সৌমেন্দ্রনাথ দাস। তাঁর সাফ বক্তব্য, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিয়ম মানেনি তৃণমূল কংগ্রেস।


বিতর্কের সূত্রপাত, বিধানসভায় এখনও পর্যন্ত শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় তাঁর বসার ঘর পাননি। অথচ ইতিমধ্যেই তাঁকে তৃণমূল পরিষদীয় দলের তরফে বিরোধী দলনেতা হিসাবে নির্বাচিত করার কথা জানানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ঘরটি তালাবন্ধই রয়েছে।



বিধানসভার সচিব একটি চিঠি পেশ করে জানান, তৃণমূলের পক্ষ থেকে যে আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল, তার সঙ্গে বিধায়কদের কোনও ‘রেজুলিউশন কপি’ বা সমর্থনপত্র যুক্ত ছিল না। অর্থাৎ, শোভনদেবকে বিরোধী দলনেতা হিসাবে দলের কতজন বিধায়ক সমর্থন করছেন, তার কোনও লিখিত প্রমাণ বা উল্লেখ সেখানে ছিল না। একই ত্রুটি ছিল ফিরহাদ হাকিমকে চিফ হুইপ করার আবেদনের ক্ষেত্রেও। সচিবের বক্তব্য, এই আইনি ও প্রশাসনিক ঘাটতির কারণেই বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসু নিয়ম মেনে দলীয় সিদ্ধান্তের রেজুলিউশন কপি চেয়েছিলেন, যা জমা দেওয়া হয়নি। বিধানসভার সচিব সৌমেন্দ্রনাথ দাস চিঠিটা দেখিয়ে বলেন, “এই চিঠির সঙ্গে কোনও রেজুলিউশন কপি যুক্ত ছিল না। শোভনদেবকে বিরোধী দলনেতা হিসাবে ক’জন সদস্য তাঁর মত ব্যক্ত করেছেন, সেটা উল্লেখ নেই।” পাশাপাশি ফিরহাদ হাকিমকেও চিফ হুইপ হিসাবে মত দিয়েছেন, সেটারও উল্লেখ নেই।

শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের আরটিআই-এর জবাবে সচিব আরও মনে করিয়ে দেন যে, বিধানসভার ভেতরে অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং তাঁর সিদ্ধান্তকে কোনোভাবেই চ্যালেঞ্জ করা যায় না। স্পিকার নির্বাচনের দিন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতার প্রথাগত রীতি পালনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল ঠিকই, তবে তার মানে এই নয় যে বিধানসভা কর্তৃপক্ষ পরবর্তীকালে তাঁর পদের সপক্ষে প্রয়োজনীয় নথি বা কাগজপত্র চাইতে পারবে না।

প্রয়োজনীয় নথি জমা না পড়া এবং নিয়মের জটিলতায় আটকে থাকায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয়টি এখন সম্পূর্ণভাবে বিধানসভার অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে বলে জানিয়ে দিয়েছেন সচিব সত্যেন্দ্রনাথ দাস।

 ওই ব্যক্তি একজন পাকিস্তানি মহিলাকে বিয়ে করেছেন, পাকিস্তানে রয়েছে তাঁদের সন্তানও। ২০০৫ সাল থেকে কলকাতা থেকে একাধিকবার পাকিস্তানে গিয়েছেন তিনি। এনআইএ আধিকারিকরা জানতে পেরেছেন, সেখানেই জাফর এক পাক গোয়েন্দার খপ্পরে পড়ে যান। এ

কলকাতা থেকে গ্রেফতার পাক-চর জাফর রিয়াজ, পাকিস্তানে রয়েছে স্ত্রী-সন্তান
পাক গোয়েন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ, পাকিস্তানের হাতে ভারতের গোপন তথ্য পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছিলেন জাফর রিয়াজ। এমন অভিযোগেই বুধবার কলকাতা থেকে সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে এনআইএ।

পাকিস্তানের চরবৃত্তির একটা চক্রের খোঁজ করতে করতে কলকাতায় পৌঁছে যায় কেন্দ্রীয় সংস্থার গোয়েন্দারা। এনআইএ সূত্রের খবর, পাকিস্তানি নাগরিকত্বের টোপ দিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছিল জাফরকে। আর সেই ফাঁদেই পা দিয়ে দিয়েছিলেন এই ভারতীয় নাগরিক।



ওই ব্যক্তি একজন পাকিস্তানি মহিলাকে বিয়ে করেছেন, পাকিস্তানে রয়েছে তাঁদের সন্তানও। ২০০৫ সাল থেকে কলকাতা থেকে একাধিকবার পাকিস্তানে গিয়েছেন তিনি। এনআইএ আধিকারিকরা জানতে পেরেছেন, সেখানেই জাফর এক পাক গোয়েন্দার খপ্পরে পড়ে যান। এরপর নিজের নামে ভারতীয় সিম তুলে পাকিস্তানের ইন্টেলিজেন্স অফিসারকে ভারতীয় নম্বরের ওটিপি দেন, যাতে ওই পাক গোয়েন্দা ভারতীয় নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) ব্যবহার করতে পারে।

আরও জানা গিয়েছে যে ওই হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে মোতিরাম নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হত। তিনিও এই চক্রের সঙ্গে জড়িত। এনআইএ তদন্ত জারি রেখেছে। একে একে খুঁজে বের করা হচ্ছে, কারা এই চরবৃত্তির সঙ্গে জড়িত ছিল।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে এক CRPF জওয়ান গ্রেফতার হয়। পাক ইন্টেলিজেন্স অফিসারকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাঠানোর অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। তদন্তভার এনআইএ (NIA) নেওয়ায় পর অসম, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ সহ আট রাজ্যে তল্লাশি চালায়। কলকাতা, শিলিগুড়িতে তল্লাশি হয়েছিল। তারপরই এই গ্রেফতারি।

২০১৪ সাল থেকে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ পদে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন অভিষেকের আয় বা সম্পত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল বিজেপি, আর পালাবদলের পর সরাসরি অভিষেকের বাড়ির দেওয়ালে লেগেছে নোটিস।

 অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোটি টাকা আয়, কীভাবে ইনকাম করেন?
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায় (ফাইল ছবি)


 রাজ্যে পালাবদলের পর হরিশ মুখার্জি রোডের ছবিটা অনেকটাই বদলে গিয়েছে। ‘শান্তিনিকেতন’-এর সামনে থেকে সরেছে গার্ডরেল। যেতে যেতে ওই বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন অনেকেই। তিনদিনের মধ্যে দু’খানা নোটিস পড়েছে ওই বাড়ির দেওয়ালে। শুধু তাই নয়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তির পরিমাণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যাঁর সম্পত্তি নিয়ে এত তর্ক-বিতর্ক, তিনি বছরে কত টাকা আয় করেন, তাঁর আয়ের উৎসই বা কী?

কত আয় করেন অভিষেক?
২০২৪-এ লোকসভা ভোটে লড়াই করার সময় নির্বাচন কমিশনে যে হলফনামা জমা দিয়েছিলেন তিনি, তাতেই নিজের আয়ের কথা উল্লেখ করেছিলেন অভিষেক। সেই হলফনামা অনুযায়ী-



২০১৮-১৯ সালে অভিষেকের আয় ছিল ৭১ লক্ষ ৫২ হাজার ২০০ টাকা।

২০১৯-২০-তে আয় ছিল ৬৭ লক্ষ ৩২ হাজার ৩৭০ টাকা।

২০২০-২১-এ আয় ছিল ১ কোটি ৫১ লক্ষ ২৯ হাজার ১৭০ টাকা।

২০২১-২২-এ আয় ছিল ৯০ লক্ষ ৫০ হাজার ৬৪৩ টাকা।

২০২২-২৩ এ আয় ছিল ৮২ লক্ষ ৫৮ হাজার টাকা।

অভিষেকের আয়ের উৎস কী?
বছরে এই যে লক্ষাধিক টাকা, কখনও কোটি টাকা আয় করেছেন, তার উৎসও উল্লেখ করা আছে হলফনামায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায় জানিয়েছেন, তাঁর আয়ের উৎস হল বেতন, সাম্মানিক ও ব্যাঙ্কের সুদ।

নিজের পেশা হিসেবে সাংসদ পদের কথা উল্লেখ করেছেন অভিষেক। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে, সাংসদ হিসেবে পাওয়া বেতন ও সাম্মানিকের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।

সাংসদের কত আয়?
২০২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, সাংসদরা মাসিক বেতন পান ৭০ হাজার টাকা। আগে সাংসদরা মাসিক ১ লক্ষ টাকা করে বেতন পেতেন। ২০২০ সালে তা কমিয়ে ৭০ হাজার টাকা করা হয়। এছাড়া কন্সটিটিউয়েন্সি অ্যালাওয়েন্স হিসাবে ৪৯ হাজার টাকা পান সাংসদরা। অফিস এক্সপেন্স অ্যালাওয়েন্স হিসাবে ৫৪ হাজার টাকা পান। সব মিলিয়ে সাংসদরা মাসিক ৭০ হাজার টাকা বেতন ও বিভিন্ন ভাতা বাবদ ১ লক্ষ ৩ হাজার টাকা পান। এছাড়াও বিভিন্ন বৈঠকে যোগ দিলে ভাতা দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে যোগ দিলে ২১০০ টাকা, ক্যাবিনেট মন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিলে ১৪০০ টাকা, রাজ্যের মন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিলে ৭০০ টাকা ও প্রতিমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিলে ৪২০ টাকা সাম্মানিক পান সাংসদরা।

 মুখ খুলেছেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষও। তিনি বলছেন, “দলের মুখপাত্র হিসাবে আমাদের যা মনে হয় সেটা বলছি। এবার কার কতগুলি আছে, সেখানে কোনও নোটিস গিয়েছে না যায়নি সেটা আমাদের জানার কথা নয়।”

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির অবৈধ অংশ ভাঙা নিয়ে তোলপাড় রাজনৈতিক আঙিনা। তৃণমূলের অন্দরেও ঝড়। বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকে মঙ্গলবারই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকী কেন আগে থেকে নোটিসের বিষয়ে কিছু জানা গেল না তা নিয়ে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমকেও বকাঝকা করেন মমতা। বিধায়কদের বৈঠকে তা নিয়ে বিস্তর চাপানউতোরও হয়। 

এবার মুখ খুলতে দেখা গেল ফিরহাদ হাকিমকেও। তাঁর সাফ কথা, অভিষেকের সম্পত্তির বিষয়ে কিছুই জানেন না, নোটিস সম্পর্কেও কিছুই জানেন না। তিনি বলেন, কারও ব্যক্তিগত বিষয়ে বলতে পারব না। আমি কোনও ইজারা নিইনি। 



ফিরহাদ আরও বলেন, “কেএমসি বিল্ডিং বিভাগ কাকে নোটিস দেবে কাকে দেবে না, নোটিসে কী সেকশন এটা আমার এক্তিয়ারের মধ্যে নেই। মেয়রকে তো জানানোর কথাও নয়। আমি তো কোনও ইজারা নিইনি। তাই আমি যেটা নিয়ম সেটা শুধু বলতে পারি।” এদিকে পুরসভার আইন বলছে পুর কমিশনার তিনি এ ক্ষেত্রে তিনি নিতে পারেন। অনেকেই বলেছেন অভিষেক বাড়ির ক্ষেত্রে পুরো সিদ্ধান্ত তিনিই নিয়েছেন। দায়িত্বে রয়েছেন স্মিতা পাণ্ডে। তাই ফিরহাদ হাকিম বলছেন তাঁর কোনও কিছুই জানান কথা নয়। সেই নিয়মের কথাই বলছেন তিনি। 

মুখ খুলেছেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষও। তিনি বলছেন, “দলের মুখপাত্র হিসাবে আমাদের যা মনে হয় সেটা বলছি। এবার কার কতগুলি আছে, সেখানে কোনও নোটিস গিয়েছে না যায়নি সেটা আমাদের জানার কথা নয়। সেটা তিনি বা তাঁর আইনজীবী বলতে পারবেন।” 


মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে এড়িয়ে ২০১৬ সালের পর থেকে পশ্চিমবঙ্গে লাগাতার মাদ্রাসাগুলির পরিচালন সমিতি একতরফাভাবে শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মী নিয়োগ করেছে। স্বাভাবিকভাবেই যে নিয়োগে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নেই, সেখানে রাজ্য সরকার কেন বেতন দেবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্ট।


নিয়োগ প্রক্রিয়াই যেখানে বৈধ নয়, যোগ্যতা যাচাই করে কী হবে!' বড় প্রশ্ন তুললেন বিচারপতি দত্ত
সুপ্রিম কোর্টে মাদ্রাসা-নিয়োগ মামলা

সিলেকশন প্রক্রিয়া বৈধ না হলে নিয়োগও বৈধ হওয়া সম্ভব নয়। মাদ্রাসার নিয়োগে বৈধরা সুযোগ পায়নি। পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসার নিয়োগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের। মঙ্গলবারই মাদ্রাসা নিয়োগ মামলা আদালতে উঠলে, বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মসিহর ডিভিশন বেঞ্চ বলে, গত ১০ বছরে পশ্চিমবঙ্গে নিয়োগ নিয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হয়েছে। বুধবারের শুনানিতেও উঠল একই প্রশ্ন।

কী বলল সুপ্রিম কোর্ট
এদিন শুনানি-পর্বে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত বলেন, তিনটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে বিচার করতে হবে, নিয়োগ বৈধ কি না। প্রথমত, নিয়োগ প্রক্রিয়া সরকারি নিয়মে অনুমোদিত কি না, দেখতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই করতে হবে। তৃতীয়ত, প্রার্থী বৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে পাস করেছেন কি না, সেটা দেখতে হবে।



পশ্চিমবঙ্গে মাদ্রাসার নিয়োগে একাধিক ক্ষেত্রে স্বজন পোষণ হয়েছে বলে পর্যবেক্ষণে ইঙ্গিত দেন বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত। তিনি বলেন, “যাঁরা চাকরি পেয়েছেন, তাঁদের থেকে অনেক বেশি যোগ্যরা সুযোগ পাননি। সে ক্ষেত্রে কী হবে?” যেখানে নিয়োগ প্রক্রিয়াই বৈধ নয়, সেখানে প্রার্থীর যোগ্যতা যাচাই কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

এক এক করে শুনানি করছে সুপ্রিম কোর্ট
প্রায় হাজারের কাছাকাছি বিতর্কিতভাবে নিযুক্ত শিক্ষক, শিক্ষাকর্মীদের মধ্যে ১০ জন শিক্ষক এবং শিক্ষা কর্মীর নিয়োগকে নমুনা হিসেবে ধরে নিয়ে এক এক করে শুনানি করছে সুপ্রিম কোর্ট।

প্রসঙ্গত, মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে এড়িয়ে ২০১৬ সালের পর থেকে পশ্চিমবঙ্গে লাগাতার মাদ্রাসাগুলির পরিচালন সমিতি একতরফাভাবে শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মী নিয়োগ করেছে। স্বাভাবিকভাবেই যে নিয়োগে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নেই, সেখানে রাজ্য সরকার কেন বেতন দেবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্ট। আর এই নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন একাধিক যোগ্য প্রার্থীর দাবিদাররা।


এরপর তাঁর সংযোজন, "ফলতায় এমন সাম্রাজ্য চালাত যে কোনও কাজ করতে গেলে জাহাঙ্গির খানের অনুমোদনটাই আসল হয়ে উঠত। তো তার এইটুকু সাহস থাকল না কেন? ও নির্বাচনটা লড়েই দেখতে পারত। ভোটে হার-জিত আছে। হঠাৎ করে সাহস নেই কেন?"

'ওর এলাকায় ওই শেষ কথা ছিল এমন একটা ভাব, ওর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে',ক্ষোভ প্রকাশ সন্দীপনের
বাঁ দিকে সন্দীপন সাহা, ডানদিকে জাহাঙ্গির খান


বড়-বড় কথা বলে ঠিক পুর্ননির্বাচনের আগে তৃণমূলকে কার্যত ফ্যাঁসাদে ফেলে দিলেন জাহাঙ্গীর খান। আজ রয়েছে পুর্ননির্বাচন। তার আগে ভোটে লড়বেন না বলে জানিয়েছেন তিনি। আর তারপর থেকেই তাঁর ভূমিকা নিয়ে গৃহদাহ শুরু হয়েছে। এই নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন এন্টালির তৃণমূল বিধায়ক সন্দীপন সাহা। নিজেকে পুষ্পা বলে দাবি করা জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধ সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে, ওর কাণ্ড দলের কাছে লজ্জানজক, ও নাকি পুষ্পা? সেই পুষ্পা তো ঝুঁকে গেল। দলরে ওর বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ করতে হবে বলে মত সন্দীপনের।

মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে জাহাঙ্গির বলেছিলেন, ফলতার মানুষের শান্তি রক্ষার স্বার্থে তিনি ভোটে লড়বেন না। এই নিয়ে কম হইচই হয়নি। পরে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে একটি টুইটারে হ্যান্ডেলে পোস্ট করে জানানো হয়, এই সিদ্ধান্ত জাহাঙ্গিরের সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। বুধবার টিভি ৯ বাংলাকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে এন্টালির তৃণমূল বিধায়ক বলেন, “প্রচার শেষ হওয়ার কিছু মুহূর্ত আগে তিনি বলছেন আমি নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলাম। ও বললেই তো হল না। ও তো রয়েই গেল। এইবার আমরা সরকার গঠন করতে পারিনি। আর নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠন হয়েছে। তারপর ফলতায় আবার ভোট হচ্ছে, সেই সময় এই পদক্ষেপ দলের মনোবলকে তো আরও তলানিতে নিয়ে যাবে। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে আবেদন করব কড়া পদক্ষেপ করা উচিত।”



এরপর তাঁর সংযোজন, “ফলতায় এমন সাম্রাজ্য চালাত যে কোনও কাজ করতে গেলে জাহাঙ্গির খানের অনুমোদনটাই আসল হয়ে উঠত। তো তার এইটুকু সাহস থাকল না কেন? ও নির্বাচনটা লড়েই দেখতে পারত। ভোটে হার-জিত আছে। হঠাৎ করে সাহস নেই কেন?”

 অল ইন্ডিয়া সার্ভিসেস (কনডাক্ট) রুলস, ১৯৬৮ এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারি আচরণ বিধি (১৯৫৯ ও ১৯৮০)-র বিভিন্ন ধারা মনে করিয়ে দিয়ে রাজ্য সরকার জানিয়েছে , এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারিদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। রাজ্যের সমস্ত অধীনস্থ অফিসগুলিতে এই নির্দেশিকা দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে

রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য জরুরি সার্কুলার, আর করা যাবে না এইসব কাজ
জারি সার্কুলার

 নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই নতুন-নতুন নিয়ম ও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে সব ক্ষেত্রে। প্রশাসনিক ক্ষেত্রে আগেই বিভিন্ন বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এবার বার্তা এল রাজ্য সরকারি কর্মীদের উপর। এবার থেকে রাজ্য সরকারি কর্মীরা নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারবেন না সংবাদমাধ্যমের সামনে। শুধু তাই নয়, কোনও নথি আদান-প্রদানও করতে পারবেন না তাঁরা। এমনকী, সংবাদপত্রে লেখালেখি বা যে কোনও মিডিয়া কার্যকলাপেও তারা থাকতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ।




নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, আইএএস (IAS), ডবলিউবিসিএস (WBCS), পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সার্ভিস (WBPS)-এর আধিকারিকদের পাশাপাশি রাজ্যের অন্যান্য সরকারি কর্মচারী, জেল কর্মী, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বোর্ড, পুরসভা, পুর নিগম ও স্বশাসিত সংস্থার কর্মীদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

গত ১৯ মে ২০২৬ এই মর্মে একটি নির্দেশিকা জারি করেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। এরপর জরুরি সার্কুলারটি রাজ্য সরকারের পার্সোনেল অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিফর্মস (P&AR) দফতর থেকে সমস্ত দফতরের প্রধান, জেলা শাসক এবং পুলিশ প্রশাসনকে পাঠানো হয়েছে।

রাজ্য সরকারি কর্মচারিদের উদ্দেশে কী বলা হয়েছে?

ক) অনুমতি ছাড়া কোনও মিডিয়ার অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা: সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনও সরকারি কর্মচারি বেসরকারি বা ব্যক্তিগতভাবে প্রযোজিত কোনও মিডিয়া অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন না। খ) তথ্য ফাঁসের ওপর নিষেধাজ্ঞা: সরকারি কোনও আদেশ বা অনুমতি ছাড়া প্রেস বা সংবাদমাধ্যমের কাছে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কোনও সরকারি নথি বা তথ্য আদান-প্রদান করা যাবে না । গ)সংবাদপত্রে লেখালেখি: সরকারের আগাম অনুমতি ছাড়া কোনও সংবাদপত্র বা সাময়িকী সম্পাদনা করা, রেডিওতে বক্তব্য রাখা কিংবা কোনও চিঠি লেখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ঘ)সরকারি নীতির সমালোচনা: কোনও কর্মী সংবাদমাধ্যম,সামাজিক মাধ্যম বা অন্য কোনও উপায়ে কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের কোনও নীতি বা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনও রকম বিরূপ মন্তব্য বা সমালোচনা করা যাবে না। ঙ) বিদ্বেষমূলক মন্তব্য: যে কোনও মাধ্যমে এমন কোনও বক্তব্য,প্রকাশনা বা আলোচনা করা যাবে না, যা কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক, অন্য কোনও রাজ্যের সঙ্গে সম্পর্ক কিংবা কোনও পররাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ককে তিক্ত করতে পারে।

এই নিয়ম না মানলে কী হবে?

অল ইন্ডিয়া সার্ভিসেস (কনডাক্ট) রুলস, ১৯৬৮ এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারি আচরণ বিধি (১৯৫৯ ও ১৯৮০)-র বিভিন্ন ধারা মনে করিয়ে দিয়ে রাজ্য সরকার জানিয়েছে , এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারিদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। রাজ্যের সমস্ত অধীনস্থ অফিসগুলিতে এই নির্দেশিকা দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


শুধু তাই নয়, আরজি কর কাণ্ড নিয়েও বড় পদক্ষেপ করেছেন শুভেন্দুর অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর অনুমতি দেওয়া হচ্ছিল না। অবশেষ সেই অনুমতি দিয়েছে শুভেন্দুর গেরুয়া সরকার।

 CBI ডিরেক্টরের সঙ্গে বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

সিবিআই (CBI) ডিরেক্টর প্রবীণ সুদ মুখ‍্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সঙ্গে বৈঠক করলেন নবান্নে (Nabanna) । ক্ষমতায় আসার পরই ১৩ মে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সিবিআইকে (CBI) প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি মামলায় আধিকারিক এবং কর্মীদের বিরুদ্ধে তদন্তের অনুমোদন দিয়েছেন। বিশেষ করে পুর নিয়োগ দুর্নীতি, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি এবং সমবায় দুর্নীতি নিয়ে তৎপর হয়েছে। এরপর বুধবার সিবিআইয়ের ডিরেক্টর প্রবীণ সুদের সঙ্গে সেই কারণেই বৈঠক বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।


বিভিন্ন দুর্নীতি মামলায় আগেই সরব ছিল কেন্দ্রীয় এজেন্সি। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর তৎপর তারা। ইতিমধ্যেই পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন সুজিত বসু (Sujit Basu)। গত ১১ মে গ্রেফতার হয়েছেন তিনি। প্রায় সাড়ে দশ ঘণ্টা জিজ্ঞাবাদ করেন ইডি আধিকারিকরা। আর তারপরই ইডির জালে তৃণমূলের মন্ত্রী। ইডি সূত্রে খবর, বয়ানে অসঙ্গতি এবং অসহযোগিতা করার অভিযোগ গ্রেফতার প্রাক্তন মন্ত্রী। ইডি-র দাবি, উত্তর দমদম, দক্ষিণ দমদম এবং হালিশহরসহ বিভিন্ন পুরসভায় নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। যে সময়ে এই ঘটনা ঘটেছে সেই সময় সুজিত দক্ষিণ দমদম পুরসভার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাই সেই সময়ের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তাঁর কোনও ভূমিকা ছিল কি না, তা জানতেই জিজ্ঞাসাবাদ ও পরে গ্রেফতার।



শুধু তাই নয়, আরজি কর কাণ্ড নিয়েও বড় পদক্ষেপ করেছেন শুভেন্দুর অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর অনুমতি দেওয়া হচ্ছিল না। অবশেষ সেই অনুমতি দিয়েছে শুভেন্দুর গেরুয়া সরকার। ফলত, এই আবহের মধ্যে কেন্দ্রীয় এজেন্সির ডিরেক্টরের সঙ্গে এই বৈঠক যে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ তা বলার অপেক্ষা রাখে না।


বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টে নাগাদ দিল্লির সেবা তীর্থে মন্ত্রিসভার বৈঠক হবে। জানা গিয়েছে, মোদী বিদেশ সফর থেকে ফিরেই মন্ত্রিসভার বৈঠকে অংশ নেবেন। বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সকল মন্ত্রী, স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া সকল রাজ্যের মন্ত্রীদেরও উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে এই বৈঠকে। আজ দিল্লি যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দিল্লি যেতে পারেন সুকান্ত মজুমদারও।


বিদেশ থেকে ফিরেই আজ জরুরি বৈঠকে মোদী, দিল্লিতে যাচ্ছেন শুভেন্দু, মন্ত্রিসভায় বড় রদবদলের সম্ভাবনা
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী


বিদেশ সফর শেষ হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (PM Narendra Modi)। আজ দেশে ফিরছেন। আর দেশে ফিরেই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী। আজ অর্থাৎ বৃহস্পতিবারই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার (Union Cabinet Meeting) গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বসতে চলেছে দিল্লিতে। এই বৈঠকের সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী। সব কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের আজ দিল্লিতে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার (West Asia Conflict) বর্তমান পরিস্থিতি ও তার প্রভাবে ভারতের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এছাড়া, মন্ত্রিসভার রদবদল নিয়েও আলোচনা হতে পারে বৈঠকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। সেক্ষেত্রে বাংলা থেকে কেউ পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন বলে ইতিধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে। জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে আজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দিল্লি সফর।

মোদীর মন্ত্রিসভার বৈঠক
বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টে নাগাদ দিল্লির সেবা তীর্থে মন্ত্রিসভার বৈঠক হবে। জানা গিয়েছে, মোদী বিদেশ সফর থেকে ফিরেই মন্ত্রিসভার বৈঠকে অংশ নেবেন। বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সকল মন্ত্রী, স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া সকল রাজ্যের মন্ত্রীদেরও উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে এই বৈঠকে। ইতিমধ্যেই এই জরুরি বৈঠককে কেন্দ্র করে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে।



পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিয়ে আলোচনা
সূত্রের খবর, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং ভারতের ওপর এর সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাবের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগপূর্ণ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার তেলের দাম, জ্বালানি সরবরাহ ও মুদ্রাস্ফীতি সংক্রান্ত বিষয়গুলোর উপর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী মোদী বিদেশ সফর থেকে ফিরে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা করবেন বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া, বৈঠকে একাধিক মন্ত্রকের দুই বছরের কাজের খতিয়ানও দেখবেন প্রধানমন্ত্রী।

মন্ত্রিসভার রদবদল নিয়ে জল্পনা
বেশ কয়েকদিন ধরে জাতীয় রাজনীতির অন্দরে মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ ও রদবদল নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক সেই জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সূত্রের খবর, জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় রদবদল হতে পারে। তার আগে মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রকের কাজের মূল্যায়ণের পর একাধির মন্ত্রীর নাম বাদ দিয়ে সেই জায়গায় নতুনদের জায়গা দেওয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে, বাংলা থেকে অনেকে মন্ত্রিসভায় পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে জায়গা পেতে পারেন বলে সূত্রের খবর। আজ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর কী কী নিয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে বা সত্যিই মন্ত্রিসভায় রদবদল হবে কি না সেদিকেই নজর থাকবে সব মহলের।