WEATHER

Top News


একসময় পাড়ার খুদেদের চাল সংগ্রহ করে শুরু হয়েছিল শ্যামাপুজো। পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে চাল ভিক্ষা করে গামছার ছোট্ট মণ্ডপ তৈরি করে শুরু হয়েছিল দেবী আরাধনা। গ্রামের বটগাছের নীচে শুরু হওয়া সেই পুজো আজ ৩৪ বছরে পা দিয়েছে। সময়ের সঙ্গে বদলেছে পুজোর আয়োজন। 


বর্তমানে থিমের অভিনব ভাবনায় নামখানার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে প্রোগ্রেসিভ ইউনাইটেড ক্লাবের শ্যামাপুজো। এবছর তাদের থিম ‘স্রষ্টার স্রষ্টা’।

পুজো কমিটির এবারের ভাবনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছেন মৃৎশিল্পীরা। যাঁদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় মাটির প্রতিমা প্রাণ পায়, সেই শিল্পীদের জীবনযাত্রা, পরিশ্রম ও সৃজনশীলতার কাহিনিই মণ্ডপসজ্জার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। কাপড়, কাদা ও থার্মোকল-সহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে সাজানো হয়েছে মণ্ডপ। প্রতিমা তৈরির বিভিন্ন পর্যায়ও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সেখানে।
পুজো কমিটির সদস্যা বিভা বেরা বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে এই ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত। আমরা সবাই মিলে মায়ের পুজোর আয়োজন করি। এ বছরের ভাবনা ‘স্রষ্টার স্রষ্টা’। প্রতিমা শিল্পীদের জীবনযাত্রা এবং কীভাবে তাঁরা নিজেদের শিল্পকর্মের মাধ্যমে মায়ের রূপ তৈরি করেন, সেই বিষয়টিই মণ্ডপে তুলে ধরেছি।”

একসময় সামান্য চাল সংগ্রহ করে শুরু হওয়া পুজো আজ ৩৪ বছরের ঐতিহ্য। দেবীর আরাধনার পাশাপাশি এ বছর প্রতিমা নির্মাণের নেপথ্যে থাকা শিল্পীদের সম্মান জানানোই এই পুজোর বিশেষ আকর্ষণ।
শ্যামাপুজো মানেই আলোর রোশনাই আর উৎসবের আমেজ। তবে প্রতিমার অভিনবত্বে দর্শনার্থীদের নজর কাড়তে এবছর বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে কাকদ্বীপের পূর্ব রাজনগরের জুপিটার সংঘ। পুজোর নবম বর্ষে তাদের বিশেষ আকর্ষণ ২৯ ফুট উচ্চতার বিশালাকার রণরঙ্গিনী ষড়ভুজা শ্যামা মায়ের প্রতিমা।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপের উকিলের হাট সংলগ্ন পূর্ব রাজনগরে জুপিটার সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত এই পুজোকে ঘিরে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে উৎসাহ ও উদ্দীপনা। প্রতি বছরের মতো এবছরও প্রতিমার রূপে অভিনবত্ব আনার চেষ্টা করেছেন উদ্যোক্তারা। সেই ভাবনা থেকেই এবার দেবীকে রণরঙ্গিনী ষড়ভুজা রূপে সাজিয়ে তোলা হয়েছে।
পুজো কমিটির সদস্য শুভঙ্কর বেরা জানান, গত বছর দশভূজা রূপে শ্যামা মায়ের প্রতিমা তৈরি করা হয়েছিল। এবছর সেই ধারাবাহিকতায় পরিবর্তন এনে ষড়ভুজা রূপে দেবীকে তুলে ধরার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী তৈরি হয়েছে ২৯ ফুটের বিশাল প্রতিমা। প্রতি বছর দর্শনার্থীদের নতুন কিছু উপহার দেওয়াই তাঁদের মূল লক্ষ্য। আগামী বছরগুলিতেও নতুন ভাবনা ও পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রতিমায় বৈচিত্র্য আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

পুজোর নবম বর্ষে বিশাল উচ্চতা ও অভিনব প্রতিমার মেলবন্ধনে দর্শনার্থীদের বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠতে চলেছে জুপিটার সংঘের এই আয়োজন।

আর কয়েকদিন পরেই শুরু হতে চলেছে ২০২৬ সালের গঙ্গাসাগর মেলা। লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর সমাগমকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই মেলা পরিচালনার প্রস্তুতি শুরু করেছে প্রশাসন। 

পুণ্যার্থীদের যানবাহন পার্কিং, ভেসেল পরিষেবা, যাতায়াত ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখতে নামখানা পয়েন্টের মাঠ-সহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করলেন সুন্দরবন পুলিশ জেলার সাগর এসডিপিও-সহ প্রশাসনের একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক। মেলায় আগত পুণ্যার্থীদের নিরাপদে গঙ্গাসাগরে পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে স্নান শেষে তাঁদের নিরাপদে গন্তব্যে ফেরানোর ব্যবস্থা নিয়েই চলে পরিদর্শন।


 পাশাপাশি ভেসেল চলাচল, যাত্রী ওঠানামা এবং যানবাহন রাখার জায়গা নিয়েও বিস্তারিত খোঁজখবর নেন আধিকারিকরা। গঙ্গাসাগর মেলাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনওরকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয় এবং পুণ্যার্থীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন থাকে, সেই লক্ষ্যেই আগাম প্রস্তুতি খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও প্রশাসন।



সাগর মণ্ডল-৪-এর আয়োজনে গঙ্গাসাগরে এক উৎসবমুখর ও উদ্দীপনাপূর্ণ বিজয়া সম্মেলনী অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির সমস্ত জেলা নেতৃত্ব, শক্তি কেন্দ্রের প্রমুখ, বুথ সভাপতি এবং এলাকার বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ।

 যাদের দীর্ঘদিনের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সাংগঠনিক নেতৃত্বের ওপর ভর করে আজ দল এই শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে, তাঁদের উপস্থিতিতে সমগ্র অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও বর্ণময় হয়ে ওঠে। এই বিজয়া সম্মিলনীর বিশেষ আকর্ষণ ছিল সাগর মণ্ডলের ১, ২, ৩ এবং ৪—এই চার মণ্ডলের সভাপতিরা এবং ব্লক কনভেনার একসঙ্গে উপস্থিতি। 

সকল স্তরের দলীয় কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ উপস্থিতি ও পরস্পরের শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে দলের আগামী সাংগঠনিক ভিত্তিকে আরও মজবুত করার অঙ্গীকার গ্রহণ করা হয়। বিজয়ার আবহে একে অপরকে মিষ্টি মুখ করিয়ে ও শুভেচ্ছা জানিয়ে এক ইতিবাচক ও ঐক্যবদ্ধ বার্তার মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘটে।

হুগলির পাণ্ডুয়ার কল্যাণী সিনেমা হলে সম্প্রতি আয়োজিত হয়েছিল ঐতিহ্যবাহী কোরিয়ান মার্শাল আর্ট তায়কোয়ান্দো প্রতিযোগিতা। এই মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে সুদূর দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবনের প্রত্যন্ত দ্বীপ অঞ্চল গঙ্গাসাগর থেকে পা রেখেছিলেন তিন প্রতিভাবান কন্যা—সংগীতা পাল, রিয়ন্না মাইতি এবং রিয়াশ্রী মাইতি। 


এর আগেও বিভিন্ন জায়গা থেকে তাঁরা একইভাবে দক্ষতার সঙ্গে পদক জিতে নিয়ে এসেছিলেন। এবার পাণ্ডুয়ার মাটিতেও সেই ধারায় বিন্দুমাত্র ছেদ পড়েনি; বরং ফের একবার দুর্দান্ত লড়াই করে তাঁরা একাধিক পদক জিতে দ্বীপ অঞ্চলের মুকুটে নতুন পালক যোগ করলেন।প্রতিযোগিতায় অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন রিয়ন্না মাইতি। তিনি ফাইট (Fight) ও পুমসে (Poomsae) উভয় বিভাগেই দুর্দান্ত লড়াই করে দুটি স্বর্ণপদক (Gold Medal) নিজের নামে করেছেন এবং স্পিড কিকিং (Speed kicking) বিভাগে একটি রৌপ্যপদক (Silver Medal) অর্জন করেছেন।

 অন্যদিকে, রিয়াশ্রী মাইতি ফাইট, পুমসে এবং স্পিড কিকিং—এই তিনটি বিভাগেই সমানতালে লড়াই চালিয়ে তিনটি ব্রোঞ্জ পদক (Bronze Medal) জয় করে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। পাশাপাশি, সংগীতা পাল পুমসে বিভাগে চমৎকার পারফরম্যান্সের মাধ্যমে স্বর্ণপদক (Gold Medal) এবং স্পিড কিকিং-এ রৌপ্যপদক (Silver Medal) জয় করে গঙ্গাসাগরের এই জয়ের ধারাকে আরও গৌরবময় করে তুলেছেন।নিজের এই বিশাল সাফল্যে বেজায় খুশি রিয়ন্না মাইতি।তিনি জানান, ফাইটে ও পুমসেতে সোনা এবং স্পিড কিকিংয়ে রৌপ্যপদক অর্জন করা তাঁর জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত এবং এই প্রাপ্তি তাঁর কাছে ভীষণ মূল্যবান। 
তিনটি বিভাগেই ব্রোঞ্জ পদক জয় করার পর নিজের আনন্দের কথা প্রকাশ করে রিয়াশ্রী মাইতি জানান, আগামী দিনে এই জয়ের ধারাকে তিনি আরও বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে চান। সাফল্যের পর আনন্দ প্রকাশ করে সংগীতা পাল বলেন, পুমসেতে স্বর্ণপদক এবং স্পিড কিকিংয়ে রৌপ্যপদক পাওয়া এক দারুণ অনুভূতি। তবে এই সাফল্যের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব তিনি উৎসর্গ করেছেন তাদের কোচ গৌতম দেবনাথ-কে। কোচের সঠিক প্রশিক্ষণ, কঠোর পরিশ্রম এবং নিরলস দিকনির্দেশনা না থাকলে এই ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হতো না বলে তিনি স্বীকার করেন। পাশাপাশি পরিবারের ভালোবাসা ও প্রতিমুহূর্তের সহযোগিতাও তাঁদের উৎসাহিত করেছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের গ্রামীণ এলাকায় এই খেলার প্রচলন এখনও সেভাবে গড়ে ওঠেনি। অনেক শহর বা উন্নত জায়গা থেকে খেলোয়াড়রা অংশ নিলেও দ্বীপ অঞ্চল বা গ্রাম থেকে এই খেলায় প্রতিযোগীর সংখ্যা বেশ কম।অথচ তায়কোয়ান্দো একটি অত্যন্ত আধুনিক ও উপযোগী খেলা। বিশেষ করে মেয়েদের আত্মরক্ষা এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এই মার্শাল আর্টের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই তিনি প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েদের এই খেলায় এগিয়ে আসার জন্য জোরালো বার্তা দেন।
মেয়ের এই অভাবনীয় সাফল্যে আবেগপ্রবণ ও আনন্দিত সংগীতা পালের মা সুনেত্রা ভূইয়া পাল। তিনি জানান, এর আগেও মেয়েরা বিভিন্ন জায়গায় খেলতে গিয়ে ঠিক এভাবেই পদক জিতে নিয়ে এসেছিল, যা তাঁদের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গে এই খেলার প্রচলন তেমন একটা না থাকায় গ্রামীণ অঞ্চলে অতীতে এটিকে সেভাবে প্রাধান্য দেওয়া হতো না। তবে ছোটবেলা থেকেই মেয়ের এই খেলার প্রতি প্রবল আগ্রহ ও ঝোঁক ছিল। প্রথমে দু-একবার খেলতে যাওয়ার পর তাঁরাও পিছপা হননি, বরং মেয়েকে পূর্ণ সমর্থন জুগিয়েছেন। কোচ গৌতম দেবনাথ শেখানোর পাশাপাশি যেভাবে সব সময় পাশে থেকেছেন, তার ফলেই আজ বিভিন্ন প্রান্তের প্রতিযোগিতায় একের পর এক সাফল্য দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। এতে তাঁদের পুরো পরিবার অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। আগামী দিনেও যাতে মেয়েরা আরও বড় ধরনের খেলায় অংশগ্রহণ করে দেশের এবং রাজ্যের নাম উজ্জ্বল করতে পারে, সেই আশাই ব্যক্ত করেন তিনি।


রাজ্যের কৃষকদের আর্থিক সহায়তায় এক বড়সড় পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুরশুড়া থেকে ‘মুখ্যমন্ত্রী কৃষক সম্মান নিধি’ নামক নতুন প্রকল্পের শুভ সূচনা করার পাশাপাশি শস্য বিমার অতিরিক্ত ৩,০০০ টাকা রাজ্য সরকারের তরফে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় আজ একই সাথে জোড়া কিস্তির টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়।


মুখ্যমন্ত্রী জানান, ৪৬ লক্ষ ৪৬ হাজার পিএম কিষান প্রাপকের অ্যাকাউন্টে আজ মোট ৯৩০ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ায় কৃষকদের বাৎসরিক আর্থিক সহায়তা এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গেল। সরকারের এই পরিবর্তনের ফলে আগে যারা বছরে মোট ৬,০০০ টাকা পেতেন, তারা এখন থেকে অতিরিক্ত ৩,০০০ টাকাসহ মোট ৯,০০০ টাকা করে পাবেন। পুরশুড়ায় আয়োজিত এই সূচনা অনুষ্ঠানটি সরাসরি দেখতে ও ভার্চুয়ালি যোগ দিতে রাজ্যের বিভিন্ন ব্লকে বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়।

 সাগর ব্লক কার্যালয়েও অসংখ্য কৃষক উপভোক্তা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাগর ব্লকের বিডিও অনন্ত কুমার গোস্বামী এবং অন্যান্য কৃষি আধিকারিকরা ও একাধিক উপভোক্ততারাও। অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পৌঁছানোর খবর শুনে এবং এই নতুন সহায়তার কথা জেনে ব্যাপক আনন্দ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় উপভোক্তারা।

নৈহাটির বড়মা। নামের মধ্যেই যেন লুকিয়ে রয়েছে কোটি ভক্তের আবেগ, বিশ্বাস আর ভরসা। বছরের পর বছর ধরে অসংখ্য মানুষ মনের ইচ্ছা নিয়ে ছুটে যান বড়মার দরবারে। আর সেই বড়মার মন্দিরেই কালীপুজোর আগে ঘটে গেল এক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।

মন্দিরের দেওয়ালে এতদিন শোভা পেত একটি পরিচিত বার্তা— ‘ধর্ম যার যার, বড়মা সবার।’ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের কাছে বড়মার গ্রহণযোগ্যতার যেন প্রতীক ছিল এই লাইন। কিন্তু এবার সেই পরিচিত স্লোগানের জায়গায় স্থান পেল নতুন বার্তা— ‘বড়মায়ে ভক্তি, সনাতনে শক্তি।’

বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন এই স্লোগানের উন্মোচন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় এবং মন্দির কমিটির যুগ্ম সম্পাদক কমল কুমার ঘোষ, মুখপাত্র অনন্ত চট্টোপাধ্যায়-সহ অন্যান্যরা।
কেন এই পরিবর্তন? মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই বহু ভক্তের তরফে পুরনো স্লোগান পরিবর্তনের আবেদন আসছিল। তাঁদের আবেগ ও অনুরোধকে সম্মান জানিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও নতুন স্লোগান ঘিরে ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ নতুন বার্তাকে স্বাগত জানিয়েছেন, আবার কারও মতে, পুরনো স্লোগানটির মধ্যেই ছিল বড়মার সর্বজনীনতার এক অনন্য বার্তা।

কালীপুজোর প্রাক্কালে বড়মার মন্দিরের এই পরিবর্তন এখন আলোচনার কেন্দ্রে। দেওয়ালের লেখা বদলেছে, বদলেছে বার্তার শব্দ। তবে ভক্তদের বিশ্বাসে বড়মার জায়গা যে একই রয়ে গিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।




নতুন সিলেবাসে আগেই সিলমোহর দিয়েছিল রাজ্য সরকার। এবার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্য়ায়ের অবদান ও পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস পড়ানো হবে স্কুলের বইতে। তবে, বাদ যাচ্ছে সিঙ্গুর আন্দোলনের অধ্যায়। যে আন্দোলনে বিরোধী দলনেতা হিসেবে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম ছিল, সেই অধ্যায় এবার বাদ দেওয়া হচ্ছে।


নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার খোলনলচে বদল করতে তৎপর রাজ্য সরকার। স্কুলের ইউনিফর্ম থেকে শুরু করে উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষা ব্যবস্থা, সব ক্ষেত্রেই পরিবর্তনের বার্তা দেওয়া হয়েছে। আর এবার বদলে গেল বই। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই নতুন বই হাতে পাবেন পড়ুয়ারা। ইতিমধ্য়েই সেই বই ছাপাতে দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। TV9 বাংলার হাতে সেই নতুন বইয়ের ছবি।


নতুন কী থাকছে বইতে?
প্রত্যেকটি বিষয়ের বইয়ের প্রথম পাতায় থাকছে সংবিধানের প্রস্তাবনা। থাকছে সংবিধানের মৌলিক অধিকার ও কর্তব্য পালনের বিষয়টিও। স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন জানিয়েছেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা আগেও থাকত, কিন্তু নাগরিকদের যে কিছু কর্তব্য আছে, সেটাও মনে করিয়ে দেওয়া জরুরি। মন্ত্রী বলেন, “ছাত্রছাত্রীরা এগুলো শিখলে আরও সুশৃঙ্খল নাগরিক সমাজ গড়ে উঠবে।”



বইয়ের দ্বিতীয় পাতায় থাকছে রাষ্ট্রগীত ‘বন্দে মাতরম’। প্রত্যেকদিন স্কুলে পূর্ণ ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে আগেই। এবার সেই রাষ্ট্রগীত ছাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বইয়ের সামনের পাতায়। শিক্ষামন্ত্রীর কথায়, বইয়ের পাতায় থাকলে পড়ুয়াদের মুখস্থ করতেও কোনও অসুবিধা হবে না।

কী আছে নতুন সিলেবাসে?
নতুন সিলেবাসে আগেই সিলমোহর দিয়েছিল রাজ্য সরকার। এবার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্য়ায়ের অবদান ও পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস পড়ানো হবে স্কুলের বইতে। তবে, বাদ যাচ্ছে সিঙ্গুর আন্দোলনের অধ্যায়। যে আন্দোলনে বিরোধী দলনেতা হিসেবে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম ছিল, সেই অধ্যায় এবার বাদ দেওয়া হচ্ছে।



রাজ্যে ক্ষমতার আসার আগে থেকেই বিনিয়োগের আশা দেখিয়েছিল বিজেপি। ক্ষমতায় আসতেই সেই প্রতিশ্রুতি পূরণও করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যে বিনিয়োগ করেছে আদানি। নিউ টাউনে তৈরি হচ্ছে ২,০০০ শয্যাবিশিষ্ট অত্যাধুনিক হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ এবং গবেষণাকেন্দ্র ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’।

 বিনিয়োগের জোয়ার আসছে বাংলায়! মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ সজ্জন জিন্দালের, নিলেন মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের দায়িত্ব
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করলেন শিল্পপতি সজ্জল জিন্দাল।

বাংলায় আরও বিনিয়োগের আশা। দীপাবলির আগেই রাজ্যে শিল্প সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হল। আজ, বুধবার সন্ধ্যায় নবান্নে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)-র সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন জেএসডব্লিউ গ্রুপের চেয়ারম্যান সজ্জন জিন্দাল (Sajjan Jindal)।


আজ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে নবান্নে গিয়ে দেখা করেন সজ্জল জিন্দাল। শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই তাঁদের প্রথম বৈঠক।


রোগ নির্ণয় করতে পারলেই ৫০০-১০০০টাকা! প্রেসক্রিপশনের কেবল একটা জেরক্স দিয়েই লাখ লাখ টাকার ব্যবসা

 নেহা বোরার 'মন্দিরে ধর্ষণ' মন্তব্যে তীব্র আক্রমণ বিজেপির, সমর্থন করল না কংগ্রেসের শরিকরাও
জানা গিয়েছে, আজকের এই বৈঠকে বাংলায় বিদ্যুৎ, পাওয়ার সিস্টেম, বন্দর, সিমেন্ট ও ইস্পাত সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয় দুজনের মধ্যে।


সজ্জল জিন্দালের সঙ্গে দেখা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সজ্জন জিন্দাল দেখা করেছেন। বড় বিনিয়োগ হচ্ছে। জানুয়ারিতে ভূমিপুজো হবে। আমি চাকরির কথা বলেছি। সামাজিক কর্তব্য হিসাবে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের দায়িত্ব নেবেন তিনি। মন্দির সংস্কার করতে চান।”

প্রসঙ্গত, রাজ্যে ক্ষমতার আসার আগে থেকেই বিনিয়োগের আশা দেখিয়েছিল বিজেপি। ক্ষমতায় আসতেই সেই প্রতিশ্রুতি পূরণও করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যে বিনিয়োগ করেছে আদানি। নিউ টাউনে তৈরি হচ্ছে ২,০০০ শয্যাবিশিষ্ট অত্যাধুনিক হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ এবং গবেষণাকেন্দ্র ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’। মহাকরণ এবং কুমারটুলি ঘাটের হেরিটেজ কাঠামো পুনরুদ্ধার ও সংস্কারের দায়িত্বও আদানি গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে রাজ্যে পরিকাঠামো উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এক লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, মুকেশ অম্বানীও বিনিয়োগ করতে পারেন। ইতিমধ্যেই মুম্বইয়ে অম্বানীদের বাড়িতে গিয়ে বৈঠক সেরে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার কি জিন্দাল গোষ্ঠীও বিনিয়োগের ঝুলি আনছে।





ডায়মন্ড হারবার: পুলিশ হেফাজতে থাকা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করেই বড়সড় সাফল্য পেল ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলা। 

তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সরিষায় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি দলীয় কার্যালয় থেকে উদ্ধার হল ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা নগদ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া দলীয় কার্যালয়টি মগরাহাট পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক শামিম আহমেদের বলে পরিচিত। বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিষেক মজুমদার এই টাকা উদ্ধারের কথা জানান।
তবে এত বিপুল পরিমাণ টাকা কোথা থেকে এল, কার মালিকানাধীন এবং কী উদ্দেশ্যে পার্টি অফিসে রাখা হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। উদ্ধার হওয়া টাকার উৎস ও আর্থিক লেনদেনের নথি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এই ঘটনায় আর কারা জড়িত, তা জানতেও চলছে তদন্ত।
সব মিলিয়ে সরিষার তৃণমূল কার্যালয় থেকে কোটি টাকারও বেশি নগদ উদ্ধারের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

২০২৭ সালের ঐতিহ্যবাহী গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে নবান্ন থেকে শুরু করে সাগরদ্বীপ পর্যন্ত জোরকদমে চলছে প্রশাসনিক প্রস্তুতি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশনায় ইতিমধ্যেই একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। নতুন বিজেপি সরকারের অধীনে এটিই প্রথম গঙ্গাসাগর মেলা। তাই মেলা পরিচালনায় কোনওরকম খামতি রাখতে চাইছে না রাজ্য প্রশাসন।

এবারের মেলার মূল লক্ষ্য পুণ্যার্থীদের যাতায়াত থেকে শুরু করে পুণ্যস্নান এবং নিরাপদে বাড়ি ফেরা পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা। মেলার অন্যতম বড় সিদ্ধান্ত হলো **ভিআইপি সংস্কৃতি সম্পূর্ণ বাতিল করে সাধারণ পুণ্যার্থী ও ভিআইপিদের জন্য সমান পরিষেবার ব্যবস্থা।**

যাতায়াতের সুবিধার্থে কলকাতা থেকে সরাসরি গঙ্গাসাগর পর্যন্ত বিনামূল্যে বাস পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামলাতে বিভিন্ন রুটে বিশেষ ট্রেন চালানোর ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

মেলা প্রাঙ্গণের পরিকাঠামো উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পুণ্যার্থীদের ভিড় সামলাতে মেলা গ্রাউন্ডের পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। তৈরি ও সংস্কার করা হচ্ছে একাধিক স্নানঘাট ও জেটিঘাট। পাশাপাশি মেলা চত্বরে হাজার হাজার শৌচাগার, বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা এবং অন্যান্য জরুরি পরিষেবা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এবার থাকছে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার। সমগ্র মেলা প্রাঙ্গণ, জেটিঘাট এবং উপকূলবর্তী এলাকায় বসানো হবে এআই প্রযুক্তিনির্ভর সিসিটিভি ক্যামেরা। আকাশপথে নজরদারির জন্য মোতায়েন থাকবে হেলিকপ্টার। ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্ঘটনা এড়াতে পুণ্যস্নানের জন্য পৃথক প্রবেশ ও প্রস্থান পথ তৈরি করা হচ্ছে। এই পথগুলি প্রশস্ত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে একসঙ্গে বহু মানুষ নিরাপদে যাতায়াত করতে পারেন।

ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ এবং নবান্নের শীর্ষ আধিকারিকদের মধ্যে একাধিক দফায় বৈঠক হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী **৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার কথা গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৭।** মেলার শুভ উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলে জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে উন্নত পরিবহণ ব্যবস্থা, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা, উন্নত পরিকাঠামো এবং পুণ্যার্থীদের জন্য সমান পরিষেবার মাধ্যমে গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৭-কে আন্তর্জাতিক মানের এক বৃহৎ ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।

কালীপুজোর আগেই রায়মঙ্গল নদী থেকে উদ্ধার মা কালীর বিগ্রহ, অবশেষে ফিরলেন নিজের ঘরে। কালীপুজোর প্রস্তুতির মাঝেই এক অভাবনীয় ঘটনার সাক্ষী থাকল সুন্দরবনের হিঙ্গলগঞ্জ। মঙ্গলবার সকালে বসিরহাটের হিঙ্গলগঞ্জের মাধবকাটি গ্রামের মৎস্যজীবী বাবলু মণ্ডল মাছ ধরতে গিয়ে রায়মঙ্গল নদীতে একটি কালীমূর্তি ভাসতে দেখেন। 


এরপর তিনি মূর্তিটি উদ্ধার করে গ্রামের একটি মন্দিরে নিয়ে আসেন। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ভিড় জমাতে শুরু করেন উৎসুক গ্রামবাসীরা। মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়।

এরপর পূঁইজালির একটি মন্দির কমিটির সদস্যরা দাবি করেন, উদ্ধার হওয়া বিগ্রহটি তাঁদের মন্দিরের। কোনওভাবে সেটি নদীতে ভেসে চলে এসেছিল।

 অবশেষে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় অক্ষত অবস্থায় মায়ের বিগ্রহটি পূঁইজালির বাসিন্দাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর মায়ের মূর্তি ফিরে পেয়ে খুশিতে আপ্লুত গ্রামবাসীরা। মন্দির কমিটির সদস্য উত্তম পাত্র জানান, অক্ষত অবস্থায় মায়ের বিগ্রহ ফিরে পেয়ে তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত।





পরপর একাধিক গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ! মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখায় আতঙ্ক ছড়াল গোটা এলাকায়। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছারখার আনুমানিক চারটি বাড়ি। ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও স্বস্তির বিষয়, কোনও হতাহতের খবর নেই।

ঘটনাটি কাকদ্বীপের ৮ নম্বর কালীনগরের দাসেরচক এলাকার। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি বাড়ির ভাড়াটিয়া অংশে হঠাৎই আগুন লাগে। আর সেই আগুন লাগার কিছুক্ষণের মধ্যেই পরপর বিস্ফোরণ হয় একাধিক গ্যাস সিলিন্ডারের।

জানা যায়, ঘটনার সময় মূল বাড়ির মালিক পরিবারের সদস্যরা কেউই বাড়িতে ছিলেন না। তাঁরা সকলেই বেড়াতে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে, ভাড়াটিয়া পরিবারের সদস্যরা কাজের সূত্রে সকলেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। কিন্তু এরপর কীভাবে আগুনের সূত্রপাত, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

প্রথমে একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে এলাকা। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। এরপর কিছুক্ষণের ব্যবধানে পরপর আরও প্রায় তিনটি সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

এদিকে, দাসেরচকের রাস্তা অত্যন্ত সংকীর্ণ হওয়ায় সেখানে দমকলের গাড়ি প্রবেশ করা নিয়ে আশঙ্কা থাকলে এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দারাই আগুন নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগী হন।

প্রথমেই নিরাপত্তার স্বার্থে দাসেরচক এবং কাকদ্বীপ ইয়ং ফাইটার্স ক্লাব সংলগ্ন, নোনামাঠের কাছে থাকা দুটি ট্রান্সফর্মারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। বিদ্যুৎ দপ্তরকেও খবর দেওয়া হয়। এরপর স্থানীয় বাসিন্দারা পুকুর থেকে বালতিতে করে জল তুলে আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগান।
অন্যদিকে, ভাড়াটিয়া বাড়ি থেকে আগুন জানলা দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে মূল বাড়িতেও। যার জেরে মূল বাড়ির একটি ঘরের ভিতরে থাকা সমস্ত আসবাবপত্র পুড়ে ছারখার হয়ে যায়। ভাড়াটিয়া ঘরের আসবাবপত্রই নয়, ঘর সহ ঘরে থাকা সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও নথিপত্রও আগুনে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। কার্যত গোটা ঘরটাই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

পরবর্তীকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনিক পুলিশকর্তারা। দমকল কর্মীদের প্রচেষ্টায় অবশেষে আগুনের বাকি অংশটুকুও সম্পূর্ণভাবে নেভানো সম্ভব হয়।

সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয়, ঘটনার সময় বাড়িতে কেউ উপস্থিত না থাকায় কোনও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে পরপর একাধিক গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ এবং ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে সংশ্লিষ্ট পরিবার।

কীভাবে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাকদ্বীপের ৮ নম্বর কালীনগরের দাসেরচক এলাকায় ছড়িয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক।