ইমার্জেন্সির ৫০ বছর পূর্তিতে ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং বা এনসিইআরটি (NCERT) প্রথমবার পড়ুয়াদের পাঠক্রমে ইমার্জেন্সির এই অধ্যায় যুক্ত করা হল। বইতে জয় প্রকাশ নারায়ণের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
NCERT-র বড় সিদ্ধান্ত, দেশের 'অন্ধকারতম অধ্যায়' যুক্ত হল পাঠ্যবইয়ে, কী পড়বে ছাত্র-ছাত্রীরা?
প্রতীকী চিত্র।
৫০ বছর আগে দেশে জারি হয়েছিল ইমার্জেন্সি।
১৯৭৫ সালের ২৫শে জুন মধ্যরাতে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী (Indira Gandhi)-র নির্দেশে, রাষ্ট্রপতি ফখরুদ্দিন আলি আহমেদ ভারতীয় সংবিধানের ৩৫২ নম্বর ধারা অনুযায়ী জরুরি অবস্থা (Emergency) জারি করেন। ১৯৭৭ সালের ২১শে মার্চ পর্যন্ত ইমার্জেন্সি জারি ছিল ভারতে। এটিকে দেশের অন্ধকারতম এক অধ্যায় বলা হয়। ইমার্জেন্সির ৫০ বছর পূর্তিতে ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং বা এনসিইআরটি (NCERT) প্রথমবার পড়ুয়াদের পাঠক্রমে ইমার্জেন্সির এই অধ্যায় যুক্ত করা হল।
এনসিইআরটি নবম শ্রেণির বিজ্ঞানের বইতে ইমার্জেন্সি বা জরুরি অবস্থার অধ্যায় যোগ করা হয়েছে। নতুন বইতে এই অধ্যায়ের নাম দেওয়া হয়েছে, “আন্ডারস্ট্যান্ডিং সোস্যাইটি: ইন্ডিয়া অ্যান্ড বিয়ন্ড”। এই অধ্যায়ে ইমার্জেন্সি-কে ভারতীয় গণতন্ত্রের অন্যতম বড় প্রতিবন্ধকতা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারে এর কী প্রভাব পড়েছিল, তাও লেখা হয়েছে। এই প্রথম ইমার্জেন্সি-কে কোনও পাঠ্যবইতে যোগ করা হল।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার আর অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের 'ফিলোজফি' আলাদা, তফাৎটা বুঝিয়ে দিলেন অর্থমন্ত্রী
'দিদি নম্বর ওয়ান' থেকে বাদ পড়লেন রচনা! শোয়ের রেটিং কত জানেন?
বইতে লেখা আছে, “ভারতের গণতন্ত্রের অন্য়তম চ্যালেঞ্জ ছিল ইমার্জেন্সি, যা ১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত জারি ছিল। ১৯৭০ সালের গোড়ার দিকে ইন্দিরা গান্ধীর সরকারের উপরে জনগণের অসন্তোষ বাড়ছিল, দেশের বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি ও অপশাসনের অভিযোগ বাড়ছিল, যার জেরে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। ১৯৭৫ সালে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার দেশে ইমার্জেন্সি জারি করা হয়েছিল। এই সময়ে অধিকাংশ মৌলিক অধিকার কেড়ে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। সংবাদ মাধ্যমের অধিকার খর্ব করা হয়েছিল। অধিকাংশ রাজনৈতিক নেতা ও সমাজকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছিল। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির উপরে চাপ সৃষ্টি হয়েছিল, নাগরিকদের অধিকারও খর্ব করা হয়েছিল।” News
বইতে জয় প্রকাশ নারায়ণের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে বিহার ও গুজরাটে তার নেতৃত্বে কীভাবে ছাত্র-যুবরা আন্দোলনে পথে নেমেছিল, তা লেখা হয়েছে।
