WEATHER

Top News


মামলকারীর প্রশ্ন, প্রকাশ্য রাস্তায় বা কর্মসূচিতে জনপ্রতিনিধিদের ওপর এই ধরনের ক্রমাগত হেনস্থা কেন করা হচ্ছে? বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে গোটা ঘটনার একটি নিরপেক্ষ বিচারবিভাগীয় অনুসন্ধান চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে, প্রকাশ্য স্থানে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং এই ধরনের অনভিপ্রেত আক্রমণ রুখতে হাইকোর্টের জরুরি হস্তক্ষেপও চাওয়া হয়েছে।


 মামলায় যুক্ত হল কুণাল ঘোষের নাম! ডিম-বর্ষণে জল গড়াল এবার আদালতে, যা হল...
ডিম-বর্ষণ মামলা

রাজ্যজুড়ে ‘ডিমা’ঘাতে’ কাবু প্রাক্তন, বর্তমান জনপ্রতিনিধিরা। ডিম নিয়ে আক্রমণ, হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের আইনজীবী অতীন্দ্র চৌধুরী’র। মামলায় যুক্ত করা হয়েছে বিধায়ক কুণাল ঘোষকে। এই হেনস্থা কেন, বিচারবিভাগীয় অনুসন্ধান চেয়ে আবেদন। হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন জনস্বার্থ মামলাকারীর। আগামী সপ্তাহে মামলার শুনানি সম্ভাবনা।


মামলকারীর প্রশ্ন, প্রকাশ্য রাস্তায় বা কর্মসূচিতে জনপ্রতিনিধিদের ওপর এই ধরনের ক্রমাগত হেনস্থা কেন করা হচ্ছে? বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে গোটা ঘটনার একটি নিরপেক্ষ বিচারবিভাগীয় অনুসন্ধান চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে, প্রকাশ্য স্থানে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং এই ধরনের অনভিপ্রেত আক্রমণ রুখতে হাইকোর্টের জরুরি হস্তক্ষেপও চাওয়া হয়েছে।






অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে ট্রেন্ডটা শুরু হয়েছিল। সোনারপুরে আক্রান্ত কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নিগৃহীত হতে হয়েছিল তাঁকে। জনরোষ আছড়ে পড়েছিল তাঁর ওপর। প্রচুর ডিম ছোড়া হয়েছিল বিক্ষুব্ধ জনতার মাঝ থেকে। ভোট পরবর্তী নতুন বাংলায় এটাই ‘ডিম থেরাপি’র প্রথম এপিসোড। সেই অধ্যায়ে যোগ হয়েছে একের পর এক নেতা-প্রাক্তন বিধায়ক, জনপ্রতিনিধির নাম। নয়াতম সংযোজন কুণাল ঘোষ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির সামনেই তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়। তাতে গ্রেফতারও হয় অভিযুক্ত। ডিম ছোড়ার ঘটনায় মূলত এটাই প্রথম গ্রেফতারি। কিন্তু নতুন যে নতুন প্রবণতা তৈরি হয়েছে, আইনি হস্তক্ষেপের পর তাতে রাশ টানতেই এই মামলা।

ফলতার সভা থেকে শুভেন্দু বললেন, "ফলতার এক মাফিয়ার স্ত্রীর নেতৃত্বে পুলিশ এবং প্যারামিলিটারি ফোর্সের উপরে হামলা চালানো হয়। আমি ডিজিপিকে বলব, কেউ যেন বাড়িতে না থাকে। তাদের সকলকে আইনের আওতায় আনতে হবে।" এখানেই শেষ নয়, জাহাঙ্গিরের স্ত্রীর বিরুদ্ধে এবার রাষ্ট্রবিরোধী
কার্যকলাপের ধারায় মামলা দেওয়ারও নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

রাষ্ট্র বিরোধী কার্যকলাপের ধারায় শিক্ষা দিন', এবার মুখ্যমন্ত্রীর নজরে জাহাঙ্গিরের স্ত্রী!

মঙ্গলবারই তপ্ত হয়ে উঠেছিল ফলতা। জাহাঙ্গির খানকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য মঙ্গলবার হামলা চলে থানায়। জাহাঙ্গিরের স্ত্রী’র নেতৃত্বে চলে এই হামলা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর তাড়ায় ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় বিক্ষোভকারীরা। পালাতে গিয়ে পুকুরে ঝাঁপ দেন অনেকেই। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ফলতায় খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার সরাসরি হুঁশিয়ারি দিলেন জাহাঙ্গিরের স্ত্রীকে।


ফলতার সভা থেকে শুভেন্দু বললেন, “ফলতার এক মাফিয়ার স্ত্রীর নেতৃত্বে পুলিশ এবং প্যারামিলিটারি ফোর্সের উপরে হামলা চালানো হয়। আমি ডিজিপিকে বলব, কেউ যেন বাড়িতে না থাকে। তাদের সকলকে আইনের আওতায় আনতে হবে।” এখানেই শেষ নয়, জাহাঙ্গিরের স্ত্রীর বিরুদ্ধে এবার রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের ধারায় মামলা দেওয়ারও নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “রাষ্ট্র বিরোধী কার্যকলাপের ধারায় এমন শিক্ষা দিন যাতে আগামীতে এই কাজ করার সাহস কেউ না দেখায়।”



এই হামলাকাণ্ডে জাহাঙ্গিরের স্ত্রী-র নামে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। জাহাঙ্গিরকে ছাড়ানোর জন্য থানায় হামলাকাণ্ডে মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে ইতিমধ্যেই। আপাতত থানার লকআপে রয়েছে জাহাঙ্গির খান। তাকে মুক্তি দিতে হবে, এই দাবিতে জাহাঙ্গিরের স্ত্রী’র নেতৃত্বে মঙ্গলবার বিক্ষোভ চলে। গোটা ঘটনায় অত্যন্ত বিরক্ত মুখ্যমন্ত্রী। জাহাঙ্গির খানের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিলামে চড়ানোর হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। তাঁর কথায়, “এদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিলামে চড়ানোর কাজ সরকার করবে।” মুখ্যমন্ত্রী এদিন আবারও বলেন, “আমি আবারও বলছি কেউ আইন হাতে তুলে নেবেননা। এই সরকার কাউকে ছাড়বে না। ফলতা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ভোট লুঠ তো অতীত হয়ে গেছে। কোনো দুর্নীতি, জমি দখল হবে না।”



কলকাতায় তাঁর ফুলবাগানের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে। পুলিশ সূত্রে খবর, আর্থিক তছরুপের মামলায় কোচবিহার জেলা পুলিশ গ্রেফতার করেছে তাঁকে। যদিও, এটি একটি পুরনো মামলা। পুলিশ সূত্রে খবর, দিনহাটা থানা থেকে কোটি টাকা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার রাজ্যের প্রাক্তন বিধায়ক।

এবার উদয়ন গুহকে তুলে নিল শুভেন্দুর পুলিশ, গাড়িতে ওঠার আগে বললেন, 'আমি তো জানিই না কেন গ্রেফতার'
উদয়ন গুহ, প্রাক্তন মন্ত্রী

পালা বদলের পর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় হয় তৃণমূল কাউন্সিলর, নয়ত তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়করা গ্রেফতার হচ্ছেন বিভিন্ন অভিযোগে। এর মধ্য়েই ফের একবার গ্রেফতারির খবর। রাজ্যের প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ (Udayan Guha Arrest) গ্রেফতার। কলকাতায় তাঁর ফুলবাগানের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে। পুলিশ সূত্রে খবর, আর্থিক তছরুপের মামলায় কোচবিহার জেলা পুলিশ গ্রেফতার করেছে তাঁকে। যদিও, এটি একটি পুরনো মামলা।


পুলিশ সূত্রে খবর, উদয়নের বিরুদ্ধে এই মুহূর্তে ছয়টি অভিযোগ রয়েছে। তবে, এখন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে তোলাবাজির মামলায়। জানা যাচ্ছে, গত ১২ জুন শুক্রবার অভিযোগ দায়ের হয় উদয়নের বিরুদ্ধে। দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালের ‘পিকু’ (শিশু বিভাগ) তৈরি করা হয়েছিল। সেই সময় একটি NGO-র নাম করে প্রচুর টাকা তোলাবাজি করার অভিযোগ ওঠে। সেখান থেকেই অভিযোগ দায়ের হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, শিয়ালদহ আদালতে পেশ করে তাঁকে ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে যাওয়া হবে কোচবিহার।


2 দশক ধরে লড়াই চালিয়েছিলেন প্রশাসনের বিরুদ্ধে, নতুন সরকার আসতেই সেই শকুন্তলার জীবন বদলে গেল আমূল! কে এই মেয়ে জানেন?
এছাড়া আর কী কী অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে?


১) রতন বর্মন খুনের মামলা

২) পঞ্চ শহিদের মামলা

৩) একুশ সালে ভোট পরবর্তী হিংসা

8) দিনহাটা পুরসভা এলাকায় ঘরের জন্য টাকা তোলার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে

এ দিন, পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী বললেন, “আমি জানিই না কেন গ্রেফতার করেছে।” দিনহাটার বিজেপি বিধায়ক অজয় রায় বলেন, “উনি অনেক দুর্নীতি করেছেন। উনি এক নম্বরের নটোরিয়াস ক্রিমিনাল। আগেই গ্রেফতার করা উচিত ছিল। ভেবেছিলেন বেঁচে যাবেন। কিন্তু আইন সবার জন্য এক এটা পরিষ্কার।”

সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর উত্তরবঙ্গের অন্যতম দাপুটে নেতা উদয়ন। ক্ষমতায় একধিকবার বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন বিরোধী উদ্দেশে। তৃণমূলেরই বিক্ষুব্ধ একাংশের দাবি, উদয়ন এতটাই ক্ষমতাশালী যে উত্তরবঙ্গের কাজকর্ম তাঁকে না জানিয়ে করা যেত না। টাকা না দিলে কোনও কাজই হত না। রাজ্যের পালা বদলের পর এবার ধীরে ধীরে অভিযোগকারীরা তাঁক বিরুদ্ধে সেই তোলাবাজিরই অভিযোগ


তাঁদের ব্যাঙ্গ করে বলেন, "এভাবে ডিম ছোড়ার থেকে বোরখা পরে ডিম ছুড়ুন। তাহলে আপনাকে আর কেউ দেখতে পাবে না। আপনার বিরুদ্ধে তাহলে অভিযোগ হবে না।" সাংসদের সেই বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। এরপর এই দেখা গেল করিমপুর বিজেপি তরফে হোগলবেরিয়া থানায় মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।

বোরখা পরে ডিম ছুড়ুন', এমন কথা বলতেই মহুয়ার বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ
মহুয়া মৈত্র, সাংসদ

রাজ্যে একের পর প্রাক্তন বিধায়ক নেতা মন্ত্রী গ্রেফতার। বুধবারও গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ (Udayan Giha)। এই আবহের মধ্যে এবার বিপাকে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mohua Moitra)। তাঁর বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগ। হিন্দুদের বোরখা পরার মন্তব্যের প্রেক্ষিতে মহুয়ার বিরুদ্ধে FIR দায়ের বিজেপি নেতা হীরক ভট্টাচার্যের।


দিন কয়েক আগে কৃষ্ণনগর জেলা দায়রা আদালতে বেশ কয়েকজন বিজেপির মহিলা নেত্রীরা ডিম এবং টমেটো হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল, কোনও একটি পুরনো মামলায় মহুয়া মৈত্র আদালতে হাজিরা দিতে আসতে পারেন। আর হাজিরা দিতে এলেই তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম এবং টমেটো ছোড়া হবে। সেই ছবি এবং বক্তব্য সংবাদ মাধ্যমে খবর আকারে উঠে আসে। এরপরই দেখা যায় মহুয়া মৈত্র পরপর নিজেই দু’টি বক্তব্য ভিডিয়ো করে ফেসবুকে পোস্ট করেন।


মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেই স্ত্রীকে কোপালেন স্বামী, ফের ঝুঁকলেন নিজেকে শেষ করার দিকেই
মহুয়ার প্রথম বক্তব্য ছিল, যে সমস্ত মহিলাদের দেখা যাচ্ছে তাঁরা তৈরি থাকুন তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করবেন। থানা অভিযোগ না নিলে তিনি আদালত এমনকি সুপ্রিমকোর্টেও যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।


এরপরের দিন আবার আরও একটি ভিডিয়ো করেন। সেখানে তিনি যে সমস্ত মহিলারা ভিডিয়োতে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তাঁদের নাম ধরে ধরে এফআইআর করবে বলে জানিয়ে দেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, “আপনারা ডিম একাই ছুটতে পারেন না। আমিও ওমলেট করতে জানি।”

তাঁদের ব্যাঙ্গ করে বলেন, “এভাবে ডিম ছোড়ার থেকে বোরখা পরে ডিম ছুড়ুন। তাহলে আপনাকে আর কেউ দেখতে পাবে না। আপনার বিরুদ্ধে তাহলে অভিযোগ হবে না।” সাংসদের সেই বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। এরপর এই দেখা গেল করিমপুর বিজেপি তরফে হোগলবেরিয়া থানায় মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।

মূলত অভিযোগে বলা হয়, তিনি যে মন্তব্যগুলি বারংবার করছেন সেগুলো ধর্মের ভাবাবেগে আঘাত করছে। পাশাপাশি হিন্দু মুসলমান সম্প্রীতি ভঙ্গ করতে চাইছেন। সেই কারণে অভিযোগ দায়ের।


ক্রীড়ামন্ত্রীর মন্তব্যের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নব মহাকরণে গেলেন সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। সঙ্গী সিএবির কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস। রবিবার সন্ধ্যায় বেঙ্গল টি-২০ লিগের ফাইনালে ক্রীড়ামন্ত্রীকে ইডেনে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানান সৌরভ। এরইসঙ্গে দেন সিএবি-র তরফ থেকে একটি আলাদা চিঠি। আর এখানেই 'কহানি মে টুইস্ট'।

এবার সরাসরি সংঘাত! সৌরভ চিঠি দিতেই 'লড়াই' একেবারে প্রকাশ্যে
মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলেন সৌরভ

 এতদিন ধরে চাপা ছিল। এবারে মনে হচ্ছে লড়াইটা প্রকাশ্যেই এসে গিয়েছে। এক দশক আগে জগমোহন ডালমিয়া মারা যাওয়ার পর নবান্ন থেকে সিএবি-র (CAB) সভাপতি আর সচিব ঠিক করে দিয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। যা নিয়ে ময়দানে অনেকে সমালোচনাও করেন। দু’জনে একসঙ্গে কাজ শুরু করলেও, প্রশাসনিক স্তরে আর দু’জনে এক জায়গায় নেই। এমনটাই শোনা যায় ময়দানে। এবারে একদম আড়াআড়ি ভাগ হয়ে গেল দুই শিবির। অন্তত ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছে চিঠির যুদ্ধে তেমনই ইঙ্গিত মিলেছে।


একজন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। অন্যজন অভিষেক ডালমিয়া। গত বছর সিএবি-তে নির্বাচন না হলেও, একপ্রকার আড়াআড়ি ভাগ হয়ে যায় দুই শিবির। এতদিন ধরে লড়াইটা আড়ালে আবডালে চলতে থাকলেও, এখন অনেকটাই যেন উন্মুক্ত। অন্তত বুধবার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সিএবি-র চিঠিতে তেমনই আভাস।



দিন চারেক আগে নব মহাকরণে গিয়ে রাজ্যের নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ-কে একটি চিঠি দেন সিএবির প্রাক্তন সভাপতি অভিষেক ডালমিয়া। ময়দানে বিগত কয়েক বছরে ঘটে চলা দুর্নীতির অভিযোগের কথা সেই চিঠিতে উল্লেখ করেন অভিষেক। সিএবি বা ক্রিকেটে দুর্নীতির কথা আলাদা ভাবে উল্লেখ না করলেও, তা বুঝে নিতে অসুবিধা হয়নি ক্রীড়ামহলের। এমনকী খেলোয়াড়, খেলোয়াড়দের অভিভাবক, কোচ, সাপোর্ট স্টাফদের জন্য একটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করার আবেদন জানান অভিষেক। ময়দানে দুর্নীতি রুখতে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়ার কথাও আবেদন করেন। চিঠিটি সমাজমাধ্যমেও প্রকাশ্যে আনেন তিনি।


গতকাল, মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ বলেন, তিনি অভিষেক ডালমিয়ার চিঠি পড়েছেন। কয়েকদিনের মধ্যেই তাঁর সঙ্গে সামনাসামনি আলোচনায় বসবেন।

এবার সৌরভের চিঠি
ক্রীড়ামন্ত্রীর মন্তব্যের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নব মহাকরণে গেলেন সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। সঙ্গী সিএবির কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস। রবিবার সন্ধ্যায় বেঙ্গল টি-২০ লিগের ফাইনালে ক্রীড়ামন্ত্রীকে ইডেনে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানান সৌরভ। এরইসঙ্গে দেন সিএবি-র তরফ থেকে একটি আলাদা চিঠি। আর এখানেই ‘কহানি মে টুইস্ট’।

সৌরভের নেতৃত্বাধীন সিএবি-র দেওয়া এই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ফেসবুকে অভিষেক ডালমিয়ার পোস্টের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি তাঁরা জানতে পারেন। সিএবিতে ইতিমধ্যেই একজন এথিক্স অফিসার নিযুক্ত আছেন। তিনি কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য। যে কোনও ধরনের আপত্তিকর বিষয়ের প্রশ্ন উঠলেই সিএবি সর্বদা সজাগ থাকে। অর্থাৎ আগেভাগেই সিএবি-র ভাবমূর্তিতে স্বচ্ছতা বজায় রেখে চলার বার্তা সেই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় সহ বাকি চার শীর্ষ পদাধিকারী কর্তাদেরও সই রয়েছে ওই চিঠিতে।

অভিষেকের চিঠিতে সিএবির কথা আলাদাভাবে উল্লেখ না থাকলেও, সিএবির চিঠিতে আগেভাগেই অভিষেকের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পাল্টা বিবৃতি জারি করা হয়। ২০২২ সাল পর্যন্ত বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন অভিষেক ডালমিয়া। প্রথমে সচিব, পরবর্তীতে সভাপতি। শেষ কয়েক বছরে ক্রমেই সিএবির বর্তমান শাসক শিবিরের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বেড়েছে। ময়দানও দুই শিবিরে ভাগ হতে শুরু করেছে বেশ কয়েক বছর ধরে। সিএবির অধীনস্থ বিভিন্ন ক্লাব, ইউনিভার্সিটি, জেলা ক্রিকেট সংস্থাতেও দুই শিবির নিজেদের মতো ভোটব্যাঙ্ক বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়েছে।

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরেই ময়দানে বিভিন্ন সংস্থাগুলোয় ভোটাভুটি বন্ধ। ইলেকশনের বদলে শেষ মুহূর্তে সিলেকশন হতেই দেখা যায়। ব্যতিক্রম বেঙ্গল অলিম্পিক সংস্থাসহ আরও অল্প কিছু সংস্থা। এখন দেখার বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থায় এই পত্র-যুদ্ধের রেশ কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়!

আগে এই পাথর খাদানগুলি থেকে কেমন রাজস্ব আদায় হত, সেকথা জানিয়ে জগন্নাথ বলেন, "প্রশাসনের রেকর্ড বলছে, সরকার বদলাতেই এক মাস পর ৭ গুণ রাজস্ব আদায় বেড়েছে। এই পুলিশ, এই প্রশাসন সব আছে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক সদিচ্ছা বদলে যাওয়ার কারণে সব বদলে গেল।"

সোনার রাজহাঁস' অনুব্রতর জেলা, একাই সাত গুণ রাজস্ব দিচ্ছে বাংলাকে
কী বললেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়?

অনুব্রত মণ্ডলের জেলা। এতদিন রাজনৈতিক পরিসরে বীরভূম বললে অনুব্রত ওরফে কেষ্টর নামই সামনে আসত। তৃণমূলের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা। আবার বালি, পাথর, গোরু পাচারেও নাম জড়িয়েছিল কেষ্টর। বালি, পাথার খাদানগুলিতে দুর্নীতির শিকড় কতটা গভীরে প্রবেশ করেছিল, সরকার বদল হতেই সেই তথ্য সামনে আসছে। পাথর খাদান থেকে কোটি কোটি টাকা ঢুকত তৃণমূলের পার্টি ফান্ডে। তথ্য তুলে ধরে এই অভিযোগ করলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা সিউড়ির বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানালেন, গত এক মাসে বীরভূমের ১০টি পাথরের চেক গেট থেকে রাজ্যের রাজস্ব আদায় হয়েছে ৭২ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা। সেখানে তার আগের মাসে রাজ্যের ঘরে ১০ কোটি টাকাও রাজস্ব ঢোকেনি।


কী বললেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়?



বুধবার সিউড়ি ১ নম্বর ব্লকে জনকল্যাণ শিবিরে এসেছিলেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। জনকল্যাণ শিবিরের বাইরে সাংবাদিকদের সামনে তথ্য তুলে ধরে জানান, তৃণমূল সরকারের আমলে কীভাবে পাথর খাদানগুলি থেকে দুর্নীতি হত। জগন্নাথ বলেন, “মে মাসের ১৭ তারিখ থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত বীরভূমের ১০টি পাথরের চেক গেট থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৭২ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা। ইদের জন্য কয়েকদিন কম রাজস্ব আদায় হয়েছে। বৃষ্টি বাধা না হলে পরের মাসে এই রাজস্ব আদায় ১০০ কোটি হতে পারে।”


তিনি জানান, “পাথরে চেক গেটগুলি থেকে ডিমান্ড কালেকশন রেজিস্টার (DCR) আদায় করা হয়। গত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেওয়ার পর বীরভূমের বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি স্পষ্ট করে দেন, বীরভূমে যে পাথর, বালির সিন্ডিকেটরাজ চলে, তা শেষ করতে হবে। ডিসিআর সংগ্রহে দুর্নীতি হত। আমরা তা বরদাস্ত করব না বলে স্পষ্ট করে দিই। তারপরই রাজস্ব আদায় বাড়ে।”

আগে এই পাথর খাদানগুলি থেকে কেমন রাজস্ব আদায় হত, সেকথা জানিয়ে জগন্নাথ বলেন, “প্রশাসনের রেকর্ড বলছে, এপ্রিল মাসে পাথর খাদান থেকে রাজ্যের রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৯ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ সরকার বদলাতেই এক মাস পর ৭ গুণ রাজস্ব আদায় বেড়েছে। মার্চ মাসে আদায় ছিল ১৯ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারিতে আদায় হয়েছিল ২২ কোটি টাকা। আর জানুয়ারিতে আদায় হয়েছিল ২১ কোটি টাকা। এই পুলিশ, এই প্রশাসন সব আছে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক সদিচ্ছা বদলে যাওয়ার কারণে সব বদলে গেল।”

তৃণমূলকে নিশানা জগন্নাথের-

পাথর খাদানগুলিতে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে জগন্নাথ বলেন, “যখনই নির্বাচন এসেছে, তখনই আয় কমে গিয়েছিল। অর্থাৎ ঘুরপথে টাকা তোলা হয়েছে এবং তা তৃণমূলের পার্টি ফান্ডে পৌঁছে গিয়েছিল। ২০২০-২১ সালে মাসে গড় রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৯ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা। বুঝতেই পারছেন, একুশ সালে নির্বাচন ছিল, পুরো বছর বীরভূমে লুটেছে। ২০২১-২২ সালে মাসে গড় আয় ছিল ১০ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ সালে ছিল ২২ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচন ছিল, পাথরে রাজস্ব আদায় কম হয়ে দাঁড়াল ১২ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ সালে লোকসভা নির্বাচনের সময় গড় আদায় কমে হল ১১ কোটি টাকা। অর্থাৎ সরকারি রাজস্ব লুঠ করে পার্টির তহবিল ভর্তি করা হত। একমাসের মধ্যে আমরা এই ব্যবস্থার বদল এনেছি। এটাই পরিবর্তন। এটাই ডবল ইঞ্জিন সরকারের প্রভাব।” এখনও কিছু দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসছে বলে তিনি জানান। সেইসব বন্ধেও কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলে স্পষ্ট করে দেন।

এদিন, জগন্নাথ আরও বলেন, “আবাস যোজনায় উপভোক্তাদের সস্তায় বালি দেব। এটা জেলার কয়েকটা জায়গায় চালু হচ্ছে। চলতি বাজারের তুলনায় কম দামে বালি দেওয়া হবে। বীরভূমে এটা সফল হলে রাজ্যের অন্য জায়গায়ও আবাস যোজনায় উপভোক্তাদের কম দামে বালি দেওয়া হবে।”

 তবে, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী গা ঘেঁষাঘেঁষি করে ছবি তুলেছিলেন। কাঁধে-কোমরে হাত দিয়ে ছবি তুলেছিলেন। চিঠিতে এও লেখা হয়েছে, প্রচুর মানুষ নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে মাঠে ঢুকে গিয়েছিলেন। যার ফলে দ্রুত মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। নিরাপত্তার গাফিলতিরও অভিযোগ করা হয়েছে।

এবার খোদ অরূপের নামে বিধাননগর পুলিশে চিঠি পাঠাল মেসির টিম, কী কী অভিযোগ করলেন
মেসির টিমের চিঠি

রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস (Arup Biswas) কোথায়? কেন তিনি পুলিশি হাজিরা দিচ্ছেন না? এমনকী, কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High court) বিচারপতিও এই প্রশ্ন করেছিলেন। তবে, এর মধ্যেই আরও বিপাকে অরূপ বিশ্বাস। লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকের দিনই রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীর নামে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের কাছে এল মেসির টিমের চিঠি।


কী অভিযোগ মেসির টিমের?


...বোরখা পরে ডিম ছুড়ুন', এমন কথা বলতেই মহুয়ার বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ
কলকাতায় যে দিন মেসি এসেছিলেন তাঁকে দেখার জন্য হাজার-হাজার ভক্তের ভিড় হয়েছিল মাঠে। তবে আগত দর্শকদের অভিযোগ, তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও তাঁর সঙ্গীরা মেসিকে এমনভাবে ঘিরে রেখেছিলেন যে দর্শকরা এই ফুটবলারকে দেখতে পাননি। এই নিয়ে বিস্তর ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তাঁরা। পরবর্তীতে অরূপ এবং মেসির একটি ছবি ভাইরাল। যে ছবিতে দেখা যায় রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ফুটবলারের পেটে-কাঁধে হাত দিয়ে রয়েছেন।


মেসিকাণ্ড নিয়ে আগেই থানা পুলিশ হয়েছে। এবার খোদ ফুটবলারের টিম থেকে আসল চিঠি। তাঁদের অভিযোগ, মাঠের কার্যত হেনস্থা করা হয় মেসিকে। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারের কাছে পাঠানো হয়েছে চিঠি। সংশ্লিষ্ট চিঠিতে লেখা হয়েছে, প্রোটোকল অনুযায়ী লিওনেল মেসিকে সকলে স্পর্শ করতে পারেন না। তাঁকে দেখা যায়, কিন্তু ছোঁয়া যায় না। তবে, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী গা ঘেঁষাঘেঁষি করে ছবি তুলেছিলেন। কাঁধে-কোমরে হাত দিয়ে ছবি তুলেছিলেন। চিঠিতে এও লেখা হয়েছে, প্রচুর মানুষ নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে মাঠে ঢুকে গিয়েছিলেন। যার ফলে দ্রুত মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। নিরাপত্তার গাফিলতিরও অভিযোগ করা হয়েছে।

মাস দুয়েকের ব্যবধানে বদলে গিয়েছে অনেক কিছু। তিনি এখন বিরোধী আসনে। তাঁর আশপাশে এখন ফাঁকা। পাশ ছেড়েছেন সঙ্গীরা। বেশিরভাগই এখন বিক্ষুব্ধ, কেউ আবার ব্যস্ত হয়েছেন নিজ নিজ পেশায়, কেউ সুযোগ বুঝে পাশ কাটিয়েছেন, কেউ কেউ আবার এখন হাজতে। এদিনে মমতার পদযাত্রায় আর দেখা গেল না পরিচিত মুখগুলো। দেখা গেল কেবল দোলা সেন, কুণাল ঘোষকে।  

সেদিনের জুন-শতাব্দী-সায়নীরা আজ হাওয়া, দোলা-কুণাল ছাড়া মমতার পাশে দেখা গেল না কাউকে
মানববন্ধন করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

এপ্রিল, ২০২৬ কাট টু জুন, ২০২৬! দু’মাসের মাথায় রাজ্যের চিত্রটা আমূল বদলে গিয়েছে। আজ, ১৭ জুন, রাজ্য জুড়ে হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে আজ রাজপথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্মতলায় মানববন্ধন করছেন তিনি। ঠিক দু’মাস আগেই এপ্রিল মাসে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের একেবারে শেষলগ্নে দক্ষিণ কলকাতা এবং সংলগ্ন এলাকায় একাধিক বিশাল পদযাত্রায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু দুটো পদযাত্রার মধ্যে একেবারে আকাশ-পাতাল ফারাক। কেন?


ছবিতেই ধরা পড়ে ফারাক। সেদিন যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হেঁটেছিলেন, সংবাদমাধ্যমের প্রাইম আওয়ার্সে চলছিল সে খবর। চাঁদের হাট সেই পদযাত্রায়। কে ছিলেন না সেইসব দিনে পদযাত্রায়। তারকা থেকে শুরু করে দাপুটে নেতানেত্রীরা। মমমতার আশপাশে প্রথম সারিতে আসার প্রয়াস ছিল আপ্রাণ। টলিউড-টেলি দুনিয়ার তারকারা, বুদ্ধিজীবীরা সকলেই ছিলেন।


 পাগলা ঘোড়ার মতো এগোচ্ছে Super El Nino, এই ১২ রাজ্যে সবথেকে বেশি প্রভাব পড়বে... তালিকায় বাংলার নামও?
মৌনী রায়ের সঙ্গে কি সত্যিই প্রেম? সামনে এল মোহিত রায়নার বিস্ফোরক বয়ান
কেবল নির্বাচনী প্রচারের আগে নয়, এর আগে ১৬ মার্চ, রান্নার গ্যাস এবং সিএনজি (CNG) এর মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কলেজ স্কোয়ার থেকে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত পদযাত্রায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী। তখনও চিত্রটা ছিল এক।


কিন্তু মাস দুয়েকের ব্যবধানে বদলে গিয়েছে অনেক কিছু। তিনি এখন বিরোধী আসনে। তাঁর আশপাশে এখন ফাঁকা। পাশ ছেড়েছেন সঙ্গীরা। বেশিরভাগই এখন বিক্ষুব্ধ, নাম লিখিয়েছেন অন্য শিবিরে, কেউ আবার ব্যস্ত হয়েছেন নিজ নিজ পেশায়, কেউ সুযোগ বুঝে পাশ কাটিয়েছেন, কেউ কেউ আবার এখন হাজতে। এদিনে মমতার পদযাত্রায় আর দেখা গেল না পরিচিত মুখগুলো। দেখা গেল কেবল দোলা সেন, কুণাল ঘোষকে।

সাম্প্রতিক ভোট পরবর্তী বিক্ষোভের ঘটনায় ধর্মতলার ধর্নামঞ্চে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে ঘাটতি নিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কটাক্ষ করে দাবি করেছিলেন যে মঞ্চে দলের নেতাকর্মীদের ভিড় বেশ পাতলা ছিল। নির্বাচনের পর ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগে ধর্না ও প্রতিবাদের ডাক দেন। কিন্তু সেখানেও চিত্রটা যেন ছন্নছাড়া।


রেলের আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদীর সওয়াল,"১৮৮১ সালে তাঁদের ওই জমি কিনে নেওয়ার ন্যূনতম দাম জমা দেওয়ার নোটিস দেওয়া হয়। আজ পর্যন্ত কেউ জমা দেয়নি।" এরপরই বিচারপতির নির্দেশ, জুন মাস পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ নয়।

 উচ্ছেদের আগে বিকল্প জায়গা বেছে জানাবে রেল, হকার মামলায় বড় নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের
বাঁদিকে বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্য, ডানদিকে আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য

রেলের জায়গা দখল করে যে সকল হকাররা স্টল দিয়েছিলেন বিগত কয়েকদিন ধরেই সেই সকল দোকান ভাঙা হচ্ছিল। বুলডোজার চালিয়ে স্টেশনে-স্টেশনে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল একাধিক দোকান। সেই নিয়েই মামলা করা হয় কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court)। বুধবার ছিল এমন ২৫ টি মামলার সামগ্রিক শুনানি। সেখানেই কোর্ট বলেছে, আপতত এই মাসে উচ্ছেদ করা যাবে না হকারদের।


মূলত, বালিগঞ্জ, বামনগাছি, বারুইপুর, ডানকুনি, গুমা, বনগাঁ, দুর্গানগর, মথুরাপুর, যাদবপুর সহ পঁচিশটি স্টেশনে হকার উচ্ছেদ নিয়ে একাধিক মামলাকারী কোর্টের দ্বারস্থ হন। তাঁদের হয়ে মামলা লড়েন আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য ও ফিরদৌস শামিম। আজ হাইকোর্টের বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চে ছিল সেই মামলার শুনানি।



গুরুতর অসুস্থ সোনু নিগম, নিয়মিত চলছে তাঁর MRI-CT স্ক্যান, কী হয়েছে শিল্পীর?
কোর্টের কী পর্যবেক্ষণ?


আদালত বলছে, রেল যাঁদের বসার অনুমতি দিয়েছিল তাঁদের উচ্ছেদের ক্ষেত্রে আগামী দিনে রেলকে নোটিস দিয়ে জানাতে হবে। উচ্ছেদ করার আগে বিকল্প জায়গার বিষয়টি রেলকে বিবেচনা করে আদালতকে জানাতে হবে। রেল স্টেশন সংলগ্ন যে সকল জায়গায় উচ্ছেদ নোটিস দেওয়া হয়েছে, সেই জমি বাস্তবে রেলের কি না প্রশ্ন তুলেছে কোর্ট। এই অবস্থায় আগে রেলকে এইসব জায়গায় ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশন করে আগামী দিনে রিপোর্ট দিতে হবে।

আদালতে সওয়াল-জবাব চলাকালীন মামলাকারীর আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, “যেভাবে উচ্ছেদ করা হচ্ছে তাতে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। কেন্দ্র বা রাজ্য কেউ এই অধিকার কেড়ে নিতে পারে না। জীবনের অধিকার, কর্মসংস্থানের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। সমাজের দুর্বল শ্রেণির মৌলিক অধিকার কোনও কারণ না দেখিয়ে খর্ব করা যায় না। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার উচিত তাদের সাহায্য করা। ঠেলা গাড়ি, ঝুপড়ি দোকান করে হাজার হাজার পরিবার সংসার চালাচ্ছে। বলা ভালো চালাতে বাধ্য হচ্ছে। তাঁদের উপর আরও চাপ বাড়ানো সরকারের কাজ হতে পারে না। রাষ্ট্র তাঁদের শত্রু হিসেবে আচরণ করতে পারে না। অথচ এখানে হঠাৎ বুলডোজার পাঠিয়ে ভেঙেচুরে সব শেষ করে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিরাতে কোনও না কোনও জায়গায় লোকজন রাত পাহারা দিয়ে বসে থাকছেন। তাতেও বুলডোজার হামলা থেকে বাঁচতে পারছে না।” এরপর বিকাশ ভট্টাচার্য সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের উল্লেখ করেছেন। কোর্টে তিনি সওয়াল করেন, “যখন কেউ রেলের জমিতে বসে পড়ছে, তখন তাঁকে বাধা না দিলে ২-৩ দশক পর তাঁকে উচ্ছেদ করা যাবে না, এটা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর্যবেক্ষণে আছে।”

বিকাশের বক্তব্যের পর পাল্টা বিচারপতি বলেন, “রেলের জায়গা,প্ল্যাটফর্ম যদি দখল করে দোকান বসে, সেক্ষেত্রে রেল কি তাদের তুলবে না? কিছু ক্ষেত্রে রেল স্টল করে বসার ব্যবস্থা করেছিল। তাদের উচ্ছেদের ঘটনা কি আছে? লাইসেন্স আছে এমন লোকেদের তুলেছে এটা বলতে পারবেন?”

অন্যান্য, মামলাকারীর আইনজীবী ফিরদৌস শামিম বলেন, “বহু ক্ষেত্রে প্যাসেঞ্জার অভিযোগ করছে বলে প্ল্যাটফর্ম ও রেলের রাস্তা থেকে উচ্ছেদ হচ্ছে। বারুইপুরে ১৯৯৫ থেকে ৪০ টি পরিবার রেলের লাইসেন্স নিয়ে রয়েছে। কোনও তারিখ, সই ছাড়া তাদেরও নোটিস দেওয়া হয়েছে।

আইনজীবী শামিমের আরও সওয়াল, “স্টেশন থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ডানকুনিতে হকাররা বসেন। সেখানেও নোটিস দেওয়া হয়েছে। এখানে ৩২ টি পরিবারের দোকান, বাসস্থান আছে।”

রেলের আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদীর সওয়াল,”১৮৮১ সালে তাঁদের ওই জমি কিনে নেওয়ার ন্যূনতম দাম জমা দেওয়ার নোটিস দেওয়া হয়। আজ পর্যন্ত কেউ জমা দেয়নি।” এরপরই বিচারপতির নির্দেশ, জুন মাস পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ নয়।


বিরোধী দলনেতা নির্বাচন ও সই জাল-কাণ্ডে স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুর ভূমিকা প্রশ্নের মুখে। বিচারপতির প্রশ্ন, কোন রাজনৈতিক দলের কথা না শুনে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কদের কথা কি গ্রহণ করা যায়? প্রথমে যে প্রস্তাব আসে, সেটা দেখেও সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কারণ কী, জানতে চাইল হাইকোর্ট।

'বহিষ্কৃত' ঋতব্রতকে কেন বিরোধী দলনেতা বাছলেন? FIR হলেই জালিয়াত বলা যায়? স্পিকারকে পরপর প্রশ্ন বিচারপতির
বিরোধী দলনেতা বাছাইয়ের মামলা

 রাজ্য বিধানসভা বিরোধী দলনেতা নির্বাচন সংক্রান্ত মামলায় ফের একগুচ্ছ প্রশ্ন তুলল আদালত। স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুললেন কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে একটি চিঠি দিয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার কথা বলা হয়েছিল। অন্যদিকে, বিধায়ক সন্দীপন সাহা ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন দেখিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার কথা বলেন। বৃহস্পতিবার বিধানসভার অধিবেশন রয়েছে। তার আগে শুনানি শেষ হলেও, রায়দান স্থগিত রইল।


কেন মামলার সূত্রপাত
বাংলায় পালাবদলের পর এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বাংলায়। বিরোধী দল তৃণমূল শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নিয়ে চিঠি দেয় স্পিকারকে। এ পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। পরে একদল বিধায়ক নিজেদের বিক্ষুব্ধ হিসেবে দাবি করে সোজা চলে যান স্পিকারের কাছে। তাঁদের প্রস্তাব অনুযায়ী বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত। আর সেই প্রস্তাবই মান্যতা পায় স্পিকারের কাছে। শুধু তাই নয়, কালীঘাট থেকে তৃণমূলের দেওয়া চিঠিতে অনেক বিধায়কের সই জাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।


..বোরখা পরে ডিম ছুড়ুন', এমন কথা বলতেই মহুয়ার বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ
বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের প্রশ্ন
কোনও রাজনৈতিক দলের কথা না শুনে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কদের কথাই কি গ্রহণ করা যায়?


প্রথম আসা প্রস্তাব দেখেও সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কারণ কী?

এলওপি বাছাই নিয়ে স্পিকারের বক্তব্য
স্পিকারের তরফে আইনজীবী (অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল) বিল্বদল ভট্টাচার্য জানান, তৃণমূলের পাঠানো চিঠিতে বিধায়ক দলের বৈঠকের কোনও উল্লেখ নেই। তাই স্পিকার বৈঠকের কার্যবিবরণী চেয়ে পাঠিয়েছিলেন। এরপর তৃণমূলকে বলা হয় বৈঠকের মিনিটস ও শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচনের প্রস্তাবের কপি জমা দিতে।

পরে কয়েকজন তৃণমূল বিধায়ক স্পিকারকে জানান, ওই প্রস্তাবে থাকা তাঁদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে স্পিকার তদন্তের নির্দেশ দেন।

এদিকে সন্দীপন সাহার একটি চিঠি স্পিকারের কাছে যায়। যেখানে দাবি করা হয় যে তাঁদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন রয়েছে এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।

আইনজীবী আরও উল্লেখ করেন, বিরোধী দল নির্বাচন নিয়ে নির্দিষ্ট কোনও আইন নেই। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, বিধানসভায় সংখ্যায় সবচেয়ে বড় বিরোধী দলকেই বিরোধী দল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং তার নেতাই হন বিরোধী দলনেতা। নিয়ে একই দলের ভিতরে এই ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বী দাবি আগে কখনও দেখা যায়নি।

স্পিকার ব্যাখ্যা করেন, তৃণমূলের দুটি চিঠির সঙ্গে বিদ্রোহী বিধায়কদের বহিষ্কারের চিঠিও জমা পড়েছিল। কিন্তু বিদ্রোহী বিধায়করা দাবি করেন, তাঁরা বহিষ্কারের কোনও চিঠিই পাননি। বিদ্রোহীরা স্পিকারকে জানান, তৃণমূলের সংবিধান অনুযায়ী দলীয় নিয়ম ভেঙে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। তৃণমূলের সংবিধানে বলা আছে, দলের চেয়ারপার্সনকে বিধায়ক দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের মতামত মেনে চলতে হবে।

কবে কোন প্রস্তাব জমা পড়ে
স্পিকার জানিয়েছেন, তাঁর কাছে ৬ মে প্রস্তাব জমা পড়েছিল। ১৯ মে-র কোনও প্রস্তাব জমা পড়েনি। তৃণমূল দাবি করেছিল, ৬ মে নির্বাচিত বিধায়করা সর্বসম্মতভাবে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন করেছিলেন। বিদ্রোহীদের দাবি, ১৯ মে বিধায়কদের ডেকে ৬ মে-র তারিখ দেওয়া প্রস্তাবে সই করানো হয়েছিল। আর সেই প্রস্তাবে না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের, না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতির কোনও উল্লেখ ছিল।

ফের প্রশ্ন বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের?
৯ মে স্পিকার প্রথম চিঠি পাওয়ার পর তা ঝুলিয়ে রাখলেন কেন?

কেন কোনও বৈঠক ডাকলেন না, প্রথম প্রস্তাব নিয়ে কেন কোনও সিদ্ধান্তও নিলেন না?

৩ জুন দ্বিতীয় আবেদন আসার পর, স্পিকার দ্রুত সেটি গ্রহণ করলেন কেন?

প্রথম আবেদন নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে স্পিকারের বাধা কোথায় ছিল?

দলের বক্তব্য না শুনে শুধুমাত্র সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে স্পিকার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন কি?

প্রথম দাবিকে উপেক্ষা করে দ্বিতীয় দাবিকে গ্রহণ করার কারণ কী? তা হলে দুই পক্ষকে ডেকে সিদ্ধান্ত নিলেন না কেন?

যদি স্পিকার ১ জুন বহিষ্কারের চিঠি পেয়ে থাকেন, তাহলে বহিষ্কৃত ব্যক্তিকেই কীভাবে বিরোধী দলনেতা (LoP) হিসেবে বেছে নিলেন?

আগে তো ৭৮ জনের সমর্থনের দাবি ছিল। সেই দাবির সত্যতা যাচাই করা হল না কেন?

জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়ার পরও অন্য পক্ষকে না শুনে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় কি?

বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, একদিকে জালিয়াতির অভিযোগ ও অন্যদিকে নতুন দাবি- এই পরিস্থিতিতে দুই পক্ষকেই ডেকে শুনানি করা উচিত ছিল। প্রথম প্রস্তাব কেন মানা হল না, সে বিষয়ে যে স্পিকার এখনও কোনও ব্যাখ্যা দেননি, সে কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন বিচারপতি। তিনি বলেন, “স্বাক্ষর জাল কি না, এখনই সেই প্রশ্নে যাচ্ছি না। কিন্তু যিনি প্রথম আবেদন করেছিলেন, তাঁকে শুনানির সুযোগ না দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন। প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতি মানা জরুরি।” বিচারপতির আরও বক্তব্য, শুধু এফআইআর (FIR) হয়েছে বলেই কাউকে জালিয়াতি করেছে বলা যায় না। স্পিকারের বক্তব্য, “৫৮ জন বিধায়ক শারীরিকভাবে উপস্থিত ছিলেন, তাই আলাদা করে যাচাই করার প্রয়োজন পড়েনি।”

পাথরপ্রতিমা ব্লকের মাধবনগর শীতলা পাড়ায় আজ শুভ দারোদ্ঘাটন হল শ্রী শ্রী গুরু গোবিন্দ গৌড়ীয় মঠের। এই উপলক্ষে এলাকায় এক ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ভক্তবৃন্দ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মঠের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্পন্ন হয়।

এদিন মঠে শ্রীশ্রী রাধা-কৃষ্ণ এবং শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করা হয়। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, পূজা-অর্চনা ও কীর্তনের মাধ্যমে এই পবিত্র অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। মঠ কর্তৃপক্ষ জানান, ভবিষ্যতে এই মঠ ধর্মীয় শিক্ষা, ভক্তি সাধনা এবং সমাজকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।

পাথর প্রতিমা থেকে সৌম্য সুন্দর দাস এর সাথে সায়ন নায়েকের রিপোর্ট কাকদ্বীপ ডট কম।

ফলতা: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার ফতেপুর ফুটবল মাঠে আয়োজিত জনকল্যাণ শিবির ও জনসভা থেকে একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রকে রাজ্যের একটি আদর্শ বিধানসভা হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ফলতা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ১০০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি একটি মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়, দমকল কেন্দ্র এবং ফলতা থানায় মহিলা হেল্প ডেস্ক চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জনকল্যাণ শিবিরে ৫৪টি সরকারি প্রকল্পের সুবিধা এক ছাতার তলায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সভা থেকে সাম্প্রতিক অশান্তির প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “আইন কেউ নিজের হাতে তুলে নেবেন না। ফলতায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গুন্ডামি, তোলাবাজি, জমি লুট বা ভোট লুট কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।” পাশাপাশি পুলিশকে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

সরকারি পরিষেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে গঙ্গাসাগরের রুদ্রনগর কৃষক বাজারে আয়োজিত জনকল্যাণ শিবির ঘিরে তৈরি হয়েছে অভূতপূর্ব উদ্দীপনা। সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই শিবিরে প্রতিদিন উপচে পড়ছে মানুষের ভিড়। বুধবার পর্যন্ত এই ক্যাম্প চলার কথা থাকলেও, মানুষের ক্রমবর্ধমান উৎসাহ ও আবেদনকারীদের বিপুল সংখ্যা দেখে প্রশাসন বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এই ক্যাম্পের সময়সীমা আরও একদিন বাড়িয়ে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত করার ঘোষণা করা হয়েছে।



এই শিবিরের অন্যতম আকর্ষণ হলো বিডিও কানাইয়া কুমার রাওয়ের সক্রিয় অংশগ্রহণ। শুধুমাত্র নির্দেশ দেওয়াই নয়, তাঁকে খোদ ক্যাম্পে বসে সাধারণ মানুষকে সরাসরি ফরম ফিলাপে সাহায্য করতে দেখা গিয়েছে। প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিকে এভাবে সাধারণ মানুষের পাশে বসে কাজ করতে দেখে স্থানীয়রা আপ্লুত। বিডিওর এই মানবিক উদ্যোগ ও তৎপরতা সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই বেশ সাড়া ফেলেছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রুদ্রনগর কৃষক বাজারের এই ক্যাম্পে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য মানুষের ঢল নেমেছে। ভিড়ের চাপে অনেক সময় সাধারণ মানুষ বিড়ম্বনার শিকার হন, তাই যাতে কোনো যোগ্য ব্যক্তি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সেই লক্ষ্যেই ক্যাম্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার যারা এখনো আবেদন করতে পারেননি, তারা এই বিশেষ সুযোগ গ্রহণ করতে পারবেন। প্রান্তিক মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার এই প্রশাসনিক মডেল গঙ্গাসাগরবাসীর মধ্যে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।