WEATHER

Top News


কুলতলীতে একই দিনে ৯ টি রাস্তা উদ্বোধন করলেন বিধায়ক গনেশ চন্দ্র মন্ডল!


দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলী বিধানসভা এলাকায় উন্নয়নের নজির গড়লেন বিধায়ক গণেশ চন্দ্র মন্ডল। শুক্রবার নলগোড়া অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় একই দিনে মোট ৯টি রাস্তার উদ্বোধন করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকা একাধিক গ্রামীণ রাস্তার সংস্কারের দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা বিধায়কের কাছে আবেদন জানান। সেই দাবির ভিত্তিতেই রাজ্য সরকারের পথশ্রী প্রকল্প-এর আওতায় প্রায় ৯ কোটি টাকার ব্যয়ে রাস্তা নির্মাণ ও ঢালাইয়ের কাজের উদ্বোধন করেন বিধায়ক।
এদিন জয়নাল বাজারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নাইয়াপাড়া থেকে জয়নাল বাজার ভায়া শরৎপল্লী মন্দির পর্যন্ত ঢালাই রাস্তা এবং জয়নাল বাজার থেকে সুবল হালদার পোল্ট্রি ফার্ম পর্যন্ত রাস্তার উদ্বোধন করেন বিধায়ক। 
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুলতলী যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মিলন পুরকায়েত, বিধানসভা শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান আবু বক্কর সরদার, জয়নগর ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ ও নলগোড়া অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি প্রদ্যুৎ অধিকারী সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।

সভা থেকে বিধায়ক বলেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কিছু শক্তি বাংলার সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা করছে। যারা হিন্দু-মুসলিম বিভাজন তৈরি করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে সকলকে তৃণমূল কংগ্রেসের পাশে থাকার আবেদনও করেন। সভায় হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ে।
গঙ্গাসাগরে উন্নয়ন জোয়ার: একদিনে তিন-তিনটি কংক্রিট রাস্তার উদ্বোধন করলেন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী


সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার ভোলবদল করতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় 'পথশ্রী-৪' প্রকল্পের অধীনে শুক্রবার গঙ্গাসাগরের রুদ্রনগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কংক্রিট রাস্তার শুভ উদ্বোধন করলেন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা।
এদিন মন্ত্রী প্রথমেই উদ্বোধন করেন কীর্তনখালী পদ্মাবতী স্কুল থেকে মেইন রোড পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ১৫৭০ মিটার দীর্ঘ একটি কংক্রিট রাস্তা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে মন্ত্রীর নজরে পড়ে পদ্মাবতী অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ দশা। বিদ্যালয়ের ভগ্নদশা দেখে তিনি দ্রুত তা মেরামতির আশ্বাস দেন। পাশাপাশি, স্থানীয় ভাবাবেগকে গুরুত্ব দিয়ে ওই এলাকায় পদ্মাবতী মায়ের একটি স্ট্যাচু নির্মাণের ঘোষণাও করেন তিনি। উন্নয়নের এই ধারা বজায় রেখে মন্ত্রী এরপর আরও দুটি রাস্তার ফিতে কাটেন

রুদ্রনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত কীর্তনখালী সুকুমার বিশাল থেকে বিভূতি ভূষণ দাস ভায়া পশ্চিমপাড়া বিশালক্ষী মন্দির পর্যন্ত প্রায় ২৮০০ মিটার দীর্ঘ রাস্তা। কমলপুর অনাথবন্ধু মাইতি থেকে হৃষিকেশ মাইতির বাড়ি পর্যন্ত দীর্ঘ ১৫৫০ মিটার কংক্রিটের রাস্তা। মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা জানান, গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং মানুষের যাতায়াত সুগম করতে মুখ্যমন্ত্রী গ্রামবাংলার প্রতিটি কোণায় উন্নয়নের আলো পৌঁছে দিচ্ছেন। এই রাস্তাগুলি নির্মাণের ফলে স্থানীয় কৃষিজীবী মানুষ এবং পুণ্যার্থীদের যাতায়াতে প্রভূত সুবিধা হবে। এদিনের এই মেগা উদ্বোধনী কর্মসূচিতে মন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের বনভূমি কর্মাধ্যক্ষ প্রদীপ বালেশ্বর, শিক্ষা স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ অমলেন্দু পাল এবং জেলা পরিষদের সদস্যা অনিতা মাইতি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট যুব নেতা মিলন সিট সহ অন্যান্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। প্রশাসনিক এই তৎপরতায় খুশির হাওয়া গঙ্গাসাগরের রুদ্রনগর এলাকায়।

কাকদ্বীপ এর কালনাগিনী খালের করুন অবস্থা, ক্ষমশ দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে কাকদ্বীপ ময়


মুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত দক্ষিণ ২৪ পরগনা ব্লকের কাকদ্বীপ শহর এবং এই শহরের মধ্যে থেকে বয়ে গেছে কালনাগিনী খাল। কিছুদিন ধরে প্রচুর পরিমাণে দুর্গন্ধে প্রায় দম আটকে যাওয়ার মত অবস্থা কাকদ্বীপবাসীর। একাংশ দাবি করছেন মূলত দূষণ থেকেই হচ্ছে এই গন্ধ এবং এটি বেশিভাগ ক্ষেত্রে ভাটার সময় বেশি বোঝা যায় ও খালের জল কালো হয়ে যায়।

আগে এই খালের মাধ্যমেই উপকূল এলাকা গুলিতে যাতায়াত করতেন বহু মানুষ। এমনকি এই খালের থেকে গঙ্গাসাগর মেলা লঞ্চ ছাড়া হতো। এখন সেই খাল হয়ে দাড়িয়েছে ময়লা ফেলার জায়গা। কাকদ্বীপ এর চৌরাস্তার মোড়ের পাশে ছোট ফুট ব্রিজের ওপর থেকে প্রতিদিন ময়লা ফেলা হচ্ছে এই খালে।

বাইট - ময়লা ফেলতে আসা একজন 

এই বিষয়ে পশ্চিম বঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের সদস্য সৌম্য কান্তি জানা জানান, কালনাগিনী নদী কাকদ্বীপ এর একটি ঐতিহাসিক নদী যেটা আদি গঙ্গার শেষ ধারা হিসেবে ধরা হয় এবং এটি কাকদ্বীপ শহর ঘুরে সমুদ্রে মিলিত হয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ার কারণে এই নদীটি ধীরে ধীরে খাল থেকে এখন নালায় পরিণত হয়েছে এবং মানুষই এটিকে এই অবস্থায় পরিণত করেছে। কালনাগিনী নদী একটু দ্বিমুখী নদী অর্থাৎ তার একটি মুখ মুড়িগঙ্গা নদীর সাথে যুক্ত এবং অপর একটি দিক গোবদিয়া নদীর সাথে যুক্ত যার ফলে এই নদীতে জোয়ারের সময় দুই দিক থেকে জল ঢোকে মুরিগঙ্গার দিকে পলি বেশি হওয়ার কারণে নদীর জল সেভাবে বেরোতে পারেনা যার ফলে এই নদীতে ফেলা ময়লা আবর্জনা নদীতেই রয়ে যাচ্ছে। জোয়ারের সময় জল বেড়ে যাওয়ার ফলে ময়লা জলের গন্ধের সাময়িক স্বস্তি মিললেও ভাটার পর আবার একই দুর্গন্ধের ভোগান্তি পোয়াতে হচ্ছে
 কাকদ্বীপ শহর বাসীকে। 


মহুয়ার বক্তব্য, জয় অনন্ত দেহদ্রাইয়ের উপহার ছিল হেনরি। কিন্তু হেনরির যাবতীয় দেখভাল করতেন তিনি। শুধুমাত্র টাকা দিয়ে কিনেছেন বলে হেনরির মালিকানা জয়ের হতে পারে না বলে দাবি তৃণমূল সাংসদের। সাকেত কোর্ট আইনের সবদিক খতিয়ে না দেখে একতরফা রায় দিয়েছেন বলে অভিযোগ মহুয়ার।

প্রাক্তন প্রেমিকের কাছ থেকে রটউইলার হেনরিকে পেতে মরিয়া, ৪ আইনজীবী দিয়ে মামলা করলেন মহুয়া

পোষ্যর হেফাজত পেতে এবার দিল্লির নিম্ন আদালত থেকে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। সারমেয়কে কাছে পেতে মরিয়া হয়ে আইনি লড়াই লড়ছেন তিনি। মহুয়ার সঙ্গে তাঁরই প্রাক্তন প্রেমিক জয় অনন্ত দেহদ্রাইয়ের সঙ্গে এই আইনি লড়াই চলছে।


মহুয়ার পোষ্য এক ‘রটউইলার’ হেনরি কার কাছে থাকবে তা নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে চলছে আইনি লড়াই। মহুয়া মৈত্র চেয়েছিলেন, তাঁর কাছে মাসে অন্তত ১০ দিন করে থাক হেনরি। সেই আবেদন ইতিমধ্যেই খারিজ করে দিয়েছে দিল্লির সাকেত কোর্ট। নিম্ন আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে এবার দিল্লি হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন মহুয়া মৈত্র।



মহুয়ার বক্তব্য, জয় অনন্ত দেহদ্রাইয়ের উপহার ছিল ‘হেনরি’। কিন্তু হেনরির যাবতীয় দেখভাল করতেন তিনি। শুধুমাত্র টাকা দিয়ে কিনেছেন বলে হেনরির মালিকানা জয়ের হতে পারে না বলে দাবি তৃণমূল সাংসদের। সাকেত কোর্ট আইনের সবদিক খতিয়ে না দেখে একতরফা রায় দিয়েছেন বলে অভিযোগ মহুয়ার।

ধ্রুব মালিক, কীর্তি রাজ, রুদ্রাক্ষ মাথুর এবং শিবেন ভার্মা নামে চারজন আইনজীবীর মারফত নিজের পিটিশন ফাইল করিয়েছেন মহুয়া। অন্যদিকে, পোষ্যকে নিজের কাছে রাখতে মরিয়া জয় নিজেই বৃহস্পতিবার দিল্লি হাইকোর্টে মহুয়ার বিরুদ্ধে সওয়াল করেন। দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি মনোজ কুমার ওহরি বিস্তারিত শুনানির জন্য সব পক্ষকে নোটিস ইস্যু করেছেন।

সংসদে বিতর্কের সময় এই জয় অনন্ত দেহদ্রাই মহুয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন। ঘুষ নিয়ে সংসদে প্রশ্ন করেছিলেন বলে মহুয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন পেশায় আইনজীবী দেহদ্রাই। মহুয়াও তাঁকে জবাব দিতে ছাড়েননি সেইসময়।

এতদিন প্রাথমিকে মিড ডে মিলের জন্য পড়ুয়াদের মাথাপিছু বরাদ্দ ছিল ৬ টাকা ৭৮ পয়সা। পড়ুয়াদের মাথাপিছু আলাদা করে বরাদ্দ করা হত চাল। সামান্য বরাদ্দ টাকায় সবজি থেকে ডাল, জ্বালানি থেকে মশলা কিনে চালাতে হত মিড ডে মিল। অগত্যা সপ্তাহে কোনও স্কুলে একদিন, বা দু’দিন মিলতো ডিম।

মিড ডে মিলে বাড়ল বরাদ্দ! এভাবে ভোটের মুখে বরাদ্দ বাড়লে বছর বছর ভোট হোক, চাইছেন পড়ুয়া থেকে অভিভাবকরাও
খুশির হাওয়া স্কুলগুলি

মিড ডে মিলে বাড়ল বরাদ্দ। শিক্ষা মহল থেকে নাগরিক মহল, সর্বত্রই চলছে চর্চা। এতদিন স্কুলের মিড ডে মিলে মাথাপিছু যা বরাদ্দ ছিল তাতে ফল তো দূরের কথা সপ্তাহে একদিন মিড ডে মিলের পাতে গোটা ডিম দিতে রীতিমত হিমশিম খেতে হত স্কুলগুলিকে। ভোটের মুখে এবার বরাদ্দ বাড়ল মিড ডে মিলে। এবার সপ্তাহে প্রায় দিনই মিড ডে মিলের পাতে পড়বে গোটা ডিম। ডিম না মিললে মিলবে মরসুমি ফল। ভোটের জন্য যদি এভাবে বরাদ্দ বৃদ্ধি হয় তাহলে বছর বছর ভোট হোক বলছেন ক্ষুদে পড়ুয়া, অভিভাবক এমনকি শিক্ষকেরাও। 

এতদিন প্রাথমিকে মিড ডে মিলের জন্য পড়ুয়াদের মাথাপিছু বরাদ্দ ছিল ৬ টাকা ৭৮ পয়সা। পড়ুয়াদের মাথাপিছু আলাদা করে বরাদ্দ করা হত চাল। সামান্য বরাদ্দ টাকায় সবজি থেকে ডাল, জ্বালানি থেকে মশলা কিনে চালাতে হত মিড ডে মিল। অগত্যা সপ্তাহে কোনও স্কুলে একদিন, বা দু’দিন মিলতো ডিম। ডিমের দাম বাড়লে গোটা ডিমের বদলে কোথাও কোথাও আধখানা ডিম দিয়েও পরিস্থিতি সামাল দিতেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। বারেবারে মিড ডে মিলের বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক শিক্ষিকারা। কিন্তু কে শোনে কার কথা! তবে এবার ভোটের মুখে টনক নড়ল রাজ্যের সরকারের। বাড়তি ৭৮ কোটি টাকা বাড়ল বরাদ্দ। বাড়তি এই বরাদ্দে পড়ুয়াদের মিড ডে মিলের পাতে মাসে অতিরিক্ত ১২ দিন ডিম অথবা মরসুমি ফল দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 



বিরোধীরা বলছেন ভোটের জন্যই এই বরাদ্দ বৃদ্ধি। কিন্তু রাজনীতিকরা যাই বলুন না কেন, সাধারণ পড়ুয়া ও অভিভাবকদের একটা বড় অংশ যারা অনেকাংশে মিড ডে মিলের উপর নির্ভরশীল তাঁরা বলছেন এভাবে বরাদ্দ বৃদ্ধি হলে বছর বছর ভোট আসুক। তাতে আর যাই হোক মিড ডে মিলের নিরামিষ পাতে অন্তত মিলবে একটু আমিষ। মিলবে পুষ্টিও। আকাশছোঁয়া বাজারদরে বর্ধিত বরাদ্দে মরসুমি ফল দেওয়া কতটা সম্ভব তা নিয়ে দ্বিধা থাকলেও শিক্ষকদের দাবি বর্ধিত বরাদ্দে অন্তত সপ্তাহে আরও কয়েকটা দিন পড়ুয়াদের পাতে ডিম দেওয়াটা কঠিন হবে না। ভোটের জন্য পড়ুয়াদের এমন প্রাপ্তিযোগ ঘটলে এমন ভোট বছর বছর আসার পক্ষে হাসিমুখেই সওয়াল করছেন অনেকেই। 

তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য এই প্রকল্প একটি বড় মাস্টারস্ট্রোক হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মূল টার্গেট জেন জ়ি। রাজ্যে কয়েক লক্ষ তরুণ ভোটার রয়েছেন যারা প্রথম বা দ্বিতীয়বার ভোট দেবেন। এই 'বেকার ভাতা' প্রকল্পের মাধ্যমে সেই বিশাল যুব ভোটব্যাঙ্ককে নিজেদের দিকে টানতে চাইছে ঘাসফুল শিবির।

যুবসাথী কি তৃণমূলকে জেতাতে পারবে?
কী বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা?


দুয়ারে ভোট, দুয়ারে বেকার ভাতা। রাজ্য সরকার যদিও বলছে যুবসাথী। আগে যুবশ্রী ছিল এবার যুবসাথী। মাধ্যমিক পাশ কিন্তু এখনও কর্মহীন যুবদের পাশে দাঁড়াতেই ভাতা দিচ্ছে সরকার। ঘোষণা এবারের বাজেটে। বাজেট তো প্রতিবারই হয়, কিন্তু এবারের বাজেট তার ছন্দেই অনন্য। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্য সরকারের শেষ বাজেট বা বলা ভাল ভোট অন বাজেট। আর তাতে যে চমক থাকে তা আগে থেকেই টের পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু চমকটা কোন পথে আসবে তা বোঝা যাচ্ছিল না। অবশেষে আশা কর্মী থেকে সিভিক পুলিশ, সকলের ভাতা বাড়ল, সঙ্গে হয়ে গেল বড় ঘোষণা। ১ অগস্ট থেকে চালু হবে এই যুবসাথী। রাতারাতি আবার দিনক্ষণও এগিয়ে এল। তাও আবার ৪ মাস। ১ এপ্রিল থেকেই বেকার যুবদের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে টাকা। ২৯৪টি বিধানসভা ক্ষেত্রেই বসেছে ফর্ম ফিলাপের ক্যাম্প। থিকথিক করছে ভিড়। ভাতার লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকেই বলছেন চাকরির কথা, চাইছেন স্থায়ী চাকরি। 

ভোটের মুখে এই প্রকল্প চালু করায় তা নিয়ে চর্চার অন্ত নেই। এখনও পর্যন্ত যা খবর তাতে দেখা যাচ্ছে গোটা রাজ্যে প্রায় ১৮ লাখের কাছাকাছি আবেদন জমা পড়েছে। বিরোধীরা বলছে শিল্প-কর্মসংস্থান না দিতে পেরে আসলে ভাতার ললিপপ দিচ্ছে সরকার। এখন দিনের শেষে লাভের গুড় ঘরে তুলতে পারবে তো তৃণমূল? 



কেন প্রয়োজন পড়ল?
তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য এই প্রকল্প একটি বড় মাস্টারস্ট্রোক হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মূল টার্গেট জেন জ়ি। রাজ্যে কয়েক লক্ষ তরুণ ভোটার রয়েছেন যারা প্রথম বা দ্বিতীয়বার ভোট দেবেন। এই ‘বেকার ভাতা’ প্রকল্পের মাধ্যমে সেই বিশাল যুব ভোটব্যাঙ্ককে নিজেদের দিকে টানতে চাইছে ঘাসফুল শিবির। 

অন্যদিকে বাংলার তরুণী, মধ্যবয়স্ক মহিলা, বয়স্ক মহিলা সকলের জন্যই রয়েছে গুচ্ছ গুচ্ছ প্রকল্প। পুরোদমে চলছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, বিধবা ভাতার মতো প্রকল্প। বিশ্লেষকরা বলছেন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ যেমন আগের ভোটগুলিতে শাসকদলকে ব্যাপক ডিভিডেন্ড দিয়েছিল তেমনই এবার যুবসাথীর মাধ্যমে যুবক-যুবতীদের মধ্যেও সেই একই ধরনের প্রভাব সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। যদিও সরকারের মতে, এটি কেবল ভাতা নয়, বরং কর্মসংস্থান খোঁজার পথে তরুণদের জন্য একটা ছোট্ট আর্থিক নিরাপত্তা দেওয়ার চেষ্টা। তৃণমূল নেতাদেরও সুর তেমনই। কিন্তু ভোটের মুখেই কেন? এতদিন বেকার যুবদের কথা মাথায় আসেনি? ঠিক ভোটের মুখেই চালু করতে হল। বিজেপির দাবি, গত ১৫ বছরে রাজ্যে কোনো বড় শিল্প বা কর্মসংস্থান হয়নি বলেই শিক্ষিত যুবকদের ১৫০০ টাকার ভাতার লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। আসলে ভাতা দিয়ে ভোট কিনতে চাইছে তৃণমূল। বেকার ছেলেমেয়েদের ওয়কাৎ কী শুধু দেড় হাজার? প্রশ্ন তুলছে গেরুয়া শিবির। 

বিজেপি নেতা সজল ঘোষ তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে বলছেন, “এরা শিক্ষিত বেকারদের গালে থাপ্পর মেরে বুঝিয়ে দিচ্ছে এই রাজ্যে থাকলে তোমার ওয়কাৎ দেড় হাজার টাকা। আমি বেকার ভাইদের বলব আপনারা ভাতাটা নিন, কিন্তু ভোটটা ভুলেও দেবেন না।” সজল আবার বলছেন তিনি তাঁর ছেলেকেও বলেছেন টাকা নিতে।

কটাক্ষের সুর বাম ও কংগ্রেসেরও। বামেরা বলছে তাঁদের সময়েও তাঁরাও বেকার ভাতা দিত। কিন্তু এভাবে তা নিয়ে রাজনীতি করতো না। কংগ্রেসের দাবি, পায়ের তলার মাটি সরকেই দান-খয়রাতির রাজনীতি করে টিকে থাকতে চাইছে তৃণমূল। বাম কংগ্রেস নেতাদের সাফ কথা, ১৫০০ টাকা কোনও সমাধান নয়। যুবকদের দরকার স্থায়ী কাজ। রাজ্যের চাই শিল্প। 

সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলছেন, “এটা স্পষ্ট হয়ে গেল যে এই ভাতা আসলে ভোটের জন্য চালু করা হয়েছে। যে সরকার বলেছিল ডবল ডবল চাকরি দেব তার এখন সিঙ্গেল চাকরি দেওয়ারও ক্ষমতা নেই, তাই ভাতা।” কটাক্ষের সুর প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর গলাতেও। মমতার বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে তিনি বলছেন, “উনি প্রমাণ করে দিয়েছেন রুটি-রুজির প্রশ্নে এ বাংলায় তিনি গত ১৫ বছর কিছুই করেননি। বাংলায় বেকার যুবকের সংখ্যা দিনের পর দিন হু হু করে বেড়ে চলেছে।” 

সাম্প্রতিককালে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে বারবার উত্তাল হয়েছে রাজ্য-রাজনীতি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতেই যুবদের ক্ষোভের পাহাড় জমেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এমতাবস্থায় গ্রামীণ ও নিম্নবিত্ত যুবকদের সমর্থন পেতে বদ্ধপরিকর শাসকদল। কারণ, প্রতিভোটেই দেখা যায় শহুরে ভোটাররা কিছুটা মুখ ফেরালেও গ্রামীণ ভোট ব্যাঙ্ক অটুট থেকে তৃণমূলের। অন্যদিকে বাড়তে থাকা বেকারত্বের মধ্যে শহুরে ও উচ্চশিক্ষিত বেকারদের ক্ষোভকেও কিছুটা স্থিমিত করার চেষ্টা হতে পারে এই প্রকল্পের হাত ধরে। অন্যদিকে বিরোধীরা ভাতার বিরোধী করলেও তার সুর যেন কিছুটা নরম। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তীব্রভাবে ভাতার বিরোধিতা করলে ‘গরিব বিরোধী’ তকমা পাওয়ার ভয় থাকছেই। ফলে উপায় নেই। এদিকে এরইমধ্যে তো আবার বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন তাঁরা ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের দেড় হাজার বেড়ে একেবারে তিন হাজার হয়ে যাবে। তাহলে বুঝতেই পারছেন। 

গত বছরের শেষেই হয়েছে বিহারের বিধানসভা নির্বাচন। সেখানেও ভোটের আগে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছিল একেবারে ১০ হাজার টাকা। মহিলা রোজগার যোজনা নিয়ে শুধু বিহারের রাজনৈতিক মহল নয়, তোলপাড় চলেছিল গোটা দেশেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগে টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলে তার ছাপ অনেকটাই তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক শক্ত করতে কাজে লাগবে। কিন্তু বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ যদিও বলছেন, ছেলের বেকার ভাতার লাইনে যেভাবে বাবাদের দাঁড়াতে হচ্ছে এর থেকে দুর্ভাগ্যের ছবি বাংলার জন্য আর হতে পারে না। তার মতে দিনের শেষে আবেদনকারীর সংখ্যা কোটিও পার করে যেতে পারে। 

সাধারণ মানুষের মধ্যেও কিন্তু এ নিয়ে আসছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ বলছেন এ ভিক্ষা দেওয়ার সামিল, কেউ বলছেন সবই ভোটের জেতার অস্ত্র। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে লক্ষ্মী ভান্ডারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মমতা। সেই লক্ষ্মী ভান্ডারের উপর ভর করে পঞ্চায়েত নির্বাচন, লোকসভা নির্বাচনে ফসল ঘরে তুলেছে তৃণমূল। অর্থাৎ লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রমাণ করে দিয়েছে ভাতা দিয়ে নির্বাচনে জেতা যায়। শুধু বাংলা নয়, দিল্লি, মধ্য প্রদেশ, ওড়িশা বা সম্প্রতি বিহার নির্বাচনেও প্রমাণ হয়েছে। আর লক্ষ্মীর ভান্ডারের সঙ্গে অর্থাৎ ঘরের মেয়েদের সঙ্গে যদি ছেলেদেরও টাকা দেওয়া যায়, তাহলে কী হবে? দেখা যাক ভোটের রেজাল্ট কী বলে। 


প্রয়াত বাম-বিধায়ক পদ্মনিধি ধরের নাতনিকে নিয়ে আকস্মিক গুঞ্জন তৈরির নেপথ্যে বড় ফ্য়াক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে নির্বাচনী টিকিট। সিপিএমে একটা গুঞ্জন ছিল, দীপ্সিতা ধর বিধানসভা ভোটে টিকিট পাবেন। তাও আবার হুগলির উত্তরপাড়া থেকে। অবশ্য, তাঁর বাড়িও খুব কাছাকাছি, বালির ঘোষপাড়া।

দাদু পদ্মনিধি ধর ছিলেন ডোমজুড়ের তিন বারের সিপিএম বিধায়ক। কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম মুখ। বাবা পীযূষ ধর সিপিএমের শিশুফ্রন্ট ‘কিশোরবাহিনীর’ রাজ্য সম্পাদক। বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যোগ রয়েছে মা দীপিকা ঠাকুর চক্রবর্তীরও। এক কথায় গোটা পরিবারই ‘লাল ব্রিগেড’। আর সেই পরিবারের সন্তান বিতর্কের আবহে সিপিএমের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছেন?

‘লড়াকু’ প্রতীক-উরকে নিয়ে কম অস্বস্তিতে পড়েনি সিপিএম। তার মধ্য়ে দীপ্সিতাকে কেন্দ্র করেও তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা। কেউ কেউ বলছেন, দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছেন তিনি। হয়তো নতুন কোনও পথে হাঁটার কথাও ভাবছেন। তা হলে প্রতীক-উরের মতো নতুন পথের পথিক হতে চান দীপ্সিতাও?



এই নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়েছিল তাঁকে। দীপ্সিতার দাবি, “সবাই তো বলছেন, আমি জল মাপছি। তবে এই গোটা ব্যাপারটাই আমি মজার ছলে নিয়েছি। কারণ জানি এমন কিছু ঘটছে না। প্রতীক-উরদা চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু আমি তো কোনও চিঠি দিয়েছি বলে মনে পড়ছে না। অন্য কোনও দলের সঙ্গে কথা বলছি এমনটাও নয়। তা হলে এটা কি সুপরিকল্পিত ভাবে ছড়ানো একটা খবর? এর নেপথ্যে একটা ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।” চারিদিকে যখন সিপিএমের যুবনেতা-নেত্রীদের তৃণমূলে যাওয়া নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, সেই আবহে দীপ্সিতা বলছেন অন্য কথা। তাঁর কথায়, “আমি খুব মজার ছলেই বলছি। যদি যেতেই হয় সমাজবাদী পার্টিতে যাব। তাতে লালও রয়েছে, সমাজবাদও রয়েছে।”

প্রয়াত বাম-বিধায়ক পদ্মনিধি ধরের নাতনিকে নিয়ে আকস্মিক গুঞ্জন তৈরির নেপথ্যে বড় ফ্য়াক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে নির্বাচনী টিকিট। সিপিএমে একটা গুঞ্জন ছিল, দীপ্সিতা ধর বিধানসভা ভোটে টিকিট পাবেন। তাও আবার হুগলির উত্তরপাড়া থেকে। অবশ্য, তাঁর বাড়িও খুব কাছাকাছি, বালির ঘোষপাড়া। গত লোকসভা নির্বাচনে দীপ্সিতা শ্রীরামপুর কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছিলেন। উত্তরপাড়া বিধানসভা এই শ্রীরামপুর লোকসভারই অন্তর্গত। জিততে না পারলেও, ওই বিধানসভা কেন্দ্রেই সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছিলেন দীপ্সিতা। সুতরাং, উত্তরপাড়ার প্রার্থী হিসাবে তিনি যে একেবারের সামনের সারিতে থাকবেন এটাই স্বাভাবিক।

কিন্তু দলীয় সূত্রে খবর, সেই সিদ্ধান্তে বড় বদল আনার পথে সিপিএম। উত্তরপাড়ায় লড়তে পারেন মিনাক্ষী মুখোপাধ্য়ায়। সাম্প্রতিক স্থানীয় একাধিক কর্মসূচিতেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। তারপরেই বেড়েছে অস্বস্তি। যদিও নির্বাচনে লড়ার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয়েছিল দীপ্সিতাকে। তিনি সাফ জানিয়েছেন, “সবটাই পার্টি ঠিক করবে।”

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা চলছে রাজ্যে। হাজার হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন সেই পরীক্ষায়। বাংলা, ইংরেজির মতো বিষয়গুলির পরীক্ষা শেষ হয়েছে ইতিমধ্যেই। কোনও বিভ্রান্তি তৈরি হয়নি এখনও পর্যন্ত। তবে অঙ্ক পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে যে একটা ভুল হয়েছে, তা মানল সংসদ। কেন ভুল হয়েছে, সেটাও বলে দেওয়া হয়েছে সংসদের তরফে।

উচ্চ মাধ্যমিকের অঙ্ক পরীক্ষায় বড় ভুল সংসদের, এই প্রশ্নগুলি ছুঁলেই মিলবে নম্বর

বৃহস্পতিবার ছিল উচ্চ মাধ্যমিকের অঙ্ক পরীক্ষা। আর সেই পরীক্ষাতেই ঘটে গেল বিপত্তি। সংসদের ভুলেই বিপাকে ছাত্রছাত্রীরা। অনেকে বুঝেই উঠতে পারলেন না প্রশ্ন, দিতে পারলেন না উত্তর। এই অভিযোগ সামনে আসার পর নড়েচড়ে বসল উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। ১০ নম্বরের প্রশ্নের ক্ষেত্রে কীভাবে নম্বর দেওয়া হবে জানিয়ে দেওয়া হল নির্দেশিকা।

এদিন পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর জানা যায়, ১০ নম্বরের প্রশ্ন এসেছিল সিলেবাসের বাইরে থেকে। সেই সব প্রশ্নের ক্ষেত্রে নম্বর দিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।


 বিজেপিতে অস্বস্তি বোধ! ভোটের আগে তৃণমূলে যোগ বিধায়কের
'যেতে হলে সমাজবাদী পার্টিতে যাব...', পার্টির গোলমাল নিয়ে দীপ্সিতার মুখে 'ষড়যন্ত্রের' কথা
2B, 11B, 11C- এই তিনটি নম্বরের প্রশ্ন ভুল ছিল, এগুলি সিলেবাসের বাইরে থেকে এসেছে বলে জানিয়েছে সংসদ। প্রথমটিতে ২ ও পরেরগুলিতে ৪-৪ নম্বর ছিল অর্থাৎ মোট ১০ নম্বরের প্রশ্ন নিয়ে সমস্যা। তাই সংসদের তরফে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছে যে ওই প্রশ্নগুলি ছুঁলেই নম্বর দিয়ে দেওয়া হবে।

সংসদ সভাপতি জানিয়েছেন, ‘থ্রিডি জিওমেট্রি’ থেকে এই প্রশ্নগুলি এসেছিল। তিনি জানান, ‘থ্রিডি জিওমেট্রি’ হল একটি মূল চ্যাপ্টার। তার অধীনে সাব টপিক থাকে অনেকগুলি- যেমন ‘স্ট্রেইট লাইন’, ‘প্লেনও জিওমেট্রি।’ তিনি জানান, বই লেখার সময় যে সিলেবাস দেওয়া হয়েছিল সেই অনুসারে, কাউন্সিল অনুমোদিত বইতে প্লেন জিওমেট্রি ছিল। সেই বই দেখেই প্রশ্ন করা হয়েছে। কিন্তু পরে সিলেবাসে কিছু বদল করা হয়। সেখানেই প্লেন জিওমেট্রি বাদ পড়ে। আর ক্ষেত্রে ওই প্লেন জিওমেট্রি থেকেই প্রশ্ন এসেছে।

গ্রেগ চ্যাপেল বলেও অভিহিত করেন সেলিমকে। আর রাহুল দ্রাবিড়ের মতো 'ইয়েস স্যর' বললে তবেই কাজ পাওয়া যায় বলে দাবি করেন। তাঁর দাবি, সিপিএমে এখন 'ডর কা মহল' তৈরি হয়েছে। সেলিমের নেতৃত্বে চলা সিপিএমে কথা বললে পদ খোয়া যায়, 'ইয়েস স্যর' বললে নেতা হিসেবে প্রমোট করা হয়, এমনটাও দাবি করেন প্রতীক-উর

 সিপিএমে এখন 'ডর কা মহল' আর সেলিম 'গব্বর সিং', চাঁচাছোলা আক্রমণ প্রতীক-উরের

 জানানোর পরও সেলিমের যোগাযোগ করার সময় হল না কেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তরুণ রাজনীতিক। আর এবার প্রকাশ্যে মহম্মদ সেলিম ‘ভিলেন’ বলে দিলেন প্রতীক-উর। বললেন সিপিএমের অন্দরে এখন ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

৩৪ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের শাসন ক্ষমতায় থাকা সিপিএম বর্তমানে শূন্যে ঠেকেছে। সেই দল সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে এদিন প্রতীক-উর সরাসরি বলেন, ‘উনি গব্বর সিং’।



জেল থেকে সরাসরি বিয়ের আসরে! রাজপালের কাণ্ড মুহূর্তে ভাইরাল
তারপর বলেন, ‘মোগাম্বো… হিন্দি সিনেমায় যত ভিলেন আছে, সবার নাম বলা যেতে পারে।’ গ্রেগ চ্যাপেল বলেও অভিহিত করেন সেলিমকে। আর রাহুল দ্রাবিড়ের মতো ‘ইয়েস স্যর’ বললে তবেই কাজ পাওয়া যায় বলে দাবি করেন। তাঁর দাবি, সিপিএমে এখন ‘ডর কা মহল’ তৈরি হয়েছে। সেলিমের নেতৃত্বে চলা সিপিএমে কথা বললে পদ খোয়া যায়, ‘ইয়েস স্যর’ বললে নেতা হিসেবে প্রমোট করা হয়, এমনটাও দাবি করেন প্রতীক-উর।

তরুণ নেতার আরও দাবি, এই সিপিএমে কেউ নেতৃত্বের কথা না মানলে, তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়। প্রতীক-উরের কথায়, “কখনও কারও হাতে মদের গ্লাস ধরিয়ে দিয়ে ছবি তোলা হয়, কখনও তৃণমূলের সঙ্গে সেটিং বা বিজেপির সঙ্গে সেটিং-এর কথা প্রচার করা হয়। আমি মারা গেলে, কবর খুঁড়লেও কোনও কেস পাবেন না।” প্রতীক-উরের দাবি, তাঁর মতো অনেকেই দলীয় নেতৃত্ব তথা সেলিমের কাজে অসন্তুষ্ট, তবে প্রত্যেকের বিদ্রোহের পথ আলাদা।



কমিশনের চিঠিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, সেরে নিতে হবে প্রস্তুতির কাজ। অর্থাৎ যে সকল রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর-এর কাজ মিটে গিয়েছে বা চলছে, সেগুলি বাদে বাকি সকল রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সিইওদের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পরিমার্জনের জন্য আগাম প্রস্তুতি সেরে রাখার নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।

গোটা দেশে হবে SIR, বাকি থাকা রাজ্য-কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলগুলিকে বড় নির্দেশ কমিশনের
তারিখ জানিয়ে দিল কমিশন


বিশেষ নিবিড় পরিমার্জন প্রক্রিয়ার তৃতীয় অধ্য়ায়। বিহার মিটেছে। চলছে বাংলা-সহ ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রীয় শাসিত অঞ্চলের কাজ। তবে গোটাটাই চূড়ান্ত পর্যায়ে। এবার এই আবহে দেশের আর সকল রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর করার কথা ঘোষণা করে দিল নির্বাচন কমিশন। বিহারে এসআইআর হওয়ার পর বাংলা-সহ আর ১২টি রাজ্য়-কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে গোটা প্রক্রিয়াটিকে নিয়ে প্রাথমিক ভাবে লুকোছাপা করতে দেখা গিয়েছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে। কবে হবে, কখন হবে, আদৌ হবে কিনা — সব নিয়েই একটু চুপ ছিল তাঁরা। কিন্তু এবার আর তা নয়, ভারতবাসী এসআইআর-এর সঙ্গে কার্যত ওয়াকিবহাল হয়ে গিয়েছে, তা স্পষ্ট। জল মেপে নিয়েছে কমিশনও।

বৃহস্পতিবার, এসআইআর হয়ে গিয়েছে বা চলছে এমন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল বাদে বাকি রাজ্য় ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের চিঠি পাঠাল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। কী লেখা রয়েছে তাতে? কমিশনের চিঠিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, সেরে নিতে হবে প্রস্তুতির কাজ। অর্থাৎ যে সকল রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর-এর কাজ মিটে গিয়েছে বা চলছে, সেগুলি বাদে বাকি সকল রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সিইওদের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পরিমার্জনের জন্য আগাম প্রস্তুতি সেরে রাখার নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।



বিয়ের সাজে সেজে উঠেছে বিজয় দেবেরাকোন্ডার বাড়ি! জল্পনার অবসান?
চিঠিতে এসআইআর শুরুর সম্ভাব্য সময়ও উল্লেখ করে দিয়েছে নয়াদি্ল্লি। তাদের মতে, আগামী এপ্রিল মাস থেকে বাকি থাকা রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে এসআইআর-এর কাজ শুরু হয়ে যেতে পারে। সুতরাং, তার আগে যাবতীয় পরিকাঠামো গত প্রস্তুতি সেরে রাখতে হবে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের।


প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপচি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চে ছিল তামিলনাড়ুর একটি মামলার শুনানি। সেই মামলাতেই এই প্রশ্ন উঠেছে। উল্লেখ্য়, ভোটমুখী বাংলায় সদ্য যুবসাথী প্রকল্পের ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার, যাতে বেকারভাতা হিসেবে দেওয়া হবে নগদ টাকা।
 

ভোটের আগেই নগদ টাকা দেওয়ার স্কিম!', বড় প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট

রাজ্য সরকার বা কোনও রাজনৈতিক দলের দান-খয়রাতির রাজনীতি নিয়ে আগেও প্রশ্ন উঠেছে আদালতে। আর এবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের মুখে সেই দান-খয়রাতি নিয়ে বড় পর্যবেক্ষণ শীর্ষ আদালতের। কেন ভোটের আগে নগদ টাকা দেওয়ার স্কিম চালু করা হয়, সেই প্রশ্ন তুলল প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।

ভোটের আগে কেন বিভিন্ন রাজ্যের সরকার এভাবে দান-খয়রাতির স্কিম ঘোষণা করে, সেই প্রশ্নই উঠল বৃহস্পতিবার। এর ফলে দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়ন ধাক্কা খাবে বলে মন্তব্য করেছে সুপ্রিম কোর্ট। এভাবে আদতে তোষণা করা হচ্ছে বলেই মন্তব্য করেছে আদালত।

সাগর থানার ওসি ও হ্যাম রেডিওর মানবিক জয়: গঙ্গাসাগরে হারিয়ে যাওয়া রজনী ফিরছেন ঘরে


"ফিরছে ওরা ঘরে, হ্যামের হাত ধরে"—এই স্লোগানকে ফের একবার সার্থক করে তুলল ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিও ক্লাব (হ্যাম রেডিও) এবং সাগর থানার পুলিশ। লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর ভিড়ে পথ হারানো হরিয়ানার রজনী শর্মা বৃহস্পতিবার, অবশেষে তাঁর পরিবারের হাত ধরে বাড়ির পথে রওনা হলেন। এই অসাধ্য সাধনের নেপথ্যে অগ্রণী ভূমিকা পালন করলেন সাগর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক অর্পণ নায়েক এবং হ্যাম রেডিও-র নিবেদিতপ্রাণ সদস্যরা।
গঙ্গাসাগরের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া দিনলিপি
এ বছর গঙ্গাসাগর মেলায় পুণ্যস্নানের লক্ষে এসেছিলেন রজনী শর্মা। কিন্তু মেলার জনসমুদ্রে আচমকাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন পরিবার থেকে। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে দিন কাটছিল রাস্তার ধারে কিংবা দোকানের বারান্দায়। কখনও গান গেয়ে, কখনও নাচ করে আবার কখনও ডুকরে কেঁদে সময় পার করছিলেন তিনি। স্থানীয়দের দেওয়া খাবার খেয়েই কোনোমতে টিকে ছিলেন। গত কয়েকদিন আগে মাঘী পূর্ণিমার মেলা চলাকালীন কচুবেড়িয়া ফেরিঘাটে দায়িত্বরত এক সিভিল ডিফেন্স কর্মীর নজরে আসেন। খবর দেওয়া হয় সাগর থানায়।
তদন্তে নামেন ওসি ও হ্যাম রেডিও খবর পাওয়া মাত্রই সাগর থানার ওসি অর্পণ নায়েক বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে হ্যাম রেডিও-র প্রতিনিধি দিবস মন্ডলকে জানান। হ্যাম রেডিও-র সদস্য শিক্ষক দিবস মন্ডল ও আতাউর সেখ রজনীর সাথে দফায় দফায় কথা বলেন। মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে তিনি একেকবার একেক জায়গার নাম বলছিলেন। কখনও রাজস্থান, কখনও দিল্লি বা উত্তরাখণ্ড। দীর্ঘ আলাপের মাঝে তিনি একটি স্কুলের নাম ও প্রিন্সিপালের নাম উল্লেখ করেন। সেই সূত্র ধরেই হ্যাম রেডিওর সদস্যরা যোগাযোগ শুরু করেন। জানা যায়, রজনীর বাবা-মা ও ভাই কেউ জীবিত নেই। পাড়া-প্রতিবেশীরাও শুরুতে তাঁকে চিনতে পারছিলেন না। তবে হাল ছাড়েননি ওসি অর্পণ নায়েক ও হ্যাম রেডিওর সদস্যরা। দীর্ঘ প্রচেষ্টায় উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারের সুভাষগড়ে তাঁর বোন রিম্পি শর্মার খোঁজ মেলে। জানা যায়, রজনীর স্বামী রাজীব কুমার ও তাঁর সন্তানরা হরিয়ানার ফরিদাবাদে থাকেন। প্রায় এক বছর আগে তিনি নিখোঁজ হয়েছিলেন। পরিবারের সাথে ভিডিও কলে কথা বলিয়ে দেওয়া হলে তিনি আনন্দে নেচে ওঠেন এবং গান ধরেন— "তুম আগর সামনে আভি যায়া করো"। রজনীর স্বামী রাজীব কুমার শুরুতে তাঁকে ফিরিয়ে নিতে কিছুটা অনিচ্ছা প্রকাশ করলেও, পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সাগর থানার পুলিশ ও হ্যাম রেডিও-র পক্ষ থেকে হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী দপ্তর এবং ফরিদাবাদ পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হয়। প্রশাসনের চাপে ও ওসি অর্পণ নায়েকের নিরন্তর সহযোগিতায় অবশেষে আজ রাজীব কুমার সাগরে পৌঁছান।

আজ বৃহস্পতিবার, সাগর থানার ওসি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে হ্যাম রেডিও-র সদস্যদের উপস্থিতিতে রজনী শর্মাকে তাঁর স্বামীর হাতে তুলে দেন। বিদায়বেলায় রজনীর মুখে ছিল অমলিন হাসি। সাগর থানার ওসি অর্পণ নায়েক জানান, "পুলিশ ও হ্যাম রেডিওর এই সমন্বিত প্রচেষ্টা সফল হয়েছে। আমাদের আনন্দ এখানেই যে একজন মানুষকে আমরা নিরাপদে তাঁর পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে পারলাম।"
ধন্যবাদ জানিয়েছেন সাগর থানার পুলিশ আধিকারিক, সিভিল ডিফেন্স ও হ্যাম রেডিও-র সদস্যরা। হ্যাম রেডিও-র বার্তা— "হ্যাম মানেই হেল্প অলওয়েজ ম্যানকাইন্ড।" রজনী আজ বাড়ি ফিরলেও সাগরের চরে হয়তো এখনও এমন অনেক মানুষ প্রিয়জনের অপেক্ষায় আছেন। তবে প্রশাসন ও হ্যামের এই মেলবন্ধন আশ্বাস দিচ্ছে—সবাই ফিরবে ঘরে।

দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান: মনসাদ্বীপে নতুন কংক্রিট রাস্তার উদ্বোধন করলেন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী


গ্রামবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সাগরের মনসাদ্বীপে নির্মিত হলো নতুন কংক্রিট রাস্তা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় এবং বিধায়ক উন্নয়ন তহবিলের অর্থানুকূল্যে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে।

মনসাদ্বীপের খগেন্দ্রনাথ মালের বাড়ি থেকে শ্রীকৃষ্ণ সীটের বাড়ি পর্যন্ত এই নবনির্মিত রাস্তার শুভ উদ্বোধন করেন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা। দীর্ঘ সময় ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি কাঁচা বা মাটির অবস্থায় ছিল। ফলে বর্ষাকালে গ্রামবাসীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো; কাদা ভেঙে যাতায়াত করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ত।
রাস্তাটি পাকা হওয়ায় খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এলাকার একাধিক বিশিষ্ট নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা। মন্ত্রী জানান, এলাকার পরিকাঠামো উন্নয়নে রাজ্য সরকার বদ্ধপরিকর এবং এই রাস্তাটি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে বড়সড় স্বস্তি দেবে।