WEATHER

Top News


সাগর পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি স্বপন প্রধানকে ঘিরে গঙ্গাসাগরের কালিবাজার এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও বিক্ষোভ ছড়ায়।স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিজেপির বেশ কিছু সমর্থক তাঁকে বিভিন্ন অভিযোগে ঘেরাও করে প্রতিবাদ জানাতে জমা হন। 

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে স্বপন প্রধান কুরুচিকর মন্তব্য করেছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। তাঁরা স্বপন প্রধানকে ঘিরে ধরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থার দাবি জানান। 

খবর পেয়ে গঙ্গাসাগর কোস্টাল থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। ইতিমধ্যে এই চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

সেবা সংকল্প অভিযানের অঙ্গ হিসেবে সাগরদ্বীপের মহেন্দ্রগঞ্জ বাজারে এক উৎসবমুখর আবহে পালিত হলো ‘রঙ তুলি’ কর্মসূচি। আসন্ন শারদোৎসবকে সামনে রেখে এ দিন সাগর মন্ডল ২-এর উদ্যোগে মন্দির প্রাঙ্গণে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে রঙিন তুলির টানে ঐতিহ্যবাহী আলপনা চিত্র অঙ্কন করা হয়।


এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির মন্ডল 2 মন্ডল সভাপতিসহ দলের একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব ও কর্মী-সমর্থকেরা। উৎসবের এই প্রাক্কালে মন্ডলের পক্ষ থেকে সকল সাধারণ মানুষ ও বন্ধুদের শারদীয়ার প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানানো হয়।

 দলের নেতৃত্বের মতে, সেবা সংকল্প অভিযানের মূল লক্ষ্যই হলো সংস্কৃতি ও সেবার মেলবন্ধনে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো। এদিনের বর্ণময় আলপনা চিত্র অঙ্কন কর্মসূচি স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
সাগর: নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেন সাগর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল। সাগর ব্লকের বিজেপির ১ নম্বর মণ্ডলের অন্তর্গত মন্দিরতলা এলাকায় নতুন ইটের রাস্তার শুভ উদ্বোধন করলেন তিনি। দীর্ঘদিনের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমায় খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মুড়িগঙ্গা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩২ নম্বর বুথের হরিহর কামিলার বাড়ি থেকে শেখ কায়েমের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিটার রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে মাটির অবস্থায় ছিল। বৃষ্টিতে কাদা-জলে চলাচল করতে সমস্যায় পড়তেন স্কুল-কলেজের পড়ুয়া থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ ও অসুস্থ রোগীরা।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রচারে গিয়ে এলাকাবাসীর এই সমস্যার কথা শুনে রাস্তা তৈরির আশ্বাস দিয়েছিলেন সুমন্ত মণ্ডল। বিধায়ক হওয়ার পর কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ভিবি-জি রাম জি’ প্রকল্পের অধীনে শুরু হয়েছে রাস্তা নির্মাণের কাজ। এই প্রকল্পে মোট বরাদ্দ ১৯ লক্ষ ১৪ হাজার ৫৪৩ টাকা। কাজের মাধ্যমে ১০১১টি কর্মদিবস তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে শ্রমিকদের দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরি দেওয়া হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিধায়ক জানান, মানুষের সমস্যার সমাধান করাই জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর প্রধান দায়িত্ব। পাশাপাশি আগামী এক বছরের মধ্যে ইটের রাস্তাটিকে ঢালাই রাস্তায় রূপান্তর করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও প্রস্তাব পাঠানোর আশ্বাসও দেন তিনি।

দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি ভবিষ্যতে ঢালাই রাস্তার আশ্বাস পেয়ে খুশি মন্দিরতলার বাসিন্দারা।

১২ তম বর্ষে পা দিল গঙ্গাসাগরের খান সাহেব আবাদ এসি ক্যালভার্ট বড়মা পুজো কমিটির কালিপুজো। এ উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আয়োজিত হলো উৎসবের সূচনাপর্ব অর্থাৎ খুঁটিপুজো।


প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও দর্শনার্থীদের চমক দিতে বিশেষ আয়োজন করছে পুজো কমিটি। এ বারের মূল আকর্ষণ নৈহাটির বিখ্যাত ‘বড়মা’-র আদলে নির্মিত ২১ ফুট উচ্চতার বিশালাকার কালীর প্রতিমা। ঐতিহ্য ও সাড়ম্বরের মেলবন্ধনে পুজো প্রাঙ্গণকে অনন্য রূপ দিতে জোরকদমে চলছে মণ্ডপ ও প্রতিমা তৈরির কাজ।

পুজো উদ্যোক্তারা জানান, বিগত বছরগুলির মতো এ বারও তাঁদের পুজো ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে আড়ম্বরের সঙ্গেই খুঁটিপুজো সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী দিনগুলিতেও দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ থাকবে।

 ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সহযোগিতায় আন্ত: জেলা দুদিনের নকআউট ফুটবল প্রতিযোগিতা শুরু হয় কাকদ্বীপ বিধানসভা কেন্দ্রের কৃষ্ণনগর জোনে নারায়নপুর পরিষদ মাঠে। সকাল থেকে শুরু হয়। 


পোবাঁকুড়া বীরভূম মুর্শিদাবাদ নদিয়া উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিন ২৪ পরগনা থেকে পুরুষ ও মহিলা ফুটবল দল নক আউট ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। পুরুষ বিভাগে ১১ টি দল ও মহিলা বিভাগের ৮টি দল অংশগ্রহণ করে। এখান থেকে দুটি বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হওয়া দল পুরুলিয়া জেলায় ফাইনাল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে।

 ফাইনাল প্রতিযোগিতায় পুরস্কার সাড়ে ৯ লাখ টাকা। এখানকার ফুটবল প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার ১ লাখ টাকা ও ট্রফি, দ্বিতীয় পুরস্কার ৭০ হাজার টাকা ও ট্রাফিক, তৃতীয় পুরস্কার ১০, হাজার টাকা সহ ট্রফি, চতুর্থ পুরস্কার ১০, হাজার টাকার সহ ট্রফি। এছাড়া ছিল সেরা গোলদাতা সেরা খেলোয়াড়দের পুরস্কার।এ


আজ থেকে মাতৃপক্ষের সূচনা, অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির আবাহনের এই শুভক্ষণে চিত্রকূট ক্রিয়েটিভ আর্ট অ্যান্ড ক্রাফট-এর পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয়েছিল একটি ছোট্ট কর্মশালা এবং হস্তশিল্প মেলা। নারায়ণপুর পরিবেশ গেস্ট হাউস এ শিক্ষক সায়ন মিদ্দা উদ্যোগে


এই কর্মশালায় আমাদের পঞ্চাশের অধিক ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের হাত ধরে শুরু হয় মায়ের চক্ষুদান এবং মাকে নানারকম অলংকারে সুসজ্জিত করার এক সুন্দর প্রয়াস। এ বিষয়ে শিক্ষক সায়ন মিদ্দা জানায়।
আমাদের বাড়িতে পূজার সময় সাজিয়ে রাখার জন্য আমরা অনেকেই মাটির থালা, কুলো ও অন্যান্য হস্তশিল্পের সামগ্রী ব্যবহার করি। সেই পরিচিত শিল্পকর্মকেই আমাদের খুদে শিল্পীরা নিজেদের ছোট ছোট হাতের ছোঁয়ায়, রং-তুলির মাধ্যমে অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
মাটির থালা ও কুলোয় তাদের এই সৃজনশীল কাজগুলি বাড়ির পুজোর সাজসজ্জা থেকে শুরু করে বিভিন্ন পুজোমণ্ডপ ও প্যান্ডেল সাজানোর জন্যও অত্যন্ত উপযোগী। 

আমাদের এই আয়োজন খুব বড় কিছু নয়—আমাদের ছোট ছোট শিশুদের নিয়ে শিল্প, সৃজনশীলতা ও হস্তশিল্পের প্রতি ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়ার এক আন্তরিক প্রচেষ্টা মাত্র। তাদের হাতের কাজের মধ্য দিয়ে বাংলার লোকশিল্প ও আমাদের ঐতিহ্যকে নতুনভাবে তুলে ধরাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।
খুদে হাতের সৃষ্টিতে ফুটে উঠুক শিল্পের সৌন্দর্য, আর মায়ের আগমনে ভরে উঠুক সবার মন আনন্দে। 

চিত্রকূট ক্রিয়েটিভ আর্ট অ্যান্ড ক্রাফটের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শারদীয়ার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

রূপকথার ‘স্বপ্নলোক’ আর পৌরাণিক সমুদ্রমন্থনের কাহিনি—এই অভিনব ভাবনায় দর্শনার্থীদের মন জয় করতে প্রস্তুত দক্ষিণ চন্দননগর ও রাধানগরের ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজো। এবছর ৩৬তম বর্ষে পদার্পণ করল এই দুর্গোৎসব। ইতিমধ্যেই মণ্ডপ ও প্রতিমা তৈরির কাজ ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যস্ততা।

দক্ষিণ চন্দননগর ও রাধানগর গ্রামবাসী এবং দক্ষিণ চন্দননগর বাজার ব্যবসায়ীদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই পুজোর এবারের মূল আকর্ষণ ‘স্বপ্নলোক’ ভাবনার মণ্ডপসজ্জা। আলোকসজ্জা ও নানা কারুকার্যের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের সামনে রূপকথার জগৎ তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে উদ্যোক্তাদের।
অন্যদিকে, প্রতিমায় ফুটিয়ে তোলা হবে পৌরাণিক সমুদ্রমন্থনের আখ্যান। পাশাপাশি থাকবে রাণীর রূপ এবং প্রায় ২৯টি দেব-দেবীর প্রতিমা। পৌরাণিক কাহিনি ও অভিনব শিল্পভাবনার মেলবন্ধনে এবারের পুজো বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করবে বলে আশাবাদী আয়োজকরা।

স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও দাতাদের সহযোগিতার পাশাপাশি রাজ্য সরকারের অনুদানেও এগিয়ে চলেছে পুজোর প্রস্তুতি। মহাষষ্ঠীর দিন পুজোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হওয়ার কথা। প্রধান অতিথি ও উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ১৩২ নম্বর সাগর বিধানসভার বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডলের।

পুজো কমিটির সম্পাদক শ্রীকৃষ্ণ মান্না জানান, ৩৬ বছরের ঐতিহ্য বজায় রেখে রূপকথার ‘স্বপ্নলোক’ ও পৌরাণিক আবহের মেলবন্ধনে দর্শনার্থীদের জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করাই তাঁদের লক্ষ্য।

সন্দীপ দাস,নামখানা: মহালয়ার পুণ্যলগ্নে দেবীপক্ষের সূচনাকে সামনে রেখে নামখানা ব্লকের দশ মাইল বাজার এলাকায় প্রবীণদের হাতে নতুন বস্ত্র তুলে দিল আলোয় ফেরা ট্রাস্ট। সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিকতার বার্তা নিয়ে আয়োজিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে এলাকার প্রবীণদের পুজোর আনন্দে শামিল করার পাশাপাশি সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করল সংস্থাটি।

সারা বছর ধরে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে চলেছে আলোয় ফেরা ট্রাস্ট। বৃক্ষরোপণ, চারাগাছের পরিচর্যা এবং প্রকৃতির সবুজ রক্ষার মতো উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এই সংস্থা।

ট্রাস্টের কর্ণধার শিক্ষক শ্রী শান্তনু রায় জানান, এলাকার সামাজিক ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলিও তাঁদের নিজেদের পরিবারের অংশ। তাঁদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা এবং সমাজের প্রান্তিক মানুষের সমস্যাগুলির সমাধানে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে প্রকৃতির সবুজকে অক্ষুণ্ণ রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব সকলকে গ্রহণ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে জল সংরক্ষণের গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা হয়। উপস্থিত অতিথিরা প্রত্যেকেই জল অপচয় রোধ, প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং পরিবেশ সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন করে তোলার বার্তা দেন। ট্রাস্টের সঙ্গে যুক্ত সদস্য ও এলাকার শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় সমাজের তৃণমূল স্তরের সমস্যাগুলি চিহ্নিত করে তার সমাধানের লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাওয়ার কথাও উঠে আসে অনুষ্ঠানে।

এই কর্মসূচিতে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী ও মৎস্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শ্রী শান্তনু বেরা, দেবনগর মোক্ষদা দিন্দা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন টিচার-ইন-চার্জ শ্রী সঞ্জয় জানা, ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানার অফিসার-ইন-চার্জ শ্রী সুদীপ মণ্ডল এবং ‘ফুলকি’ পত্রিকার সম্পাদক শ্রী তাপস পাল।

এ ছাড়াও স্থানীয় উত্তর শিবপুর আলাপন ক্লাবের প্রতিনিধিদের বিশেষ সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।

মানবিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও পরিবেশ সচেতনতার মেলবন্ধনে আলোয় ফেরা ট্রাস্টের এই উদ্যোগ এলাকায় ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেয়। উৎসবের আনন্দকে সকলের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া এবং সমাজের প্রবীণ ও পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই প্রয়াস স্থানীয় স্তরে সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্বকে আরও একবার তুলে ধরল।

ভোট লুঠের অভিযোগ নির্বাচনের দিনই তুলেছিলেন হুমায়ুন। ৬ তারিখ একেবারে সকাল থেকে লাইমলাইটে ছিলেন তিনি। পুলিশের বিরুদ্ধে ভোট লুঠের অভিযোগ তুলে আটকও হন। এবার রেজাল্টের দিনও সেই একই অভিযোগ করলেন তিনি।


 ভোট মিটতেই কেঁদে ভাসিয়েছিলেন তিনি। সরতে চেয়েছিলেন রাজনীতি থেকেও। তবে কি তিনি কিছু আঁচ করতে পেরেছিলেন। চতুর্থ রাউন্ড শেষে রেজিনগর উপনির্বাচনে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি পেয়েছে ১২ হাজার ৭০৭। শাসকদল পেয়েছে ৩৫ হাজার ৮৯৬। আর এই ট্রেন্ড দেখেই হুমায়ুন কবীর বললেন, তিনি নাকি দুবাই চলে যাবেন। পরের পরিকল্পনা কী, সেটা বলতে গিয়েই হুমায়ুন বললেন, “‘ভারত ছেড়ে দুবাই চলে যাব। এখন আমার কাজ বাবরি মসজিদটা করা আর অধীর চৌধুরীকে ভোটে হারানো।”


ভোট লুঠের অভিযোগ নির্বাচনের দিনই তুলেছিলেন হুমায়ুন। ৬ তারিখ একেবারে সকাল থেকে লাইমলাইটে ছিলেন তিনি। পুলিশের বিরুদ্ধে ভোট লুঠের অভিযোগ তুলে আটকও হন। এবার রেজাল্টের দিনও সেই একই অভিযোগ করলেন তিনি। যেভাবে ভোটের দিন তিনি ময়দানে ছিলেন, ফলাফলের দিন তাঁকে সেভাবে গণনাকেন্দ্রের আশপাশে দেখা গেল না। প্রশ্ন করতেই বললেন, ” পুলিশ ভোট লুঠ করে বেরাচ্ছে, কোন ভরসায় গণনাকেন্দ্রে যাব? আমাকে ভয় পেয়ে খাঁচায় পুরে রেখেছিল।”



একদা কংগ্রেস নেতা। তারপর তৃণমূল। মাঝে বিজেপি ঘুরে আবার তৃণমূল। সেই তৃণমূল ছেড়ে নতুন দল গড়ে বিধায়ক হওয়া। রাজনীতি থেকে বাবরি মসজিদ- হুমায়ুনের বর্ণময় রাজনৈতিক জীবনে কি এবার সত্যিই ছেদ পড়তে চলেছে? উপনির্বাচনের দিন থেকেই তাঁকে যেন রাজনৈতিক আত্মসমর্পণ করতে বারবার দেখা গিয়েছে। কখনও তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, কখনও বিধানসভাতেই যাবেন না, কখনও বলছেন বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেবেন, আবার কখনও বলছেন রাজনীতিই ছেড়ে দেবেন। এবার বলছেন দুবাই যাবেন! তিনি কি সত্যিই যাচ্ছে দুবাই? তা সময় বলবে।



২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলা রাজনৈতিক চিত্র ছিল অনেকটাই আলাদা। মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি। সেই ভোটে বাম প্রার্থী শান্তিগোপাল গিরি পেয়েছিলেন ২৯৭৭টি ভোট। ১.১৯ শতাংশ ভোট পেয়েছিল বামেরা। শুক্রবার দেখা গেল, উপ নির্বাচনের ফলাফলে ১২ রাউন্ড গণনা শেষে বামেদের ঝুলিতে গিয়েছে ৫০০০ ভোট। এবারও প্রার্থী সেই শান্তিগোপাল গিরিই।

বামেদের ভোট বামেদের কাছেই আছে। নন্দীগ্রামের উপ নির্বাচনের ফলাফল সে কথাই বলছে। নিজেদের ভোটের রেকর্ড কার্যত নিজেরাই ভেঙেছে বামেরা। পালাবদলের পর রাজ্যে প্রথম ভোট এই উপনির্বাচন। ফলাফলে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের প্রভাব একেবারে সুস্পষ্ট। গণতান্ত্রিক তৃণমূল জায়গা পেয়েছে সবার শেষে। মমতা তৃণমূল এই কেন্দ্রে কংগ্রেসকেই সমর্থন করেছে। কংগ্রেস রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে আর তৃতীয় স্থানে সিপিএম।


২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলা রাজনৈতিক চিত্র ছিল অনেকটাই আলাদা। মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি। সেই ভোটে বাম প্রার্থী শান্তিগোপাল গিরি পেয়েছিলেন ২৯৭৭টি ভোট। ১.১৯ শতাংশ ভোট পেয়েছিল বামেরা। শুক্রবার দেখা গেল, উপ নির্বাচনের ফলাফলে ১২ রাউন্ড গণনা শেষে বামেদের ঝুলিতে গিয়েছে ৫০০০ ভোট। এবারও প্রার্থী সেই শান্তিগোপাল গিরিই।


অন্যদিকে, আর একটু পিছনে ফিরলে দেখা যাবে ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মীনাক্ষ মুখোপাধ্যায় ৬,২৬৭ ভোট পেয়েছিলেন। তাঁর পাওয়া ভোট শতাংশ ছিল ২.৭৭ শতাংশ। তাই বলা যেতে পারে, বামেদের ভোট বামেদের হাতেই রয়েছে।


২ দশক আগে এক মার্চে পুলিশের গুলিতে এই নন্দীগ্রামে ১৪ জন গ্রামবাসীর মৃত্যু ঘিরে আগুন জ্বলেছিল নন্দীগ্রামে। বাম সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা রাজ্যে। পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছিল। তারপর অনেক রাজনৈতিক উত্থান-পতনের সাক্ষী থেকেছে নন্দীগ্রাম। ২০২১-এ সেই নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হতে হয়েছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এবার উপনির্বাচনে সেই কেন্দ্রে রেকর্ড মার্জিনে জয়ী হলেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ।



‘বিতর্কের সূত্রপাত বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলা দিয়ে। বৃহস্পতিবার ভোরে বিকাশরঞ্জনের বাড়িতে হামলা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, মুখ এবং মোটরবাইকের নম্বর প্লেট কাপড়ে ঢেকে এক দুষ্কৃতী প্রবীণ আইনজীবীর বাড়ির সামনে এসে উপস্থিত হয়।


নিজের পোস্ট থেকে ‘হিন্দু’ শব্দ ডিলিট না করলে তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার পাল্টা সিপিএমের বর্ষীয়ান নেতা তথা আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য তুললেন পাল্টা প্রশ্ন। তিনি বললেন, “আমাকে যদি শুভেন্দুবাবুর নেতারা বলেন চার্ট করে হিন্দু ভাবাবেগ বলতে ওঁরা কী বোঝেন, হিন্দু বলতে কী বোঝেন, এটা যদি নোটিফিকেশন করে দেন, তাহলে আমাদের পক্ষে বুঝতে সুবিধা হয়।”


বিতর্কের সূত্রপাত বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলা দিয়ে। বৃহস্পতিবার ভোরে বিকাশরঞ্জনের বাড়িতে হামলা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, মুখ এবং মোটরবাইকের নম্বর প্লেট কাপড়ে ঢেকে এক দুষ্কৃতী প্রবীণ আইনজীবীর বাড়ির সামনে এসে উপস্থিত হয়। এরপর ব্যাগ থেকে একের পর এক কাচের মদের বোতল বের করে সোজা বাড়ি লক্ষ্য করে ছুড়তে থাকে। অশালীন মন্তব্যও করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় শুরু হয় রাজনৈতিক বিতর্ক। তৈরি হয় নতুন সমীকরণও। ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘বিকাশদা’কে নিয়ে লম্বা পোস্ট করেন। তাঁকে ফোনও করেন। এই ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত অবিভক্ত তৃণমূল কংগ্রেসের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। কিন্তু এই সবের মাঝে বিকাশবাবুর সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট ঘিরে শুরু হয় নতুন বিতর্ক।



সিপিএম নেতা নিজের সমাজমাধ্যমে লেখেন, “আজ সকাল ৫টা নাগাদ হিন্দুত্ববাদী গুন্ডারা আমার বাড়িতে হামলা চালাল।” আর ‘হিন্দুত্ববাদী’ শব্দটিতেই প্রবল আপত্তিপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি হুঁশিয়ারি দেন, “বিকাশবাবু নিজের পোস্টে হিন্দুত্ববাদীদের আক্রমণ করেছেন। এটাকেও আমরা খুব সিরিয়াসলি নিয়েছি। গতকাল গরফা ও কসবা থানায় বিকাশ ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। আজ সকালে সিপিকে আমি নির্দেশ দিয়েছি। বিএনএস অনুযায়ী এফআইআর করা হয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” বিকাশবাবুকে ডেডলাইন বেঁধে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “উনি যদি আজকে পোস্ট কারেকশন করে দেন, তাহলে বেটার।” না হলে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে পোস্টটি নামিয়ে দেওয়ার জন্য কলকাতা পুলিশকে চিঠি দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি তিনি এও বলেছেন, “ওঁর বিরুদ্ধে যে এফআইআর হয়েছে, বিএনএস-র ধারা অনুযায়ী পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ হবে। উনি আইনের ঊর্ধ্বে নন।” তবে এসবের পরেও বিকাশবাবু বলেন, “যিনি অভিযোগ করেছেন আমার বিরুদ্ধে, আমি মিষ্টি পাঠিয়ে দেব। ভোটের আগে যে কথা বলেছিলাম, আমার ভবিষ্যদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে পালন করলেন ওঁরা।” সঙ্গে এ



ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনকে রুখতে গণপরিবহনে যে নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে, তাতে সাধারণ জনগণের সমস্যা হবে বলে উল্লেখ করা হয়। কপিল সিব্বল বলেন, "সমস্ত ট্রেন বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। মেট্রো স্টেশন বন্ধ। কোথাও যেতে পারবেন না। আমার দেশে কী হচ্ছে? এটা তো শান্তিপূর্ণ আন্দোলন।" 


দিল্লিতে ‘ককরোচ’দের রুখতে ট্রেন বাতিল। বন্ধ ৫৭টি মেট্রো স্টেশনও। দিল্লি পুলিশের এই নির্দেশের পরই মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। আজ, শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্র ও প্রশাসনকে নির্দেশ দিল যে গণপরিবহন যেন সম্পূর্ণ রূপে বন্ধ না করে দেওয়া হয়।


এ দিন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে এই মামলা ওঠে। সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির দায়ের করেছেন এই মামলা। প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল বলেন যে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনকে রুখতে গণপরিবহনে যে নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে, তাতে সাধারণ জনগণের সমস্যা হবে। কপিল সিব্বল বলেন, “সমস্ত ট্রেন বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। মেট্রো স্টেশন বন্ধ। কোথাও যেতে পারবেন না। আমার দেশে কী হচ্ছে? এটা তো শান্তিপূর্ণ আন্দোলন।”


মামলার শুনানিতে দিল্লি মেট্রোর ৫৭টি স্টেশন বন্ধের প্রসঙ্গ তুলে সলিসিটর জেনারেলকে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “আমরা মূলত মেট্রো স্টেশনগুলিতে প্রবেশ বন্ধ নিয়ে উদ্বিগ্ন। কোনও আন্দোলনকারী বা কোনও ব্যক্তিবিশেষকে নিয়ে নয়, বরং হাজার হাজার সাধারণ যাত্রীকে নিয়ে উদ্বেগ যারা প্রতিদিন গুরুগ্রাম, গ্রেটার নয়ডা, পূর্ব দিল্লি, দক্ষিণ দিল্লি থেকে দিল্লিতে আসেন জীবনযাপনের জন্য। সকলের কাছে তো প্রাইভেট গাড়ি নেই। যুব প্রজন্ম, প্রবীণ নাগরিক-সকলেই যাতায়াত করেন। যাত্রীদের সাধারণ পরিষেবা পাওয়ার অধিকার আছে। বিধিনিষেধ আর সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।”

সুপ্রিম কোর্ট বলে, “মাছি মারতে হাতুড়ি আনতে পারেন না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ অবশ্যই নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা কার্যকর করতে পারে। এতে কোনও সন্দেহ নেই। অবাধ যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে, আপনারা তা করতেই পারেন। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, সবকিছু বন্ধ করে দিয়ে মানুষকে যাতায়াতের কোনও ব্যবস্থাই ছাড়া অসহায় অবস্থায় ফেলে রাখা হবে”।

শীর্ষ আদালত উদ্বেগ প্রকাশ করে কেন্দ্রকে বলে যে সব কিছু বন্ধ করে দেওয়া যায় না, কারণ মানুষ শহরের বিভিন্ন অংশ থেকে ভ্রমণ করেন। ট্রেন ও মেট্রোয় বিধিনিষেধের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে কেন্দ্রকে। এর জবাব দিয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান যে সরকারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। তবে গত জুলাই মাসে সিজেপির আন্দোলনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। জবাব শীর্ষ আদালত বলে যে মেট্রোর সময়সীমা কমিয়ে দিতে বা ঘনঘন মেট্রোর সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া যেতে পারে, কিন্ত তা সম্পূর্ণ বন্ধ করা যায় না। রাস্তা বন্ধের সিদ্ধান্তও পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে।



 রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে আটক করল দিল্লি পুলিশ। বেআইনিভাবে জমায়েতের অভিযোগে আটক করা হয়েছে মমতাকে। আজ দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউতে বাড়ির সামনে ধর্নায় বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকেই তাদের আটক করা হয়।


বাড়ির সামনে থেকে প্রিজন ভ্যানে তোলা হল মমতাকে, রাস্তাতেই ঘোরানো হচ্ছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে
আটক করা হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে আটক করল দিল্লি পুলিশ। বেআইনিভাবে জমায়েতের অভিযোগে আটক করা হয়েছে মমতাকে। দ্বারকা সেক্টর ২৩ পুুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বাকিদের। কেন আটক করা হল কালীঘাট তৃণমূল নেত্রীকে?


ককরোচ জনতা পার্টির যন্তর মন্তর অভিযান আজ। সকাল থেকেই বজ্রআঁটুনি দিল্লি জুড়ে। যন্তর মন্তরে কাউকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। সকাল থেকেই ধরপাকড় শুরু হয়। ইতিমধ্যেই আটক হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা থেকে শুরু করে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি। পরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় সিপিএমেরও। আটক করা হয়েছে পিনারাই বিজয়ন থেকে সুজন চক্রবর্তী। এবার আটক হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।


কেন আটক করা হল মমতাকে?
যন্তর মন্তরে যেতে না পেরেই, আজ দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউতে বাড়ির সামনে ধর্নায় বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন দোলা সেন, সাকেত গোখলে, শামিরুল ইসলাম, প্রতিমা মণ্ডল, ডেরেক ও’ব্রায়েনরা। দিল্লি পুলিশ এসে তাঁদের সরতে বলেন। দিল্লিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা কার্যকর থাকায় পাঁচজনের বেশি জমায়েত করা যাবে না। এই কারণ দেখিয়েই ধর্না প্রত্য়াহার করতে বলা হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কিন্তু তারপরও ধর্নায় বসে থাকেন মমতা ও তৃণমূলের বাকি সদস্যরা। এরপরই আটক করা হয় তাঁদের। জোর করে তাদের পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়। বর্তমানে তাঁদের প্রিজন ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।


একদিনে আটক দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী!
আজ একদিনেই দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে আটক করল দিল্লি পুলিশ। এর আগে কেরলমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকেও আটক করেছে পুলিশ। তাঁকে সরাসরি কোনও থানায় না নিয়ে গিয়ে, দিল্লির বিভিন্ন রাস্তায় ঘোরানো হয়। একইভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও কালীঘাট তৃণমূলের বাকি সাংসদদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা জানানো হয়নি।

কী বলছে তৃণমূল?
প্রিজন ভ্যান থেকেই প্রতিমা মণ্ডল ভিডিয়ো বার্তায় বলেন, “আমাদের কয়েদির মতো নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, জানিনা। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে বলব, দিদি আপনাদের সঙ্গে রয়েছে। আপনাদের পাশে রয়েছে। আপনাদের অধিকার রক্ষার জন্য দিদি যা লড়াই করে চলেছে, সকলে তার জন্য কৃতজ্ঞ।”

বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাড়ি থেকে বের হতেই দেওয়া হয়নি। দিল্লিতে আজ সকাল থেকে যে গণতন্ত্র হত্যা করার যে একটা প্রচেষ্টা চলছে, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের পরিবেশ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাড়ি থেকে বের হতে দেবে না, এটা আগে থেকেই ঠিক ছিল। বাড়ির সামনে ধর্নায় বসেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ বন্ধ করে থাকতে বাধ্য হন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করেছে। তীব্র নিন্দা করছি। প্রতিবাদটাও করতে দেবে না। বাংলার অগ্নিকন্যাকে দিল্লিতে আটক করা হল, প্রতিবাদ করতে দেওয়া হল না, এরপর বিজেপি যেন গণতন্ত্রের কথা না বলে।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আটক হতেই কংগ্রেস তাঁর পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ যাদের আটক করা হয়েছে, তাদের পাশে আছে কংগ্রেস।”