WEATHER

Top News


NTA Overhaul After NEET-UG Paper Leak: নিট প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলন ক্রমশ জোরদার হতে থাকে। ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র নেতৃত্বে দিল্লিতে শুরু হওয়া আন্দোলনে বহু ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক এবং বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল সমর্থন জানিয়েছে। এই আবহে কেন্দ্র পরীক্ষা ব্যবস্থায় বড়সড় সংস্কারের পথে হাঁটছে।

নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস বিতর্ক এবং দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের জেরে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-কে আমূল বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। আগামী এক মাসের মধ্যে সংস্থাটির প্রশাসনিক কাঠামো, পরীক্ষা পরিচালনার পদ্ধতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একাধিক বড় পরিবর্তন আনা হবে বলে কেন্দ্রীয় সূত্রে খবর। লক্ষ্য, ভবিষ্যতে কোনওভাবেই যাতে প্রশ্নফাঁস কিংবা পরীক্ষায় অনিয়মের সুযোগ না থাকে, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। এদিকে, সংবাদ সংস্থা ANI সূত্র উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, NTA-র ৪৭ জন আধিকারিককে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আইনি ও ফৌজদারি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। প্রশ্নফাঁস বিতর্কে জড়িয়ে পড়া এনটিএ-কে আমূল ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।


পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থার এই সংস্কারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল এনটিএ-র আউটসোর্সিং ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা। প্রশ্নপত্র তৈরি, মুদ্রণ, সংরক্ষণ, পরিবহণ এবং পরীক্ষা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত বেসরকারি সংস্থাগুলির ভূমিকা নতুন করে খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজন হলে বর্তমান ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও স্বচ্ছ পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করা হবে বলে জানা গিয়েছে।


এবার থেকে প্রত্যেকটি বাড়িতে থাকতেই হবে এই ব্যবস্থাপনা! বাধ্যতামূলক করল রাজ্য সরকার
২০১৭ সালে কেন্দ্রীয় সরকার ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি গঠন করে। দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য জাতীয় স্তরের প্রবেশিকা পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব রয়েছে এই সংস্থার উপর। বর্তমানে জেইই (JEE), নিট (NEET), সিইউইটি (CUET)-সহ অন্তত ২০টি জাতীয় স্তরের পরীক্ষা পরিচালনা করে এনটিএ।


সূত্রের খবর, সংস্থাটিকে আরও দক্ষ, আধুনিক করে তুলতে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি প্রশাসনিক, প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক সংস্কারের সুপারিশ করবে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই এনটিএ-র নতুন কাঠামো তৈরি করা হবে।

নিট প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলন ক্রমশ জোরদার হতে থাকে। ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র নেতৃত্বে দিল্লিতে শুরু হওয়া আন্দোলনে বহু ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক এবং বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল সমর্থন জানিয়েছে। এই আবহে কেন্দ্র পরীক্ষা ব্যবস্থায় বড়সড় সংস্কারের পথে হাঁটছে।

এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা Public Examinations (Prevention of Unfair Means) Act, 2024-এ সংশোধনের খসড়া অনুমোদন করেছে। প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, সংগঠিতভাবে প্রশ্নফাঁস কিংবা পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনায় সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হচ্ছে। বর্তমানে এই অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

নতুন সংশোধনীতে শুধু প্রশ্নফাঁস নয়, অর্থের বিনিময়ে পরীক্ষায় অনিয়মে সহায়তাকারী সংঘবদ্ধ চক্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংগঠনের বিরুদ্ধেও কড়া শাস্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নির্দোষ পরীক্ষার্থীরা যাতে কোনওভাবেই আইনের অপব্যবহারের শিকার না হন, সেই বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের তরফে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানানো হয়েছে। তাছাড়া নিট প্রশ্নফাঁসের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং নিট প্রশ্নফাঁসের পর আত্মহত্যা করা পরীক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণের দাবিও জানানো হয়েছে।

আজ পবিত্র উল্টো রথ। এই বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই গঙ্গাসাগরে নেমেছে সাধারণ মানুষের বিশাল ঢল। সাগরের ছয়ের ঘেরি থেকে ইসকনের এই রথটি মাসির বাড়ি থেকে মূল মন্দিরে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সবেমাত্র রথ টানা শুরু হয়েছে। 


রথযাত্রার দিন গঙ্গাসাগরের রুদ্রনগর থেকে ছয়ের ঘেরি পর্যন্ত রথ টানা হয়েছিল এবং সেখানেই ছিল মাসির বাড়ি। শুক্রবার উল্টো রথে সেই মাসির বাড়ি থেকে জগন্নাথদেবকে পুনরায় গঙ্গাসাগরের ইসকন মন্দিরে ফিরিয়ে আনার পালা। আর এই রথযাত্রার শুরুতেই ঢাক, ঢোল, করতাল ও বিভিন্ন নিত্যর মধ্য দিয়ে এবং জয় জগন্নাথ' ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা। হাজার হাজার ভক্ত ভিড় জমিয়েছেন রথের দড়িতে টান দেওয়ার জন্য।



 এদিকে, এই বিশাল জনসমাগমকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্য শুরু থেকেই তৎপর রয়েছে প্রশাসন। গঙ্গাসাগর কোস্টাল থানা ও সাগর থানার একাধিক পুলিশ কর্মী এবং বিশাল পুলিশ বাহিনী গোটা রথের রুট জুড়ে কড়া নিরাপত্তাবলয় গড়ে তুলেছে। ভক্তদের উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বর্তমানে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই এগিয়ে চলেছে উল্টো রথযাত্রার এই পবিত্র পর্ব।

পাথরপ্রতিমা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা:
পাথরপ্রতিমা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মনশ্রী মণ্ডলকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বিগত দিনের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়েছে এবং বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, একটি বক্তব্যে "এই টাকা কি ওর বাপের টাকা?"—এই মন্তব্য করেন সভাপতি মনশ্রী মণ্ডল। সেই মন্তব্য সামনে আসার পর থেকেই এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাথরপ্রতিমা এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধীরা এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে বলে জানা গেছে। যদিও এই বিষয়ে সভাপতি মনশ্রী মণ্ডলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বর্তমানে ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও জোর আলোচনা চলছে। পরিস্থিতির ওপর প্রশাসনের নজর রয়েছে।

 গঙ্গাসাগরের কৃষ্ণনগর বাজারের পাশের প্রায় ১০০ মিটার রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার আওতায় রাস্তাটি নির্মিত হলেও জমির মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই নির্দিষ্ট অংশটির কাজ আটকে যায়

ফলে বর্ষার শুরুতেই সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তাটি কাদা ও জলে একাকার হয়ে যাতায়াতের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এই চরম ভোগান্তির প্রতিকার চেয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিডিও অফিসে লিখিত অভিযোগ জানান। অভিযোগ পাওয়ার পরই তৎপর হয় প্রশাসন। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে আসেন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সাবিনা বিবি। তিনি নিজে রাস্তাটি পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যার কথা শোনেন।

এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে পঞ্চায়েত সমিতির নিজস্ব তহবিল থেকে দ্রুত এই ১০০ মিটার রাস্তাটি মেরামত করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। প্রশাসনের এই আশ্বাসে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তির আশায় বুক বেঁধেছেন স্থানীয় মানুষজন।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুর, রায়দিঘী ও মন্দিরবাজার এলাকার দীর্ঘদিনের অন্যতম দাবি হল হটুগঞ্জ থেকে রায়দিঘী পর্যন্ত সড়ককে জাতীয় সড়ক (ন্যাশনাল হাইওয়ে) হিসেবে ঘোষণা করে আধুনিকীকরণ করা। সেই দাবিকে সামনে রেখেই বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গড়করির সঙ্গে দিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন মথুরাপুরের সাংসদ বাপী হালদার।

সাংসদ বাপী হালদার বৈঠকে হটুগঞ্জ-রায়দিঘী সড়কের বর্তমান অবস্থা, প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের গুরুত্ব এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে এই রাস্তাকে জাতীয় সড়কের মর্যাদা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। পাশাপাশি, সড়কটির আধুনিকীকরণ হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে বলেও তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাছে উল্লেখ করেন।
সাংসদের দাবি, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে শোনেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়করি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দেন। যদিও প্রকল্পটি নিয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক সরকারি ঘোষণা বা অনুমোদন জারি হয়নি।

বৈঠকের পর বাপী হালদার জানান, মথুরাপুর, রায়দিঘী ও মন্দিরবাজারের মানুষের দীর্ঘদিনের এই দাবি পূরণে তিনি ধারাবাহিকভাবে কেন্দ্রের কাছে বিষয়টি তুলে ধরছেন। তাঁর আশা, আগামী দিনে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে এবং সাধারণ মানুষ তার সুফল পাবেন।

এলাকার বাসিন্দাদেরও আশা, বহু প্রতীক্ষিত এই সড়ক প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়িত হলে যাতায়াতের সুবিধা বাড়ার পাশাপাশি এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও নতুন দিগন্ত খুলবে।

গঙ্গাসাগর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা:
বিশ্ববিখ্যাত গঙ্গাসাগর মেলাকে জাতীয় মেলার স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্র সরকার। এই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে জোরদার হয়েছে আলোচনা। মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ বাপি হালদারের দাবি, তাঁর আবেদনের ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

সাংসদ বাপি হালদার জানান, গঙ্গাসাগর মেলাকে জাতীয় মেলার মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে তিনি কেন্দ্রীয় পর্যটনমন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াতের কাছে লিখিত আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রকের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে বলেই তিনি দাবি করেছেন।
গঙ্গাসাগর মেলা দেশের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশ। প্রতি বছর মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী গঙ্গাসাগরে আসেন। দীর্ঘদিন ধরেই এই মেলাকে জাতীয় মেলার স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি উঠছিল।

যদিও এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রের পক্ষ থেকে গঙ্গাসাগর মেলাকে জাতীয় মেলা হিসেবে ঘোষণার কোনও আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়নি। তবে সাংসদের দাবি ঘিরে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে গঙ্গাসাগর ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে। সরকারি ঘোষণা জারি হলে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মন্দিরবাজার বিধানসভার কেচারকুড় গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় স্বনির্ভর গোষ্ঠী পরিচালনায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বুধবার তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগের প্রতিবাদে বহু মহিলা অঞ্চল অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী।



বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পূর্বে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির পরিচালনার জন্য 'সারদা গোষ্ঠী' নামে একটি নেতৃত্ব কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল। তাঁদের দাবি, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ঋণে ৫০ পয়সা হারে সুদ নেওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে ১ টাকা হারে সুদ আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
এছাড়াও অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে সরকার স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে ১৫ হাজার টাকা-সহ একাধিক আর্থিক অনুদান প্রদান করলেও, সেই অনুদানের টাকা তুলতে গোষ্ঠীপিছু কোথাও ৭০০ টাকা, কোথাও ১,০০০ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি বিক্ষোভকারীদের।


বুধবার বিক্ষোভ চলাকালীন ক্ষুব্ধ মহিলারা অঞ্চল অফিসে ঢুকে নথিপত্র দেখতে চান এবং সংশ্লিষ্টদের ঘিরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলেওহ পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তবে এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংবাদ লেখা পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তদন্তের পরই অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।


জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ পানীয় জল নিশ্চিতকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সুন্দরবনের সাগর ব্লকে শুরু হলো "Building Water Security and Climate 


Resilience in Sunderbans, Sagar" প্রকল্প। সম্প্রতি এ উপলক্ষে একটি ব্লক স্তরের উদ্বোধনী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। সাগর ব্লক উন্নয়ন দপ্তরের আয়োজনে এবং পশ্চিমবঙ্গ স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও স্বনিযুক্তি দপ্তর (WBSRLM)-এর সহযোগিতায় ছবি মহলে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে Water For People India Trust (WFPIT) এবং অর্থায়ন করেছে Tata Trusts। গাছে গোড়ায় জল দিয়ে এই প্রকল্পের শুভ সূচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাগর ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক কানাইয়া কুমার রাও, সাগর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সাবিনা বিবি, WBSRLM-এর রাজ্য ও জেলা প্রতিনিধি, Tata Trusts ও WFPIT-এর আধিকারিকেরা এবং বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা।
কর্মশালায় ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণ, পানীয় জলের সংকট দূরীকরণ, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সুন্দরবনের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদি জল নিরাপত্তা ও জলবায়ু সহনশীল পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

 সুন্দরবনঃ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী বন দফতরের সহযোগিতায় বুধবার সুন্দরবন এলাকায় একটি সন্দেহজনক ভারতীয় মাছধরা ট্রলার আটক করে। ট্রলার থেকে চারজন ভারতীয় মৎস্যজীবীকে আটক করা হয়। পাশাপাশি ট্রলারটি থেকে উদ্ধার হয় বেশ কিছু অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও প্রচুর পরিমাণ গুলি। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রশস্ত্রের উৎস, গন্তব্য এবং এর সঙ্গে কোনও আন্তঃসীমান্ত পাচারচক্রের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 
ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অভিযান আন্তঃসীমান্ত পাচারচক্রের বিরুদ্ধে তাদের কঠোর অবস্থান এবং সমুদ্র নিরাপত্তা রক্ষায় গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযানের সাফল্যেরই প্রমাণ। উপকূলীয় এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। 


ধৃত চারজনকেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সুন্দরবন কোস্টাল থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে চারটি লং ব্যারেল বন্দুক সহ প্রচুর কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র কোথা থেকে এল সে বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি ধৃতদের পরিচয় ও তাদের কর্মকান্ড সম্পর্কেও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। শুক্রবার ধৃতদের আলিপুর আদালতে তোলা হবে। এসডিপিও ক্যানিং মোত্তাকিনুর মোল্লা বলেন, “ ধৃতদের নাম, পরিচয় সহ তাদের সম্পর্কে জানার জন্য তদন্ত শুরু হয়েছে। কোথা থেকে এই অস্ত্র পেলেন এরা, কোথাও পাচারের পরিকল্পনা ছিল কিনা সব বিষয়েই খোঁজ চলছে।”

​​অমাবস্যার কোটালের জেরে গঙ্গাসাগরে ফের ভয়াবহ নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। কপিলমুনির আশ্রম থেকে ১ নম্বর থেকে ৬ নম্বর ঘাটের বিভিন্ন অংশ নতুন করে ভেঙে তছনছ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে।


​পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সাগর ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক কানাইয়া কুমার রাও, গঙ্গাসাগর কোস্টাল থানার ওসি এবং শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকেরা।

​স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষার আগে এভাবে ভাঙন শুরু হলেও মেলা চলাকালীন কোটি কোটি টাকার কাজ হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয় না। তবে প্রশাসনিক কর্তারা জানিয়েছেন, এবার আর গতানুগতিকভাবে কেবল মাটি ফেলে বাঁধ রক্ষার কাজ করা হবে না। নদী ভাঙন রোধে কীভাবে স্থায়ীভাবে কংক্রিটের বাঁধ নির্মাণ করা যায়, এখন সেই পরিকল্পনা ও চিন্তাভাবনাই শুরু করেছে প্রশাসন। ​অন্যদিকে, ২০২৭ সালের গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক মেলা হিসেবে ঘোষণা করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সেই কথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যে তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছেন প্রশাসনিক আধিকারিকেরা। আন্তর্জাতিক মেলার রূপ দেওয়ার আগে এই ভাঙন সমস্যাকে স্থায়ীভাবে দূর করাই এখন প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজ‍্যে পালাবদলের পর পুলিশের উপরে আক্রমণ ক‍রা নিয়ে কড়া হুশিয়ারি দিয়েছিলেন রাজ‍্যের মুখ‍্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু কে শোনে কার কথা। ভাঙড়ে আবারও আক্রান্ত পুলিশ।

সোমবার রাতে কলকাতা পুলিশের ভাঙড় ডিভিশনের পোলেরহাট থানার পুলিশ আক্রান্ত হন পোলেরহাট এলাকায়। এছাড়াও গত মাসে পূর্ব কলকাতার জলাভূমিতে অবৈধ নির্মাণ রুখতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন পুলিশ কর্মী থেকে অফিসাররা। 
কেন বারবার আক্রান্ত হতে হচ্ছে পোলেরহাট থানার পুলিশ কর্মীদের তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

ম্যানগ্রোভ লাগানোর ট্রেনিংয়ের বকেয়া টাকা এবং সার্টিফিকেটের দাবিতে পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি তথা বর্তমান সহকারী সভাপতি স্বপন কুমার প্রধানের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখালেন তিন শতাধিক মহিলা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গঙ্গাসাগর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়।


মহিলাদের অভিযোগ, স্থানীয় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বা এনজিওর উদ্যোগে গঙ্গাসাগরে ম্যানগ্রোভ লাগানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় যাতায়াত বাবদ প্রত্যেকের সাড়ে ছ'হাজার টাকা এবং সার্টিফিকেট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন ট্রেনিং চলার পর তা হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়। বকেয়া টাকা ও সার্টিফিকেট না মেলায় ক্ষুব্ধ মহিলারা এই আন্দোলনে শামিল হন।

 বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এই গোটা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন স্বপন কুমার প্রধান। সেই কারণেই তাঁর বাড়ির সামনে এসে বকেয়া টাকা ও সার্টিফিকেটের দাবি জানান তাঁরা। দীর্ঘক্ষণ বাড়ির সামনে বিক্ষোভ চললেও তিনি বাইরে আসেননি, ফলে ক্ষোভ আরও বাড়ে এবং মহিলারা রাস্তায় বসে পড়েন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় গঙ্গাসাগর কোস্টাল থানার পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকেরা। পুলিশ ও প্রশাসনবিক্ষোভকারী মহিলাদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করে। এক সপ্তাহের মধ্যে বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থার আশ্বাস দেওয়া হলে মহিলারা অবরুদ্ধ বিক্ষোভ তুলে নেন।

মুষলধারার বৃষ্টির কারণে যাঁরা কলকাতার ধর্মতলায় পৌঁছাতে পারেননি, তাঁদের জন্য স্থানীয়ভাবেই শহিদ স্মরণের আয়োজন করা হল গঙ্গাসাগরের রুদ্রনগরে। প্রতিকূল আবহাওয়াকে উপেক্ষা করেই এদিন রুদ্রনগরে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ের সামনে শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। 


আয়োজিত এই শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা। তাঁর সঙ্গে এলাকার বহু তৃণমূল নেতা-নেত্রী ও কর্মী-সমর্থক দলীয় কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত হয়ে শহিদদের প্রতিকৃতিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।


 এ বছর একুশে জুলাই কলকাতার ধর্মতলার বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে মূল শহিদ দিবস পালিত হবে। সেখান থেকে শহীদদের স্মরণ করা হচ্ছে। তবে সাগরে মুষলধারে বৃষ্টি চলার কারণে বহু কর্মী ধর্মতলায় যেতে পারেননি। তাই বৃষ্টির প্রতিবন্ধকতাকে পাশ কাটিয়ে স্থানীয় রুদ্রনগরেই শহীদদের স্মরণ করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করলেন তৃণমূল কর্মীরা।