Top News
বাংলায় সরকার বদলের পরেই মহমেডান ক্লাব ম্যানেজমেন্টের পরিবর্তন হয়। তখনই ক্লাবের সভাপতি হন হুমায়ুন। এমনকি, ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী ক্লাব নিয়ে আগ্রহী হলেও হুমায়ূনের উপরেই আস্থা রেখেছিল ক্লাব। কিন্তু সেই আস্থার দাম দিতে না পারার ফলে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল হুমায়ুন।
কলকাতা: বিগত কয়েকদিন ধরেই উত্তপ্ত ছিল মহমেডান ক্লাবের পরিস্থিতি। দেড় কোটি টাকার চেক বাউন্স করার ফলে ক্লাবের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের রোষানলে পড়েছিলেন ক্লাব সভাপতি হুমায়ুন কবীর। দিন দুয়েক আগেই তাঁকে ক্লাবের পক্ষ থেকে ডেডলাইন দেওয়া হয়েছিল, যে তিনি যেন টাকার কিছু অংশ দিয়ে দেন। তবে এরপরই আজ, বৃহস্পতিবার বড় পদক্ষেপ নিল মহমেডান ক্লাব কর্তৃপক্ষ। আশঙ্কা ছিলই, এবার সেই খবরে শিলমোহরে পড়ল। হুমায়ুন কবীরকে সভাপতি পদ থেকে বরখাস্ত করল মহমেডান।
সভাপতি পদে বসার পর হুমায়ুন কবীর বলেছিলেন, ক্লাবের উন্নতি ও ট্রান্সফার ব্যান নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। তাই ক্লাবের জন্য অন্তত ২৫ কোটি টাকা দিতে রাজি হয়েছেন তিনি। কিন্তু কথাই সার। বহুদিন কেটে গেলেও কোনও টাকা দেননি হুমায়ুন। দিনকয়েক আগে ৫০ লক্ষ টাকার ৩টি চেক ক্লাবে পাঠান নওদাঁর বিধায়ক কিন্তু ৫০ লক্ষ টাকা মূল্যের ৩টি চেক (মোট দেড় কোটি টাকা) বাউন্স করে। এরপরেই কড়া পদক্ষেপ নেয় ক্লাব। ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিম আক্রম টিভি৯ বাংলাকে জানিয়েছেন, “মিডিয়ার মাধ্যমে হুমায়ুন কবীর বলেন, আমাদের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বার করে দেবেন। বারবার এই ধরণের মন্তব্য করতে থাকেন। বাবর, বাবরি, হুমায়ুন এরা কেউ হরিদাস পাল নয়। বাবর, বাবরি মহমেডান ক্লাবের সঙ্গে ম্যাটার করে না। একটাই নাম ম্যাটার করে, মহম্মদ। আমরা মহমেডান লাভার্সরা এটা মেনে নিতে পারব না।”
বৃহস্পতিবার জরুরি বৈঠক করা হয় ও সেখানেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কার্যকরী কমিটি বৈঠক করে গজল জাফরকে নতুন প্রেডিডেন্ট হিসেবে নিযুক্ত করে। এরপরেই হুমায়ুন কবিরকে বরখাস্ত করা হয়। ৬ জুন মহমেডান স্পোর্টিংয়ের সভাপতি পদে দায়িত্ব নেন হুমায়ুন কবির। ২ মাসের মধ্যেই সভাপতি পদ থেকে বরখাস্ত হুমায়ুন। ওয়াসিম এও জানান, “আমাদের সঙ্গে হুমায়ুন কবীরের কোনও যোগাযোগ হচ্ছে না। আমাকে কোনও মেসেজ করেননি, ফোন করেননি। মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলছেন কিন্তু আমাদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই।”
বাংলায় সরকার বদলের পরেই মহমেডান ক্লাব ম্যানেজমেন্টের পরিবর্তন হয়। তখনই ক্লাবের সভাপতি হন হুমায়ুন। এমনকি, ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী ক্লাব নিয়ে আগ্রহী হলেও হুমায়ূনের উপরেই আস্থা রেখেছিল ক্লাব। কিন্তু সেই আস্থার দাম দিতে না পারার ফলে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল হুমায়ুনকে। এরপর ক্লাবের ভবিষ্যৎ কী হবে, ক্লাবের উন্নতিস্বার্থে কী কী পদক্ষেপ নেবেন ওয়াসিম আক্রমরা, সেই দিকেই নজর থাকবে বঙ্গ ক্রীড়ামহলের
প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে এনসিপিআই সাংসদরা যোগ দেবেন কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে বলেন, "অনেক সাংসদই ফিরে গিয়েছেন। আগামিকাল মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক আছে আবু তাহের সহ কয়েকজনের। এত স্বল্প সময়ে সকলের আসা সম্ভব হবে না বলেই মনে হচ্ছে।"
নয়া দিল্লি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) সঙ্গে সাক্ষাৎ -র পাঁচ সাংসদের। এবার প্রধানমন্ত্রীরও মুখোমুখি হবেন তারা। আগামীকাল, শুক্রবার এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)।
জানা গিয়েছে, মূলত শিবসেনা, এনসিপি-সহ নতুন যারা এনডিএ শরিক হয়েছেন, সেই সকল সাংসদদের বৈঠকে ডাকা হয়েছে। তবে আবু তাহের এবং খলিলুর রহমান বৈঠকে থাকবেন কিনা, তা এখনও নিশ্চিত নয়। কারণ আগামীকাল কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক রয়েছে আবু তাহের এবং খলিলুর রহমানের। তবে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ডাকা বৈঠকে যাবেন ইউসুফ পাঠান।
তিনি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আজ বলেন, “আমরা এনসিপিআই-তে রয়েছি। এনসিপিআই-তে আমরা সবাই একজোট রয়েছি। দেশের স্বার্থে, দেশের জন্য যা ভালো হবে, আমরা তাই করব। প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ এসেছে। ফোনও এসেছিল। অবশ্যই যাবো। দেশের প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রণ করলে অবশ্যই যাওয়া উচিত।”
অন্যদিকে, আজ অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এনসিপিআই-র তিন মুসলিম সাংসদ আবু তাহের, খলিলুর রহমান ও ইউসুফ পাঠান। তাদের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আরেক সাংসদ শতাব্দী রায়ও। বৈঠকে কী কথা হল, সেই প্রসঙ্গে বীরভূমের সাংসদ বলেন, “ওঁরা (তিন সাংসদ) মূলত নিজেদের এলাকার সমস্য়া নিয়ে কথা বলেছেন। আমিও আমার এলাকা, পশ্চিমবঙ্গের সামগ্রিক কিছু সমস্যা ও উন্নয়ন নিয়েই কথা বলেছি।”
প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে এনসিপিআই সাংসদরা যোগ দেবেন কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে বলেন, “অনেক সাংসদই ফিরে গিয়েছেন। আগামিকাল মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক আছে আবু তাহের সহ কয়েকজনের। এত স্বল্প সময়ে সকলের আসা সম্ভব হবে না বলেই মনে হচ্ছে।”
প্রসঙ্গত, এনসিপিআই সাংসদদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জল্পনা শোনা যাচ্ছে, ২০ জন এনসিপিআই সাংসদকে বিজেপির অংশ করে নেওয়া হতে পারে। যদিও এই প্রস্তাবে বেঁকে বসেছেন তিন মুসলিম সাংসদ। শেষ পর্যন্ত তাদের কী হয়, তা-ই এখন দেখার।
