WEATHER

Top News

চলতি সপ্তাহেই প্রকাশ হতে পারে প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা। প্রকাশের দিন পর্যন্ত যত নিষ্পত্তি হবে, তা প্রকাশ করা হবে। সিইও দফতর সূত্রে খবর, এমন গতিতে নিষ্পত্তি হলে ভোটের আগে কাজ শেষ হয়ে যেতে পারে।


অবশেষে স্বস্তিতে শশী, নির্বাচন কমিশন সূত্রে মিলল খবর

চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর এবার সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ হওয়ার অপেক্ষা। ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, কেন ওই তালিকা প্রকাশ না করেই ভোট ঘোষণা করা হল? প্রার্থী তালিকায় নাম আছে, এমন অনেকের নাম এখনও ভোটার তালিকায় ওঠেনি। এমনকী রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী শশী পাঁজার নামও ছিল না সেই তালিকায়, যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। ইতিমধ্যেই সিপিএম একটি মামলাও করেছে এই প্রশ্ন তুলে। অবশেষে এল স্বস্তির খবর।

চূড়ান্ত তালিকায় শশী পাঁজার নাম ছিল না। তবে নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, শশী পাঁজার নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানাল সিইও দফতর। ফলে মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে স্বস্তি পেলেন শশী পাঁজা।

কমিশন সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত বিবেচনাধীন ২৩ লক্ষ ৩০ হাজার ভোটারের নামের নিষ্পত্তি করেছেন বিচারকরা। নিষ্পত্তি করার গতি আগের থেকে বেড়েছে। এখন এক দিনে প্রায় ২ লক্ষ করে নাম নিষ্পত্তি হচ্ছে। সফটওয়্যারে কাজ চলছে বলে জানা গিয়েছে।

চলতি সপ্তাহেই প্রকাশ হতে পারে প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা। প্রকাশের দিন পর্যন্ত যত নিষ্পত্তি হবে, তা প্রকাশ করা হবে। সিইও দফতর সূত্রে খবর, এমন গতিতে নিষ্পত্তি হলে ভোটের আগে কাজ শেষ হয়ে যেতে পারে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জুডিশিয়াল অফিসার হিসেবে বিচারকরা নাম নিষ্পত্তির কাজ করছেন। ভোটের দফার আগেই তালিকা প্রকাশ হবে বলে জানা গিয়েছে। সুপ্রিম নির্দেশে ট্রাইব্যুনাল তৈরির কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই।

দাঁতন, পশ্চিম মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাঁতনে বুধবার বেলা ১১ টা নাগাদ ধান জমিতে পড়লো বিশালাকার একটি ড্রোন!


যাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। মাঠে থাকা কৃষকেরা দেখতে পায় হঠাৎ একটি ড্রোন ধান জমিতে এসে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় দাঁতন থানার পুলিশ! হেলিকপ্টারের মত দেখতে আকারে, তার মধ্যে রয়েছে ড্রোন ক্যামেরা।

 তবে কোথা থেকে কিভাবে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাঁতনে চলে আসলো এই ধরনের ড্রোন! তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সরগোল পড়ে গিয়েছে পুলিশ মহলে। ঘটনা তদন্ত শুরু করেছে জেলা পুলিশ।

 স্থানীয় বাসিন্দা তানজিমা খাতুন,হুসনেরা খাতুন ও তহরুনা বিবিরা বলেন, তিন মাস ধরে ট্যাপকলে জল আসছে না। গ্রামে বাড়ির বেশিরভাগ নলকূপ খারাপ হয়ে পড়ে রয়েছে। জলস্তর নিচে নেমে গিয়েছে। পাম্প অপারেটর পিএইচই'র জল দিয়ে মাখনা ও ভুট্টার জমি সেচ করছে। বলতে গেলে, কোনও কর্ণপাত করছে না জলের চরম সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

কাল যদি কোনও ডিজাস্টার হয়, আমাকে বলবেন না!’ মুখ্যমন্ত্রী কালই আভাস দিয়েছেন, ২৪ ঘণ্টা পেরনোর আগেই ক্ষোভে রাস্তায় নেমে এলেন মহিলারা
জলের দাবিতে বিক্ষোভ গ্রামবাসীদের

মুখ্যমন্ত্রী আগেই আভাস দিয়েছিলেন, কোনও সমস্যা হলে দায় এখন তাঁর নয়। দায় কমিশনের। আর ঠিক তারপরই পানীয় জলের চরম সঙ্কটে বিক্ষোভ। তিন মাস ধরে পিএইচইর জল নেই। গ্রাম জুড়ে জল নিয়ে হাহাকার, বিক্ষোভ। জলের দাবিতে বালতি ও কলসি নিয়ে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে সামিল হলেন হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের সিমলা গ্রামের বাসিন্দারা। অভিযোগ উঠেছে, রাঙ্গাইপুর পিএইচই’র পাম্প অপারেটর সামসুল হকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, পানীয় জল না দিয়ে মাখনা আর ভুট্টার জমিতে জল সরবরাহ করার। পাম্প অপারেটর মাখনার জমিতে জল দেওয়ার কথা স্বীকারও করে নিয়েছেন।


সিমলা গ্রামে তিন মাসের বেশি সময় ধরে রাঙ্গাইপুর পিএইচই’র জল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে গ্রামের অধিকাংশ মানুষ অগভীর নলকূপের অপরিশোধিত আয়রনযুক্ত জল পান করতে বাধ্য হচ্ছেন বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পাম্প অপারেটর বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে জল দিচ্ছে না। সেই জল মাখনা ও ভুট্টার জমিতে সেচের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। গোটা এলাকায় জলের স্তর ক্রমশ নীচে নেমে গিয়েছে। গরম পড়তেই নলকূপে ঠিক ভাবে জল উঠছে না। পরিণতিতে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাঁদের।


কোন বিধায়কদের নাম বাদ পড়তে পারে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা থেকে
স্থানীয় বাসিন্দা তানজিমা খাতুন,হুসনেরা খাতুন ও তহরুনা বিবিরা বলেন, তিন মাস ধরে ট্যাপকলে জল আসছে না। গ্রামে বাড়ির বেশিরভাগ নলকূপ খারাপ হয়ে পড়ে রয়েছে। জলস্তর নিচে নেমে গিয়েছে। পাম্প অপারেটর পিএইচই’র জল দিয়ে মাখনা ও ভুট্টার জমি সেচ করছে। বলতে গেলে, কোনও কর্ণপাত করছে না জলের চরম সঙ্কট দেখা দিয়েছে। পাম্প অপারেটর সামসুল বলেন, “দুটি পাম্প রয়েছে। আমি ১ নম্বর পাম্প অপারেটর। ২ নম্বর পাম্পটি ছ’মাস ধরে খারাপ হয়ে পড়ে রয়েছে। একটি পাম্প দিয়ে জল সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। এখন সেটাওখারাপ হয়ে গিয়েছে।”

যদিও মঙ্গলবার প্রার্থী তালিকা ঘোষণার আগেই মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যেভাবে রাজ্যের সরকারি দফতরের একের পর এক আমলাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাতে কোথাও কোনও সমস্যা হলে, তার দায় রাজ্যের নয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কাল যদি কোনও ডিজাস্টার হয় কে দেখবে? জলের সঙ্কট হলেও বা কে দেখবে? সব দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনা আর বিজেপি-কে নিতে হবে। আইন শৃঙ্খলার সমস্যা হলেও আপনাদের দায়িত্ব নিতে হবে। কেন সরালেন এদের সবাইকে? লোডশেডিং হলে কে দেখবে? এখন কোথাও কোনও সমস্যা হলে প্লিজ আমাকে কেউ দোষ দেবেন না।” প্রসঙ্গত, ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের একাধিক উচ্চ পদস্থ প্রশাসনিক আমলাদের সরিয়ে দিয়েছে কমিশন। সেই প্রক্রিয়া এখনও জারি। সামনেই ইদ। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের কোথাও কোনও সমস্যা হলে তার দায় আর রাজ্যের থাকবে না বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও এইখানে জলের সমস্যা তিন মাস ধরেই চলছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে সপ্তাহান্তে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ঝড়ের পাশাপাশি ঘনঘন বজ্রপাতের আশঙ্কা থাকায় সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কলকাতাতেও বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। শুক্র ও শনিবারের জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ফের কালবৈশাখী! সপ্তাহান্তে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে ভারী বৃষ্টির ‘কমলা সতর্কতা’, বিপদ কোন কোন জেলায়?
প্রতীকী ছবি

বসন্তের মাঝপথেই ফের রাজ্যে বৃষ্টির ভ্রুকুটি। আলিপুর আবহাওয়া দফতর বলছে, আগামী রবিবার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি বজায় থাকবে। বিশেষ করে শুক্র ও শনিবার দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় কালবৈশাখীর দাপট, সঙ্গে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী শুক্র ও শনিবার বৃষ্টির তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকবে। এই সময়ে দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় ঘণ্টায় ৫০-৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। 

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে সপ্তাহান্তে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ঝড়ের পাশাপাশি ঘনঘন বজ্রপাতের আশঙ্কা থাকায় সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কলকাতাতেও বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। শুক্র ও শনিবারের জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।



এদিনও দিনভর আকাশ মূলত আংশিক মেঘলাই থাকবে। সন্ধ্যার দিকে শহরের কোনও কোনও এলাকায় হালকা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকতে পারে। সন্ধ্যার কলকাতাতেও হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। বৃষ্টির সঙ্গেই ঘনঘন বজ্রপাতের আশঙ্কাও থাকছে। সে কারণেই আলাদা করে সতর্ক থাকার কথাও বলছেন আবহাওয়াবিদরা। 

১৭ মার্চ মঙ্গলবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩.৬ ডিগ্রি কম। অন্যদিকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৪.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৯২ শতাংশের আশপাশে ঘোরাফেরা করছে। অন্যদিকে সর্বনিম্ন পরিমাণ ৫৪ শতাংশে রেকর্ড করা হয়েছে। আর্দ্রতা বেশি থাকার কারণে গরমের ভাবটাও অনেকটাই বেশি থাকবে। বৃষ্টি হলেও ঝরবে ঘাম। 

এবার দুই দফায় ভোট। শেষ দফার ভোট আগামী ২৯ এপ্রিল। অর্থাৎ আর এক মাস ১০ দিনের মধ্যে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাবে। তারপরও এখনও আইএসএফ ও বামফ্রন্টের জোটের জট কাটেনি। কারণটা কী? জানা গিয়েছে, এখনও আমডাঙা, হরিহরপাড়া-সহ ৫-৬টি আসনে আসন সমঝোতা নিয়ে জট রয়েছে।

কাটছেই না জোট জট, কী করবেন বিমান-নওশাদরা?
আইএসএফ ও বামফ্রন্টের জোটের জট কাটবে কবে?

আলোচনা চলছে বেশ কিছুদিন ধরেই। দুই পক্ষই জোটের পক্ষে। কিন্তু, কিছুতেই কাটছে না জট। ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়েছে। এখনও জোট নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে আইএসএফ ও বামফ্রন্ট। কিন্তু, আসন সমঝোতা অধরা। জট কেটেও যেন কাটছে না। কয়েকটি আসন নিয়ে ২ পক্ষ আলোচনায় ঐক্যমত্যে পৌঁছতে পারছে না। কী হবে শেষপর্যন্ত?

একুশের নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল আইএসএফ। বাম ও কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতা করে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। পাঁচ বছর আগের নির্বাচনে বাম ও কংগ্রেস খাতা খুলতে না পারলেও একটি আসনে জিতেছিল আইএসএফ। ভাঙড়ের জয়ী আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী বামফ্রন্টের সঙ্গে জোট নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে লাগাতার আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। নওশাদ বুঝিয়ে দিয়েছেন, ছাব্বিশেও বামেদের সঙ্গে আসন সমঝোতা করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায় তারা। বিমান বসুও আইএসএফের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনার কথা একাধিকবার জানিয়েছেন। তাঁরাও যে জোট নিয়ে ইতিবাচক, সেকথাও জানিয়েছেন। তারপরও জোটের জট কাটছে না।



এবার দুই দফায় ভোট। শেষ দফার ভোট আগামী ২৯ এপ্রিল। অর্থাৎ আর এক মাস ১০ দিনের মধ্যে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাবে। তারপরও এখনও আইএসএফ ও বামফ্রন্টের জোটের জট কাটেনি। কারণটা কী? জানা গিয়েছে, এখনও আমডাঙা, হরিহরপাড়া-সহ ৫-৬টি আসনে আসন সমঝোতা নিয়ে জট রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কী করণীয়, তা স্থির করতে দ্রুত বৈঠকে বসছেন আইএসএফ নেতৃত্ব। আপাতত, স্থির হয়েছে প্রয়োজন বামেদের সঙ্গে আলোচনা চলা আসন বাদে বাকি আসনের প্রার্থী ঘোষণা করে দিতে পারে আইএসএফ।
 

আর এই বদল নিয়ে মুখ খুলেছেন রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী শশী পাঁজা। তিনি বলেন, "বিজেপি এতদিন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করল। এতদিন ভোট এলে সিবিআই-ইডি সকলে চলে আসত। এরপর এসআইআর করল। এই সব করে ভোটের সংখ্যা কমাল। তারপর বাংলার আইএএস-আইপিএসদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করা। সবটা বাংলার মানুষ দেখছেন। এটা অত্যন্ত অসম্মান জনক। এটার প্রয়োজন ছিল না। যাঁরা এসেছেন তাঁরাও যোগ্য, যাঁরা ছিলেন তাঁরাও যোগ্য।"


কলকাতা: ভোটের মুখে আগেই আমলাদের বদল করেছে নির্বাচন কমিশন। আর এবার ফের একবার রাজ্য পুলিশে বড় বদল। রায়গঞ্জ, মুর্শিদাবাদ ও বর্ধমানের ডিআইজি বদল। আগেই ডিজিপি, পাঁচ কমিশনারেটের সিপি, এডিজি আইন-শৃঙ্খলাকে সরিয়ে দিয়েছিল কমিশন। তবে শুধু ডিআইজি নয়, বদলানো হল জেলা শাসকদেরও। তেরো জন জেলাশাসককে বদল করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। সেই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বদল হয়েছেন রায়গঞ্জের ডিআইজি রাথোর অমিত কুমার ভরত, মুর্শিদাবাদের ডিআইজি অজিত সিং যাদব, বর্ধমানের ডিআইজি শ্রীহরি পান্ডেকেও বদল করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের ডিআইজি কঙ্কর প্রসাদ বাউরিকে বদলে দেওয়া হয়েছে। বদল হয়েছে জলপাইগুড়ি রেঞ্চের ডিআইজি অঞ্জলী সিং। অপরদিকে, উত্তর দিনাজপুর, মালদহ, নদিয়া উত্তর কলকাতা, দক্ষিণ কলকাতা, দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসকদের বদল করা হয়েছে। আর নতুন যাঁরা এসেছেন সেই তালিকাও কার্যত চমকপ্রদ। রনধীর কুমার, স্মিতা পাণ্ডে, আর অর্জুন। এরা কমিশনের কাজ করেছেন। এরা রোল অবজারভার ছিলেন। এদের উপরই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়ায়।


আর এই বদল নিয়ে মুখ খুলেছেন রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী শশী পাঁজা। তিনি বলেন, “বিজেপি এতদিন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করল। এতদিন ভোট এলে সিবিআই-ইডি সকলে চলে আসত। এরপর এসআইআর করল। এই সব করে ভোটের সংখ্যা কমাল। তারপর বাংলার আইএএস-আইপিএসদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করা। সবটা বাংলার মানুষ দেখছেন। এটা অত্যন্ত অসম্মান জনক। এটার প্রয়োজন ছিল না। যাঁরা এসেছেন তাঁরাও যোগ্য, যাঁরা ছিলেন তাঁরাও যোগ্য।” বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “যতদিন এরা প্রশাসনে ছিলেন ততদিন সরকারের হয়ে ছিলেন। সব থেকে বড় প্রমাণ হল আরজি করের তথ্য প্রমাণ লোপাট।”


মঙ্গলবার চুঁচুড়ায় পৌঁছালে দেবাংশুকে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা জানান তৃণমূল কর্মীরা। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন দেবাংশু।

ফুঁসছেন তিনবারের MLA অসিত, কী করবেন দেবাংশু?
রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর

 ভোটে তাঁর টিকিট পাওয়া নিয়ে জোর জল্পনা চলেছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত শিকে ছিঁড়েছিল লোকসভা ভোটে। কিন্তু জয় আসেনি। যদিও ফের ভরসা করেছে দল। লোকসভা নির্বাচনের হারের গ্লানি মুছে এবার বিধানসভার লড়াইয়ে কোমর বেঁধে নামলেন তৃণমূল কংগ্রেসের যুব নেতা তথা আইটি সেলের প্রধান দেবাংশু ভট্টাচার্য। চুঁচুড়া বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পরই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চুঁচুড়া ঘড়ির মোড়ে পা রাখেন তিনি। তাঁকে ঘিরে দলীয় কর্মীদের ব্যাপক উচ্ছ্বাসের ছবিও দেখা যায়। সেখানে দাঁড়িয়েই আগামী পাঁচ বছরের রোডম্যাপও ঠিক করে ফেললেন। তাঁর সাফ কথা, “আগামী পাঁচ বছরে সাধারণ মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে একটি ‘নতুন চুঁচুড়া’ গড়ে তোলাই আমার প্রধান লক্ষ্য।” 

মঙ্গলবার চুঁচুড়ায় পৌঁছালে দেবাংশুকে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা জানান তৃণমূল কর্মীরা। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন দেবাংশু। তিনি বলেন, “চুঁচুড়ার মানুষ অত্যন্ত সচেতন। তাঁরা যেভাবে চুঁচুড়াকে দেখতে চান, তাঁদের সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে আমি দলীয় নেতৃত্ব ও স্থানীয় মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করব।” আর অসিত মজুমদার? 


আমাদের খেলার মাঠ থেকে তাড়িয়েছিল, দল চুঁচুড়া থেকে তাড়িয়েছে', অসিত টিকিট না পাওয়ায় বাজি ফাটালেন TMC কর্মীরা
বদলির পর এখনও নতুন পদে যোগ না দেওয়া আধিকারিকদের নিয়ে বড় ঘোষণা কমিশনের
চুঁচুড়ায় গত তিনবারের জয়ী বিধায়ক অসিত মজুমদারকে এবার টিকিট দেয়নি ঘাসফুল শিবির। টিকিট না পেয়ে অসিতবাবু প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। একরাশ হতাশার সঙ্গে রাজনৈতিক সন্ন্যাস নেওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছেন। সাফ বলেছেন, “রাজনীতি আর করব না। রাজনীতি থেকে বিশ্রাম নিলাম।”

এই পরিস্থিতিতে অত্যন্ত কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন দেবাংশু। তিনি বলেন, “অসিতবাবু আমার পিতৃসম, আমি ওনার সন্তানের মতো। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে মান-অভিমান থাকতেই পারে, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি একজন পিতা কখনোই তাঁর সন্তানকে ফিরিয়ে দেবেন না। আমি অবশ্যই ওনার সঙ্গে কথা বলব, ওনার আশীর্বাদ নিয়ে এগোব।”

বুধবার টিভি ৯ বাংলার তরফে যোগাযোগ করা হলে তিনি আরও বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকায় সমাজের সমস্ত ঘরানার মানুষের জায়গা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে কিছু মানুষ জায়গা পাননি। কিন্তু আমাদের বিশ্বাস দল তাঁদের পরবর্তীকালে কোনও বৃহত্তর জায়গায় কাজে লাগাবেন। আমি আজই অসিতদার সঙ্গে দেখা করব।”  

 গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এসআইআর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। আর সেই তালিকায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম বিবেচনাধীনের তালিকায় রয়েছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা বেরনোর পর কেটে গিয়েছে ২ সপ্তাহের বেশি। বিবেচনাধীন ভোটারদের তথ্য খতিয়ে দেখে তা নিষ্পত্তি করছেন জুডিশিয়াল অফিসাররা।

 ২১ লক্ষ বিবেচনাধীনের নামের নিষ্পত্তি, কবে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বেরবে?
কবে বেরবে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা?

ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়েছে। ময়দানে পুরোদমে নেমে পড়েছে রাজনৈতিক দলগুলি। কিন্তু, রাজ্যের ৬০ লক্ষ ভোটার এখনও জানেন না, তাঁরা এবারের নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন কি না। কারণ, তাঁদের নাম ঝুলে রয়েছে বিবেচনাধীনের তালিকায়। সেই বিবেচনাধীনদের তালিকা কবে বেরবে? এখনও পর্যন্ত কতজন বিবেচনাধীনের নামের নিষ্পত্তি হয়েছে? উঠছে প্রশ্ন। সেই তথ্যই জানাল নির্বাচন কমিশন। বিবেচনাধীনদের নামের প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা কবে বেরতে পারে, তাও জানালেন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত। কী বললেন তিনি?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এসআইআর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। আর সেই তালিকায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম বিবেচনাধীনের তালিকায় রয়েছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা বেরনোর পর কেটে গিয়েছে ২ সপ্তাহের বেশি। বিবেচনাধীন ভোটারদের তথ্য খতিয়ে দেখে তা নিষ্পত্তি করছেন জুডিশিয়াল অফিসাররা। এবার কমিশনের তরফে জানানো হল, এখনও পর্যন্ত ২১ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটারের নামের নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে।



 বাম আমল থেকে ছাত্র রাজনীতি, সরকারের হয়ে লড়েছেন গুরুত্বপূর্ণ মামলা, মীনাক্ষীর বিপরীতে লড়া কল্যাণ পুত্র শীর্ষণ্যের সম্বন্ধে জানুন
এখনও পর্যন্ত নিষ্পত্তি হওয়া ভোটারদের সাপ্লিমেন্টারি তালিকা কবে বেরবে? এই নিয়ে কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত বললেন, “সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এই সপ্তাহের মধ্যেই আমরা তা প্রকাশ করতে পারব। যে সব নামের নিষ্পত্তি হয়েছে, সেগুলি এক-দু’দিনের মধ্যে আমাদের সঙ্গে শেয়ার করবেন জুডিশিয়াল অফিসাররা। এখন যে অবস্থায় রয়েছে, তাতে শুক্রবার কিংবা শনিবার সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বেরিয়ে যাওয়ার কথা।” বিশেষ পর্যবেক্ষকের কথাতেই স্পষ্ট, শুক্রবারের আগে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বেরনো সম্ভব নয়।

কিন্তু, প্রশ্ন উঠছে, ভোটের আগে বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা বাকি ভোটারদের তথ্য খতিয়ে দেখে তার নিষ্পত্তি করা কি সম্ভব? বাংলায় এবার ২ দফায় ভোট। ২৩ ও ২৯ এপ্রিল। সবমিলিয়ে একমাসের চেয়ে সামান্য বেশি। এর মধ্যে বাকি প্রায় ৩৯ লক্ষ বিবেচনাধীনের নামের নিষ্পত্তি করা কি সম্ভব? আবার যাঁদের নাম বাদ যাবে, তাঁদের ট্রাইবুনালে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সেই সব আবেদনের নিষ্পত্তিই বা কবে হবে? রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এই নিয়ে প্রশ্ন তুলে কমিশনকে নিশানা করেছে।

রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “এখন দায় হাইকোর্টের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা হচ্ছে। আমাদের নেত্রী বলেছেন, বিচারব্যবস্থার উপর আস্থা আছে। কিন্তু আমাদের কাছে তথ্য নেই, কমিশন আদালতের সঙ্গে কিভাবে সমন্বয় করে সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশ করছে। যাদের নাম বাদ যাবে, তারা ট্রাইবুনালে আবেদন করবে। কিন্তু তারা কবে করবে? সেই সময়টা তো দিতে হবে। এই বিষয়েও কোনও উত্তর দিচ্ছে না কমিশন। এর পিছনে কি অন্য কোনও উদ্দেশ্য আছে? ভোটাধিকার আপনারা কেড়ে নেবেন, কিন্তু আমরা তো সেটা কেড়ে নিতে দেব না। আপনাকে তো সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট পাবলিশ করতে বলেছে। সেটা কবে কে করবেন?”


পবিত্র করের রাজনৈতিক উত্থানও বেশ কৌতূহলের জন্ম দেয়। ২০২০ সালের নভেম্বরে, শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ঠিক এক মাস আগেই, তৃণমূল ছেড়ে পদ্ম শিবিরে নাম লিখিয়েছিলেন তিনি। তৎকালীন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের হাত থেকে পতাকা নিয়েছিলেন সে সময়ের বয়াল-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পবিত্রবাবু।


শুভেন্দুর হাতিয়ার এবার মমতার হাতে! নন্দীগ্রামে কতটা ফ্যাক্টর পবিত্র?
রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর


একুশের নির্বাচনের মতো এবারও নাটকীয় পটপরিবর্তন। নন্দীগ্রামে এবার শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে তৃণমূলের বাজি আরও এক ভূমিপুত্র। তৃণমূলে যোগ দিয়েই যেন রাতারাতি মোক্ষলাভ। একহাতে ঘাসফুলের পতাকা, একহাতে টিকিট। মঙ্গলবারের ছবিটা যেন ঠিক এমনই ছিল। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর একসময়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং দক্ষ সংগঠক পবিত্র কর শিবির বদলে ফিরে এলেন তৃণমূলে। মঙ্গলবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তুলে নেন তৃণমূলের পতাকা। চমক এখানেই শেষ নয়, দলবদল শেষ হতেই শুভেন্দুর গড়ে খোদ শুভেন্দুর বিরুদ্ধেই তাঁকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলার শাসকদল! 

এদিকে ভবানীপুরের পাশাপাশি এবার নন্দীগ্রামেও ফের মমতাকে খোলা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিলেন শুভেন্দু। তৃণমূলের আগেই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছিল বিজেপি। আগের বার হারলেও এবার আর নন্দীগ্রামে যাচ্ছেন না মমতা। তিনি থাকছেন ভবানীপুরে। এবার নন্দীগ্রামে শুভেন্দুকে টক্কর দেবেন এই পবিত্র।   



পবিত্র করের রাজনৈতিক উত্থানও বেশ কৌতূহলের জন্ম দেয়। ২০২০ সালের নভেম্বরে, শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ঠিক এক মাস আগেই, তৃণমূল ছেড়ে পদ্ম শিবিরে নাম লিখিয়েছিলেন তিনি। তৎকালীন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের হাত থেকে পতাকা নিয়েছিলেন সে সময়ের বয়াল-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পবিত্রবাবু। সঙ্গে ছিলেন উপপ্রধান বিশ্বজিৎ ভুঁইয়া। সে বছরেরই ১৯ ডিসেম্বর মেদিনীপুরে বিজেপির জনসভায় অমিত শাহের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন শুভেন্দু। তারপর এক নতুন শুভেন্দুকে দেখেছে বাংলা। এককালে বিজেপির তুলোধনা করা শুভেন্দু সেই কবেই হয়ে উঠেছেন বঙ্গ বিজেপির হিন্দুত্বের নয়া পোস্টার বয়। আর তাঁর দুর্গ? অবশ্যই নন্দীগ্রাম। 

কেন পবিত্রকেই বেছে নিল তৃণমূল? 

এদিকে তৃণমূলে ফেরার আগে পর্যন্ত পবিত্রবাবু বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি পদে আসীন ছিলেন। শুধু তাই নয়, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে তাঁর স্ত্রী বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়ে বর্তমানে বয়াল-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। কিন্তু কেন কেন পবিত্রকেই বেছে নিল তৃণমূল? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর মতো একুশে জোড়াফুলকে হারানো হেভিওয়েট নেতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে তৃণমূলের এমন একজনের প্রয়োজন ছিল, যাঁর নন্দীগ্রামের মাটির সঙ্গে যোগ রয়েছে। নন্দীগ্রাম যাঁর হাতের তালুতে। 

রাজনৈতিক মহলের অনেকেরই মতে, পবিত্র কর একজন দুর্ধর্ষ গ্রাউন্ড-লেভেল স্ট্র্যাটেজিস্ট। এলাকার নাড়িনক্ষত্র তাঁর নখদর্পণে। বিজেপির অন্দরমহলও তাঁর চেনা। গত বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দুর ভোট কৌশলের অন্যতম কারিগর ছিলেন তিনিই। এবার শুভেন্দু অধিকারী একইসঙ্গে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম—এই দুই কেন্দ্র থেকে লড়ছেন। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির ঘরের লোককে ভেঙে এনে তাদেরই গড়ে পদ্ম শিবিরকে অস্বস্তিতে ফেলাই তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের প্রধান লক্ষ্য বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পবিত্র করের যোগদানে স্বাভাবিকভাবেই উল্লসিত তৃণমূল কংগ্রেস। সমাজমাধ্যমে এক বিবৃতিতে শাসক দল জানিয়েছে, এই যোগদানের মাধ্যমে নন্দীগ্রামে বিজেপির পতন আরও ত্বরান্বিত হলো। দলের দাবি, নন্দীগ্রামের মানুষ এবার বঞ্চনা ও বেইমানির রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করে উন্নয়নের জোয়ারে শামিল হতে প্রস্তুত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে পবিত্রবাবু মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করবেন বলে মনে করেছে তৃণমূল।

প্রেস্টিজ ফাইট নাকি বদলার লড়াই? 

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হার এবং শুভেন্দুর জয়, বাংলার রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। যদিও সামগ্রিক ক্ষেত্রে লোকসভা ভোটের থেকে বিজেপির হাল খারাপ হলেও তেজি ঘোড়ার মতো ছুটেছেন শুভেন্দু। এখন ছাব্বিশের মহারণে নন্দীগ্রাম হারের বদলা নিতে আক্ষরিক অর্থেই মরিয়া তৃণমূল। অন্যদিকে, নিজের দুর্গ অটুট রাখা শুভেন্দু অধিকারীর কাছেও যে বড়সড় ‘প্রেস্টিজ ফাইট’ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। গত ডিসেম্বর থেকে এই পবিত্রর দলবদল নিয়ে তীব্র জল্পনা তৈরি হয়েছিল। কিছুদিন আগেই আইপ্যাকের সঙ্গে তাঁর গোপন বৈঠকের কথা ছড়িয়ে পড়ে।

কী বলছেন পবিত্র কর?  

পবিত্র যদিও আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলছেন, নন্দীগ্রামেই আমার জন্ম। এখানের মানুষ তো আমাকে আপন করে নিচ্ছে। আমরা উন্নয়নের পক্ষে সওয়াল করব। গত নির্বাচনে বিজেপি যে সমস্ত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সেগুলি ভাঁওতা বলে আজ প্রমাণ হয়ে গিয়েছে। এরফলে নাকি রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনমোহিনী প্রকল্প মানুষের হৃদয় কেড়ে নিয়েছে।  

আর বিজেপি? বিজেপিতে এই পবিত্র কী আজও পবিত্র? তোপ দাগতে কিন্তু ছাড়ছেন না পদ্ম নেতারা। দিলীপ ঘোষ বলছেন, তৃণমূলের কাছে মনে হয় নন্দীগ্রামে লড়ার মতো যোগ্য প্রার্থীই নেই। সুর চড়িয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— তৃণমূলের এই কালো ঘোড়া পবিত্র কর কি পারবেন শুভেন্দুর মজবুত দুর্গে ফাটল ধরাতে? নাকি বিরোধী দলনেতার দাপটেই ফের একবার ঘেঁটে যাবে শাসকদলের সমস্ত অঙ্ক? উত্তরের অপেক্ষায় বাংলা। 

 বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত একটি বিধানসভা হল বহরমপুর। এই কেন্দ্রে অধীরের প্রভাবও যথেষ্ট ছিল একসময়। কিন্তু, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির সুব্রত মৈত্র বহরমপুরে জয়ী হন। এবারও জয়ী বিধায়ককেই প্রার্থী করেছে বিজেপি। আর তৃণমূল প্রার্থী করেছে নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়কে। এই পরিস্থিতিতে অধীর এই কেন্দ্রে দাঁড়ালে ত্রিমুখী লড়াইয়ের জোর সম্ভাবনা রয়েছে।


 ২৬ বছর পর বিধানসভা ভোটে প্রার্থী অধীর? কী ভাবনা কংগ্রেসের?
প্রার্থী হচ্ছেন অধীর চৌধুরী?


আড়াই দশক সংসদের অলিন্দে দেখা গিয়েছে তাঁকে। লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতার দায়িত্বও পালন করেছেন। তা বলে বিধানসভার অন্দরে যে তাঁকে দেখা যায়নি, এমনটা নয়। তবে তা ২৬ বছর আগে। আর ২৬ বছর পর ফের বিধানসভা ভোটে তাঁর প্রার্থী হওয়া নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। সত্যিই কি বিধানসভা ভোটে দাঁড়াতে চলেছেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী? প্রার্থী হলে কোনও আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন? আড়াই দশক লোকসভার সাংসদ থাকা অধীরকে নিয়ে কী ভাবছে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব? 

কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব সূত্রে খবর, নিজের গড় বহরমপুরে প্রার্থী করা হতে পারে অধীরকে। প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল, প্রার্থী করা হতে পারে অধীর চৌধুরীকে। সূত্রের খবর, কংগ্রেস হাইকম্যান্ডও অধীরকে ব্যবহার করতে চাইছেন বাংলার রাজনীতিতে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির বৈঠকে।


প্রার্থী ঘোষণা হতেই খণ্ডঘোষে বিদ্রোহ, ব্লক সভাপতির সঙ্গেই গণ-ইস্তফার পথে একঝাঁক নেতা

প্রার্থী হয়েও শান্তি নেই, কিছুতেই বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না পরেশের
চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে হেরে যাওয়ায় এখন অধীর প্রাক্তন সাংসদ। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্বও শুভঙ্কর সরকারের কাঁধে। সবমিলিয়ে এই মুহূর্তে বাড়তি কোনও ‘চাপ’ নেই অধীরের। আর এই ‘চাপহীন’ অধীরকেই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী করতে চায় কংগ্রেস নেতৃত্ব।

২৫ বছর লোকসভার সাংসদ থাকলেও বিধানসভায় যাওয়ারও অভিজ্ঞতা রয়েছে বহরমপুরের ‘রবীন হুড’ অধীরের। ১৯৯৬ সালে কংগ্রেসের টিকিটে মুর্শিদাবাদের নবগ্রাম থেকে তিনি বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯৯ সালের লোকসভা ভোট পর্যন্ত বিধায়ক ছিলেন। তারপর ১৯৯৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে বহরমপুর কেন্দ্রে জিতে প্রথমবার সংসদে পা রাখেন অধীর। দীর্ঘ ২৫ বছর বহরমপুরের সাংসদ থেকেছেন। ২০২৪ সালের তৃণমূলের ইউসুফ পাঠানের কাছে লোকসভা নির্বাচনে পরাজিত হন।

এই বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত একটি বিধানসভা হল বহরমপুর। এই কেন্দ্রে অধীরের প্রভাবও যথেষ্ট ছিল একসময়। কিন্তু, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির সুব্রত মৈত্র বহরমপুরে জয়ী হন। এবারও জয়ী বিধায়ককেই প্রার্থী করেছে বিজেপি। আর তৃণমূল প্রার্থী করেছে নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়কে। এই পরিস্থিতিতে অধীর এই কেন্দ্রে দাঁড়ালে ত্রিমুখী লড়াইয়ের জোর সম্ভাবনা রয়েছে। এখন দেখার, প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতিকে তাঁর দল প্রার্থী করে, নাকি রাজ্যব্যাপী প্রচারের কাছে লাগায়।


ভোটের আগে বীরভূমে বিস্ফোরক নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, গ্রামের রাস্তায় ট্রাক্টরটিকে যেতে দেখেই তাঁদের সন্দেহ হয়েছিল। কিন্তু, এত বিস্ফোরক যে বোঝাই রয়েছে, তা তাঁরাও ভাবতে পারেননি। ভোটের আগে এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়।

ভোট ঘোষণা হতেই প্রচুর বিস্ফোরক উদ্ধার বীরভূমে, কেন নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল?
বীরভূমে বাজেয়াপ্ত বিস্ফোরক

তিনদিন আগেই ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যের প্রান্তে প্রান্তে টহলদারি শুরু করেছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট করে দিয়েছেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে সবরকম পদক্ষেপ করা হচ্ছে। কিন্তু, হিংসা কি এড়ানো যাবে? এই নিয়ে যখন প্রশ্ন উঠছে, তখন বীরভূমে প্রচুর পরিমাণে বিস্ফোরক উদ্ধার হল। পাচার করার সময় প্রচুর পরিমাণে বিস্ফোরক বোঝাই ট্র্যাক্টর আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন গ্রামবাসীরা। গ্রামবাসীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে বিস্ফোরক বোঝাই ট্রাক্টরটি বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। ঘটনাটি বীরভূমের নলহাটি থানার কাদাসির গ্রামে।

পুলিশ জানিয়েছে, বাজেয়াপ্ত হওয়া বিস্ফোরকগুলির মধ্যে রয়েছে ১০ হাজার পিস্ জিলেটিন স্টিক এবং ৩৬০ পিস্ ডিটোনেটর। তবে এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

সাইলেন্ট কিলার', নন্দীগ্রামে ফাইনাল হয়ে গেল শুভেন্দুর প্রতিপক্ষের নাম? সামনে আসছে বড় জল্পনা
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গতকাল রাতে কাদাসির গ্রামের রাস্তা দিয়ে বিস্ফোরক বোঝাই ট্রাক্টরটি যাচ্ছিল। সেই সময় গ্রামের বাসিন্দা ট্রাক্টরটি আটকায়। বেগতিক বুঝে ট্রাক্টরের চালক পালিয়ে যান। পরে গ্রামবাসীরা দেখতে পান ট্র্যাক্টরটিতে বিস্ফোরক বোঝাই করা রয়েছে। এলাকায় শোরগোল পড়ে। গ্রামবাসীরা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে নলহাটি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। বিস্ফোরক ও ট্রাক্টরটিকে বাজেয়াপ্ত করে। কে বা কারা কী উদ্দেশ্যে এবং কোথায় বিস্ফোরকগুলি নিয়ে যাচ্ছিল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে নলহাটি থানার পুলিশ।

ভোটের আগে বীরভূমে বিস্ফোরক নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, গ্রামের রাস্তায় ট্রাক্টরটিকে যেতে দেখেই তাঁদের সন্দেহ হয়েছিল। কিন্তু, এত বিস্ফোরক যে বোঝাই রয়েছে, তা তাঁরাও ভাবতে পারেননি। ভোটের আগে এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দারা চাইছেন, পুলিশ সবদিক খতিয়ে দেখুক। ভোটের আগে কেন এবং কোথায় বিস্ফোরকগুলি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তা নিয়ে তদন্ত করুক।

 শুভেন্দু নন্দীগ্রামের পাশাপাশি কলকাতায় এসে ভবানীপুরে লড়ছেন শুধুমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করার উদ্দেশ্যে। তবে তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হুমায়ুন কবীর লড়বেন মুর্শিদাবাদেরই দুটি বিধানসভা আসন থেকে, ওয়াকিবহাল মহলের প্রশ্ন, কেন? তিনি কাকে হারাতে চাইছেন? নাকি নিজের হারার আশঙ্কাতেই দু'জায়গা থেকে লড়ছেন তিনি?

মমতার বিরুদ্ধে মুসলিম প্রার্থী দিলেন হুমায়ুন
হুমায়ুন কবীরের প্রার্থী তালিকা


কলকাতা: তৃণমূল-বিজেপি-সিপিএম-সিআইএমএল-এর প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হয়েছে। আর এবার প্রার্থী তালিকা দিল হুমায়ুন কবীরের ‘আম জনতা উন্নয়ন’ পার্টির প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করছেন। ১৮২টি আসনে প্রার্থী দেওয়া হচ্ছে। সেখান থেকে মুর্শিদাবাদ, মালদহের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা করলেন তিনি। তবে, এবার হুমায়ুন কবীর লড়বেন না ভরতপুর থেকে। শুভেন্দু অধিকারী যেমন নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর থেকে লড়বেন, তেমনই হুমায়ুন কবীরও লড়বেন দুজায়গা থেকে। কিন্তু এখানেও তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন। শুভেন্দু নন্দীগ্রামের পাশাপাশি কলকাতায় এসে ভবানীপুরে লড়ছেন শুধুমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করার উদ্দেশ্যে। তবে তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হুমায়ুন কবীর লড়বেন মুর্শিদাবাদেরই দুটি বিধানসভা আসন থেকে, ওয়াকিবহাল মহলের প্রশ্ন, কেন? তিনি কাকে হারাতে চাইছেন? নাকি নিজের হারার আশঙ্কাতেই দু’জায়গা থেকে লড়ছেন তিনি?

সাংবাদিক বৈঠক করে হুমায়ুন বলেন, “আমরা ১৮২টি আসনে প্রার্থী দিচ্ছি। মালদহ-মুর্শিদাবাদের প্রার্থী দেব। বাকি পুরো তালিকা আগামী ২২ তারিখ রবিবার ১ নাগাদ বলব। মিম কয়েকটি আসনে লড়ব।”



বর্ধমান পূর্বস্থলী উত্তর থেকে জনতা উন্নয়ন পার্টি থেকে লড়াই করবেন বাপন ঘোষ।
হুমায়ুন কবীর নিজে লড়াই করবেন দু’টি কেন্দ্র থেকে। একটি হল রেজিনগর অন্যটি হল নঁওদা থেকে। তবে ভরতপুর থেকে লড়বেন না তিনি।
ইয়াসিন হায়দার অর্থাৎ ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন জামাই জনতা উন্নয়ন পার্টির হয়ে লড়বেন কান্দি থেকে।
 বেলডাঙা থেকে লড়বেন সৈয়দ আহমেদ কবীর।
রয়াল ইসলাম লড়বেন মালদহ রতুয়া থেকে।
মালতীপুর থেকে জনতা উন্নয়ন পার্টির আবদুল মিনাজ শেখ লড়াই করবেন।
মালদহ বৈষ্ণব নগরে লড়াই করবেন মুসকরা বিবি।
মানিকচক থেকে আবু শইদ।
এছাড়াও সুজাপুর থেকে লড়ছেন নাসিমুল হক।
ভরতপুর থেকে লড়বেন সৈয়দ খুবাইব আমিন সাহেব।
বেহালা পূর্ব থেকে জনতা উন্নয়ন পার্টির হয়ে লড়বেন অনুপম রোহদগীর।
ফরাক্কা থেকে লড়বেন ইমতিয়াজ মোল্লা।
হরিহর পাড়া থেকে লড়াই করবেন বিজয় শেখ।
ভবানীপুর আসনে একজন অবাঙালি মুসলিমকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

আদালত অন্তর্বর্তী নির্দেশে রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছিল ৮ জানুয়ারির ঘটনার সমস্ত সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ এবং ইলেকট্রনিক প্রমাণ সংরক্ষণ করতে। এই প্রক্রিয়াগুলো নিশ্চিত করার জন্যও সময়ের প্রয়োজন ছিল। রাজ্যকে সময় দেয় শীর্ষ আদালত। এদিন ফের শুনানি ছিল। তাতে আবারও সময় চায় রাজ্য। তাতেই বিরক্ত হয় সুপ্রিম কোর্ট।


মুখ্যমন্ত্রী যা করেছেন, তা মোটেও সুখকর নয়, অন্য মুখ্যমন্ত্রীও এমনটা করতে পারেন', মমতার ভূমিকায় অত্যন্ত বিরক্ত সুপ্রিম কোর্ট
সুপ্রিম কোর্টে IPAC মামলা, মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকায় বিরক্ত SC

আইপ্যাক মামলায় আবারও সুপ্রিম কোর্টের কাছে সময় চাইল রাজ্য। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়া বেঞ্চে ফের সময় চেয়ে আবেদন জানান রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল। তাতে সলিসেটর জেনারেল তুষার মেহেতার বক্তব্য, “সময় নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ।” ইতিমধ্যেই রাজ্যকে যে আদালত চার সপ্তাহ সময় দিয়ে দিয়েছে, তা স্মরণ করান বিচারপতি। বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল তখন বলেন, ” আমরা রিজয়েনডার জমা দিতে চাই।”


সলিসেটর জেনারেলের বক্তব্য



সলিসেটর জেনারেল তুষার মেহেতার বক্তব্য, ” এটা অত্যন্ত আশ্চর্যের ব্যাপার, যে একজন মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে হস্তক্ষেপ করছেন। ৪ সপ্তাহ পরেও তাঁরা কিছু জমা দেওয়ার জন্য সময় চাইছেন।” তখন রাজ্যের আইনজীবী শ্যাম দেওয়ান সওয়াল করেন, “আমরা আমাদের বক্তব্য জমা দেওয়ার সময় পাচ্ছি না।” তাতে বিচারপতির বক্তব্য, সময় নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। কারণ ইতিমধ্যেই চার সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়ে গিয়েছে। সলিসেটর জেনারেল তুষার মেহেতা অভিযোগ করেন, “যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী জোর করে তদন্ত চলাকালীন ঢুকেছেন, তা অত্যন্ত ‘আনইউজুয়াল।’

এর আগে সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা পেশ করে ইডি। হলফনামায় ইডি-র তরফে স্পষ্ট করে বলা হয়, রাজ্য় পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তারক্ষীদের মুখোমুখি সংঘর্ষ এড়াতেই তল্লাশি বন্ধ করতে বাধ্য হয় ইডি অফিসাররা, হলফনামায় এমনটাই উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি, কোনও তদন্তকারী সংস্থা কখনওই তল্লাশি চলাকালীন কোনও তৃতীয় ব্যক্তিকে সেখানে প্রবেশ করতে এবং জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিতে পারে না, সেটাও উল্লেখ করেইডি।

ইডি-র মামলা নিয়েই প্রশ্ন রাজ্যের

রাজ্যের আইনজীবী শ্যাম দেওয়ান ইডি-র মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলে সওয়াল শুরু করেন।

রাজ্যের আইনজীবীর বক্তব্য, ইডি কোনও জুরিস্টিক এনটিটি নয় এবং সেই কারণে ইডি সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে কোনও পিটিশন দাখিল করতে পারে না। দ্বিতীয়ত, যদি ইডির মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হওয়ার কোনও সুযোগ না থাকে, তবে ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে করা পিটিশনটি গ্রহণযোগ্য নয়। ইডি আদৌ কোনও পিটিশন দাখিল করতে পারে কি না, তা এখানে বিবেচ্য।
রাজ্য: আর্টিকেল ৩২ অনুযায়ী সংবিধানের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন হওয়ার অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার অধিকার একজন নাগরিক বা ব্যক্তির থাকতে পারে অথবা একটি লিগ্যাল কর্পোরেট সংস্থার থাকতে পারে। যদি তা না হয়, তাহলে এই মামলা করা যায় না।
রাজ্য: PMLA অনুযায়ী ক্ষমতা এবং দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু স্বতন্ত্র সংস্থা হিসাবে আইনি বৈধতা দেওয়া হয়নি। যা ব্যবহার করে ইডি মামলা করতে পারেন।
সংবিধানের অনুচ্ছেদ 300 অনুযায়ী মৌলিক অধিকারের প্রশ্ন তুলে ভারত সরকার বা কোনও রাজ্য সরকার মামলা করতে পারে, কিন্তু ইডি একটি সংস্থা হিসেবে পারেনা।
অনুচ্ছেদ ১৩১ এ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোন সরকারি সংস্থা কিভাবে মামলা করতে পারবে। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় সরকার পরিচালনায় এই এক্তিয়ার বন্টন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যখন সরকার একটি মামলা দায়ের করে তখন অনেক দিক মাথায় রেখে সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্যে করতে হয়। যদি কোনও সরকারি সংস্থা মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন হয়েছে বলে আদালতের দ্বারস্থ হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং সংবিধানের প্রক্রিয়া প্রশ্নের মুখে পড়ে।কপিল সিব্বল: বিধিবদ্ধ ক্ষমতার বলে ইডি তদন্তকারী অফিসারদের তদন্ত করার অধিকার বা ক্ষমতা আছে। এখানে তাদের মৌলিক অধিকারের বিষয় আসতে পারে না।ইডি কখনই পিএমএলএ মামলায় সিবিআইকে তদন্ত করতে বলতে পারে না।বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রা: PMLA কেসে ইডি তদন্ত করছে। ওদের বক্তব্য তদন্ত চলাকালীন ইডি অফিসারদের ভয় দেখানো হয়েছে, তারা আক্রান্ত হয়েছে। এই বিষয়ের উপর তারা সিবিআই তদন্ত চাইছেন।
রাজ্যের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রা বলেন, “একজন মুখ্যমন্ত্রী যেখানে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এজেন্সি তদন্ত করছে, সেখানে বলপূর্বক ঢুকে পড়ছেন, এটা মোটেই সুখকর চিত্র নয়। যদি আর্টিকেল ৩২ বা আর্টিকেল ২২৬ অনুযায়ী মামলা করা না যায়, তাহলে কী করা যাবে? কাল অন্য কোন মুখ্যমন্ত্রী একই কাজ করতে পারেন।”

রাজ্যের তরফে তখন বলা হয়, “আমরা বলছি, কেন্দ্রীয় সরকার এক্ষেত্রে মামলা করতে পারে। কিন্তু কোন দপ্তর নয় বা CID বা ইডির মত সংস্থা নয়। যদি তারা করেন, তাহলে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪৫ ধারা অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ গঠন করে এ ধরনের সংস্থার ক্ষমতা এক্তিয়ার সব নতুন করে ঠিক করতে হবে।” এই মামলার পরবর্তী শুনানি পরের সপ্তাহে। 

এর আগে আদালত অন্তর্বর্তী নির্দেশে রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছিল ৮ জানুয়ারির ঘটনার সমস্ত সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ এবং ইলেকট্রনিক প্রমাণ সংরক্ষণ করতে। এই প্রক্রিয়াগুলো নিশ্চিত করার জন্যও সময়ের প্রয়োজন ছিল। রাজ্যকে সময় দেয় শীর্ষ আদালত। এদিন ফের শুনানি ছিল। তাতে আবারও সময় চায় রাজ্য। পাল্টা ইডি কেন মামলা করেছে, তার যৌক্তিকতা কোথায়, সেই নিয়েই প্রশ্ন তোলে রাজ্য।

চলতি বছরের শুরুর দিকেই কলকাতায় ভোট কুশলী সংস্থা আইপ্যাক সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাসভবনে তল্লাশি চালায় ইডি। পরে সল্টলেক সেক্টর ফাইভে তাঁর অফিসেও তল্লাশি চলে। কয়লা দুর্নীতি সংক্রান্ত এই মামলায় তল্লাশি চলে। ইডি-র অভিযোগ, আইপ্যাক অফিসে তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী এবং পুলিশ আধিকারিকরা ক্ষমতাবলে ঢুকে যান, তদন্তে বাধা দেন। গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী চলে আসেন বলে অভিযোগয অন্যদিকে রাজ্যের দাবি ছিল, নির্বাচনের আগে সংবেদনশীল রাজনৈতিক তথ্য হাতিয়ে নিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছিল।