WEATHER

Top News



 এর আগে কখনও বিধানসভায় এমনটা হয়নি', শুভেন্দু বলা শেষ করতেই উঠে দাঁড়িয়ে পড়লেন ফিরহাদ, কী হল?
শুভেন্দু অধিকারী, ফিরহাদ হাকিম

বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ ফিরহাদ হাকিম। ফিরহাদ বললেন, “নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন মুখ্যমন্ত্রী।” ঋতব্রত তৃণমূলের সহ সভাপতির আরও সংযোজন, বিধানসভার ইতিহাসে এর আগে এমনটা হয়নি। এর আগে কেবল ১৫ বছর নয়, তার আগেও আমি বিরোধী পক্ষের বিধায়ক ছিলাম, এভাবে বিধায়কদের সম্মান দিয়ে, আমরা কী বলছি, সেটাকে গুরুত্ব দিয়ে বিচার করা- এর আগে বিধানসভায় কখনও হয়নি। এটা যদি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় নতুন ইতিহাস তৈরি হবে।”


কিন্তু বিষয়টা ঠিক কী হয়েছে? 



 ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভের বিরুদ্ধে এবার গর্জে উঠলেন কঙ্গনা, কী বললেন বিজেপি সাংসদ?
দশ দিনের অপেক্ষা, পয়লা অগাস্ট 'শহরে মাই নেম ইজ জান'...
এদিন বিধানসভা অভিবেশনের উল্লেখ পর্ব চলছিল। অধিবেশনের এই পর্বে মূলত বিধায়করা তাঁদের এলাকার সমস্যার কথা জানিয়ে থাকেন। এদিন সেই পর্ব শুরু হওয়ার আগেই উঠে দাঁড়ান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি মন্ত্রীদের উদ্দেশে একটা বড় বার্তা দেন। মুখ্য়মন্ত্রী বলেন, “উল্লেখপর্বে বিধায়করা যে বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন, তার উত্তর আপনাদের দিতে হবে। জানার ৭ দিনের মধ্যেই নিজে সই করে উত্তর দেবেন। যেটা করা সম্ভব করবেন, যেটা করা এখনও সম্ভব নয়, কেন করতে পারছেন না জানাবেন। আর যদি সময় দরকার হয়, সময়ও চেয়ে নেবেন। আমি চাই উল্লেখপর্বে সদস্যদের বলা বিষয়গুলো যথাযথ গুরুত্ব পায়।” তিনি জানান, সিএমও-র থেকে মনিটারিং করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকেও কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট ৩ মাস অন্তর পাঠানো হবে। যাতে বলার বিষয়গুলো বলাতেই সীমাবদ্ধ না থেকে কার্যকর হয়।


বিধানসভা থেকে মন্ত্রীদের এদিন বড় নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিধায়করা তাঁদের সমস্যা মন্ত্রীদের জানালে ৭ দিনের মধ্যে তাঁদের জবাব দিতেই হবে। কী কাজ হয়েছে, কাজ না হয়ে থাকলে কেন হয়নি, কতদিন হবে, তার বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট তথ্য বিধায়ককে জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বিধায়করা বিধানসভায় যে সব বিষয় উল্লেখ করবেন, তার প্রতিলিপিও সিএমও-র কাছে পাঠানোরও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রতি মাস অন্তর বিষয়গুলো সম্পর্কে রিপোর্ট জানানো হবে বিধায়কদের।

তখনই উঠে দাঁড়ান ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, “আমি শাসক ও বিরোধী আগেও থেকেছি। এমন বিষয় দেখিনি আগে।”

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে লেখা এক বিশেষ চিঠিতে তিনি পরামর্শ দেন, জনজীবন ও প্রশাসনিক স্তরে মাতৃভাষার প্রয়োগ বহু গুণে বাড়াতে হবে। সেই বার্তার পরই বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত— ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যের সমস্ত প্রশাসনিক কাজ, কেন্দ্র-রাজ্যের পারস্পরিক চিঠিপত্র এমনকী, পুলিশের কাছে এফআইআর (FIR)-ও করা যাবে বাংলা ভাষায়।


অক্সিজেন পেল বাংলা ভাষা, সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে কী বলছেন 'চন্দ্রবিন্দু'র অনিন্দ্য থেকে চিকিৎসক কুণাল সরকার?
আকাশ মিশ্র


ভাষা শুধু মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যম নয়, একটি জাতির আত্মপরিচয় ও অধিকারের ভিত্তি। বহু বছর ধরে বাঙালির আক্ষেপ ছিল, বাংলা কেবল সাহিত্য, গান, আবেগ ও উদযাপনের ভেতরেই বন্দি—প্রশাসনের রুক্ষ দরবারে তার প্রবেশাধিকার সীমিত। সম্প্রতি কলকাতার বুকে দেশের প্রথম শব্দ জাদুঘর ‘মিউজিয়াম অফ ওয়ার্ড’ (Museum of Word)-এর উদ্বোধনী মঞ্চে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন চর্চার জন্ম দেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে লেখা এক বিশেষ চিঠিতে তিনি পরামর্শ দেন, জনজীবন ও প্রশাসনিক স্তরে মাতৃভাষার প্রয়োগ বহু গুণে বাড়াতে হবে। সেই বার্তার পরই বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত— ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যের সমস্ত প্রশাসনিক কাজ, কেন্দ্র-রাজ্যের পারস্পরিক চিঠিপত্র এমনকী, পুলিশের কাছে এফআইআর (FIR)-ও করা যাবে বাংলা ভাষায়।


প্রশাসনিক ক্ষেত্রে মাতৃভাষাকে এই প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পদক্ষেপকে একবাক্যে স্বাগত জানিয়েছেন বাংলার বিশিষ্টজনরা। Tv9Bangla-কে তাঁরা নিজেদের প্রতিক্রিয়াও জানিয়েছেন। তবে পাশাপাশি উঠেছে এর বাস্তব রূপায়ণ সংক্রান্ত নানা প্রশ্ন ও গঠনমূলক আলোচনা। সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে বলেন, “এটি দারুণ সিদ্ধান্ত। বাংলা ভাষাকে একটি বিশেষ মর্যাদার আসনে বসানো হল। বাঙালি হিসেবে আমি খুবই সন্তুষ্ট ও গর্বিত। বাঙালির জন্য এটি অত্যন্ত আনন্দের খবর।”


হাতছাড়া একের পর এক পঞ্চায়েত, অনাস্থা ভোটে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সদস্যদের সমর্থনে বাজিমাত বিজেপির
ছোটপর্দায় ফিরছেন দিতিপ্রিয়া, কোথায় দেখা যাবে তাঁকে?
ভাষার অস্তিত্ব যে দৈনন্দিন ব্যবহারের ওপরই নির্ভর করে, তা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক, সঙ্গীতশিল্পী ও পরিচালক অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়। সরকারের নির্দেশকে সাধুবাদ জানিয়ে তাঁর বক্তব্য, “বাংলা ভাষা এতদিন মূলত আবেগ, সাহিত্য ও সঙ্গীতের ভাষাতেই সীমিত ছিল। কিন্তু কাজের জায়গায় যদি একে নিত্যসঙ্গী না করি, তবে এই ভাষা সেভাবে বেঁচে থাকবে না। কাজের মধ্য দিয়েই ভাষা বাঁচে। আচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ও বলেছিলেন যে, শুধু কাজ চালানোর মতো ইংরেজি জেনে আমরা যদি মাতৃভাষাকে অবহেলা করি, তবে তা অচিরেই মরে যাবে। আজ যেভাবে কাজ চালানোর জন্য ভাষাকে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে, তা নিয়মিত পালন করা গেলে বাংলা আবার মাথা তুলে দাঁড়াবে।”


তবে আবেগের জোয়ারে ভেসে না গিয়ে এই নতুন নিয়ম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন শিক্ষাবিদরা। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানালেও কিছু প্রাতিষ্ঠানিক সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাঁর মতে, “সিদ্ধান্তটি প্রশংসাযোগ্য হলেও সবাই এতে কতটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন, তা ভাবার বিষয়। আমলাদের কঠিন বাংলা সাধারণ মানুষ বুঝতে পারবেন কি না, কিংবা সঠিক বানানের চর্চা সবার আছে কি না—সে বিষয়ে ভাবা দরকার। তাই নিয়মটি কার্যকর করার আগে সরকারের উচিত কর্মীদের জন্য বিশেষ ওয়ার্কশপ বা প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা, যাতে ব্যবহারযোগ্য ভাষার রূপটি স্পষ্ট হয়।”

একই সুর শোনা গিয়েছে, প্রখ্যাত চিকিৎসক ও সমাজবীদ কুণাল সরকারের গলায়। প্রশাসনিক ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ও জটিল কাগজপত্রের প্রয়োগের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বিষয়টির বাস্তব রূপায়ণের দিকে জোর দিয়েছেন। ড. কুণাল সরকার বলেন, “ইচ্ছা বা আবেগ খুব ভালো হলেও বর্তমানে বেশিরভাগ কাজই স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার ও কম্পিউটারের মাধ্যমে হয়। আগামী এক বা দুই বছরের মধ্যে টেন্ডার, বিল সাবমিশন, দরখাস্ত বা আইনি বিষয়গুলো কীভাবে বাংলায় রূপান্তর করা হবে, তার জন্য একটি স্পষ্ট এবং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা লাগবে। বিগত বছরগুলোতেও আমরা অনেক প্রতিশ্রুতি দেখেছি, কিন্তু পরিকল্পনার অভাবে তা কথার মধ্যেই থেকে গিয়েছে। তাই এই সদইচ্ছা বাস্তবে রূপ দিতে চিন্তাভাবনা করে এগোতে হবে।” অন্যদিকে সাহিত্যিক তিলোত্তমা মজুমদার জানান, ”এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি। ভাষাকে সচল রাখতে গেলে, তাকে নানা কাজের মধ্যে দিয়ে প্রসারিত করতে হবে। বাংলা ভাষায় জ্ঞান অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রজন্মের কাছে নতুন কাজের এই ভাষার ব্যবহার হলে, তা বাংলা ভাষার মুখই আরও উজ্জ্বল হবে।”

জনগণের ভাষায় যদি সরকারের কাজকর্ম পরিচালিত হয়, তবে প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সাধারণ মানুষের দূরত্ব অনেকটাই ঘুচে যায়। ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হতে চলা এই সিদ্ধান্তের সফলতা নির্ভর করবে সঠিক পরিকাঠামো গঠন, আমলাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত সমন্বয়ের ওপর। তবে সব জটিলতা পেরিয়ে এটি যে বাংলা ভাষার ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

তিনি বলেন, "৪৪ জনকে ডেকেছিল কমিশন। এর মধ্যে উল্লেখ যোগ্য নাম, বুবুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, মণীশ গুপ্ত,তুষার তালুকদার, রাজকুমার, সোমেন মিত্র প্রভাস ঘোষ,বিমান বোস, পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায়, মদন মিত্র,অনিন্দ্য জানা অমিত ধর, প্রদীপ ভট্টাচার্য, তপন শিকদার, শোভনদেব, সৌগত রায়, অমিত ধর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডাকার প্রয়োজন মনে করেনি কমিশন।"


সাক্ষ্য দিতে গিয়েছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, মমতা যাননি: শুভেন্দু
বিধানসভায় শুভেন্দু অধিকারী



মঙ্গলবার একুশে জুলাই। তার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে তৈরি একুশে জুলাই কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ। পনেরো বছর রিপোর্ট প্রকাশ করেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলে অভিযোগ। এবার বিধানসভায় সেইটাই জনসমক্ষে আনলেন শুভেন্দু।


এক নজরে সবটা


রণবীর রাম, সাই পল্লবী সীতা, নীতিশের রামায়ণে কোন চরিত্রে কোন তারকা? দেখে নিন পুরো তালিকা
ছোটপর্দায় ফিরছেন দিতিপ্রিয়া, কোথায় দেখা যাবে তাঁকে?
শুভেন্দু অধিকারী: আমাদের কাছে আরও তথ্য আছে প্রয়োজন মতো সেগুলো প্রকাশ করব, আমফানের ক্যাগ রিপোর্ট ও কোভিডের মেডিক্যাল রিপোর্ট সব আছে। যা যা ধ্বংস করেছেন সব রাজ্যের লোককে জানাব।
শুভেন্দু অধিকারী: রাইটার্স বিল্ডিং কীভাবে গুরুত্ব পূর্ণ নথি সংগ্রহ করতে পারছে না সেটা কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা রাজ্য সরকারের দায়িত্ব। তখন তৃণমূলের সরকার ছিল। ২) এর জন্য আইন সঙ্গত পদক্ষেপ করা উচিত। ৩)মৃত ভুক্তভোগীদের শহিদ হিসাবে গণ্য করা উচিত। ৪) যে ১২ জনকে ময়নাতদন্তের পর শহিদ হিসাবে চিহ্নিত করছে। মৃতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা আর আহতদের ৫ লক্ষ করে টাকা দেওয়ার সুপারিস করছে। তৃণমূল সরকার মৃতদের ২ লক্ষ টাকা ও আহতের ২৫ হাজার টাকা। লজ্জা করে না! এরপরও আপনারা এই সব করেন। আমি এই রিপোর্ট পেশ করে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে বলব আপনারা আবার নতুন করে FIR করতে চান, সেই সুযোগ দেবে। আপনারা যদি চান সেই ক্ষতিপূরণ আমি দেব। আর যাঁরা আপনাদের ব্যবহার করে মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী হলেন,বিদেশে গেলেন তাঁদের থেকে আপনারা দূরে থাকবেন।

শুভেন্দু অধিকারী: আইন অনুযায়ী তদন্ত হয়েছিল বলে কমিশন মনে করে না। নির্বাহী তদন্তের রিপোর্টের অনুপস্থিতি বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার আলোচনার বাইরে চলে গিয়েছে। ফলে পুলিশি গুলি চালানোর যথার্থতা প্রমাণিত হয় না। কার নির্দেশে গুলি চালানো হয়েছিল, তৎকালীন পুলিশ কমিশনার অস্বীকার করেছেন। তৎকালীন মুখ্য়নন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথ্য দেননি। একটাও নথি দেননি। কারণ ওঁর বিদ্যুৎ মন্ত্রী ফেঁসে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। সমস্ত সাক্ষ্য থেকে কমিশনে দেখেছে, মহাকরণ থেকে দূরে জনতা অবস্থান করছিল। গুলি চালানো প্রয়োজন ছিল না। মহাকরণ আক্রমণের আশঙ্কা কাল্পনীক। গুলি চালানোর ঘটনা মহাকরণ থেকে অনেক দূরে হয়েছে। গুলি চালানো ছিল উদ্দ্যেশ্য বিহীন , বিনা প্ররোচনায়। রয়টার্স দখলের কথা ছিল কাল্পনিক।
শুভেন্দু অধিকারী: ৪৪ জনকে ডেকেছিল কমিশন। এর মধ্যে উল্লেখ যোগ্য নাম, বুবুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, মণীশ গুপ্ত,তুষার তালুকদার, রাজকুমার, সোমেন মিত্র প্রভাস ঘোষ,বিমান বোস, পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায়, মদন মিত্র,অনিন্দ্য জানা অমিত ধর, প্রদীপ ভট্টাচার্য, তপন শিকদার, শোভনদেব, সৌগত রায়, অমিত ধর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডাকার প্রয়োজন মনে করেনি কমিশন। হয়ত আলাদা করে বলেছিলেন। তৎকালীন পুলিশ কমিশনারেরও সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল। সবাই উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষী দিতে যাব না বলেছিলেন পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনি বলেন, "বিগত তৃণমূল সরকার একুশে জুলাইয়ের কমিটি গড়েছিল। এই কমিশনের যে তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, আইন অনুযায়ী যথাযথ তদন্ত, নির্বাহী তদন্তের রিপোর্টের অনুপস্থিতি বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার আলোচনার বাইরে চলে গিয়েছে। ফলে পুলিশি গুলি চালানোর যথার্থতা প্রমাণিত হয় না। মহাকরণ থেকে কেন নথি পাওয়া যাচ্ছে না সেই প্রশ্ন করে কমিশন।" তিনি নাম না করে শুভেন্দুর অভিযোগ, "তখন কার মুখ্যমন্ত্রী তথ্য সরবরাহ করেননি। তিনি একটাও নথি দেননি। কারণ ওঁর বিদ্যুৎমন্ত্রী ফেঁসে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল।"


তখনকার মুখ্যমন্ত্রী তথ্য দেননি, ওঁর বিদ্যুৎমন্ত্রী ফেঁসে যেতে পারতেন',নাম না করে মমতা ও মণীশকে আক্রমণ শুভেন্দুর
বাঁদিকে পুরনো একুশে জুলাইয়ের ছবি, মাঝে মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, ডানদিকে মণীশ গুপ্ত
অবন্তিকা প্রামাণিক

মণীশ গুপ্ত, কয়েক দিন আগেই তৃণমূলের (TMC) সঙ্গে কোনও রকম সম্পর্ক রাখবেন না বলে দাবি করেছিলেন। সেই মণীশের নাম এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গলায়। একুশে জুলাইয়ের ঠিক আগে বিস্ফোরক অভিযোগ শুভেন্দু। বললেন, “মণীশ গুপ্তের নির্দেশেই গুলি চলেছিল।”


১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মহাকরণ অভিযান হয়। সেই অভিযান আটকাতে গুলি চালায় পুলিশ। ১৩ জন যুব কংগ্রেস নেতার মৃত্যুতে অভিযোগ ওঠে তৎকালীন বাম সরকারের বিরুদ্ধে। এরপর একটি কমিশন গঠিত হয়। ডাক পড়ে প্রাক্তন প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যেরও। এরপর পালাবদল। ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। তারপর থেকে তারা শহিদদের স্মৃতি স্মরণে পালন করে একুশে জুলাই। তবে, আজ বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বললেন, তৎকালীন বাম আমলের স্বরাষ্ট্রসচিব তথা তৃণমূল আমলের প্রাক্তন বিদ্যুৎ মন্ত্রী মণীশ গুপ্তের নির্দেশেই চলেছিল গুলি।


 ১০ মিনিটের বৈঠকে 'ককরোচ জনতা পার্টি'কে আশ্বাস দিলেন জে পি নাড্ডা
শুভেন্দু কী বললেন?


তিনি বলেন, “বিগত তৃণমূল সরকার একুশে জুলাইয়ের কমিটি গড়েছিল। এই কমিশনের যে তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, আইন অনুযায়ী যথাযথ তদন্ত, নির্বাহী তদন্তের রিপোর্টের অনুপস্থিতি বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার আলোচনার বাইরে চলে গিয়েছে। ফলে পুলিশি গুলি চালানোর যথার্থতা প্রমাণিত হয় না। মহাকরণ থেকে কেন নথি পাওয়া যাচ্ছে না সেই প্রশ্ন করে কমিশন।” তিনি নাম না করে শুভেন্দুর অভিযোগ, “তখন কার মুখ্যমন্ত্রী তথ্য সরবরাহ করেননি। তিনি একটাও নথি দেননি। কারণ ওঁর বিদ্যুৎমন্ত্রী ফেঁসে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল।”

শুভেন্দু এও বলেন, “সমস্ত সাক্ষ্য থেকে কমিশনে দেখেছে, মহাকরণ থেকে দূরে জনতা অবস্থান করছিল। গুলি চালানো প্রয়োজন ছিল না। মহাকরণ আক্রমণের আশঙ্কা কাল্পনীক। গুলি চালানোর ঘটনা মহাকরণ থেকে অনেক দূরে হয়েছে। গুলি চালানো ছিল উদ্দ্যেশ্য বিহীন , বিনা প্ররোচনায়। রয়টার্স দখলের কথা ছিল কাল্পনিক।”

সরকারি পরিষেবা আরও সহজ, দ্রুত ও নির্ভুল করার লক্ষ্যে সাগর ব্লকে অনলাইন পরিষেবা কেন্দ্রের অপারেটরদের নিয়ে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবির অনুষ্ঠিত হলো। সাগর গ্রামীণ হাসপাতালের কমিউনিটি হলে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। 



এদিনের এই গুরুত্বপূর্ণ শিবিরে উপস্থিত ছিলেন সাগর ব্লকের বিডিও কানাইয়া কুমার রাও সহ প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানে প্রধানত জোর দেওয়া হয় যাতে সাধারণ মানুষ কোনোভাবেই সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হন এবং কোনো রকম হয়রানির (হ্যারাসমেন্ট) শিকার না হন। 



অপারেটরদের আরও দায়িত্বশীল ও নির্ভুলভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এই শিবিরে।

পবিত্র অমাবস্যা তিথিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই কাসর, ঘণ্টা, শঙ্খধ্বনি ও ঢাকের বাদ্যে মুখর হয়ে ওঠে গোটা মন্দির প্রাঙ্গণ। দূরদূরান্ত থেকে আসা শত শত ভক্ত ও দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে সেখানে এক গভীর উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।


কঠোর নিষ্ঠা ও নিয়মকানুনের মধ্য দিয়ে এদিন দেবীর আরাধনা সম্পন্ন হয়। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, পুণ্যার্থীদের পূজা-অর্চনা, ধূপ-ধুনোর গন্ধ এবং মনোমুগ্ধকর আরতিতে মুখরিত ছিল পুরো চত্বর। ভক্তরা লাইনে দাঁড়িয়ে পুজো দিয়ে নিজেদের মনস্কামনা পূর্ণ করার প্রার্থনা জানান। মন্দির কমিটির পক্ষ থেকেও আগত পুণ্যার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।


স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বিগত কিছুদিনের মধ্যে এই মন্দিরটি দক্ষিণ ২৪ পরগনা তথা সংলগ্ন অঞ্চলের সনাতনী ধর্মাবলম্বী মানুষের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় আস্থার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এই বিশেষ পুজোকে কেন্দ্র করে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

গোটা অনুষ্ঠান নিয়ে সেখানে যেমন বিশদে লিখলেন তেমনই তুলে আনলেন বিজেপির প্রসঙ্গ। ফেসবুক পোস্টে তসলিমা লিখছেন, “আমাকে কলকাতায় আমন্ত্রণ জানিয়েছে ‘সেকুলার মিশন’ নামে একটি সংগঠন। সংগঠনটির কর্ণধার একজন প্রগতিশীল মুসলমান—ওসমান গণি মল্লিক। আমাকে কি বিজেপি কলকাতায় নিয়ে যাচ্ছে? না।”


আমার কলকাতায় যাওয়া নিয়ে এই মিথ্যা প্রচার কেন?’... সিপিএমের তুলোধনা করে কেন এ কথা বললেন তসলিমা?
কী বলছেন তসলিমা?


বদলের বাংলায় বছর কুড়ি পর তিনি ফিরছেন। খবরটা সামনে আসতেই একেবারে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক আঙিনায়। শোরগোল নাগরিক মহলেও। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১ অগস্ট রবীন্দ্র সদনে শোনা যাবে তসলিমার কন্ঠস্বর। অনুষ্ঠানে থাকার কথা খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীরও। তাঁকে ফেরানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছেন বিশিষ্টরা। এর আগে তাঁকে ফেরানোর পক্ষে লাগাতার জোরালো সওয়াল করতে দেখা গিয়েছে বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে। উপযুক্ত নিরাপত্তা দিয়ে কলকাতা ফেরানোর দাবি জানিয়ে সাংসদে সওয়ালও করেছিলেন। শমীককে ধন্যবাদও জানিয়েছিলেন তসলিমা। কিন্তু এবার তাঁর ফেরা নিশ্চিত হতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় জোর চাপানউতোর। চর্চা-তরজার মাঝেই এল তসলিমার নতুন পোস্ট। 


গোটা অনুষ্ঠান নিয়ে সেখানে যেমন বিশদে লিখলেন তেমনই তুলে আনলেন বিজেপির প্রসঙ্গ। ফেসবুক পোস্টে তসলিমা লিখছেন, “আমাকে কলকাতায় আমন্ত্রণ জানিয়েছে ‘সেকুলার মিশন’ নামে একটি সংগঠন। সংগঠনটির কর্ণধার একজন প্রগতিশীল মুসলমান—ওসমান গণি মল্লিক। আমাকে কি বিজেপি কলকাতায় নিয়ে যাচ্ছে? না। আমাকে কি পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিয়ে যাচ্ছে? না। সরকার শুধু আমার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করছে। আমি যে রাজ্যেই যাই, সেখানে যে রাজনৈতিক দলেরই সরকার থাকুক না কেন, সেই সরকারই আমার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে। এটাই স্বাভাবিক প্রশাসনিক দায়িত্ব।” পোস্ট দেখে ওয়াকিবহাল মহলের অনেকেই বলছেন, আসলে তাঁর ফেরা নিয়ে রাজনীতির আঙিনায় যে সলতে পাকানো শুরু হয়েছিল তাতেই জল ঢালতে চাইলেন তসলিমা। যদিও সেই আগুন নিভল কিনা তা সময়ই বলবে। 


আগে আমি নিজেই দাঁড়িয়ে থেকে শাস্তি দিয়েছিলাম, আমি ভুলে যাব আমার মা বেঁচে আছে', সিআইডি-র হাতে মা গ্রেফতার হতেই মুখ খুললেন মেয়ে
অনেকের মতে, তসলিমা নাসরিনের আগমনে মুক্ত কণ্ঠের পাশাপাশি, উন্মুক্ত হচ্ছে রাজনীতির আরেকটা দরজাও। বাংলাদেশে উগ্র মৌলবাদ বিরোধী ও হিন্দু নিধন নিয়ে, ভোট প্রচারে সরব হয়েছিল বিজেপি। বাঙালির আবেগে এই দুই ঘটনাই ছাপ ফেলেছে বলে মনে করে বিজেপি। তাই তসলিমার পশ্চিমবঙ্গে থাকা মানে, বাঙালি তথা ভোটারের মনেও, উগ্র মৌলবাদ ও হিন্দু সহানুভূতি থেকে যাওয়া। যা ভবিষ্যতে বিরোধী রাজনীতির ছন্দপতনে বিজেপিকে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন রাজনীতির কারবারিদের অনেকে। তসলিমা যদিও বামেদের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে লিখছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের কিছু বাম নেতা আমাকে দোষ দিচ্ছেন—আমি কেন কলকাতায় যাচ্ছি! তাঁরা আমাকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাড়িয়েছিলেন; এখন আমি সেই রাজ্যে পা রাখলেই নাকি হিন্দুত্ববাদী হয়ে যাব, বিজেপি-আরএসএস হয়ে যাব!’ এরপরই তাঁর সংযোজন, ‘আমার কলকাতায় যাওয়া নিয়ে এই মিথ্যা প্রচার কেন? ১৮ বছর ৮ মাস ১০ দিন পর মাত্র দু’দিনের জন্য কলকাতায় যাচ্ছি—তাতেই তাঁদের গায়ে জ্বালা ধরছে!’

একইসঙ্গে এদিন সমবায় সংক্রান্ত পরিষেবা সহজভাবে প্রদানের জন্য নতুন পোর্টালের সূচনা হল অমিত শাহের মাধ্যমে। একইসঙ্গে বিজেপির নতুন সরকার যেভাবে কাজ করছে তারও উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন অমিত শাহ। তাঁর সাফ কথা, “দুর্নীতি ও অপরাধীদের তৃণমূল সরকারকে বিদায় দিয়েছে বঙ্গবাসী।”

এবার চালকরাই হবেন মালিক, ভারত ট্যাক্সি প্রকল্পে জুড়ছে পশ্চিমবঙ্গ! ঘোষণা শাহের
বড় ঘোষণা অমিত শাহের

ভারত ট্যাক্সি প্রকল্পে জুড়ছেন পশ্চিমবঙ্গের চালকরা। এই প্রকল্পে এবার চালকরাই মালিক হবেন। ট্যাক্সি চালকদের জন্য বড় ঘোষণা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর। কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা করেন তিনি। সেখানেই ড্রাইভাররা এখন থেকে কীভাবে গাড়ির মালিক হতে পারেন সেই উপায়ও বাতলে দেন। 


নিউটাউনের ওই অনুষ্ঠান থেকে শাহ বলেন, “আমরা ট্যাক্সি ড্রাইভারদের জায়গায় সারথীর ভাবনা নিয়ে এসেছি। সারথীকেই কোম্পানির মালিক বানিয়ে কোঅপারেটিভ ভারত ট্য়াক্সি চালু হয়েছে। বাংলায় যে ট্যাক্সি চলে তার সঙ্গে ভারত ট্যাক্সি জুড়ে যাচ্ছে। আজ এর মউ সাক্ষর হয়েছে বাংলার সরকারের সঙ্গে। কোনও সারথীকে আর ড্রাইভার হতে হবে না। তিনি যেমন গাড়ির মালিক হবেন, তেমনই ভারত ট্যাক্সি কোম্পানিরও মালিক হবেন।”  



শরীরে বাসা বেঁধেছে কোনও বড় অসুখ? কিছু লুকোচ্ছেন সলমন?
একইসঙ্গে এদিন সমবায় সংক্রান্ত পরিষেবা সহজভাবে প্রদানের জন্য নতুন পোর্টালের সূচনা হল অমিত শাহের মাধ্যমে। একইসঙ্গে বিজেপির নতুন সরকার যেভাবে কাজ করছে তারও উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন অমিত শাহ। তাঁর সাফ কথা, “দুর্নীতি ও অপরাধীদের তৃণমূল সরকারকে বিদায় দিয়েছে বঙ্গবাসী। এবার বিজেপি সোনার বাংলার স্বপ্ন পূরণ করবে। আগামীতে শিক্ষিত, সুরক্ষিত, সমৃদ্ধ বাংলা গড়বে বিজেপি। অনুপ্রবেশ মুক্ত বাংলা গড়তে, আইন-শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে অনেক পদক্ষেপ এই সরকার দ্রুত নিচ্ছে। শুভেন্দুজির গতি আমি দেখেছি। বাংলার উঠে দাঁড়াতে আর সময় লাগবে না।” 

 পূর্বতন সিপিএম ও তৃণমূল সরকারকে নিশানা করে অমিত শাহ বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি বিচারধারায় প্রভাবিত কমিউনিস্ট সরকারের অধীনে ছিল বাংলা। তাদের থেকে মুক্ত হওয়ার পর বিচারধারাহীন, দুর্নীতিগ্রস্ত এবং ক্রিমিনাল তৃণমূল সরকারের জালে ফাঁসে। তার ফলে সোনার বাংলার স্বপ্ন নষ্ট হয়ে যায়।"

শুভেন্দুজির গতি দেখেছি, বাংলার ঘুরে দাঁড়াতে সময় লাগবে না', বলে দিলেন শাহ
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ


 বাংলায় প্রথমবার ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। সরকার গঠনের ২ মাসের মধ্যেই একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুভেন্দু-সরকার। রাজ্যে শিল্পের খরা কাটাতে উদ্যোগী হয়েছে। এই নিয়ে এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রবিবার নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বললেন, “শুভেন্দু অধিকারীর গতি দেখে মনে হচ্ছে বাংলার ঘুরে দাঁড়াতে বেশি সময় লাগবে না।”


হাওড়ার সাঁকরাইল ফুড পার্কে কারখানা করছে আমূল। নাম আমূল বাংলা ডেয়ারি। এদিন বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টার থেকে ওই কারখানার ভূমি পুজো অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন শাহ। আর সেখানেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দুর প্রশংসা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।


সময় চাই', অভিষেকের অফিস ভাঙার মামলায় বলল রাজ্য, শুনানি শুরুই হল না এখনও
গোপন নথি রাখতেই অভিষেকের আমতলার কার্যালয়ে ডিজিটাল লক? স্থানীয় বাসিন্দারা বললেন...
কী বললেন অমিত শাহ?


মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এই দু’মাসে শুভেন্দুর কাজের প্রশংসা করে শাহ বলেন, “আমি শুভেন্দুজির গতি দেখেছি। বাংলার ঘুরে দাঁড়াতে সময় লাগবে না। দেখতে দেখতে বাংলা ঘুরে দাঁড়াবে। এর জন্যই আমরা ২০১৬ সাল থেকে লড়াই করছি।”

পূর্বতন সিপিএম ও তৃণমূল সরকারকে নিশানা করে শাহ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি বিচারধারায় প্রভাবিত কমিউনিস্ট সরকারের অধীনে ছিল বাংলা। তাদের থেকে মুক্ত হওয়ার পর বিচারধারাহীন, দুর্নীতিগ্রস্ত এবং ক্রিমিনাল তৃণমূল সরকারের জালে ফাঁসে। তার ফলে সোনার বাংলার স্বপ্ন নষ্ট হয়ে যায়।” এবার বাংলা ঘুরে দাঁড়াবে জানিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আজ বাংলায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় দই প্ল্যান্ট হচ্ছে। গোটা দেশে এখান থেকে দই যাবে। সবাই বাংলাকে আশীর্বাদ করবে।” বিজেপি সোনার বাংলার স্বপ্ন পূরণের কাজ করবে বলে জানান শাহ।

অন্যদিকে, বাংলায় আমূলের বিনিয়োগ নিয়ে আগের তৃণমূল সরকারকে নিশানা করে শুভেন্দু বলেন, “যারা বলেছিল গুজরাট হতে দেব না। তারা আজ বাড়িতে বসে দেখছে, আমূল পশ্চিমবঙ্গে ৭০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ করছে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জন্য।”

পুণ্যস্নানের ভূমি গঙ্গাসাগর এবার সাক্ষী রইল এক অনন্য ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক নবজাগরণের। মহামুনি কপিলের স্মৃতিবিজড়িত সাগরদ্বীপের পুরুষোত্তমপুর এলাকায় নাগ সরোবর সংলগ্ন স্থানে রবিবার এক সাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভগবান আদিনাথ, ভগবান পদ্মপ্রভু এবং ভগবান মল্লিনাথের শ্বেত মার্বেল নির্মিত বিগ্রহ সুপ্রতিষ্ঠিত হলো।


এই মহতী আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মানুষ, যা গঙ্গাসাগরের বুকে এক অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আবহ তৈরি করেছে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাগরদ্বীপের গর্ব, বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক শ্রী মৃণাল কান্তি দে। উপস্থিত ছিলেন জৈন সমাজের প্রথিতযশা পন্ডিত, গবেষকবৃন্দ এবং পৌন্ড্র জৈন ঐতিহাসিক সম্পর্কের গবেষক ও জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক ড. অরূপ কুমার হালদার (ভান্ত জিননাথ)।

উল্লেখ্য যে, এই সমগ্র প্রচেষ্টার নেপথ্যে রয়েছে শ্রী ভারতবর্ষীয় দিগম্বর জৈন (তীর্থ সংরক্ষনী) মহাসভার সর্বভারতীয় মুখ্য অধিকর্তা শ্রদ্ধেয় শ্রী রাজ কুমার শেঠী (জৈন) এবং ঐতিহাসিক পৌন্ড্র জৈন রিলেশন পুনরুদ্ধার সমিতির পশ্চিমবঙ্গ শাখার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব। এছাড়াও, এই আধ্যাত্মিক পরিকাঠামো নির্মাণে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন বিশিষ্ট সমাজসেবী ও ‘মৈত্রী মেডিক্যাল সেন্টারে’র প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ নির্মল কুমার মণ্ডল। ইতিমধ্যেই নাগ সরোবরের এই প্রাঙ্গণে ১১ ফুট উচ্চতা ও ৩ টন ওজনের কষ্টিপাথরের ২৩তম তীর্থঙ্কর ভগবান পরেশনাথের সুবিশাল জীন প্রতিবিম্ব স্থাপিত হয়েছে। আগামী ডিসেম্বর মাসে এই তীর্থক্ষেত্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকে ঘিরে সাজ সাজ রব পড়ে গিয়েছে গঙ্গাসাগরজুড়ে। ধর্মীয় পর্যটনের মানচিত্রে এটি এক নতুন অধ্যায় হিসেবে সংযোজিত হতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

 আমতলায় অফিসে (Amtala Party Office Bulldozer) বুলডোজ়ার-কাণ্ডে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। রবিবার ছুটির দিন জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন করেন। প্রথমে ১২টায় শুনানি শুরুর কথা থাকলেও রাজ্যের আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় নির্ধারিত সময়ে শুনানি করা যায়নি। পরে দেড়টা নাগাদ ফের শুনানি শুরু হয় বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর এজলাসে।


পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন পদক্ষেপ নয়, অভিষেকের আমতলার অফিস ভাঙায় স্থগিতাদেশ কলকাতা হাইকোর্টের
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমতলার পার্টি অফিস ভাঙার উপর স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন করে পদক্ষেপ করা যাবে না। এমনই নির্দেশ দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর। শনিবার আমতলার অফিসে (Amtala Party Office Bulldozer) বুলডোজ়ার-কাণ্ডে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। রবিবার ছুটির দিনই জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী। প্রথমে ১২টায় শুনানি শুরুর কথা থাকলেও রাজ্যের আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় নির্ধারিত সময়ে শুনানি করা যায়নি। পরে দেড়টা নাগাদ ফের শুনানি শুরু হয় বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর এজলাসে। এরপরই অভিষেকের অফিস ভাঙায় আপাতত স্থগিতাদেশ দেয় আদালত।


আমতলার অফিস নিয়ে অভিযোগ
আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পার্টি অফিস বেআইনিভাবে তৈরি করা হয়েছে বলে বারবার অভিযোগ উঠেছে। রাজ্যে পালাবদলের আগেই সুশান্ত মণ্ডল নামে জনৈক এক ব্যক্তি জেলা পরিষদে অভিযোগ করেন। নকশা ছাড়া এই পাঁচতলা ভবন তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৩০ জুন দক্ষিণ ২৪ পরগনা প্রশাসনের তরফে নোটিস পাঠানো হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা তথা লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের ডিরেক্টর অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই সম্পত্তিও লিপ্‌স অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে রয়েছে। নোটিস পাঠানো হয় সুশান্ত মণ্ডল এবং মতিউর রহমান মল্লিককেও। ১৫ জুলাই দুপুর ২টোর সময় হাজির হতে বলা হয়েছিল অভিযোগকারী এবং অভিযুক্ত সব পক্ষকেই। কিন্তু, নোটিসের নির্দেশ মেনে হাজিরা দেননি অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়।


'স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেছে', মহিলার অভিযোগ শুনেই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, 'এখনই অ্যারেস্ট করুন'

বললে ৭ দিনের মধ্যেই কাজ শুরু...',পুজোর আগেই এক যুগেরও বেশি অপেক্ষার অবসান, রাজ্যে বিপুল কর্মসংস্থান
এরপর অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়কে আরও একটি নোটিস দেওয়া হয় জেলা প্রশাসনের তরফে। সেখানে বলা হয়, কার্যালয় ভেঙে ফেলা হবে। সেই মতো শনিবার সকাল থেকেই বুলডোজার দিয়ে অভিষেকের পাঁচতলা অফিস ভাঙার কাজ শুরু হয়। শাবল দিয়ে ডিজিটাল লকার ভেঙে ফেলা হয়। আবার রবিবার সকালে ফের অভিষেকের অফিসের সামনে পৌঁছে যায় বুলডোজার। একে একে বের করা আনা হয় খাট, বালিশ ও ত্রাণসামগ্রী।


আদালতে মামলা
শনিবার অফিস ভাঙার পরই রবিবার জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন করেন অভিষেকের আইনজীবী। লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের তরফে মামলা করা হয়। বেলা ১২টা নাগাদ বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর এজলাসে শুনানি স্থির হয়। কিন্তু, সময়ে শুনানি শুরু করা যায়নি। রাজ্যের কোনও আইনজীবী প্রথমে উপস্থিত না থাকায় শুনানি শুরু করা যায়নি। বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী জানান, রাজ্যকে আরেকবার নোটিস জারি করা হোক। এর আগে মামলার শুনানির বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি। কিছু ক্ষণ আগে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় রাজ্যকে আরেক বার মামলার কপি দেওয়া হোক। রাজ্যের বক্তব্য ছাড়া শুনানি সম্ভব নয়।

এরপরই রাজ্যের আইনজীবী নীলাঞ্জন ভট্টাচার্য ভার্চুয়াল মাধ্যমে উপস্থিত হন। তিনি জানান, মামলায় সওয়াল করার জন্য সময় দেওয়া হোক। জেলাশাসকের কাছে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে হবে। বিচারপতি জানান, দুপুর দেড়টায় আবার এজলাস বসবে। ওই সময় শুনানি হবে।

শুনানিতে কী কী হল?
লিপস্ অ্যান্ড বাউন্ডসের আইনজীবী কিশোর দত্ত : গতকাল থেকে ভাঙচুরের কাজ চলছে। পঞ্চায়েত আইন অনুযায়ী শুনানির নোটিস দেওয়া হয়েছিল। ওই ভবনের মালিককে শুনানির জন্য কোনও নোটিস দেওয়া হয়নি। কোম্পানির ডিরেক্টরকে নোটিস দেওয়া হয়েছিল।

সুশান্ত মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন। তার ভিত্তিতেই জেলা পরিষদ ভাঙার কাজ শুরু হয়। ১৫ জুলাই শুনানির দিন ধার্য ছিল। গত ৮ জুলাই শুনানির জন্য নোটিস পৌঁছয়। মাত্র সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল। কোনও নির্মাণ ভাঙার ক্ষেত্রে মালিককে শুনানির নোটিস দেওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে মালিকের পরিবর্তে ডিরেক্টরকে দেওয়া হয়েছিল। যুক্তিসঙ্গত সময় দেওয়া উচিত ছিল। সেই সময় দেওয়া হয়নি।

নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও শুনানি হয়নি। অভিযোগে কী কী ছিল সেই কপি দেওয়া হয়নি। এমনকি ভাঙার অর্ডার কপি আমাকে দেওয়া হয়নি। কোনও নির্মাণ বেআইনি হলে প্রথমে আমাকে ভাঙার সুযোগ দেওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে তা দেওয়া হয়নি। আইনে উল্লিখিত কোনও কিছু মানা হয়নি। সাধারণ মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে।

অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র: হঠাৎ করে শুনানি হওয়ার কারণে কোনও নির্দেশ আনার সুযোগ পাওয়া যায়নি। গত ১৩ জুন জানানো হয়েছিল কোন আইনের ভিত্তিতে ভাঙা হচ্ছে। ওই নির্মাণের কোনও অনুমোদন ছিল না। সম্পূর্ণ বেআইনি নির্মাণ। এ ভাবে চললে বেআইনি নির্মাণকে উৎসাহিত করা হবে। ছুটির দিনে কোর্ট বসিয়ে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ পাওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।

বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী: দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা পরিষদের নোটিস জমির মালিক জানতেন কি? মামলাটি রেগুলার বেঞ্চে না ওঠা পর্যন্ত আপনাদের থেমে থাকা উচিত নয় কি?

জেলা পরিষদের কাছে বিচারপতি: ভাঙার কোনও নির্দেশের কপি কি দেওয়া হয়েছিল?

জেলা পরিষদের আইনজীবী তাপস মণ্ডল: নির্মাণ পরিদর্শনের রিপোর্ট রয়েছে। যাচাই করে দেখা গিয়েছে ৬.৫ মিটার বেশি উঁচু নির্মাণ ছিল। ওই নির্মাণের ক্ষেত্রে জেলা পরিষদের অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু সেখান থেকে কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি।

কিশোর দত্ত: আমাকে সময় দেওয়া উচিত ছিল ভাঙার জন্য। সেই সময়ের মধ্যে না ভাঙলে আমাকে জরিমানা করে পদক্ষেপ করতে পারত। এখনও ভাঙা চলছে। শনিবার ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। এত তাড়াহুড়োর কী ছিল?

আইনজীবী তাপস মণ্ডল: দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা পরিষদের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার সেখানে অনুসন্ধান করেছেন। সেখানে ডায়মন্ড হারবারের এমপি অফিস রয়েছে। ওই ভবনের কোনও অনুমোদন নেই বলে গত ২৫ জুন তিনি রিপোর্ট দেন। এক্সিকিউটিভ অফিসারের রিপোর্টের ভিত্তিতে হিয়ারিং অফিসার পদক্ষেপ করেন। ওই ভবন ভাঙার নির্দেশ দেন।

এরপর আমতলার অফিস ভাঙার উপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত জানায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেখানে নতুন করে কিছু করা যাবে না। অর্থাৎ, এখন যা অবস্থায় রয়েছে সেটিই বহাল থাকবে। আদালতের নির্দেশের পরই আমতলার অফিস ভাঙার কাজ বন্ধ হয়ে যায়। মামলার তৃণমূলের আবেদন ছিল, ওই ভবন থেকে কিছু জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়ে গিয়েছে পুলিশ। তাঁরা সেখানে লুটপাট চালিয়েছে। যে সব জিনিস নিয়ে যাওয়া হয়েছে সেগুলি ফেরত দেওয়ার আবেদন করা হয়। কিন্তু, আদালত তৃণমূলের ওই আবেদন নাকচ করে দেয়। বিচারপতি জানান, আপাতত পুলিশের ওই পদক্ষেপে কোনও হস্তক্ষেপ করবে না হাইকোর্ট।

 তাঁদের একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে শহিদদের পরিবারগুলি থাকবে কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে ফিরহাদ বলেন, "আমরা আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আশা করি, সবাই আসবেন। সেদিন আমরা যারা শহিদ হতে পারতাম, তাদের বেশিরভাগ মানুষই ওইদিন এখানে থাকব। যতদিন বেঁচে থাকব, একুশে জুলাই শহিদ তর্পণ করে যাব।"


মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মিস করবেন? প্রশ্ন শুনেই দুটো শব্দ বললেন ফিরহাদ
কী বললেন ফিরহাদ হাকিম?

তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সঙ্গী। প্রতি বছর একুশে জুলাই তৃণমূলের শহিদ দিবসের মঞ্চে মমতার আশপাশে দেখা যেত তাঁকে। যেত, কারণ এবার আর দু’জনকে একুশে জুলাইয়ের এক মঞ্চে দেখা যাবে না। মমতা থাকবেন বিড়লা তারামণ্ডলের মঞ্চে। আর তিনি থাকবেন গান্ধী মূর্তির সামনে মঞ্চে। মমতাকে কি একুশের জুলাইয়ের মঞ্চে মিস করবেন? রবিবার গান্ধী মূর্তির সামনে মঞ্চ পরিদর্শনে এসে এই প্রশ্নের মুখে পড়লেন ফিরহাদ হাকিম। সরাসরি অবশ্য উত্তর দিলেন না কলকাতা বন্দরের বিধায়ক ফিরহাদ। শুধু দুটি শব্দ বললেন। 


কী বললেন ফিরহাদ হাকিম?


 'সমকামী সম্পর্ক সমাজের কী ভালো করছে?', বিস্ফোরক অনুরাধা পাড়োয়াল
ঋতব্রত শিবিরের চেয়ারম্যান অরূপ রায়ের সঙ্গে এদিন একুশে জুলাইয়ের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে গান্ধী মূর্তির সামনে এসেছিলেন ফিরহাদ। সেখানেই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের কথা তুলে ধরেন তিনি। ওইদিন যুব কংগ্রেসের ১৩ জন শহিদ হয়েছিলেন। তিনিও শহিদ হতে পারতেন জানিয়ে ফিরহাদ বলেন, “আর একটু এগিয়ে গেলে স্পোর্টস জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন রয়েছে। ওখানে আমিও হয়তো গুলি খেতে পারতাম। কেউ একজন ধাক্কা গিয়ে ভিতরে ঢুকিয়ে দেয়। আমার সামনে ২ জন পড়ে যান। আমাদের মিছিলটা মদনদার নেতৃত্বে এসেছিল।”


তাঁদের একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে শহিদদের পরিবারগুলি থাকবে কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে ফিরহাদ বলেন, “আমরা আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আশা করি, সবাই আসবেন। সেদিন আমরা যারা শহিদ হতে পারতাম, তাদের বেশিরভাগ মানুষই ওইদিন এখানে থাকব। যতদিন বেঁচে থাকব, একুশে জুলাই শহিদ তর্পণ করে যাব। একুশে জুলাই শহিদ পরিবাররা থাকবে, যারা শহিদদের পাশে দাঁড়িয়ে লড়াই করেছে, তারা থাকবে।”

একুশে জুলাইয়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে মমতার নাম। কিন্তু, এবার তাঁর সঙ্গে একমঞ্চে দেখা যাবে না ফিরহাদকে। কলকাতা বন্দরের বিধায়ককে প্রশ্ন করা হয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মিস করবেন এবার? প্রশ্ন শুনেই শুধু দুটো শব্দ বললেন। ‘মিটিংয়ে বলব।’ তারপরই মুখ ঘুরিয়ে চলে যান ফিরহাদ।

অন্যদিকে অরূপ রায় বলেন, “আমাদের একুশের জুলাইয়ের মঞ্চে সব শহিদ পরিবার আসবে। শহিদ পরিবারের লোকজনদের সামনের সারিতে বসানো হবে। তারপর নেতৃত্ব বসবে। আমরা কতটা বিজেপি বিরোধী, সেটা বক্তব্যের মাধ্যমে এবং কাজের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেব।” মমতার ছবি তাঁদের মঞ্চে থাকবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে অরূপ বলেন, “মহাত্মা গান্ধীর ছবি রয়েছে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি রয়েছে, নজরুল ইসলাম এবং বাবাসাহেব আম্বেদকরের ছবি রয়েছে। এই চারজনের ছবি রেখেছি আমরা।”

ভাষা ও চিন্তাভাবনার গভীর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে অমিত শাহ বলেন, "সাধারণত মানুষ ভাবে মানুষই ভাষার জন্ম দিয়েছে, কিন্তু আসলে ভাষাই মানুষকে তৈরি করে। মানুষের মধ্যে ভাবনা তৈরি হলেই সে প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠে, আর ভাষার মূলেই রয়েছে শব্দ।"


আমি আমার মনের একটা কথা চিঠিতে শুভেন্দুকে লিখেছিলাম', এতদিনে তা কলকাতায় এসে জানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
অমিত শাহ ও শুভেন্দু অধিকারী


 কলকাতায় তৈরি হল ভারতীয় ভাষা বিষয়ক দেশের প্রথম শব্দ জাদুঘর ‘মিউজিয়াম অফ ওয়ার্ড’। জাতীয় গ্রন্থাগারে (ন্যাশনাল লাইব্রেরি) এই বিশেষ মিউজিয়ামের উদ্বোধন করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ২০২০ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই জাদুঘর তৈরির ঘোষণা করেছিলেন। ৯টি গ্যালারি নিয়ে গঠিত এই জাদুঘরের অন্যতম আকর্ষণ ‘ভাষার সময়রেখা’, যা দেশের সবচেয়ে বড় গ্যালারি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। মূলত ২২টি ভারতীয় ভাষার বিবর্তনের ইতিহাস এই সংগ্রহশালায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমাদের দেশে সংকীর্ণতার কোনও জায়গা নেই। সংকীর্ণতা ভারতীয় সংস্কৃতির চিহ্ন হতে পারে না। আমরা কারোর বিচারধারায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারি না।” তিনি আরও যোগ করেন, “আজ সব স্কুলে বন্দেমাতরম পুরো গান গাওয়া হয়। এর থেকে বড় বছর আর কিছুই হতে পারে না। আর এই বিশেষ বছরেই এই মিউজিয়াম তৈরি হল।” তিনি আরও একবার উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাকে শাস্ত্রীয় ভাষার মর্যাদাও দিয়েছেন। বাংলা সবসময় পাঁচ দশক এগিয়ে থেকে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছে। এই প্রসঙ্গেই তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে একটি চিঠি লেখার কথা জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমার মনের একটা কথা আমি শুভেন্দুকে চিঠিতে লিখেছি। আমার বিশ্বাস, শুভেন্দু আমার সেই স্বপ্ন নিশ্চয়ই পূরণ করবে।”

এটিও পড়ুন
Firhad Hakim: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মিস করবেন? প্রশ্ন শুনেই দুটো শব্দ বললেন ফিরহাদ
Ashoknagar: 'আগে আমি নিজেই দাঁড়িয়ে থেকে শাস্তি দিয়েছিলাম, আমি ভুলে যাব আমার মা বেঁচে আছে', সিআইডি-র হাতে মা গ্রেফতার হতেই মুখ খুললেন মেয়ে
Anuradha Paudwal's LGBTQ comments: 'সমকামী সম্পর্ক সমাজের কী ভালো করছে?', বিস্ফোরক অনুরাধা পাড়োয়াল
ভাষা ও চিন্তাভাবনার গভীর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে অমিত শাহ বলেন, “সাধারণত মানুষ ভাবে মানুষই ভাষার জন্ম দিয়েছে, কিন্তু আসলে ভাষাই মানুষকে তৈরি করে। মানুষের মধ্যে ভাবনা তৈরি হলেই সে প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠে, আর ভাষার মূলেই রয়েছে শব্দ।”


এই মঞ্চ থেকে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভাষার বিকাশে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্রের ওপর জোর দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রথম পাঠশালা: পরিবারের ভাষাই শিশুর প্রথম পাঠশালা হওয়া উচিত। মায়ের কাছ থেকে শেখা ভাষাই শিশুর মনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে।

মৌলিক চিন্তাভাবনা: বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শুধু অনুবাদ বা কপি করার গণ্ডি থেকে বেরিয়ে এসে মৌলিক চিন্তাভাবনা তৈরির মূল কেন্দ্র হয়ে উঠতে হবে।

প্রযুক্তির ব্যবহার: দেশের প্রতিটি ভারতীয় ভাষাকে এআই (AI) প্রযুক্তি সক্ষম এবং ডিজিটাইজ করতে হবে, যাতে সেগুলির আয়ু আরও অন্তত ১০০০ বছর বৃদ্ধি পায়।

যুবসমাজের অংশগ্রহণ: লাইব্রেরি ও মিউজিয়াম যেন শুধু চার দেওয়ালে সীমাবদ্ধ না থাকে, তা যুবসমাজের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে বিশেষ অভিযান চালাতে হবে।

বহুভাষী হওয়া: প্রত্যেক ভারতীয় যুবকের উচিত নিজের মাতৃভাষার পাশাপাশি দেশের অন্য যে কোনো একটি ভারতীয় ভাষা অবশ্যই শেখা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, এই পাঁচটি বিষয় যদি আগামী প্রজন্মের মধ্যে সঠিকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তবে ভারতীয় ভাষার বিকাশ ও সংরক্ষণ অবশ্যম্ভাবী।