ওয়াংচুক বলেন, "যদি কোনও চুক্তিই করতে হত, তাহলে কি তার জন্য ২৬ দিন অনশন করতে হত? আরামে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসেই তো আলোচনা করা যেত। দিল্লির রাস্তায় এতদিন না খেয়ে থাকার কোনও প্রয়োজন ছিল না।"
'এখনও আমাকে সততা প্রমাণ করতে হবে?', ক্ষোভ-অপমানে ফেটে পড়লেন সোনম
হাসপাতাল থেকে ভিডিয়ো বার্তা সোনম ওয়াংচুক।
একটানা ২৬ দিন অনশন। শরীর ভেঙেছে, অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, তবুও এক কণা খাবার মুখে তোলেননি সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। অনশন ভাঙতেই তাঁকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হল! জানতে চাওয়া হল, সরকারের সঙ্গে কী ‘ডিল’ (Deal) হয়েছে? এই অপমান সইতে না পেরে গর্জে উঠলেন সোনম ওয়াংচুক। সমালোচকদের কড়া জবাব দিলেন লাদাখের সমাজকর্মী। ইনস্টাগ্রামে ভিডিয়ো বার্তায় বললেন, “২৬ দিন না খেয়ে থাকার পরও কি আমাকে সততা প্রমাণ করতে হবে?”
ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র আন্দোলনের সমর্থনে জুন মাসের শেষ ভাগ থেকে একটানা অনশনে ছিলেন ওয়াংচুক। অনশনের ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। হাসপাতালের বেড থেকেই রেকর্ড করা ২২ মিনিটের একটি ভিডিয়োতে তিনি নিজের শারীরিক অবস্থা এবং অনশন ভাঙা নিয়ে ওঠা বিতর্কের জবাব দিলেন।
অগাস্টে কারা পাবেন না অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা? আর কতদিন আবেদন করতে পারবেন, জেনে নিন
ওয়াংচুক জানান, দীর্ঘ অনশনের ফলে তাঁর শরীরে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। তিনি বলেন, “আমার শরীরের পেশি প্রায় শেষ হয়ে গেছে। অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও মস্তিষ্কে স্থায়ী ক্ষতি হয়েছে। শেষ শয্যার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। আমার ১১ কেজি ওজন কমেছে।”
গত বৃহস্পতিবার রাতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংয়ের উপস্থিতিতে তিনি অনশন ভাঙেন। প্রথমবার তরল খাবার গ্রহণ করেন। এরপরই সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন উঠতে থাকে, কেন তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের হাত থেকেই অনশন ভাঙলেন? সরকারের সঙ্গে কোনও সমঝোতা হয়েছে কি না!
এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে ওয়াংচুক বলেন, “যদি কোনও চুক্তিই করতে হত, তাহলে কি তার জন্য ২৬ দিন অনশন করতে হত? আরামে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসেই তো আলোচনা করা যেত। দিল্লির রাস্তায় এতদিন না খেয়ে থাকার কোনও প্রয়োজন ছিল না।”
তিনি আরও বলেন, “আমার অনশন কতটা পবিত্র ছিল, তা নিয়ে কি এখন চরিত্রের শংসাপত্রও দিতে হবে?”
একইসঙ্গে, আন্দোলনে তাঁর পাশে থাকা হাজার হাজার সমর্থককে ধন্যবাদ জানান সোনম।
অন্যদিকে, সোনম ওয়াংচুক অনশন শেষ করলেও, যন্তর মন্তরে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। দলের মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেছেন, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি থেকে তাঁরা সরছেন না।
সোনম ওয়াংচুকের অনশন ভাঙার প্রসঙ্গে রাঙ্কা বলেন, “গত চার-পাঁচ দিন ধরে ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছিল। তাই আমাদের তরফেও বারবার তাঁকে অনশন শেষ করার অনুরোধ করা হচ্ছিল। সরকারের সঙ্গে আলোচনার একটি পর্যায়ে পৌঁছনোর পর তিনি অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন”। তবে আন্দোলন এখনও চলবে বলে স্পষ্ট করেন তিনি।
প্রশ্নফাঁস রুখতে কেন্দ্র ইতিমধ্যেই আইনি সংস্কার এবং দ্রুত বিচার আদালত (ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট) গঠনের মতো একাধিক পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে।
