WEATHER

Top News


এ দিকে, আজ বেলেঘাটায় তৃণমূলকর্মীর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে খাস কলকাতায়। বেলেঘাটায় (Beleghata) বাড়ির বাইরে এক কর্মীর দেহ উদ্ধার হয়েছে বলে সূত্রের খবর। মৃত যুবকের নাম বিশ্বজিৎ পট্টানায়ক। তিনি তৃণমূলের বুথ এজেন্ট (TMC Agent) ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। মৃতের পরিবার জানিয়েছে, গণনার দিন সারাদিন বাড়িতেই ছিলেন ওই যুবক, এরপর সন্ধ্যায় তাঁর দেহ উদ্ধার হয়।


 অসমে ১ আসনে জিতেছে তৃণমূল, সেখানেও অত্যাচারের অভিযোগ মমতার
কী বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়?



জায়গায়-জায়গায় তৃণমূলের পার্টি অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ। ভোট পরবর্তী হিংসায় ইতিমধ্যেই খুনের অভিযোগ এক তৃণমূল কর্মীকে। জেলায়-জেলায় তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠছে। প্রাক্তন শাসকদলের পার্টি অফিসে ঝুলছে তালা। বিভিন্ন জায়গায় লাগানো হয়েছে বিজেপির পতাকা। শুধু বাংলা নয়, হিংসার অভিযোগ উঠছে অসম থেকে।


গতকাল ফল প্রকাশ হয়েছে পাঁচ রাজ্যের। অসমেরও ফল প্রকাশ হয়েছে। জানা গিয়েছে, সুস্মিতা দেবের নেতৃত্বে তৃণমূল অসমের ২২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেখানে একটি আসনে জয়ী হয়েছে ঘাসফুল শিবির। সেখানকার মান্দিয়া কেন্দ্রে জয়লাভ করেছে তৃণমূল। শেরমান আলি আহমেদের নেতৃত্বে এই জয়লাভ আনতে সক্ষম হয়েছে তারা। এর আগে শেরমান যোগ দিয়েছিলেন কংগ্রেসে। পরবর্তীতে দলবদল করে তিনি তৃণমূলে যোগদেন। ফলত, অসমে তৃণমূল খাতা খুললেও বাংলায় নিজেদের চেয়ার ধরে রাখতে পারেনি তারা।


আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, তিনি জানতে পেরেছেন অসমে অশান্তি শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “সুস্মিতা দেব আমায় জানিয়েছেন, আমরা অসমে একটি আসন জিতেছি। ওইখানেও অত্যাচার হয়েছে।”


এ দিকে, আজ বেলেঘাটায় তৃণমূলকর্মীর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে খাস কলকাতায়। বেলেঘাটায় (Beleghata) বাড়ির বাইরে এক কর্মীর দেহ উদ্ধার হয়েছে বলে সূত্রের খবর। মৃত যুবকের নাম বিশ্বজিৎ পট্টানায়ক। তিনি তৃণমূলের বুথ এজেন্ট (TMC Agent) ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। মৃতের পরিবার জানিয়েছে, গণনার দিন সারাদিন বাড়িতেই ছিলেন ওই যুবক, এরপর সন্ধ্যায় তাঁর দেহ উদ্ধার হয়।

অমিত শাহের পাশাপাশি ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝিকে কেন্দ্রীয় সহ-পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই দুই নেতাই মূলত পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি বিধায়ক দলের নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি তদারকি করবেন বলে জানা যাচ্ছে। অন্যদিকে অসমের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে জেপি নাড্ডাকে।

বাংলায় জয় আসতেই বড় দায়িত্ব অমিত শাহের কাঁধে
অমিত শাহ

বাংলায় এসেছে বহু প্রতীক্ষিত জয়। গেরুয়া ঝড়ে কার্যত খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছে ঘাসফুল শিবির। চলছে সরকার গঠনের তোড়জোড়। এরইমধ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) কেন্দ্রীয় সংসদীয় বোর্ড পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় দলের পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের জন্য কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক নিয়োগ করে ফেলল। বড় দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের কাঁধে। তাঁকেই কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দল। 


অন্যদিকে অমিত শাহের পাশাপাশি ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝিকে কেন্দ্রীয় সহ-পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই দুই নেতাই মূলত পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি তদারকি করবেন বলে জানা যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন তা নিয়ে জল্পনার মাঝেই এই পদক্ষেপ যে নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন দেখার পদ্ম শিবিরের উপরতলার নেতারা এ ক্ষেত্রে কোন নামে সিলমোহর দেন। 



অন্যদিকে অসমের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে জেপি নাড্ডাকে। সেখানে সহ-পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নবাব সিং সাইনিকে। ইতিমধ্যেই বিজেপির তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে এ কথা জানানো হয়েছে 


প্রসঙ্গত, বুথ ফেরত সমীক্ষাকে সত্যি করেই বাংলায় বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে পদ্ম শিবির। খাতায় এসেছে ২০০ বেশি আসন। অন্যদিকে সেঞ্চুরিও করতে পারেনি তৃণমূল কংগ্রেস। বাংলা তো বটেই বাংলার ভোটের ফল নিয়ে চর্চা চলছে গোটা দেশজুড়েই। বিজেপির খাতায় এসেছে ২০৭ আসন, তৃণমূলের খাতায় এসেছে ৮০ আসন, কংগ্রেসের খাতায় এসেছে ২ আসন, হুমায়ুনের আম-জনতা উন্নয়ন পার্টির খাতায় এসেছে ২ আসন। পাশাপাশি সিপিএম ও আইএসএফের খাতায় এসেছে ১টি করে আসন। তৃণমূল যদিও শুরু থেকেই এসআইআর থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে গোটা ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। যদিও বাংলায় রেকর্ড ভোটদানের ছবি দেখেছে দেশ। 

 'আমরা চাকর পাপিয়া দেবী বলছেন, “২০২১ থেকে ২০২৬, এই পাঁচ বছর দল আর আগের মতো সিস্টেমে চলেনি। কোথাও যেন মনে হয়েছে গোটা দলটাই মালিক আর চাকরের হয়ে গিয়েছে। এই সময়কালে সিন্ডিকেট-রাজ মারাত্মকভাবে বেড়ে গিয়েছে।”ছিলাম', তৃণমূল হারতেই বিস্ফোরক প্রাক্তন জেলা সভানেত্রী
কী বলছেন পাপিয়া ঘোষ?

হারতেই তৃণমূলের অন্দরে শুরু দোষারোপের পালা। ক্ষোভ উগরে দিলেন শিলিগুড়িতে তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভানত্রী পাপিয়া ঘোষ। তাঁর সাফ কথা, “তৃণমূলে আমরা ছিলাম চাকর। তাই এমন হওয়ার ছিল। গত ৫ বছরে দল চলেছে শুধু-মালিক আর চাকর হিসাবে। আমাদের কাজ ছিল চাকর হয়ে নির্দেশ মানা।” এবার উত্তরবঙ্গেও রীতিমতো ভরাডুবি হয়েছে ঘাসফুল শিবিরের। এমতাবস্থায় তৃণমূলের দাপুটে নেত্রীর মন্তব্যে চাপানউতোর শুরু হয়েছে রাজনৈতিক আঙিনায়। 

পাপিয়া দেবী বলছেন, ২০২১ থেকে ২০২৬, এই পাঁচ বছর দল আর আগের মতো সিস্টেমে চলেনি। কোথাও যেন মনে হয়েছে গোটা দলটাই মালিক আর চাকরের হয়ে গিয়েছে। এই সময়কালে সিন্ডিকেট-রাজ মারাত্মকভাবে বেড়ে গিয়েছে। আমাদের তো কথা বলার জায়গাই ছিল না। যে এজেন্সি এসেছিল তাঁদের হয়তো যাঁরা মিষ্টির প্যাকেট দিতে পারতেন তাঁদের কথা উপরে যেত। তাঁর মতে, বাংলার সাধারণ মানুষ তৃণমূলের মতো দলকে প্রত্যাখ্যান করেনি। প্রত্যাখ্যান করেছে দাম্ভিক, অহংকারী নেতাদের। 



এরইমধ্যে দল হারতেই তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন তৃণমূল নেতারা। ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন শিলিগুড়িতে জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অত্রিদেও শর্মা। তাঁর দাবি, শওকত, জাহাঙ্গিরের মতো অপরাধীদের বাঁচাতে ব্যস্ত ছিলেন অভিষেক। মানুষ এসব ভালোভাবে নেয়নি। আইপ্যাকের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে বলেন, “আইপ্যাকের হাতে অসীম ক্ষমতা ছিল। রাজ্যস্তরের নেতারা কিছুই করতে পারছিল না। সব এদের মাধ্যমে হচ্ছিল। ফলে কোনও কিছুই সংগঠিতভাবে ছিল না। সবার দম্ভ দেখে মনে হয়েছিল আমরা যেভাবে চাইব সেভাবেই নির্বাচন হবে। কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রচেষ্টায়, নির্বাচন কমিশনের তীক্ষ্ণ নজরে আমরা আমাদের মতো ভোট করাতে পারিনি।”  

দলীয় সূত্রে খবর, রাহুল গান্ধী সম্পূর্ণভাবে টিভিকে-কে সরকার গঠনে সমর্থন জানাতে রাজি ছিলেন আগে থেকেই। তবে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে চেয়েছিলেন দিল্লির নেতারা নয়, তামিলনাড়ু কংগ্রেস কমিটিই এই সিদ্ধান্ত নিক।

বিজয়ের সঙ্গে জোট বাঁধছে কংগ্রেস, সঙ্গে সঙ্গে জুটল 'বিশ্বাসঘাতক' তকমা
টিভিকে-র সঙ্গে জোট বাঁধছে কংগ্রেস।


 তামিলনাড়ুতে পালাবদল। আর ডিএমকে(DMK)-এআইএডিএমকে (AIADMK) নয়, সরকার গড়বে অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া বিজয়ের দল টিভিকে (TVK)। বিপুল সমর্থন পেলেও, সরকার গড়ার সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি টিভিকে। সরকার গড়ার জন্য প্রয়োজন অন্য কোনও দলের সমর্থন। আর সেই সমর্থনের হাতই বাড়িয়ে দিল কংগ্রেস (Congress)।


বিজয়ের জোটসঙ্গী কংগ্রেস-
বিজয়ের টিভিকে সরকার গড়ছে তামিলনাড়ুতে। তাদের শরিক হচ্ছে কংগ্রেস। ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গিয়েছে। কংগ্রেস সাংসদ শশীকান্ত সেন্থিল জানিয়েছেন, কংগ্রেসের পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স কমিটি টিভিকে দলকে সরকার গঠনে সমর্থন জানাতে সম্মতি দিয়েছে।

এটিও পড়ুন
'রাতের বেলাতেই পাল্টি ...' বিজেপি জিততেই কাদের খোঁচা দিলেন কিঞ্জল নন্দ?
রেজাল্ট বেরতে রাতেই রুদ্রকে ফোন 'ইন্ডাস্ট্রি' প্রসেনজিতের
ज़िंदगी में एक बार जरूर जाएं इन 20 जादुई जगहों पर – नंबर 5 सपना लगती है!
তামিলনাড়ু নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরই বিজয়কে ফোন করেছিলেন রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি সমর্থনের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। দলীয় সূত্রে খবর, রাহুল গান্ধী সম্পূর্ণভাবে টিভিকে-কে সরকার গঠনে সমর্থন জানাতে রাজি ছিলেন আগে থেকেই। তবে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে চেয়েছিলেন দিল্লির নেতারা নয়, তামিলনাড়ু কংগ্রেস কমিটিই এই সিদ্ধান্ত নিক। এরপরে ভার্চুয়াল বৈঠকে হয় এবং টিভিকে সরকার গঠনে সমর্থন জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


শর্ত দিল কংগ্রেসও-
তবে সমর্থন জানানোর ক্ষেত্রে শর্ত রেখেছে কংগ্রেসও। সাফ জানানো হয়েছে, এনডিএ বা এনডিএ-র শরিক কোনও দলের সঙ্গে যেন হাত না মেলায় টিভিকে। অর্থাৎ এআইএডিএমকে-র সঙ্গে কোনওভাবে জোট না বাঁধে টিভিকে।

কী পাবে কংগ্রেস? 
সূত্র মারফত খবর, বিজয়ের দলকে সমর্থন জানানোর পরিবর্তে কংগ্রেস নতুন তামিলনাড়ু সরকারে দুটি মন্ত্রী পদ পেতে পারে।

‘বিশ্বাসঘাতক’ কংগ্রেস-
কংগ্রেসের টিভিকে-কে এই সমর্থনে তামিলনাড়ুর রাজনীতির পট পরিবর্তনও হচ্ছে। এতদিন কংগ্রেস ডিএমকে-র সঙ্গে জোটে ছিল। ২০০৪ সাল থেকে ২০১৩ সাল অবধি প্রথমে জোটে ছিল ডিএমকে-কংগ্রেস। এরপর শ্রীলঙ্কান তামিলদের নিয়ে সংঘাতের জেরে জোট ভেঙে যায়। ২০১৬ সালে আবার জোট বাধে দুই দল। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে দুই দল একসঙ্গে ৩৯টি আসনের মধ্যে ৩৮টিতে জয়ী হয়েছিল। ২০২৪ সালে ৩৯টি আসনেই জয়ী হয়।

কংগ্রেস টিভিকে-কে সমর্থন জানানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতেই ডিএমকে তাদের বিশ্বাসঘাতক বলে দাগিয়ে দিয়েছে।

ভোট শেষে আসন ভাগাভাগি-
২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে ১০৮টি আসনে জয়ী হয়েছে টিভিকে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ছিল ১১৮টি সিট। অর্থাৎ সরকার গড়তে তাদের ১০টি আসনের প্রয়োজন। কংগ্রেস ৫টি আসনে জয়ী হয়েছে। এছাড়া সিপিআই (২টি আসন), সিপিএম (২টি আসন) ও ভিসিকে (২টি)-ও বিজয়ের টিভিকে সরকারে সমর্থন জানাতে পারে।

প্রাক্তন বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত বলেন, "সংবিধানের ১৬৪ ধারা বলছে, রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রীকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। এক্ষেত্রে বিদায়ী মন্ত্রিসভার মেয়াদ নির্বাচনের ফলাফল আসার পরই শেষ হয়ে যায়। কিন্তু প্রথা অনুযায়ী, তাঁরা পদত্য়াগ পত্র পৌছনোর পর পুরনো মুখ্য়মন্ত্রীকে নিয়োগ করা যেতে পারে এই দুতিনদিনের জন্য কেয়ার টেকার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে। এখন যদি পদত্যাগ না করলে সমস্যার নেই। 

এখানেই রাজ্যপাল পরবর্তী পদক্ষেপ করতে পারে। "

আমরা ভোটে হারিনি, আমি ইস্তফা দেব না', মমতার যুক্তি শুনে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বললেন...
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল সুপ্রিমো


ভবানীপুর, নিজের গড়ে পরাজিত হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) তৃণমূল সুপ্রিমোকে হারিয়েছেন। কিন্তু মমতার দাবি, তিনি হারেননি। ভোট লুঠ হয়ে গিয়েছে। সোমবারই গণনা কেন্দ্র থেকে বেরনোর পর তিনি বলেছেন, প্রায় ১০০ বুথের ভোট লুঠ হয়েছে। এরপর আজ সাংবাদিক বৈঠক থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্টত জানিয়েদেন তিনি ইস্তফা দেবেন না।


গতকালের পরাজয়ের পর আজ প্রথম মুখ খোলেন মমতা। সাংবাদিকরা তাঁকে প্রশ্ন করেন আপনি কী রাজভবন যাবেন? তখনই ক্ষুব্ধ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কেন যাব রাজভবনে ? আমি যদি শপথ নিতে যেতাম তাহলে যেতাম। ওরা দখল করেছে । ভেবেছে আমি পদত্যাগ করতে যাব ? আমি যাব না আমি কেন যাব ? আমরা ভোট হারিনি। আমি ইস্তফা দেব না।”



মমতার আরও দাবি, তাঁকে গণনাকেন্দ্র থেকে মারধর করতে-করতে বের করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “কাউন্টিং এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেওয়া হয়েছে। বিজেপি আমাকে পেটে মেরেছে। পিছন থেকে ধাক্কা দিয়েছে। ধাক্কা দিতে দিতে মারতে মারতে বের করেছে। মহিলা হওয়ার পর আমার সঙ্গে কীভাবে ব্যবহার করেছে এবং অত্যাচার‍ করেছে। আমি ঘুরে দাঁড়াব, বাঘের মতো লড়াই করেছি।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইস্তফা না দিলে কী কী হতে পারে?

প্রাক্তন আমলা জহর সরকার বলেন, “বিধানসভার মেয়াদ আছে। আইনগত মেয়াদ শেষ হবে। আর যেদিন সেটা শেষ হবে তার অস্তিত্ব টিকবে না। নতুন বিধানসভা গঠনের পরিস্থিতি পরিকল্পনা শুরু হবে। এই বিধানসভার যিনি নেত্রী ছিলেন, তাঁর যেই মুহূর্তে বিধানসভার মেয়াদ ফুরনো আসন চলে যাচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন প্রক্রিয়ার অঙ্গ। এখনও কমিশন হিসাব নিকেশ করে তারপর তার কপি সিল মেরে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাকে পাঠাবে। বিধানসভায় পাওয়ার পর শুরু হবে তাঁদের প্রক্রিয়া। তারা জানে একটা বিধানসভা সেশনের আয়ু ফুরিয়েছে। তখন তারা সার্টিফিকেট অব ইলেকশন ইস্যু করবেন নতুন বিধায়কদের। তখন প্রশ্ন উঠবে, পুরনো আমলের বিধায়ক মানছেন কি মানছেন না।”

প্রাক্তন বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত বলেন, “সংবিধানের ১৬৪ ধারা বলছে, রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রীকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। এক্ষেত্রে বিদায়ী মন্ত্রিসভার মেয়াদ নির্বাচনের ফলাফল আসার পরই শেষ হয়ে যায়। কিন্তু প্রথা অনুযায়ী, তাঁরা পদত্য়াগ পত্র পৌছনোর পর পুরনো মুখ্য়মন্ত্রীকে নিয়োগ করা যেতে পারে এই দুতিনদিনের জন্য কেয়ার টেকার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে। এখন যদি পদত্যাগ না করলে সমস্যার নেই। এখানেই রাজ্যপাল পরবর্তী পদক্ষেপ করতে পারে। “


  অভিষেককে কটাক্ষ করে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেন, "দিদির কোলে বসে ক্ষমতা পেয়েছেন। ক্ষমতার জন্য বাঘ হয়। ছাগলকে বাঘের চামড়া পরালে বাঘ মনে হয়। ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর এখন বোঝা যাবে, বাঘ না ছাগল।"


তিনি তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। ২ দিন আগেও তৃণমূল নেতৃত্ব বলত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর বাংলার মসনদে বসবেন তিনি। কিন্তু, গতকাল বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর সেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। তৃণমূল সরকারের পতনের পর অভিষেকের ভূমিকা কী হবে? তৃণমূলের হারের জন্য অভিষেক কতটা দায়ী, তা নিয়েও চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।


ছাব্বিশের নির্বাচনে অভিষেকের স্ট্র্যাটেজিই তৃণমূলের ক্ষেত্রে ব্যুমেরাং হয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে। নির্বাচনের প্রচারে বারবার বিরোধীদের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অভিষেক। কখনও নিশানা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে। ৪ মে অমিত শাহকে বাংলায় থাকার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড।



উনিশের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল ধাক্কা খাওয়ার পর আইপ্যাক আসে বাংলায়। এই ভোটকুশলী সংস্থার সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধে তৃণমূল। আইপ্যাকের সঙ্গে তৃণমূলের এই গাঁটছড়া বাঁধার পিছনে যে অভিষেক ছিলেন, সেকথা এখন সবাই জানেন। অভিযোগ উঠে, আইপ্যাক ধীরে ধীরে তৃণমূলের সাংগঠনিক দিক নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে। তৃণমূলে কর্পোরেট কালচার শুরু হয়। এমনকি, মদন মিত্রের মতো বর্ষীয়ান নেতা একবার অভিযোগ করেছিলেন, টাকা নিয়ে নির্বাচনে টিকিট দিচ্ছে আইপ্যাক।

নির্বাচনী প্রচারে অভিষেকের হুঙ্কার-

এবারের নির্বাচনের প্রচারেও বিরোধীদের বারবার হুঁশিয়ারি দিতে দেখা গিয়েছে অভিষেককে। একটি সভা থেকে তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদার, আমি অত উদার নই।” ৪ তারিখে ডিজে বাজানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। আবার দলের একাধিক পদাধিকারীকেও অভিষেক কড়া বার্তা দিয়ে জানান, জেতাতে না পারলে পদ থাকবে না। সেই সব বার্তাই তৃণমূলের ভরাডুবির কারণ কি না, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।

কী বলছে বিরোধীরা?

অভিষেককে কটাক্ষ করে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেন, “দিদির কোলে বসে ক্ষমতা পেয়েছেন। ক্ষমতার জন্য বাঘ হয়। ছাগলকে বাঘের চামড়া পরালে বাঘ মনে হয়। ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর এখন বোঝা যাবে, বাঘ না ছাগল।” অন্যদিকে, বিজেপির নিশীথ প্রামাণিক বলেন, “উনি প্যারাসুটে নেমেছেন। তৃণমূলের এই পরাজয়ের অন্যতম কান্ডারী এই অভিষেক। একটি রাজনৈতিক দলের যে পিলারগুলো থাকে, সেগুলো নষ্ট করেছেন অভিষেক। তাই, তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে। কিছুদিন পর দলটি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।”

তবে এদিন অভিষেকের ডিজে বাজানো মন্তব্য নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “শুনুন রাজনীতিতে অমিত শাহ বলেছিলেন সবাইকে দড়িতে করে ঝুলিয়ে পেটানো হবে। আগে তাঁকে জিজ্ঞাসা করুন, তারপর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তর দেবেন।”

তৃণমূলের ভরাডুবির পর মমতা অভিষেককে আগলে রাখার চেষ্টা করলেও একাধিক প্রশ্ন উঠছে। রাজনীতির কারবারিরা বলছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যখন রাজনীতির ময়দানে পা রাখেন, তখন তৃণমূল রাজ্যের ক্ষমতায়। ফলে ক্ষমতায় না থাকা অবস্থায় দলের কার্যকলাপ নিয়ে তাঁর কোনও অভিজ্ঞতা নেই। এই পরিস্থিতিতে দলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড হিসেবে তিনি কী ভূমিকা পালন করেন, সেটাই দেখার।  

আর এবার তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) অফিস এবং বাড়ির বাইরের অতিরিক্ত পুলিশ পিকেট তুলে নেওয়ার নির্দেশিকা জারি করল লালবাজার। আগামিকাল অর্থাৎ বুধবার ৬ তারিখ সকাল সাড়ে ৬ টা থেকে এই নির্দেশিকা কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার সকালের মধ্যেই..., অভিষেকের কাছে লালবাজার থেকে এল নির্দেশিকা
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

সময় চেয়ার দেয়…সময় চেয়ার সরিয়ে নেয়’, রাজ্যের পালা বদলের পর প্রবল ভাবে এই কথাই প্রকাশ্যে আসছে। ভোটে পরাজিত হওয়ার পরই বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বাড়ির সামনে থেকে গার্ডরেল সরিয়ে দেওয়া হয়েছে আজ। আর এবার তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) অফিস এবং বাড়ির বাইরের অতিরিক্ত পুলিশ পিকেট তুলে নেওয়ার নির্দেশিকা জারি করল লালবাজার। আগামিকাল অর্থাৎ বুধবার ৬ তারিখ সকাল সাড়ে ৬ টা থেকে এই নির্দেশিকা কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


কোন-কোন অতিরিক্ত পুলিশ পিকেট তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে?



লালবাজার সূত্রে জানা যাচ্ছে, ১৮৮ এ হরিশ মুখোপাধ্যায় রোডের বাড়ির বাইরের পিকেট, ১২১ কালীঘাট রোডের অফিস আর বাড়ির বাইরের পিকেট। একই সঙ্গে ৯ ক‍্যামাক স্ট্রিটের অফিসের বাইরের পুলিশ পিকেট তুলে নেওয়ার নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির কাছেই রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়। কালীঘাটের পটুয়া পাড়ার সেই এলাকাও এখন ছেয়ে গিয়েছে বিজেপির পতাকায়। রাজ্যের পালা বদল হতেই মুখ খুলতে শুরু করেছেন শিল্পীরা। তাঁদের দাবি, শুধুমাত্র শিল্প বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এই কার্যালয়ের পাশে এত হাইসিকিউরিটি থাকে সেই কারণে। এক শিল্পী বলেন, “এটা কালীঘাট রোড। এটা কারও বাবার রাস্তা নয়। কোনও গাড়ি দাঁড়াতে দেয় না। এখানেই ওঁর বাড়ি। ওঁরা তো আমাদের জন্য ছিলেন, এখন আমাদের পিছনে লাথি মারছেন? মানুষ অতিষ্ঠ। আমরাই তো দিদিকে এনেছি।”

শিল্পীদের দাবি, অভিষেকের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে এমন সব ব্যবস্থা হয়েছিল তাতে নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছিল পটুয়া পাড়ার। তবে ভোটের ফলাফল ঘুুরতেই দেখা গেল নিরাপত্তাও কমানো হচ্ছে অভিষেকের।

জলন্ধরের পুলিশ কমিশনার ধনপ্রীত কৌর বলেন, "একটি অ্যাক্টিভা স্কুটার পার্ক করে রাখা ছিল। তাতে আগুন ধরে যায়। বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই বিস্ফোরণের পিছনে কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না। সব দিক তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।"

অপারেশন সিঁদুরের বর্ষপূর্তির আগেই দুই সেনাঘাঁটিতে জোড়া বিস্ফোরণ! নেপথ্যে কে?
বিস্ফোরণস্থল খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পঞ্জাবে দুই ঘণ্টায় পরপর দুটি বিস্ফোরণ। তাও আবার সেনাঘাঁটির কাছে। অপারেশন সিঁদুরের বর্ষপূর্তির ঠিক আগে পঞ্জাবে পরপর এই বিস্ফোরণে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সেনাঘাঁটির বাইরে এই বিস্ফোরণ হওয়ায়, উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

মঙ্গলবার রাতে পঞ্জাবের জলন্ধর ও অমৃতসরে বিস্ফোরণ হয়। প্রথম বিস্ফোরণটি হয় রাত ৮টা নাগাদ। জলন্ধরে বিসএফের হেডকোয়ার্টারের মেইন গেটের ঠিক সামনেই রাখা একটি স্কুটারে বিস্ফোরণ হয়ে আগুন ধরে যায়। প্রায় ৩০০ মিটার দূরত্ব পর্যন্ত বিস্ফোরণ বোঝা যায়। অনেক প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এক কিলোমিটার দূর অবধি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছিল। একাধিক গাড়ির ও দোকানের কাঁচ ভেঙে যায়।



জলন্ধরের পুলিশ কমিশনার ধনপ্রীত কৌর বলেন, “একটি অ্যাক্টিভা স্কুটার পার্ক করে রাখা ছিল। তাতে আগুন ধরে যায়। বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই বিস্ফোরণের পিছনে কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না। সব দিক তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

পুলিশ ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে। দমকল কর্মীরা জানিয়েছেন, ওই বিস্ফোরণ তুলনামূলকভাবে অনেক জোরাল ছিল। একটা স্কুটারের বিস্ফোরণ থেকে এতটা আগুন ছড়াতে পারে না। দমকলের একাধিক ইঞ্জিন গিয়ে আগুন নেভায়।

ওই বিস্ফোরণের দুই ঘণ্টা পরে, অমৃসরের আত্তারি রোডে সেনা ক্যাম্পের দেওয়ালের ঠিক পাশে বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণস্থল থেকে ধাতব শিটের কিছু টুকরো পাওয়া গিয়েছে। মনে করা হচ্ছে, কেউ বিস্ফোরক ডিভাইস সেনা ছাউনির ভিতরে ফেলার চেষ্টা করেছিল। তবে তা দেওয়ালে লেগে বিস্ফোরণ হয়।

দুটি বিস্ফোরণেই কেউ আহত হননি। তবে এই ঘটনায় যথেষ্ট উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পঞ্জাব কংগ্রেসের প্রধান অমরিন্দর সিং রাজাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন

মঙ্গলবার রাত আড়াইটে নাগাদ ওই মহিলা বাড়ির বাইরে বের হলে ২-৩ জন দুষ্কৃতী তাঁর ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। অভিযোগ, তাঁর চুলের মুঠি ধরে টানা-হেঁচড়া ও ব্যাপক মারধর করা হয়। তাঁর শাড়ি ধরে টেনে খুলে দেওয়ারও চেষ্টা চলে বলে অভিযোগ।

সাগরে বিজেপি কর্মীর স্ত্রীকে মারধর, শ্লীলতাহানির অভিযোগ
হাসপাতালে নির্যাতিতা

ভোটে হেরে প্রতিহিংসার রাজনীতি তৃণমূলের? সাগরে তৃণমূলের রোষে বিজেপি কর্মীর স্ত্রী। বিজেপি কর্মীর স্ত্রীকে নৃশংসভাবে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই মহিলা।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাত আড়াইটে নাগাদ ওই মহিলা বাড়ির বাইরে বের হলে ২-৩ জন দুষ্কৃতী তাঁর ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। অভিযোগ, তাঁর চুলের মুঠি ধরে টানা-হেঁচড়া ও ব্যাপক মারধর করা হয়। তাঁর শাড়ি ধরে টেনে খুলে দেওয়ারও চেষ্টা চলে বলে অভিযোগ। পরিবারের এক সদস্য বলেন, “গলা চিপে ধরা হয়েছিল, যাতে ও চিৎকার চেঁচামেচি করতে না পারে। পিঠে ঘুষি মারে, তারপর ও প্রায় অজ্ঞান হয়ে যায়। আমি যেহেতু বিজেপি করি, তাই আমার পরিবারের ওপর ক্ষোভ।” চিৎকারে পরিজনরা ছুটে এলে দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়। বর্তমানে ওই মহিলা অচৈতন্য অবস্থায় সাগর গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।



বিজেপির দাবি, এলাকায় সন্ত্রাস ছড়াতেই এই পরিকল্পিত হামলা। এই ঘটনায় তৃণমূলের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সাগর থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এলাকায় চরম উত্তেজনা রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগর বিধানসভায় পরাজিত হয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী বঙ্কিম হাজরা। জয়ী হয়েছেন বিজেপির সুমন্ত মণ্ডল।

 নির্বাচন কমিশন ভোটের দিন ঘোষণার সময়ই জানিয়েছিল, ফল ঘোষণার পরও ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে বাংলায় মোতায়েত থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। সেইমতো কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে রাজ্যে। তার মধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ভাঙচুর, সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

 ফল বেরতেই উত্তপ্ত সন্দেশখালি, সংঘর্ষ রুখতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ ন্যাজাট থানার ওসি
ন্যাজাট থানার OC ভরত প্রসূন পুরকায়েত

রক্তপাতহীন ভোট-পর্ব দেখেছে বাংলা। কিন্তু, ফল বেরতেই বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষের অভিযোগ সামনে আসছে। এবার দুই দলের সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হলেন ন্যাজাট থানার ওসি। শুধু ওসি নন, আরও দু’জন পুলিশকর্মী এবং দু’জন সিআরপিএফ জওয়ান গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

কী হল সন্দেশখালিতে?



পুলিশের বক্তব্য, গতকাল রাতে সন্দেশখালির ন্যাজাট থানার রাজবাড়ি এলাকায় দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পায় তারা। একটি বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হচ্ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছতেই দুষ্কৃতীরা গুলি চালায়। একটি বাড়ির ভিতর থেকে গুলি চালানো হয়। ন্যাজাট থানার ওসি ভরত প্রসূন পুরকায়েতেরে পায়ে গুলি লাগে। এছাড়া একজন মহিলা কনস্টেবল-সহ দুই পুলিশকর্মী গুলিবিদ্ধ হন। শুধু তাই নয়, সিআরপিএফের দুই জওয়ানেরও গুলি লাগে।

ন্যাজাট থানার ওসি-সহ আহতদের কলকাতা চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁদের। এদিকে, ঘটনা ঘিরে রাত থেকে এলাকায় থমথমে পরিবেশ এলাকায়। বুধবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, কয়েক রাউন্ড গুলি ও তাজা বোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নির্বাচন কমিশন ভোটের দিন ঘোষণার সময়ই জানিয়েছিল, ফল ঘোষণার পরও ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে বাংলায় মোতায়েত থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। সেইমতো কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে রাজ্যে। তার মধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ভাঙচুর, সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিজেপি নেতৃত্ব অবশ্য স্পষ্ট করে দিয়েছে, কোথাও ভাঙচুর, অন্য দলের পার্টি অফিস দখল বরদাস্ত করা হবে না। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারও উস্কানিদাতা এবং ভাঙচুরকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

 মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নির্দেশ, ভাঙচুরকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করা হবে। ভোট পরবর্তী হিংসায় উস্কানিদাতারাও ছাড় পাবেন না বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার। বাংলায় ভোটপর্ব নির্বিঘ্নে মিটেছে। কোনও রক্তপাত হয়নি। ফল বেরনোর পরও বাংলায় যাতে কোনও অশান্তি না হয়, তা নিশ্চিত করাই যে কমিশনের উদ্দেশ্য, তা স্পষ্ট করে দিলেন জ্ঞানেশ কুমার।

ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে কড়া কমিশন, বড় নির্দেশ জ্ঞানেশ কুমারের
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার


ভোটের নির্ঘণ্টা ঘোষণার সময়ই তিনি জানিয়েছিলেন, ভোট-পর্ব মিটে যাওয়ার পরও কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে বাংলায়। ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবার এই নিয়ে আরও কড়া বার্তা দিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। ভোট পরবর্তী হিংসায় উস্কানিদাতা এবং ভাঙচুরকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলেন তিনি।

কী নির্দেশ দিলেন জ্ঞানেশ কুমার?



বাংলায় ভোটের ফল বেরনোর পর বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুরের খবর পাওয়া যায়। এই নিয়েই এবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার রাজ্যের মুখ্যসচিব, ডিজিপি, কলকাতা পুলিশ কমিশনার এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ডিজি-সহ সমস্ত ডিএম, এসপি এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের হিংসা রোধে কড়া পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছেন। নিরবচ্ছিন্ন টহল দিতে হবে বলে জানিয়েছেন। জ্ঞানেশ কুমারের নির্দেশ, ভাঙচুরকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করা হবে। ভোট পরবর্তী হিংসায় উস্কানিদাতারাও ছাড় পাবেন না বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার। বাংলায় ভোটপর্ব নির্বিঘ্নে মিটেছে। কোনও রক্তপাত হয়নি। ফল বেরনোর পরও বাংলায় যাতে কোনও অশান্তি না হয়, তা নিশ্চিত করাই যে কমিশনের উদ্দেশ্য, তা স্পষ্ট করে দিলেন জ্ঞানেশ কুমার।

কড়া বার্তা শমীক ভট্টাচার্যের-

বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় গেরুয়া ঝড়ে উড়ে গিয়েছে তৃণমূল। ফল বেরনোর পর বিভিন্ন জায়গায় হিংসার ঘটনা নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিজেপির পতাকা হাতে কোনওরকম হিংসা বরদাস্ত করা হবে না। বিরোধীদের পার্টি অফিস দখল, ভাঙচুরে জড়িতদের দল থেকে বহিষ্কার করা হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন। একইসঙ্গে পুলিশকে তাঁর বার্তা, ভোট পরবর্তী হিংসায় জড়িতদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক রং না দেখে কড়া ব্যবস্থা নিক পুলিশ।
বন্দে মাতরমের সার্ধশতবর্ষ দেশজুড়ে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কেন্দ্র। এমনকি, সংসদেও বন্দে মাতরম নিয়ে আলোচনা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে অমিত শাহর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক একটি নির্দেশিকাও জারি করে। সেই নির্দেশিকায় বলা হয়, জাতীয় সংগীত ‘জনগণমন’-র মতো এবার থেকে সরকারি অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় গীত ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া এবং বাজানো বাধ্যতামূলক।


 বিজেপির বঙ্গ জয়ের পরই বন্দে মাতরম নিয়ে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের, কী সিদ্ধান্ত নিল মোদীর মন্ত্রিসভা?
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

 ভারতের রাষ্ট্রীয় গীত বন্দে মাতরম নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় সরকারের। বন্দে মাতরমকে জাতীয় সংগীত জনগণমন-র সমমর্যাদায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিল নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভা। বন্দে মাতরম গাওয়ার ক্ষেত্রে কোনওরকম অনীহা, অসম্মান করলে হতে পারে আর্থিক জরিমানা। এমনকি তিন বছরের জেলও। ন্যাশনাল অনার অ্যাক্ট অনুযায়ী এতদিন জাতীয় পতাকা, সংবিধান এবং জাতীয় সংগীত জনগণমনকে অসম্মান করলে আর্থিক জরিমানা এবং জেলে পাঠানোর আইনি সংস্থান ছিল। এবার এই আইনের সেকশন ৩ সংশোধন করে বন্দে মাতরমকেও সমমর্যাদায় উন্নীত করার সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা।


রাষ্ট্রীয় গীত বন্দে মাতরম গাওয়ার ক্ষেত্রে কী কী পালন করা হবে সেই সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশিকা গত জানুয়ারি মাসে জারি করেছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা গানের ৬টি স্তবকই গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। এবার বন্দে মাতরমকে জাতীয় সংগীতের সমমর্যাদায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। বিজেপির বাংলা জয়ের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।



বন্দে মাতরমের সার্ধশতবর্ষ দেশজুড়ে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কেন্দ্র। এমনকি, সংসদেও বন্দে মাতরম নিয়ে আলোচনা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে অমিত শাহর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক একটি নির্দেশিকাও জারি করে। সেই নির্দেশিকায় বলা হয়, জাতীয় সংগীত ‘জনগণমন’-র মতো এবার থেকে সরকারি অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় গীত ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া এবং বাজানো বাধ্যতামূলক করা হল। ওই নির্দেশিকায় আরও বলা হয়, যদি রাষ্ট্রীয় গীত ‘বন্দে মাতরম’ এবং জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’ একসঙ্গে গাওয়া বা বাজানো হয়, তাহলে প্রথমে ‘বন্দে মাতরম’ বাজানো হবে। বন্দে মাতরমের ৬টি স্তবকই গাইতে হবে বলে জানায় কেন্দ্র। নির্দেশিকায় আরও বলা হয়, ‘বন্দে মাতরম’ গান গাওয়া বা বাজানোর সময় শ্রোতাদের উঠে দাঁড়াতে হবে।
লালবাজারের সিদ্ধান্তে স্বস্তির শ্বাস ফেলে এক বৃদ্ধ বলেন, "আমার ৭৯ বছর বয়স। এখানেই জন্ম। অভিষেক যখন গাড়ি নিয়ে বেরতেন, তখন কেউ বেরতে পারতেন না। গাড়ি বেরিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত পুলিশ হাত দেখিয়ে থামাত। যতই জরুরি কাজ থাক কিংবা অ্যাম্বুল্যান্স, সব কিছু থামিয়ে দিত। আমাদের খুব অসুবিধা হয়েছে। বলা যেত না। এখন বলতে পারছি। স্বস্তি পেলাম। এতদিন যেন নজরে ছিলাম। এখন অবাধে যাতায়াত করতে পারব।"

 বদলে গেল অভিষেকের বাড়ির সামনের ছবি, কী বলছেন প্রতিবেশীরা?
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে থেকে সরানো হল নিরাপত্তা


রাতারাতি ছবিটা একদম বদলে গিয়েছে। গার্ডরেল দিয়ে রাস্তা আর ঘেরা নেই। পুলিশের কড়া নজরদারি নেই। নিশ্চিন্তে যাতায়াত করছেন সবাই। বুধবার সকাল থেকে এই ছবিই দেখা যাচ্ছে হরিশ মুখোপাধ্যায় রোডে তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনের রাস্তায়। লালবাজারের নতুন সিদ্ধান্তে খুশি অভিষেকের প্রতিবেশীরা।


শান্তিনিকেতন। হরিশ মুখোপাধ্যায় রোডে অভিষেকের বাড়ির নাম। রাস্তার একদম ধারেই বাড়ি। এতদিন এই বাড়ির সামনে থাকত কড়া নিরাপত্তা। সোমবার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পরই লালবাজার অভিষেকের বাড়ির সামনে থেকে পুলিশি নিরাপত্তা সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। মঙ্গলবার রাতেও তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ডের বাড়ির সামনে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রহরা দেখা গিয়েছে। বুধবার সকাল থেকে অবশ্য শুধু কয়েকটা চেয়ার পড়ে রয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান কিংবা পুলিশকর্মীরা নেই।





লালবাজারের সিদ্ধান্তে যে তাঁরা যারপরনাই খুশি, এদিন সকালে বুঝিয়ে দিলেন অভিষেকের প্রতিবেশীরা। এতদিন যে তাঁদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হত, সেকথা তুলে ধরলেন। অভিষেকের এক প্রতিবেশী বলেন, “এলাকার লোককেও যাতায়াতের সময়া নানা সমস্যায় পড়তে হত। পুলিশের উপর নিশ্চয় সেরকম নির্দেশ ছিল। এখানে যাঁদের জন্মভূমি, তাঁরা অসহায় অবস্থায় ছিলেন।” অভিষেকের বাড়ির রাস্তায় নিরাপত্তার জন্য এই রাস্তায় বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায় জানিয়ে তিনি বলেন, “এই রুটে একাধিক বাস চলত। নাকতলা, কুঁটঘাট, পর্ণশ্রীর মতো রুটের বাস চলত। সেসব বন্ধ করে দেওয়া হয়।”

পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন আর এক বৃদ্ধ। লালবাজারের সিদ্ধান্তে স্বস্তির শ্বাস ফেলে তিনি বলেন, “আমার ৭৯ বছর বয়স। এখানেই জন্ম। অভিষেক যখন গাড়ি নিয়ে বেরতেন, তখন কেউ বেরতে পারতেন না। গাড়ি বেরিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত পুলিশ হাত দেখিয়ে থামাত। যতই জরুরি কাজ থাক কিংবা অ্যাম্বুল্যান্স, সব কিছু থামিয়ে দিত। আমাদের খুব অসুবিধা হয়েছে। বলা যেত না। এখন বলতে পারছি। স্বস্তি পেলাম। এতদিন যেন নজরে ছিলাম। এখন অবাধে যাতায়াত করতে পারব।” তিনি বলেন, এখানে একশোর বেশি পুরুষ-মহিলা পুলিশকর্মী থাকতেন। সেসব আজ নেই। তাই খুশি তাঁরা। কয়েকজনকে দেখা গেল, নিশ্চিন্তে রাস্তার একদম ধার ঘেঁষে অভিষেকের বাড়ির সামনে দিয়ে রাস্তা পেরলেন। আগে এটা ভাবাই যেত না বলে জানালেন অভিষেকের প্রতিবেশীরা।