WEATHER

Top News


 বিক্ষোভকারী আর এক মহিলা বলেন, “থানার পুলিশ আমাদের লাঠিচার্জ করেছে। অত্যাচারের মধ্যে কোনওমতে ভোট দিয়েছি। আমাদের দাবি আমরা নিরাপত্তা চাই। বাড়ি বাড়ি কেন থ্রেট দেওয়া হবে?” পাশে দাঁড়িয়ে এলাকার আর এক ব্যক্তি বললেন, “আমরা আবার ভোট চাই। আমাদের একটাই দাবি পুনর্নিবাচন।”


ফল ঘোষণার পর দেখে নেওয়ার হুমকি’, ফলতায় পুনির্বাচন চেয়ে বিক্ষোভ গ্রামবাসীদের
তুমুল বিক্ষোভ গ্রামবাসীদের


ফলতা নিয়ে চাপানউতোর থামছেই না। তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগ তুলে ফলতার হাসিমনগরে বিক্ষোভ গ্রামবাসীদের। তাঁদের অভিযোগ, গত বুধবার তাঁদের ভোটদানে বাধা দিয়েছে তৃণমূল। হুমকি দিচ্ছেন তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান। বঙ্গনগর ২ পঞ্চায়েত প্রধান ইশরাফুল চকদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ। তিনি আবার ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের ঘনিষ্ঠ বলেও এলাকায় পরিচিত। বাড়ি ভাঙচুর, শাসানি থেকে শুরু করে ফল ঘোষণার পর দেখে নেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। 

পুলিশের ভূমিকাতেও বাড়ছে ক্ষোভ। বিক্ষুব্ধ জনতার উপর পুলিশ লাঠি চালিয়েছে অভিযোগ গ্রামবাসীদের। বিক্ষোভ-স্লোগানে উত্তপ্ত গোটা এলাকা। ফের ভোটের দাবি বিক্ষোভকারীদের। গ্রামের এখ বাসিন্দা বলছেন, আমি তো ভোট দিতে পারিনি। আমাদের পাড়ায় এরকম অনেকেই আছে যারা ভোট দিতে পারেনি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে থ্রেট দিয়েছে ইশরাফুল। বাইরে বেরলে মারবে, মার্ডার করবে বলেছে। ওর গ্রেফতারির দাবিতে আমরা মিছিল করছি। 


বিক্ষোভকারী আর এক মহিলা বলেন, “থানার পুলিশ আমাদের লাঠিচার্জ করেছে। অত্যাচারের মধ্যে কোনওমতে ভোট দিয়েছি। আমাদের দাবি আমরা নিরাপত্তা চাই। বাড়ি বাড়ি কেন থ্রেট দেওয়া হবে?” পাশে দাঁড়িয়ে এলাকার আর এক ব্যক্তি বললেন, “আমরা আবার ভোট চাই। আমাদের একটাই দাবি পুনর্নিবাচন।” এদিকে তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই প্রচুর কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছেছেন। এসেছে সাঁজোয়া গাড়ি। ততক্ষণে জয় শ্রী রাম স্লোগানে মুখরিত গোটা এলাকা। এলাকার এক বাসিন্দা বলছেন, “এখানে তো শুধু ছাপ্পা হয়। তৃণমূলের লোকেরা শুধু ভয় দেখায়। বলে তৃণমূলকেই ভোট দিতে বলে নাহলে খবর আছে! ভয়ে তো কেউ মুখ খুলতে পারছিল না।”   

 ‘গণনাকর্মীর সংক্রান্ত ইস্যুতে কলকাতা হাইকোর্টে খারিজ হয়ে যায় আর্জি। এরপর সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় তৃণমূল কংগ্রেস। শনিবার সেই মামলায় শীর্ষ আদালত কলকাতা হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে। আইনজীবী কপিল সিব্বল তৃণমূলের পক্ষে সওয়াল করেন, গণনায় কেন শুধু কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বহাল রাখা হল?


আমাদের আবেদন খারিজ হয়নি...', 'বাধ্য হয়ে' সাংবাদিক বৈঠক করলেন কপিল সিব্বল
মামলা নিয়ে মুখ খুললেন কপিল সিব্বল

সুপ্রিম নির্দেশের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল। শনিবার সকালে গণনাকেন্দ্রের কর্মী নিয়ে মামলায় তৃণমূলের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। রাজ্য সরকারি কর্মী নিযুক্ত করার যে আবেদন করা হয়েছিল, তা খারিজ করে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশই বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্ট। সেই রায়ের পরই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন কপিল সিব্বল।

কী বললেন সিব্বল?
সিব্বল বলেন, “আমি সাধারণভাবে কোনও মামলার সঙ্গে যুক্ত থাকলে কোনও মন্তব্য করি না। আজ আসতে বাধ্য হলাম, কারণ কিছু সংবাদমাধ্যমে চলছে যে আমাদের আবেদন খারিজ হয়ে গিয়েছে। আমাদের কোনও আবেদন খারিজ হয়ে যায়নি।”



সিব্বল জানান, হাইকোর্টে তৃণমূল দাবি করেছিল যে এই সার্কুলার সঠিক নয়। হাইকোর্ট জানিয়েছিল, কমিশনের নিয়ম মেনে মাইক্রো অবজারভার রয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা। হাইকোর্ট সার্কুলারকে সঠিক বলেছিল। তবে আইনজীবীর দাবি, সুপ্রিম কোর্টে কোনও সার্কুলার চ‍্যালেঞ্জ করা হয়নি। আবেদন করা হয়েছিল যে সার্কুলারে যে বিষয় উল্লেখ রয়েছে, সেটা যেন মানা হয়।

সিব্বল বলেন, “মোদ্দা কথা হল সার্কুলারে বলা হয়েছে, কেন্দ্র এবং রাজ‍্য সরকারি কর্মীদের র‍্যান্ডম সিলেকশন করে গণনার কাজে ব‍্যবহার করা হবে। আমাদের সুপ্রিম কোর্ট বলল, আপনারা তো ওখানে সার্কুলারকে চ্যালেঞ্জ করছিলেন। আমরা তখন জানাই যে আমরা সার্কুলার লাগু করার দাবি জানাচ্ছি। আদালতও নোট করেছে যে সার্কুলারকে “লেটার অ‍্যান্ড স্পিরিটে” ফলো করবে বলে জানিয়েছে কমিশন।”

কী হল সুপ্রিম কোর্টের মামলায়?
গণনাকর্মীর সংক্রান্ত ইস্যুতে কলকাতা হাইকোর্টে খারিজ হয়ে যায় আর্জি। এরপর সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় তৃণমূল কংগ্রেস। শনিবার সেই মামলায় শীর্ষ আদালত কলকাতা হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে। আইনজীবী কপিল সিব্বল তৃণমূলের পক্ষে সওয়াল করেন, গণনায় কেন শুধু কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বহাল রাখা হল?

কপিল সিব্বলের যুক্তি ছিল, নির্বাচন কমিশনের সার্কুলারে বলা হয়েছে একজন রাজ্য সরকারি অফিসার থাকবে। অথচ শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের কেন রাখা হচ্ছে, প্রশ্ন তোলেন তিনি।

বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বক্তব্য ছিল, “সার্কুলারে বলা আছে, কাউন্টিং সুপারভাইজার এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট রাজ্য সরকারি কর্মচারীও হতে পারেন, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীও হতে পারেন। অপশন যখন আছে, তখন আমরা কীভাবে বলি যে এই পদক্ষেপ নির্দেশিকা বিরোধী? এমনকী সার্কুলার অনুযায়ী দুজনেই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী হতে পারে।” এই সওয়াল জবাবের পরই খারিজ হয়ে যায় তৃণমূলের আবেদন।

‘মনে হচ্ছে ওখানে সিজ হচ্ছে’
পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি নিয়ে সিব্বল বলেন, “মনে হচ্ছে বিজেপির নজর আর অন‍্য কোথাও নেই। তামিলনাড়ুতে নেই, কেরলে নেই। পশ্চিমবঙ্গ তো ভারতেই। অন‍্য কোথাও তো নয়। দেখে মনে হচ্ছে, ওখানে সিজ হচ্ছে। ওখানে যত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে, সেটা মনিপুর আর জম্মু কাশ্মীরেও নেই। কোনও যুদ্ধ চলছে নাকি? নির্বাচনই তো চলছে! কেন্দ্রীয় বাহিনীও রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা কমিশনের দায়িত্ব, তারপরও কীসের ভীতি? কী চাইছেন ওঁরা? কী উদ্দেশে এসব করছেন?”

প্রসঙ্গত, গতবার ছিল নন্দীগ্রাম, আর এবারের ভোটের হটস্পট হল ভবানীপুর। ভোট শুরুর আগে থেকেই সেখানে তৃণমূল-বিজেপির তু তু-ম্যায় ম্য়ায় চলছিল। কখনও পতাকা ছেঁড়ার অভিযোগ, কখনও স্লোগান যুদ্ধ দেখা গিয়েছে। এরপর ভোটের দিন পারদ চড়ে মাথার উপর


 'তৃতীয়-চতুর্থ-পঞ্চম রাউন্ড থেকে মমতা জিততে শুরু করবেন, তারপর...',ভবানীপুরের গণনার হিসেব এখন থেকেই একদম ধরে-ধরে বুঝিয়ে দিলেন শুভেন্দু
শুভেন্দু অধিকারী
ভবানীপুরের (Bhowanipore) ফল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। গণনার প্রথম আর দ্বিতীয় রাউন্ডে তিনিই লিড পাবেন বলে ধরে নিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী। তৃতীয় থেকে পঞ্চম রাউন্ডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এগিয়ে থাকবেন। ষষ্ঠ-সপ্তম রাউন্ড থেকে বিজেপি জিততে শুরু করবে বলে দাবি ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থীর।

কী বলেছেন শুভেন্দু? সাংবাদিকদের সামনে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ভবানীপুরের ডিডেল বলে দিচ্ছি। প্রথম-রাউন্ড দ্বিতীয় রাউন্ডে আমার লিড থাকবে। থার্ড-ফোর্থ-ফিপথ রাউন্ডে মুসলমান বুথ মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লিড থাকবে। ষষ্ঠ-সপ্তম রাউন্ড থেকে আমি মেকআপ করতে শুরু করব। কুড়ি রাউন্ডে আমি জিতব।”



প্রসঙ্গত, গতবার ছিল নন্দীগ্রাম, আর এবারের ভোটের হটস্পট হল ভবানীপুর। ভোট শুরুর আগে থেকেই সেখানে তৃণমূল-বিজেপির তু তু-ম্যায় ম্য়ায় চলছিল। কখনও পতাকা ছেঁড়ার অভিযোগ, কখনও স্লোগান যুদ্ধ দেখা গিয়েছে। এরপর ভোটের দিন পারদ চড়ে মাথার উপর। কারণ, সেখানে প্রায় মুখোমুখি হন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী ও তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই নিয়ে উত্তেজনা বাড়ে। পরে বিকেল অবধি ময়দানে শুভেন্দু অধিকারীকে দেখা গেলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখা যায়নি। এরপর শুরু হল স্ট্রংরুম বিতর্ক। বৃহস্পতিবার রাতে স্ট্রংরুমে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হন মমতা। হুঙ্কারের সুরে তিনি বলেছিলেন, “কেউ যদি ইভিএম লুঠের চেষ্টা করে তাহলে জীবন-মরণ লড়াই হবে।” তবে তীব্র কটাক্ষের সুরে শুভেন্দু পাল্টা বলেছিলেন, উনি কালকে পরিকল্পনা করে বাড়িতে পরার শাড়ি পরে এখানে এসেছিলেন। উনি এখানে থাকতেন। ওনার ধরনা দেওয়া একটা বদভ্যাস আছে।

অপারেশন নানহে ফরিশতে (Operation NANHE FARISHTEY)। এই বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে আরপিএফ (RPF) সাধারণত হারিয়ে যাওয়া বা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া শিশুদের উদ্ধার করে। তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়। দেখা গিয়েছে, এই মিশনে বহু শিশু তাদের পরিবারের কাছে ফিরে গিয়েছে। প্রতি বছর উদ্ধার হওয়া শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। ২০২৪-২৫ সালে ৭৬২ জন ছেলে এবং ৪৪২ জন মেয়েসহ মোট ১২০৯ জন শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে।


স্টেশনের ভিড়ে হারিয়ে গিয়েছে আপনার সন্তান? খুঁজে দেবে রেলপথের নীরব প্রহরী, জানেন রেলের বিশেষ মিশনের কথা?
রেলের মিশন ফরিস্তে


ব্যস্ত প্ল্যাটফর্ম। ট্রেনের হুইসেল, শয়ে শয়ে মানুষের আনাগোনা। ভিড়ের মাঝেই বিভিন্ন স্টেশন থেকে বহু শিশুর হারিয়ে যাওয়ার খবর সামনে আসে প্রায়ই। তবে, জানেন কি, সেই হারিয়ে যাওয়া শিশুদের জন্য রেলপথে সর্বক্ষণের প্রহরী রয়েছে। নীরব প্রহরী। হারিয়ে যাওয়া শিশুদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে দিনরাত চলছে কড়া নজরদারি। পূর্ব রেলের (Eastern Railway) বিশেষ মিশনের নাম অপারেশন নানহে ফরিশতে (Operation NANHE FARISHTEY)। পূর্ব রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার শ্রী মিলিন্দ দেউস্করের নেতৃত্বে ও পূর্ব রেলের আইজি বা প্রধান মুখ্য নিরাপত্তা কমিশনার শ্রী অমিয় নন্দন সিনহার অক্লান্ত প্রচেষ্টায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যাতে কোনও শিশু অন্ধকারে তলিয়ে না যায়।


রেলের মিশন অপারেশন নানহে ফরিশতে



ভবানীপুরের গণনার হিসেব এখন থেকেই একদম ধরে-ধরে বুঝিয়ে দিলেন শুভেন্দু
Shawshank Redemption Cast Explain What Most Fans Never Figured Out
অপারেশন নানহে ফরিশতে (Operation NANHE FARISHTEY)। এই বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে আরপিএফ (RPF) সাধারণত হারিয়ে যাওয়া বা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া শিশুদের উদ্ধার করে। তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়। দেখা গিয়েছে, এই মিশনে বহু শিশু তাদের পরিবারের কাছে ফিরে গিয়েছে। প্রতি বছর উদ্ধার হওয়া শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। ২০২৪-২৫ সালে ৭৬২ জন ছেলে এবং ৪৪২ জন মেয়েসহ মোট ১২০৯ জন শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারের পর তাদের চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির (CWC) কাছে নিরাপদে হস্তান্তর করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ সালে আরপিএফ-এর নজরদারি আরও তীব্র হয়েছে। ওই সময়কালে ৮৭৬ জন ছেলে ও ৫৩১ জন মেয়েসহ মোট ১৪০৭ জন শিশুকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে।

শুধু শিশুদের উদ্ধার করা নয়। মানব পাচারের অন্ধকার থেকে শিশুদের রক্ষা করতে পূর্ব রেলওয়ে-র আরও একটা উদ্যোগ হল অপারেশন আহট (Operation AAHT)। এই মিশনের লক্ষ্য হল পাচারকারীদের খপ্পর থেকে শিশুদের প্রাণ বাঁচানো। ২০২৪-২৫ সালে ১১৮ জন শিশু (৯৭ জন ছেলে এবং ২১ জন মেয়ে) এবং ৬ জন প্রাপ্তবয়স্ককে উদ্ধার করা হয়েছিল। ঘটনায় ৫৭ জন পাচারকারীকে গ্রেফতারও করা হয়। এই ধারা ২০২৫-২৬ সালেও অব্যাহত ছিল। ওই বছর আরপিএফ ১২৪ জন শিশু (৮০ জন ছেলে এবং ৪৪ জন মেয়ে) এবং এক জন প্রাপ্তবয়স্ককে উদ্ধার করেছে। ঘটনায় ৬৮ জন পাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিরাপত্তা বজায় রাখতে ৭০টি অ্যান্টি-হিউম্যান ট্রাফিকিং ইউনিট (AHTU) নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে চলেছে।

বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে পূর্ব রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শ্রী শিবরাম মাজি বলেন, “আমরা প্রতিটি হারিয়ে যাওয়া শিশুকে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

 গণনাকেন্দ্রে ১৬৫ জন অতিরিক্ত গণনা পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। ৭৭ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হবে। সব মিলিয়ে মোট ২৪২ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে কমিশন। তবে, কাউন্টিং হলের মধ্যে এরা কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। যাতে গোটা বিষয়ের উপর কড়া নজরদারি করা যায়, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যাতে গোটা প্রক্রিয়া হয়, তাই তাঁদের নিয়োগ করা হয়েছে।


গণনাকেন্দ্রের বাইরে টিনের পাত, নিরাপত্তায় ২৪২ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগ কমিশনের
নির্বাচন কমিশন

দুই দফার নির্বাচন (WB Assembly Election 2026) মিটেছে কার্যত নির্বিঘ্নে। রেকর্ড ভোট পড়েছে। কমিশন বলছে মোটের উপর ভোট শান্তিপূর্ণ। কিন্তু ভোট মিটতেই স্ট্রং রুম নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) স্ট্রং রুমে পাহারা দিয়েছেন। দলের নেতা-নেত্রীদের একই বার্তা দিয়েছেন। নেত্রীর বার্তা পেয়েই দলের প্রার্থীরা নিজেদের স্ট্র-রুমের বাইরে পাহারা দিচ্ছেন। তুলছেন বিস্তর অভিযোগ। শুধু তৃণমূল (TMC) নয়, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কর্মীরাও থাকছেন। গোটা বিষয়টা নিয়ে একটা চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে স্ট্রংরুম গুলোতে। এই আবহে ভোটের মতোই গণনাও নির্বিঘ্নে করতে কড়া পদক্ষেপ করেছে কমিশন। অতিরিক্ত গণনা পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, গণনাকেন্দ্রে নিরাপত্তা আঁটসাটো করার জন্য ব্যবহার করা হল টিনের পাত।

কী নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের



গণনাকেন্দ্রে ১৬৫ জন অতিরিক্ত গণনা পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। ৭৭ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হবে। সব মিলিয়ে মোট ২৪২ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে কমিশন। তবে, কাউন্টিং হলের মধ্যে এরা কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। যাতে গোটা বিষয়ের উপর কড়া নজরদারি করা যায়, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যাতে গোটা প্রক্রিয়া হয়, তাই তাঁদের নিয়োগ করা হয়েছে।

নিরাপত্তায় এবার টিনের পাত

যাদবপুরের গণনাকেন্দ্রের বাইরে টিনের পাত দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। যাদবপুর থানা থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট পর্যন্ত লম্বা রাস্তা পুরো টিনের পাত দেওয়া। মূলত গণনাকেন্দ্রের সামনের অংশ টিনের পাত দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। যাতে কোনও ভাবেই কেউ রাস্তা টপকে না চলে আসতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে গণনা কেন্দ্রের সামনের লম্বা রাস্তা টিনের পাত দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হল। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদেরও মোতায়েন করা হয়েছে।

এর আগে ক্ষুদিরাম অনুশীলনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল। একেবারে দুর্গে পরিণত করা হয় গোটা চত্বর। কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে সুউচ্চ গার্ডরেল দিয়ে ঘিরে ফেলা হয় সামনের অংশ। যাতে কেউ স্ট্রং রুমের মধ্যে ঢুকতে না পারে। ভিতরে কলকাতা পুলিশের পাশাপাশি বাড়ানো হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। স্ট্রং রুমের ভিতরে যাঁরা ঢুকবেন, তাঁদের তল্লাশি করেই ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে
বৈঠকের শুরুতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা, তৃণমূল বড় ব্যবধানে জিতছে। ২০০-র বেশি আসনে জিতবেন তাঁরা। যাঁরা দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন তাঁদের পুরষ্কৃত করারও বার্তা দিয়েছেন। একইসঙ্গে তাঁর নির্দেশ, গণনা শেষের আগে কাউন্টিং ছাড়া যাবে না। রাত ২টো বাজলেও যেন কোনও এজেন্ট গণনাকেন্দ্র না ছাড়েন।


'বাইরে কেউ কিছু দিলে খাবেন না, গণনার শেষপর্যন্ত থাকতে হবে', কাউন্টিং এজেন্টদের নির্দেশ মমতা-অভিষেকের
মমতা-অভিষেক

কাউন্টডাউন শুরু। আর মাত্র কয়েকঘণ্টা। মানুষ তাঁর রায় জানিয়ে দিয়েছে। এবার শুধু সেই রায় ঘোষণার পালা। কে জিতবে বাংলা, পরিবর্তন না প্রত্যাবর্তন হবে, জানা যাবে ৪ মে। তবে, তার আগে গণনাকেন্দ্রে এজেন্টদের দায়িত্ব কী হবে, কোন কোন দিকে খেয়াল রাখবে, তার পাঠ দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। আজ তৃণমূলের (TMC) সব কাউন্টিং এজেন্টদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন তৃণমূল সুপ্রিমো ও দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড। গণনাকেন্দ্রে এজেন্টের কী কাজ হবে, কোন দিকে নজর থাকবে, কী কী খাবেন তাঁরা, এজেন্টদের একাধিক নির্দেশ দিয়েছেন তাঁরা।

বৈঠকের শুরুতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা, তৃণমূল বড় ব্যবধানে জিতছে। ২০০-র বেশি আসনে জিতবেন তাঁরা। যাঁরা দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন তাঁদের পুরষ্কৃত করারও বার্তা দিয়েছেন। একইসঙ্গে তাঁর নির্দেশ, গণনা শেষের আগে কাউন্টিং ছাড়া যাবে না। রাত ২টো বাজলেও যেন কোনও এজেন্ট গণনাকেন্দ্র না ছাড়েন। কখন কী পদক্ষেপ করতে হবে এজেন্টদের, কী খেতে হবে, গাইডলাইন বাতলে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতার বার্তা

রাত ২ টো বাজলেও কাউন্টিং সেন্টার ছাড়বেন না। যতক্ষণ না আমি বলব। যেগুলো মার্জিনাল সিট সেগুলো রিকাউন্টিং করতে বলবেন। যদি দেখেন, ২০০-৩০০ ভোটের ব্যবধানে ওদের জিতিয়ে দিচ্ছে রিকাউন্টিং করতে বলবেন।

কাউন্টিং এজেন্টরা খাবার বাড়ি থেকে নিয়ে যাবেন। দুপুরের খাবার হালকা খাবেন। আগের দিন থেকে কেউ পান জর্দা বা অন্য কিছু খাবেন না। বাইরের খাবার নেবেন না। কেউ কিছু মিশিয়ে দিতে পারে।

স্ট্রং রুম থেকে কাউন্টিংয়ের জন্য মেশিন নিয়ে যাওয়ার সময় মেশিন বদলাতে পারে। ভোর ৫টার মধ্যে গণনাকেন্দ্রে পৌঁছে যান।

এক্সিট পোল কিছু না। স্টক মার্কেট বাঁচাতে বলা হচ্ছে।

অভিষেক কী নির্দেশ দিলেন?

নির্বাচনের পরদিন থেকেই বিজেপির নানা ন্যারেটিভ চলে। আগেও দেখেছি। এক্সিট পোল করে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। এটা ১০-১২ বছর ধরে চলছে। যে অত্যাচার কেন্দ্রীয় বাহিনী করেছে, মানুষের বাড়িতে গিয়ে মেরেছে, মহিলা, শিশুদের মেরেছে। তৃণমুলের কর্মীদের গ্রেফতার করেছে। পরশু দুপুর পর্যন্ত এটা চলবে। কাউন্টিং এজেন্টরা পুরো শেষ পর্যন্ত থাকবেন।

নির্বাচনের পরদিন থেকেই বিজেপির নানা ন্যারেটিভ চলে। আগেও দেখেছি। এক্সিট পোল করে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। এটা ১০-১২ বছর ধরে চলছে। যে অত্যাচার কেন্দ্রীয় বাহিনী করেছে, মানুষের বাড়িতে গিয়ে মেরেছে, মহিলা, শিশুদের মেরেছে। তৃণমুলের কর্মীদের গ্রেফতার করেছে। পরশু দুপুর পর্যন্ত এটা চলবে। কাউন্টিং এজেন্টরা পুরো শেষ পর্যন্ত থাকবেন।

মেশিন আনার পর ফর্ম 17c-এর সঙ্গে সিরিয়াল নম্বর মেলাতে হবে। যদি না মেলে খোলা যাবে না। তখন ভিভিপ্যাট কাউন্টিংয়ের দাবি জানাতে হবে। মিলে গেলে পরের ধাপগুলো হল সিল বাটারি তারিখ সময় মিলিয়ে নিতে হবে। এরপর কন্ট্রোল ইউনিটের সুইচ অন করবেন টোটাল কাউন্টিং করবেন। তখন বুঝবেন মেশিন ও ফর্ম মিলে যাচ্ছে। এরপর মেশিন খোলা হবে। আপনারা ডায়েরি নিয়ে যাবেন। প্রত্যেক মেশিনের সিরিয়াল নম্বর থেকে আমাদের প্রার্থী অন্য প্রার্থী কত ভোট পেয়েছে নোট করবেন। মনে রাখবেন এরা কিন্তু মহারাষ্ট্রে, বিহার, মধ্যপ্রদেশে করেছে। এই জায়গাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আত্মতুষ্টিতে ভুগলে চলবে না। শেষ চুরি ও কামড় দেবে ওইদিন। বিজেপি নিজেও ভালো করে জানে ওরা জিতবে না। এক্সিট পোল করানো হয়েছে। দিদি বলেছে ২০০ র বেশি হবে। গতবার ২১৫ পেয়েছিল। এবার একটা হলেও বাড়বে। ভোটের পার্সেন্টেজও বাড়বে।

আগামিকাল একটা ট্রেনিং মডেল দেওয়া হবে। দশ মিনিটের একটা ভিডিও পাঠাব। সেখানে প্রার্থী এজেন্টদের দায়িত্ব কী সবটা বলা থাকবে।

নন্দীগ্রামের ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন অভিষেক। তিনি বলেন, “গতবার নন্দীগ্রামের ঘটনা আপনাদের মনে আছে। বিশেষ করে পূর্ব মেদিনীপুর, পুরুলিয়া বিভিন্ন আসন। যেখান থেকে কারেন্ট সাপ্লাই হয়, সেই জায়গা ঘিরে রাখবেন। পুলিশ অবজার্ভারের কোনও অধিকার নেই। এগুলো ভয় দেখানোর কৌশল। পুলিশ অবজার্ভারের কোনও অধিকার নেই ডেকে থানায় নিয়ে যাবে। যদি বলে যাবেন না। এগুলো ভয় দেখানোর কৌশল। যদি অনৈতিক ভাবে একজনের গায়েও লাঠির পড়ে বাংলার মানুষ জবাব দেবে


ভোটের দিন ফলতায় ইভিএমে টেপ লাগানোর ছবি সামনে আসে। রিপোল স্ক্রুটিনিতে উঠে আসে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ, শুধু টেপ লাগানোই নয়, বেশ কিছু বুথের ক্যামেরাই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। নেটওয়ার্কের কারণে কন্ট্রোল রুমে ক্যামেরা বন্ধ সংক্রান্ত কোনও তথ্য আসেনি।


রিপোর্ট পেল কমিশন, ৪ মে গণনার পরও বাংলায় হবে ভোট?
ফের হবে ভোট!


 ফলতা নিয়ে নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের পথে হাঁটতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। ৪ মে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হওয়ার পরও হতে পারে ভোটগ্রহণ। ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে এমনই নির্দেশ দিতে পারে কমিশন।

বুথ ক্যাপচার থেকে হুমকি, একাধিক অভিযোগ উঠেছে এই ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে। তাই সমগ্র ফলতা বিধানসভায় গণনা স্থগিত করা হোক, এই মর্মে কমিশনে রিপোর্ট জমা পড়েছে। সব বুথে নাকি কয়েকটি বুথেই পুনর্নিবাচন হবে, আপাতত সেই সিদ্ধান্তই নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।



যেহেতু সোমবার গণনা। তাই রবিবার কি ফলতায় পুনর্নির্বাচন সম্ভব? রবিবার পুনর্নির্বাচন হলে স্ক্রুটিনির জন্য সময় পাওয়া যাবে না, কারণ তার পরের দিনই গণনা। ফলে গণনার পরে হতে পারে পুর্ননির্বাচন। এখন ফলতার বিধানসভা জুড়ে এই পুনর্নির্বাচন হলে সেটা উপ নির্বাচন হিসেবে ঘোষণা করতে পারে কমিশন।

ভোটের দিন ফলতায় ইভিএমে টেপ লাগানোর ছবি সামনে আসে। রিপোল স্ক্রুটিনিতে উঠে আসে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ, শুধু টেপ লাগানোই নয়, বেশ কিছু বুথের ক্যামেরাই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। নেটওয়ার্কের কারণে কন্ট্রোল রুমে ক্যামেরা বন্ধ সংক্রান্ত কোনও তথ্য আসেনি। এরই মধ্যে শনিবার দিনভর অভিযোগ এসেছে ফলতার হাসিমনগর থেকে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ভোট নিয়ে তাঁদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি গ্রামের মহিলাদের।
 
দক্ষিণ ২৪ পরগনা: আইসএফের রুচি নেই, ধর্ষক নেতার রুচি কি হবে! ভোট পর্ব শেষ হতে  সওকত মোল্লা সাংবাদিকদের সামনে সরাসরি আইএসএফকে আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেন, “আইএসএফের নেতারা এমন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত যে, তাদের রুচি নিয়ে বলার কিছু নেই। এক নেতা মহিলার সঙ্গে তিন বছর মেলামেশা করার পর ছেড়ে দিয়েছে এবং ধর্ষণের অভিযোগেও জড়িত।”



শওকত মোল্লা আরও বলেন, দলের নেতাদের এই ধরনের কর্মকাণ্ড তাদের নৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। “আমার মাথা এসব নিয়ে ব্যথিত নয়, আমি জনগণের জন্য কাজ করতে চাই,” তিনি বলেন।

তিনি আইএসএফের সমর্থকদের নাচানাচি ও বিতর্কিত প্রচার কৌশলকেও লক্ষ্য করেছেন। “মাছচোর নিয়ে গান গাওয়া এবং প্রকাশ্যে নাচানো—এগুলো দলের শোভা বৃদ্ধি করে না, বরং তাদের রুচি ও নৈতিক মানের প্রশ্ন তোলে,” সওকত মোল্লা উল্লেখ করেন।
শেষে তিনি বলেন, “আমি ব্যক্তিগত আক্রমণ করতে চাই না, তবে জনগণ যেন বুঝতে পারে, কোন দলের নেতারা কি ধরনের আচরণে লিপ্ত। আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র সুষ্ঠু নির্বাচন এবং জনগণের স্বার্থ।”

কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আজ শনিবার ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের চারটি বুথে পুনর্নির্বাচন চলছে। গত ২৯শে এপ্রিল ভোট চলাকালীন বিজেপি সহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলি অভিযোগ করেছিল যে,


ইভিএম মেশিনে তাদের প্রতীকের ওপর টেপ মেরে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভোটাররা নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে পারছিলেন না। এই গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন ওই চারটি বুথের ভোট বাতিল করে আজ নতুন করে ভোটগ্রহণের নির্দেশ দেয়।


 সকাল থেকেই বুথগুলির সামনে ভোটারদের লম্বা লাইন চোখে পড়ছে। কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রতিটি বুথে মোতায়েন করা হয়েছে প্রচুর কেন্দ্রীয় বাহিনী। কমিশন জানিয়েছে, স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার বাড়তি নজরদারি চালানো হচ্ছে।

ডায়মন্ড হারবারের ৪টি বুথে পুনর্নির্বাচনের সুপারিশ করেছেন রিটার্নিং অফিসার ও অবজার্ভার। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন বলে জানালেন স্পেশাল অবজার্ভার সুব্রত গুপ্ত। 


ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে তিনি জানান, ফলতা ও মগরাহাট পশ্চিমের স্ক্রুটিনি এখনও সম্পূর্ণ হয়নি এবং সেই প্রক্রিয়া আজ রাতেও চলবে। বিভিন্ন অভিযোগ জমা পড়েছে, সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 



সমস্ত ফুটেজ পর্যবেক্ষণ শেষ হওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করে আগামীকাল সকালেই নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, ফলতা, মগরাহাট পশ্চিম ও ডায়মন্ড হারবারের কিছু এলাকায় সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে, সেগুলি যাচাই করে বিস্তারিত রিপোর্ট কমিশনে পাঠানো হবে।


ভোটের আবহে ফের উত্তপ্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা। বিজেপির এক কর্মীকে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তুলকালাম পরিস্থিতি তৈরি হলো ফলতার হাসিম নগরে। 


ঘটনার প্রতিবাদে জাতীয় সড়কের ওপর বিশালাকার কাঠের গুঁড়ি ফেলে পথ অবরোধে শামিল হন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। স্থানীয় সূত্রে খবর, হাসিম নগর এলাকায় এক বিজেপি কর্মীকে বেধড়ক মারধর করা হয়। অভিযোগের তির শাসক দল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দিকে। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন গেরুয়া শিবিরের কর্মী-সমর্থকরা।

 অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে তাঁরা হাসিম নগরে রাস্তার ওপর কাঠের গুঁড়ি ফেলে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। এর ফলে জাতীয় সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায়। অবরোধের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান ওই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা। তিনি সরাসরি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং দাবি করেন যে, এলাকায় বিজেপি কর্মীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হচ্ছে। তিনি সাফ জানান, দোষীদের শাস্তি না পাওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।

কালবৈশাখী ঝড়ে কার্যত লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগর ব্লকের বিস্তীর্ণ কৃষি এলাকা। গতকাল রাতে প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা ধরে চলা বজ্রবিদ্যুৎসহ মুষলধারে বৃষ্টির জেরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন স্থানীয় ধান ও পান চাষীরা। 


বর্তমানে সাগরে বোরো ধান কাটার মরসুম চলছে। চাষীদের অভিযোগঅনেক চাষী ধান কেটে শুকানোর জন্য মাঠেই রেখেছিলেন। আকস্মিক বৃষ্টিতে সেই ধান এখন জলের তলায়।
মাঠের দাঁড়িয়ে থাকা পাকা ধানের গাছ ঝোড়ো হাওয়ায় নুইয়ে পড়েছে। জমিতে জল জমে যাওয়ায় পাকা ধানে মই পড়ার উপক্রম হয়েছে, যা দ্রুত না সরালে ধান পচে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 


শুধু ধান নয়, ঝড়ের দাপটে সাগরের একাধিক পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝোড়ো হাওয়ায় বরজের কাঠামো ভেঙে পড়েছে এবং বৃষ্টির জলে পানের লতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় ঘুম উড়েছে চাষীদের। "বছরের এই সময়টার রোজগারের ওপর আমাদের সারা বছর চলে। এক রাতের বৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেল," আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন এক স্থানীয় কৃষক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখে দ্রুত সাহায্যের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। বিঘার পর বিঘা জমির ফসল নষ্ট হওয়ায় এখন ঋণের দায়ে পড়ার দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে সাগরের কয়েকশ পরিবারের।

​ভোটের শেষ মুহূর্তে রণক্ষেত্র হয়ে উঠল সাগরের ধবলাট শিবপুর এলাকা। ভোট দিতে যাওয়ার পথে এক বিজেপি কর্মীকে মারধর করার অভিযোগ উঠল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। আহত কর্মীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ​স্থানীয় সূত্রে খবর, ১৬৫ নম্বর বুথের শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা বিপ্লব মণ্ডল পেশায় বিজেপি কর্মী। 


অভিযোগ, ভোটের সময় শেষ হওয়ার ঠিক কিছুক্ষণ আগে তিনি নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে বুথের দিকে যাচ্ছিলেন। সেই সময় তৃণমূল আশ্রিত কিছু দুষ্কৃতী বিপ্লববাবুর পথ আটকায়।​তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁকে জোরপূর্বক তৃণমূল কংগ্রেসে ভোট দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। ​বিপ্লব মণ্ডল তাতে রাজি না হওয়ায় শুরু হয় তীব্র কথা কাটাকাটি। ​বিতর্ক চলাকালীন উক্ত দুষ্কৃতীরা বিপ্লব মণ্ডলের ওপর চড়াও হয় এবং তাঁকে ব্যাপক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।


 ​আহত বিজেপি কর্মীকে উদ্ধার করে দ্রুত সাগর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই এই মারধরের ঘটনায় গঙ্গাসাগর কোস্টাল থানায় তৃণমূল আশ্রিত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে এই বিষয়ে তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।