WEATHER

Top News


জঙ্গলমহলেই পড়েছে একের পর এক লাশ। এই এলাকা একটা সময়ে পুরোপুরিই সিপিএমের গড় হিসাবে পরিচিত ছিল। সেই এলাকায় বহুদিন ধরেই সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন ক্ষুদিরাম টুডু। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেন প্রত্যেক বিধানসভা নির্বাচনেও। কিন্তু হেরে যেতেন। তারপরও তিনি তাঁর লড়াই ছাড়েননি। 

সমাজ গড়ার কারিগর তিনি, একের পর এক হারেও দাঁত কামড়ে লড়াই করেছেন, জঙ্গলমহলের সেই ক্ষুদিরাম টুডুকেই মন্ত্রী করে কৃতজ্ঞতা স্বীকার বিজেপির
শপথ নিলেন ক্ষুদিরাম টুডু

আজ, ব্রিগেডে মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন ক্ষুদিরাম টুডু! জঙ্গলমহলে আজ উৎসবের আমেজ। জঙ্গলমহলে ক্ষুদিরাম টুডু একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুখ। বাঁকুড়ার রানিবাঁধ একেবারেই আদিবাসী অধ্যুষিত বিধানসভা এলাকা। এই জঙ্গলমহলে একসময়ে দাপিয়ে বেড়িয়েছে মাওবাদীরা। এই জঙ্গলমহলেই পড়েছে একের পর এক লাশ। এই এলাকা একটা সময়ে পুরোপুরিই সিপিএমের গড় হিসাবে পরিচিত ছিল। সেই এলাকায় বহুদিন ধরেই সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন ক্ষুদিরাম টুডু। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেন প্রত্যেক বিধানসভা নির্বাচনেও। কিন্তু হেরে যেতেন। তারপরও তিনি তাঁর লড়াই ছাড়েননি।

মূলত ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহল (BJMPM) নামক সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এবং আদিবাসী সমাজের অধিকার ও সাঁওতালি ভাষা-সংস্কৃতি রক্ষার আন্দোলনে অত্যন্ত পরিচিত মুখ। আদিবাসী সমাজে অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ। তিনি পেশায় একজন স্কুলশিক্ষকও। আদিবাসী মহলে সমাজ গড়ার কারিগর তিনি। সেই ক্ষুদিরাম টুডু আজ মঞ্চে মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন। অর্থাৎ জঙ্গলমহলে বার্তা গেল, পিছিয়ে পড়া জনসমাজের কাছে বার্তা গেল, যে তাঁদের ওপরেও নজর রেখেছে বিজেপি। তাঁদের উন্নয়নের ওপরেও জোর দেওয়া হচ্ছে। তাই আপাতত যে পাঁচ জন আজ মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন, তাঁদের মধ্যে একজন ক্ষুদিরাম টুডু। এদিন ব্রিগেডে জঙ্গলমহলের প্রতিনিধি হিসাবে অলচিকি ভাষাতেই শপথ নিলেন ক্ষুদিরাম।


মমতাকে ‘আনফলো’, মোদীকে 'ফলো' করা শুরু করল কলকাতা পুলিশ
20 

এবারের নির্বাচনে ক্ষুদিরামের বিপরীতে তৃণমূল প্রার্থী ছিলেন তনুশ্রী হাঁসদা। ক্ষুদিরাম টুডু পেয়েছেন ১,৩১,১৪৫ ভোট। তিনি এই নির্বাচনে ৫২,২৬৯ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।

২০১৯ সালের মার্চ মাসে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। রাজনীতিতে এসে কিন্তু নিজেকে 'গ্ল্যামার' দুনিয়াতেই আটকে রাখেননি। তিনি তখন রাজ্য মহিলা মোর্চার সভানেত্রী। গ্ল্যামার ছেড়ে বেরিয়ে একেবারে আমপোশাকে, এক্কেবারেই পাশের বাড়ির 'দিদির' ভূমিকায় নেমে মাটি চষে বেরিয়েছিলেন।

ফ্যাশন জগৎ থেকে কীভাবে রাজনীতির আঙিনায় এলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল?
অগ্নিমিত্রা পাল


একটা সময়ে শো স্টপারের সঙ্গে র‌্যাম্পে হেঁটেছেন। তাঁর প্রিয় রঙ ছিল সাদা। তাঁর ডিজাইন করা পোশাকে সাদার ছোঁয়া থাকতই। তা সে ইন্ডিয়ান হোক কিংবা ওয়েস্টার্ন! সেই রঙে লাগল গেরুয়ার ছোঁয়া। রেড কার্পেট থেকে সোজা রাস্তায় তিনি। মিশেছেন মাটির সঙ্গে। দাঁত কামড়ে লড়াই করেছেন। ফ্যাশন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পাল আজ রাজ্যের মন্ত্রী। শনিবার, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পর যে পাঁচ জন মন্ত্রী শপথ নিয়েছেন, তাঁদের এক জন অগ্নিমিত্রা পাল। তবে তিনি কোন দফতরের দায়িত্ব পাচ্ছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। 


২০১৯ সালের মার্চ মাসে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। রাজনীতিতে এসে কিন্তু নিজেকে ‘গ্ল্যামার’ দুনিয়াতেই আটকে রাখেননি। তিনি তখন রাজ্য মহিলা মোর্চার সভানেত্রী। গ্ল্যামার ছেড়ে বেরিয়ে একেবারে আমপোশাকে, এক্কেবারেই পাশের বাড়ির ‘দিদির’ ভূমিকায় নেমে মাটি চষে বেরিয়েছিলেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবার বিধায়ক নির্বাচিত হন এবং ২০২৬ সালেও নিজের আসন ধরে রাখতে সক্ষম হন।



যে মানুষটা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফ্রেঞ্চ ভাষায় ডিপ্লোমা করেছেন এবং ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে উচ্চতর শিক্ষা লাভ করেছেন, তাঁকে এরপর থেকে দেখা যায় রাস্তাতেই। যে কোনও আন্দোলনে-প্রতিবাদে রাস্তায় ছিলেন তিনি। গ্ল্যামার দুনিয়ার যে মানুষটি ছিলেন নিতান্ত গ্রামের বাসিন্দাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে, তিনি বারংবার পৌঁছে গিয়েছেন প্রত্যন্ত গ্রামের নির্যাতনের শিকার যে কোনও তরুণীর বাড়ি। মাটি কামড়ে পড়ে থেকেছেন বিচার আনতে। আজ অগ্নিমিত্রাকে মন্ত্রী করে তারই স্বীকৃতি দিল বিজেপি।

প্রসঙ্গত, এবারের ভোটে একাধিকবার উত্তেজনার ছবি দেখা গিয়েছে অশোক কীর্তনিয়ার নির্বাচনী প্রচারে। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগও তুলেছিল বিজেপি। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোরও হয়। এবার বনগাঁ উত্তরে তৃণমূলের টিকিটে লড়েছিলেন বিশ্বজিৎ দাস।

মতুয়া ভোট এককাট্টা করে ধরাশায়ী করেছেন তৃণমূলকে, নতুন সরকারে মন্ত্রিত্বের স্বাদ পেলেন অশোক কীর্তনিয়া
উচ্ছ্বসিত অশোক

জিতেছিলেন ২০২১ সালেও। জিতেছেন ছাব্বিশেও। মতুয়াগড়ে ফের ফুটিয়েছেন পদ্ম। এসআইআর ইস্যু উঠলেই বারবার ফিরে ফিরে আসে তাঁর নাম। তিনি বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক। তিনি এবার শপথ নিলেন রাজ্যের নতুন মন্ত্রী হিসাবে। প্রসঙ্গত, এসআইআরের সময় অশোক কীর্তনিয়ার নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল তৃণমূল। তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও বিস্তর চাপানউতোর হয়। কিন্তু মতুয়া ভোট ব্যাঙ্কে যে বিজেপির নজর শুরু থেকেই ছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আগেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় ঠাঁই হয়েছে শান্তনু ঠাকুরের। এবার মতুয়াদের অন্যতম জনপ্রিয় নেতা অশোক কীর্তনিয়াকে মন্ত্রী করা অবশ্যই যে মতুয়াদের জন্য একটা বড় প্রাপ্তি তা বলার অপেক্ষা রাখে না।  


প্রসঙ্গত, এবারের ভোটে একাধিকবার উত্তেজনার ছবি দেখা গিয়েছে অশোক কীর্তনিয়ার নির্বাচনী প্রচারে। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগও তুলেছিল বিজেপি। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোরও হয়। এবার বনগাঁ উত্তরে তৃণমূলের টিকিটে লড়েছিলেন বিশ্বজিৎ দাস। সিপিএমের হয়ে লড়েছিলেন পীযূষকান্তি সাহা। কিন্তু শেষ হাসি হাসেন অশোক কীর্তনিয়াই। তিনি পেয়েছেন ১ লক্ষ ১৯ হাজার ৩১৭ ভোট। তাঁর ভোট শেয়ার ৫৬.৪৬ শতাংশ। অন্যদিকে তৃণমূলের বিশ্বজিৎ দাস পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৬৪৭ ভোট। তাঁর প্রাপ্ত ভোট শেয়ার ৩৭.২১ শতাংশ। অন্যদিকে সিপিএম পেয়েছে মাত্র ৮ হাজার ৫৫৪ ভোট। 



এদিন ব্রিগেডে শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার পরেই এক এক করে শপথ নেন ৫ মন্ত্রী। তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল। তখনই রাজ্যের মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন অশোক কীর্তনিয়া। তবে এখনও বণ্টন হয়নি দফতর। 

মুখ্যমন্ত্রীর নাম বাছতে বিশেষ দেরী হয়নি বিজেপির। শুভেন্দু অধিকারীর নাম বেছে নিয়েছেন অমিত শাহ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতেই আজ, শনিবার শপথ নিলেন শুভেন্দু। সেই সঙ্গে একাধিক মন্ত্রীরও শপথ গ্রহণও সম্পন্ন হল এদিন।

সঙ্ঘের ছোঁয়া, মহিলা মুখ, আদিবাসী-রাজবংশী-মতুয়ার রসায়নে তৈরি হচ্ছে শুভেন্দুর মন্ত্রিসভা
মন্ত্রী হিসেবে কে কে শপথ নিলেন



বাংলায় তৈরি হচ্ছে নতুন সরকার। তৈরি হবে নতুন মন্ত্রিসভা। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শনিবার শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তবে মন্ত্রীদের নামও বিশেষ বিবেচনা করেই বেছে নিয়েছে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে শুরু করে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার মতো একাধিক তাবড় নেতা উপস্থিত রয়েছেন। এদিন সেই বৃহত্তর মঞ্চে একাধিক মন্ত্রীও শপথ নিলেন।

দিলীপ ঘোষ
শুভেন্দু অধিকারীর পরই মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন দিলীপ ঘোষ। সেই দিলীপ ঘোষ, যিনি বঙ্গ বিজেপির নতুন করে উত্থানের অন্যতম কাণ্ডারী বলেই মনে করা হয়। আরএসএস প্রচারক থেকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি, এহেন গ্রাফ হঠাৎ করেই থেমে গিয়েছিল একপ্রকার।


বিধানসভা নির্বাচনের আগে মোদীর মঞ্চে দেখা যায় সেই দিলীপ ঘোষকে। ফিরিয়ে দেওয়া হয় পুরনো মাটি। খড়গপুর সদর থেকে নিজেকে প্রমাণ করে এবার দিলীপের স্থান হতে চলেছে বাংলার মন্ত্রিসভায়। এক্ষেত্রে সঙ্ঘ পরিবারের প্রতিনিধি হিসেবে দিলীপকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

অগ্নিমিত্রা পাল
বাংলার প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। সেই দিন শেষ। নতুন মন্ত্রিসভায় কোনও মহিলা মুখ থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। তবে শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানেই স্পষ্ট হয়ে গেল মহিলা মন্ত্রীর নাম। শুভেন্দু ও দিলীপের পরই তৃতীয় নাম অগ্নিমিত্রা পাল। আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক।

একসময় ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে বাংলার জনপ্রিয় মুখ ছিলেন অগ্নিমিত্রা। পরে বিজেপির হাত ধরেই রাজনৈতিক জীবন শুরু। নিজের কেন্দ্র থেকে বিধানসভা, মিটিং-মিছিল-প্রতিবাদে দিনে দিনে নিজের রাজনৈতিক-সত্ত্বাকে চিনিয়েছেন অগ্নিমিত্রা। এবার তিনি মন্ত্রী।

ক্ষুদিরাম টুডু
প্রথম দিন যে কজন মন্ত্রী শপথ নিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ক্ষুদিরাম টুডু। রাজ্য-রাজনীতিতে খুব পরিচিত মুখ নয়, দাপুটে নেতাও নয়। দিলীপ-অগ্নিমিত্রার পরই তাঁর নাম ঘোষণা হয়। গোটা দেশের তাবড় নেতাদের সামনে শপথ নিলেন আদিবাসী নেতা। শপথ নিলেন অলচিকি ভাষায়। জঙ্গলমহলের প্রতিনিধি, রানিবাঁধের বিধায়ককে পূর্ণমন্ত্রী করল বিজেপি। ক্ষুদিরামের শপথ যে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

অশোক কীর্তনিয়া
মন্ত্রিসভায় চমকের পর চমক। রানিবাঁধের পরই বনগাঁ উত্তর। মন্ত্রী হচ্ছেন অশোক কীর্তনিয়া। মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। তাঁর বিরুদ্ধে নাগরিকত্বের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল তৃণমূল। এবার সেই অশোকই শপথ নিলেন মন্ত্রী হিসেবে। এর পিছনেও বিজেপির বিশেষ বিবেচনা আছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তৃণমূল থেকে বিজেপি, মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক সবার কাছেই বরাবর আলাদা গুরুত্ব রেখেছে। ঠাকুরবাড়ির সদস্য শান্তনু ঠাকুরকে আগেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী করে মতুয়াগড়ের মন পেয়েছে বিজেপি। আর এবার রাজ্যের মন্ত্রিসভায় সেই এলাকারই প্রতিনিধি অশোক।

নিশীথ প্রামাণিক
শুভেন্দু অধিকারীর মতোই নিশীথও তৃণমূল থেকে আসা বিজেপি নেতা। তবে উত্থান উল্কাগতিতে। উত্তর গড় ধরে রাখতে নিশীথের উপর ভরসা রেখেছে তৃণমূল। ভরসা রেখেছেনও তিনি। তাই উত্তরের প্রতিনিধি হিসেবেই নিশীথকে মন্ত্রিত্ব দেওয়া হল? বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, এ ক্ষেত্রে মর্যাদা দেওয়া হল রাজবংশী সমাজকেও। রাজবংশী সমাজের মধ্যে নিশীথের জনপ্রিয়তা বিজেপির শক্তি বাড়াতে অনেকটাই সাহায্য করে বলে মনে করা হয়। এর আগে অমিত শাহের ডেপুটি হিসেবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছিলেন তিনি। আর এবার রাজ্যের মন্ত্রী নিশীথ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বড় অংশের মতে, দক্ষিণে যেমন মতুয়া ভোটব্যাঙ্কে বরাবরের নজর ছিল বিজেপির, তেমনই উত্তরে রাজবংশী ভোট। বিগত কয়ের বছরে রাজবংশী সমাজের মধ্যে নিশীথের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা উত্তরে বিজেপির শক্তি বৃদ্ধির পথে অনেকটাই সহায়ক হয়েছে।

ছিলেন শাহের ডেপুটি, পুরনো অভিজ্ঞতার কাঁধে ভর করেই এবার শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় নিশীথ
বাংলার মন্ত্রী হলেন নিশীথ

আগে ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী। ডেপুটি ছিলেন খোদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের। এবার বাংলায় বিজেপির সরকার তৈরি হতেই বড় দায়িত্ব সেই নিশীথ প্রামাণিকের কাঁধে। এদিন শুভেন্দু অধিকারী বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার পরপরই ৫ মন্ত্রী শপথ নেন। সেই তালিকাতেই রয়েছেন মাথাভাঙার বিধায়ক। যদিও এখনও দফতর বণ্টন হয়নি। অনেকেই বলছেন শীঘ্রই বড় কোনও দফতরের দায়িত্ব পেতে পারেন তিনি।   

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বড় অংশের মতে, দক্ষিণে যেমন মতুয়া ভোটব্যাঙ্কে বরাবরের নজর ছিল বিজেপির, তেমনই উত্তরে রাজবংশী ভোট। বিগত কয়ের বছরে রাজবংশী সমাজের মধ্যে নিশীথের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা উত্তরে বিজেপির শক্তি বৃদ্ধির পথে অনেকটাই সহায়ক হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কেউ কেউ বলছেন, তাঁরই পুরষ্কার পেলেন নিশীথ। কেউ আবার বলেছেন, অতীতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতা রয়েছে তরুণ বিধায়কের। সে ক্ষেত্রে রাজ্যপাট সামলানোর ক্ষেত্রেও তা কাজে লাগতে পারে। 



যদিও নিশীথের রাজনীতির শুরুটা তৃণমূলের হাত ধরে। পরে ফুল বদল। ২০১৯ সালে বিজেপির টিকিটে সাংসদ হন কোচবিহারের এই তরুণ। তারপর শুধুই উত্থান। এবার মাথাভাঙায় নিশীথ পান ১ লক্ষ ৪৩ হাজারের বেশি ভোট। ভোট শেয়ার ৫৯.২৭ শতাংশ। সেখানে তৃণমূল প্রার্থী পান ৮৬ হাজারের কিছু বেশি ভোট। আর বামেদের খাতায় মাত্র ৪ হাজার ৩০ ভোট। 

 ১৯৬৭ সালে অবিভক্ত মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র অজয় মুখার্জি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। সেই মেদিনপুর থেকেই এবার বাংলার সিংহাসনে শুভেন্দু। মেদিনীপুরের মেঠোপথ থেকে উঠে আসা সেই ‘বুবাই’ জাতীয় রাজনীতির শিরোনামে।

 মেদিনীপুর থেকে মহাকরণ, কতটা হাঁটলে মুখ্যমন্ত্রী হওয়া যায়!
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী


মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র থেকে বঙ্গ রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু, শুভেন্দু অধিকারীর যাত্রাপথ যেন এক মহাকাব্যিক বৃত্ত সম্পূর্ণ করল। ব্রিগেডের জনজোয়ারের মাঝে দাঁড়িয়ে বাংলার নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথও নিয়ে ফেলেছেন। ১৯৭০ সালের ১৫ ডিসেম্বর কাঁথির করকুলিতে জন্ম। পরিবার থেকে পাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধবদের কাছে ছোট থেকেই বুবাই নামে পরিচিত। বাবা বর্ষীয়ান নেতা শিশির অধিকারীর আদর্শে বড় হওয়া শুভেন্দুর শিক্ষা থেকে রাজনীতির হাতেখড়ি মেদিনীপুরেই। ১৯৮৭ সালে কাঁথি প্রভাত কুমার কলেজে কমার্সে ভর্তি হাওয়ার পরেই তাঁর ছাত্র রাজনীতির অভিষেক ঘটে। সেই সময়ে কলেজে কলেজে বাম ছাত্র সংগঠনের প্রবল দাপট। কিন্তু প্রবল বাম ঝড়ের মাঝে দাঁড়িয়েও লড়াকু শুভেন্দু দু-বার কলেজের জেনারেল সেক্রেটারি (GS) নির্বাচিত হন। রাজনীতির পাশাপাশি পড়াশোনাও পুরোদমে চালিয়ে গিয়েছেন। ভাল ছাত্র হিসাবে সুনাম ছিল। তাঁর প্রখর স্মৃতি শক্তির কথা এখনও ঘোরে বন্ধুদের মুখে মুখে। ২০১১ সালে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাশ করেন।

গ্রামের বুবাই আজ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী  
শুভেন্দুর উত্থানের দ্বিতীয় সোপান ছিল অবশ্যই পুরসভা ও সমবায় আন্দোলন। ১৯৯৫ সালে কাঁথি পুরসভার কাউন্সিলর হয়েই তাঁর সংসদীয় রাজনীতিতে হাতেখড়ি। এরপর কাঁথি কার্ড ব্যাঙ্ক ও কাঁথি কো-অপারেটিভ-সহ একাধিক সমবায় ব্যাঙ্কের শীর্ষ পদে থেকে জনভিত্তি মজবুত করেন তিনি। ২০০৯ সালে কিছুদিনের জন্য কাঁথি পুরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্বও সামলান শুভেন্দু। যদিও ২০০১ সালের বিধানসভা ভোটে মুগবেড়িয়া কেন্দ্রে তৎকালীন মৎস্যমন্ত্রী কিরণময় নন্দের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। কিন্তু সেই হার তাঁকে দমাতে পারেনি।



'প্রায় মা হতে চলেছিলাম...', অস্ত্রোপচারের আগে আচমকা পোস্ট অন্বেষার, অভিনেত্রীর সঙ্গে কী ঘটল?



২০০৬ সালে দক্ষিণ কাঁথি থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়ে তাঁর জয়যাত্রা শুরু হয়। ২০০৯ এবং ২০১৪ সালে তিনি তমলুক লোকসভা কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। তবে তাঁর রাজনীতির প্রধান ভরকেন্দ্র হয়ে ওঠে নন্দীগ্রাম। ২০১৬, ২০২১ এবং ২০২৬—টানা তিনবার তিনি নন্দীগ্রামের বিধায়ক নির্বাচিত হন। ২০২৬ সালে তিনি কেবল নন্দীগ্রামেই নয়, কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রেও জয়লাভ করে নতুন ইতিহাস তৈরি করেন। বিশেষত, ২০২১ এবং ২০২৬ সালে পরপর দু’বার মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে যেভাবে তিনি পরাজিত করেছেন তাতে তিনি নিজের রাজনৈতিক উচ্চতাকে যে এক অন্য শিখরে নিয়ে গিয়েছেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। 

মেদিনীপুরের মেঠোপথ থেকে উঠে আসা সেই ‘বুবাই’ আজ কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে লিখে ফেলেছেন বাংলার নতুন অধ্যায়। শুভেন্দুর হাত ধরেই দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী পেল পূর্ব মেদিনীপুর। ১৯৬৭ সালে অবিভক্ত মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র অজয় মুখার্জি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। সেই মেদিনপুর থেকেই এবার বাংলার সিংহাসনে শুভেন্দু। 
শিশির অধিকারী বললেন, "১৯৭১ সালে ইন্দিরা গান্ধী শুভেন্দু অধিকারীকে হেলিকপ্টারে তুলে পালিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। দ্বিতীয় বরকত সাহেব তিন বার ওকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। বলেছিলেন, কাছে রেখে পড়াশোনা করাবেন, বড় করবেন। দুই ভাই... বড় ভাই একটু শ্যামলা। আর ও একটু ফর্সা। কিন্তু তার মা তো তাকে কখনও ছাড়বে না। মা কখনও বাড়ি থেকে ছাড়বে না।"


 'ও একটু ফর্সা, ওকে হেলিকপ্টারে তুলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ইন্দিরা গান্ধী', আজকের দিনে দাঁড়িয়ে কী বললেন শিশির?
শিশির অধিকারী ও শুভেন্দু অধিকারী

বাংলায় নবম মুখ্যমন্ত্রী হলেন শুভেন্দু অধিকারী। শ্যামাপ্রসাদের বাংলায় প্রথম বিজেপি সরকারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী তিনি। আজ, আবেগে ভাসল ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড! আর খুশির আবহে কার্যত উৎসবের মেজাজ পূর্ব মেদিনীপুরে। জেলা জুড়ে সাজো সাজো রব। ছেলে শপথ নিলেন, বাড়ির লিভিং রুমে বসে সেই মুহূর্তের সাক্ষী থাকলেন বাবা শিশির অধিকারী। টিভিতে দেখলেন গোটা পর্ব। আর আবেগে ভাসলেন। তারপরই সাংবাদিকরা ঘিরে ধরলেন তাঁকে। হাজারও প্রশ্ন। সব প্রশ্নের উত্তর দিলেন শিশির। তুলে ধরলেন শুভেন্দুর ছোটবেলার বহু অজানা কথাও।

শিশির অধিকারী বললেন, “১৯৭১ সালে ইন্দিরা গান্ধী শুভেন্দু অধিকারীকে হেলিকপ্টারে তুলে পালিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। দ্বিতীয় বরকত সাহেব তিন বার ওকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। বলেছিলেন, কাছে রেখে পড়াশোনা করাবেন, বড় করবেন। দুই ভাই… বড় ভাই একটু শ্যামলা। আর ও একটু ফর্সা। কিন্তু তার মা তো তাকে কখনও ছাড়বে না। মা কখনও বাড়ি থেকে ছাড়বে না।”


শুভেন্দু যে ছোট থেকেই অধিকারী পরিবারের ধ্যানধারণা নিয়ে বড় হয়েছেন, সেটা আজ পর্যন্তও বহন করে নিয়ে চলেছেন বলে জানালেন বাবা। শিশির অধিকারী বলেন, ” আমাদের পরিবারের যে ধরন, সেটা ওর মধ্যে রয়েছে। কতটা এগোতে হবে, কতটা পিছোতে হবে, সেটা ও জানে।”

কিন্তু ছেলের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে কেন ব্রিগেডে গেলেন না? প্রশ্ন করতেই তিনি বলেন, “আমি যেতেই পারতাম। কিন্তু এই ভিড়ের মধ্যে কোথায় কী হবে, কে আবার আমাকে টার্গেট করে নেবে, আমি টিভিতেই দেখছি।” তাঁর মতে, বাংলাকে সোনার বাংলা গড়ে তুলতে অনেক শ্রম দিতে হবে, সব থেকে বেশি প্রয়োজন দিল্লির শুভেচ্ছা।

 বিজেপি সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরকার পরিচালনা করবেন মহাকরণ থেকে। কিন্তু, মহাকরণে সংস্কারের কাজ চলায় আপাতত বিধানসভায় বসবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর নাম ফলকও বসেছে। তবে আগামী সপ্তাহেই নবান্নে যাচ্ছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী।

মমতার ছেড়ে যাওয়া নবান্নেই প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক শুভেন্দুর, বড় সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা
শুক্রবার নবান্নে নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক হওয়ার কথা


প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নবান্ন থেকে সরকার পরিচালনা করবেন না তিনি। মহাকরণে বসবেন। কিন্তু, যতদিন মহাকরণের সংস্কারের কাজ শেষ না হচ্ছে, ততদিন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরকার পরিচালনা করবেন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর ঘর থেকে। তবে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক হবে মমতার ছেড়ে যাওয়া নবান্নেই। আগামী শুক্রবার নবান্নে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। সেখানে ওইদিন প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।

বুধ ও বৃহস্পতিবার বিধায়কদের শপথ গ্রহণ-



এদিন ব্রিগেডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি ছাড়াও শপথ নিয়েছেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক এবং ক্ষুদিরাম টুডু। তবে কে কোন দফতরের মন্ত্রী হবেন, এদিন তা স্পষ্ট হয়নি। বাকি মন্ত্রীরা পরে শপথ নেবেন। আর নবনির্বাচিত বিধায়করা আগামী বুধবার ও বৃহস্পতিবার শপথ নেবেন। তার আগে মঙ্গলবার রাজ্যপাল আরএন রবি প্রোটেম স্পিকার হিসেবে তাপস রায়কে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। পরের ২ দিন তিনি নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। তাপসকে সাহায্য করবেন শঙ্কর ঘোষ ও জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।

নবান্নে যাবেন শুভেন্দু-

বিজেপি সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী সরকার পরিচালনা করবেন মহাকরণ থেকে। কিন্তু, মহাকরণে সংস্কারের কাজ চলায় আপাতত বিধানসভায় বসবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর নাম ফলকও বসেছে। তবে আগামী সপ্তাহেই নবান্নে যাচ্ছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার নবান্ন সভাঘরে প্রথম বড় বৈঠক করবেন শুভেন্দু। সূত্রের খবর, রাজ্যের ডিজিপি, এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) থেকে শুরু করে সব জেলার পুলিশ সুপারদের নিয়ে বৈঠকে বসতে চলেছেন বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার বিকেল ৫টায় এই বৈঠক হবে।

এরপর শুক্রবার নবান্নেই বিজেপি সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের সম্ভাবনা। শুক্রবার নবান্নে যাবেন শুভেন্দু। নবান্নেই বসবে নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক। সূত্রের খবর, মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প রাজ্যে এতদিন চালু করেননি সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বার্তা দিয়েছিলেন, রাজ্যের মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই আয়ুষ্মান ভারতকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে। শুক্রবার সেই নিয়ে শুভেন্দুর মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নেবে বলে সূত্রের খবর। আর একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে।

 ছাব্বিশের নির্বাচনে বাংলায় বিশেষ পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তাঁর প্রশংসা করে বিভিন্ন মহল। এবার বাংলায় নতুন সরকার গঠন হতেই বড় দায়িত্ব পেলেন সুব্রত গুপ্ত। তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পরামর্শদাতা হিসেবে নিয়োগ করলেন রাজ্যপাল আরএন রবি।


ছাব্বিশের নির্বাচনে অবসরপ্রাপ্ত আইএএস সুব্রত গুপ্তকে বিশেষ পর্যবেক্ষক করে পাঠিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। বাংলায় ভোট-পর্ব অবাধ ও সুষ্ঠু করতে বাংলায় মাটি কামড়ে পড়েছিলেন সুব্রত গুপ্ত। এবার বাংলায় রক্তপাতহীন ভোট হয়েছে। ভোট-পর্বে কারও মৃত্যু হয়নি। ভোট লুঠের কোনও অভিযোগ উঠেনি। ভোটাররা এর জন্য কমিশনকে ধন্যবাদ জানান। একইসঙ্গে অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে ভোট-পর্ব শেষ করার পিছনে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল ও বিশেষ পর্যবেক্ষকেরও বড় ভূমিকা রয়েছে বলে ওয়াকিবহাল মহলের মত।



 'বাম ও অতিবামরাও আসতে পারেন...আমার কোনও ইগো নেই', বিজেপির বিরুদ্ধে মমতা হাত ধরতে চাইতেই কী বলল লাল পার্টি?

ভোট-পর্বের পর সুব্রত গুপ্তর সঙ্গে সাক্ষাৎ শুভেন্দুর-

ভোট-পর্বের পর শুভেন্দু অধিকারী দেখা করেছিলেন সুব্রত গুপ্তের সঙ্গে। জানা গিয়েছে, সুব্রত গুপ্তের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন তিনি। তখন তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শদাতা হওয়ার প্রস্তাব দেন। গত ৭ মে নির্বাচন কমিশন সুব্রত গুপ্তকে বিশেষ পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়। তারপরই এদিন রাজ্যপালের আদেশানুসারে সুব্রত গুপ্তকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পরামর্শদাতা হিসেবে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

ভোটের প্রচারের সময় নাম না করে একাধিকবার সুব্রত গুপ্তকে নিশানা করেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন আবার ব্রিগেডে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুব্রত গুপ্ত। টিভি৯ বাংলাকে ব্রিগেডে এসে বলেছিলেন, “এটা গণতন্ত্রের অন্যতম ধাপ। এখানে আসতে পেরে ভালো লাগছে।” সুব্রত গুপ্তকে মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শদাতা করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বিজেপির সদ্য জয়ী বিধায়ক সজল ঘোষ বলেন, “আগের সরকার তাঁকে কাজে লাগায়নি।”

​সাগরে নবনির্বাচিত বিজেপি প্রার্থীর জয়ের পর ব্লক জুড়ে বিজয় উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তবে এই উৎসব যেন সাধারণ মানুষের জন্য বিড়ম্বনার কারণ না হয়, সে বিষয়ে কড়া বার্তা দিলেন সাগর ব্লক বিজেপির মুখপাত্র অরুনাভ দাস।


​তিনি সাফ জানান, জয় উদ্‌যাপনের নামে কোনোভাবেই জনজীবন বিপর্যস্ত করা যাবে না। মানুষের আনন্দ যাতে নিরানন্দে পরিণত না হয়, সেদিকে কর্মীদের সজাগ থাকতে হবে। 


বিশেষ নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, রাত ১০টার মধ্যেই সমস্ত বিজয় সম্মেলন ও অনুষ্ঠান শেষ করতে হবে। মাইকের ব্যবহার এবং জমায়েতের ক্ষেত্রেও সংযম বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলের এই শৃঙ্খলাপরায়ণ মনোভাবকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজনীতির কারবারিরা বলেন, শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঘরের মাঠে’ জিতেছেন। দলের এই জয়ের তাঁর বড় অবদান রয়েছে। তাছাড়া রাজ্যের মন্ত্রী হিসেবে বেশ কয়েকবছর কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। শেষপর্যন্ত শুভেন্দুকে নিয়ে জল্পনাতেই সিলমোহর পড়ল।

অধিকারীর হাতেই অধিকারের রাশ, শুভেন্দুতেই আস্থা পদ্মফুলের
মুখ্যমন্ত্রী পদে শনিবার শপথ নেবেন শুভেন্দু অধিকারী

সব জল্পনার অবসান। কাঁথির শান্তিকুঞ্জের মেজো ছেলেই বসছেন মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে। শুক্রবার বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে অমিত শাহের বৈঠকের পরই শুভেন্দু অধিকারীর নাম বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করা হল। স্বাভাবিকভাবেই বিজেপির পরিষদীয় দলনেতাই মুখ্যমন্ত্রী হবেন। বাংলায় বিজেপির প্রথম সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আগামিকাল ব্রিগেড ময়দানে শপথ নেবেন শুভেন্দু।

বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনে পর্যবেক্ষক হিসেবে বাংলায় এসেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সহকারী পর্যবেক্ষক হিসেবে আসেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি। এদিন বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করেন তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে বৈঠক শুরুর আগে বিজেপির কোনও বিধায়ক-নেতাই মুখ খোলেননি। ফলে জল্পনা ক্রমশ বাড়ে। নানা নাম সামনে আসে।



একাধিক নাম নিয়ে আলোচনা হলেও শুভেন্দু যে দৌড়ে এগিয়ে ছিলেন, তা নিয়ে দ্বিমত নেই রাজনীতির কারবারিদের। ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজনীতির কারবারিরা বলেন, শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঘরের মাঠে’ জিতেছেন। দলের এই জয়ের তাঁর বড় অবদান রয়েছে। তাছাড়া রাজ্যের মন্ত্রী হিসেবে বেশ কয়েকবছর কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। শেষপর্যন্ত শুভেন্দুকে নিয়ে জল্পনাতেই সিলমোহর পড়ল। বাংলায় শাসকদল হতে চলেছে বিজেপি। এদিন সেই দলের পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত হলেন শুভেন্দু। আর শাসকদলের পরিষদীয় দলনেতা স্বাভাবিকভাবে মুখ্যমন্ত্রী হবেন।

কী বললেন অমিত শাহ?

শুভেন্দুকে পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করে অমিত শাহ বলেন, “আটটি প্রস্তাব এসেছিল। সব প্রস্তাবে পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ছিল। দ্বিতীয় কোনও নাম প্রস্তাব করার কথা বলা হয়েছিল। সেজন্য সময়ও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, দ্বিতীয় কোনও নাম কেউ প্রস্তাব করেননি। তাই, শুভেন্দুকেই পরিষদীয় দলনেতা করা হল।”

শনিবার শপথ গ্রহণ-

শনিবার সকাল ১০টায় ব্রিগেড ময়দানে বাংলার প্রথম বিজেপি সরকারের শপথ অনুষ্ঠান হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শপথ অনুষ্ঠানে থাকবেন। থাকবেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নিতিন গড়কড়ি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান-সহ এক ডজনের বেশি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। দেশের ২০টি রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের মুখ্যমন্ত্রীরাও থাকবেন। সমস্ত দলকে শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এককথায় জাঁকজমকপূর্ণ শপথ অনুষ্ঠান। আর আগামিকাল সেই শপথ অনুষ্ঠানেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন শুভেন্দু। ইতিমধ্যে পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথিতে তাঁর শান্তিকুঞ্জের বাড়িতে নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করা হয়েছে।

 ব্রিগেড গ্রাউন্ডকে নিরাপত্তার খাতিরে মোট ৩৫টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। কয়েকটি সেক্টর নিয়ে তৈরি করা হয়েছে একটি করে ব্লক। প্রতিটি ব্লকের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন একজন করে আইপিএস (IPS) পদমর্যাদার অফিসার। নিরাপত্তার এই সামগ্রিক ব্যবস্থার তদারকি করবেন স্বয়ং কলকাতা পুলিশের কমিশনার।

নিরাপত্তার চাদরে ব্রিগেড, মোতায়েন আইপিএস অফিসার ও কেন্দ্রীয় বাহিনী, নজরদারিতে ড্রোন
ব্রিগেডে জোর প্রস্তুতি


কলকাতা: ব্রিগেডে আয়োজিত মেগা অনুষ্ঠানের নিরাপত্তায় কোনও খামতি রাখতে চাইছে না প্রশাসন। শপথ গ্রহণ ও বিজয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে অভূতপূর্ব নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে গোটা ময়দান চত্বরে। কলকাতা পুলিশের পাশাপাশি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকছে কেন্দ্রীয় বাহিনীও। ব্রিগেড গ্রাউন্ডকে নিরাপত্তার খাতিরে মোট ৩৫টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। কয়েকটি সেক্টর নিয়ে তৈরি করা হয়েছে একটি করে ব্লক। প্রতিটি ব্লকের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন একজন করে আইপিএস (IPS) পদমর্যাদার অফিসার। নিরাপত্তার এই সামগ্রিক ব্যবস্থার তদারকি করবেন স্বয়ং কলকাতা পুলিশের কমিশনার।


অনুষ্ঠান মঞ্চের সামনের দিকের ব্লকগুলি মূলত ভিভিআইপিদের জন্য সংরক্ষিত থাকছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রায় ৪০ জন ভিভিআইপি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। তাঁদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এবং ব্রিগেডের বাইরে ড্রোন ব্যবহার করে নজরদারি চালানো হবে। এছাড়া মাঠের চারপাশের বহুতল ভবনগুলির ছাদে মোতায়েন থাকবেন পুলিশ কর্মীরা।



অনুষ্ঠানে আসা প্রত্যেক ব্যক্তিকে কড়া চেকিংয়ের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। আমন্ত্রিত অতিথি হোক বা সাধারণ দর্শক—নিরাপত্তা তল্লাশি সবার জন্য বাধ্যতামূলক। পুলিশ সূত্রে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, মাঠে কোনোভাবেই ছাতা, ব্যাগ বা জলের বোতল নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। কেউ এই ধরনের সামগ্রী নিয়ে এলে তাঁকে গেট থেকেই ফেরত পাঠানো হবে। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষকে এই সামগ্রীগুলি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পুরো মাঠ এবং তার সংলগ্ন এলাকা বর্তমানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে রয়েছে। কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে শহরজুড়ে।
বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার এই প্রকল্পের বকেয়া টাকা ছাড়ার জন্য কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের দ্রুত চুক্তি স্বাক্ষর করার প্রক্রিয়া চলছে। বকেয়া বরাদ্দের পাশাপাশি, রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে এবং ন্যাশনাল হেলথ অথরিটির সঙ্গে রাজ্যের বৈঠক হয়েছে বলে জানা গিয়েছে

বড় খবর! শুভেন্দু শপথ নেওয়ার আগেই কোটি কোটি বকেয়া টাকা পাওয়া শুরু
অমিত শাহ ও শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী

 নতুন সরকার গঠনের পরেই বকেয়া টাকা পাচ্ছ বাংলা। জল জীবন মিশন প্রকল্পের ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা পেতে চলেছে বিজেপির নতুন সরকার। নবান্ন সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই রাজ্য সরকারের সঙ্গে মউ স্বাক্ষরের পরেই রাজ্যের কোষাগারে ঢুকবে ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। প্রসঙ্গত, গত ২ বছর ধরে জল জীবন মিশনের টাকা বরাদ্দ করেনি কেন্দ্র। কিন্তু নতুন সরকার আসতেই কোষাগারের মুখ খুলে দিল কেন্দ্রীয় সরকার।


জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় জল শক্তি মন্ত্রকের সচিব ভি এল কান্থা রাও এর সঙ্গে রাজ্যের জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের সচিবের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রের খবর। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলার মধ্যেই কেন্দ্র থেকে রাজ্যের জন্য বড় অঙ্কের বকেয়া বরাদ্দ মঞ্জুর করা হয়েছে।জলজীবন মিশনের অধীনে রাজ্যের জন্য প্রায় ২৭০০ কোটি টাকার বকেয়া বরাদ্দ অনুমোদন করেছে কেন্দ্র।


বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার এই প্রকল্পের বকেয়া টাকা ছাড়ার জন্য কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের দ্রুত চুক্তি স্বাক্ষর করার প্রক্রিয়া চলছে। বকেয়া বরাদ্দের পাশাপাশি, রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে এবং ন্যাশনাল হেলথ অথরিটির সঙ্গে রাজ্যের বৈঠক হয়েছে বলে জানা গিয়েছ। মূলত, নতুন করে সরকার গঠন ও প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হতেই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বকেয়া টাকা ছাড়ার এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রের খবর।