WEATHER

Top News


এল মেনচোর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা শহরে আগুন জ্বলতে থাকে। তাঁর কার্টেলের সদস্যরা বন্দুক নিয়ে রাস্তায় নামে। পশ্চিম জালিস্কো শহরের কমপক্ষে ২০টিরও বেশি রাস্তা অবরোধ করে তারা। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় রাস্তায় থাকা গাড়ি-ট্রাক।


মেক্সিকো সিটি: জ্বলছে মেক্সিকো। সে দেশের তথা বিশ্বের অন্যতম ভয়ঙ্কর ও মোস্ট ওয়ান্টেড মাদক পাচারকারী এল মেনচো নিহত। মেক্সিকোর সেনা দেশ জুড়ে মাদক বিরোধী অভিযান চালাচ্ছিল। সেখানেই সেনার সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হন ড্রাগ কার্টেলের শীর্ষ নেতা এল মেনচো। গুলির আঘাতেই মৃত্যু হয় তাঁর।

মেক্সিকোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, জালিস্কো শহরে সামরিক অভিযানের সময় আহত হন এল মেনচো। তিনি জালিস্কো নিউ জেনেরেশন কার্টেলের নেতা ছিলেন। তাঁর মাথার উপরে ১৫ মিলিয়ন ডলারের পুরস্কার ছিল। আমেরিকা এই গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন বলে ঘোষণা করেছিল। সেনার সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে আহত হন এল মেনচো। তাঁকে যখন আকাশপথে নিয়ে আসা হচ্ছিল মেক্সিকো সিটিতে, তখনই তাঁর মৃত্যু হয়।


এদিকে, এল মেনচোর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা শহরে আগুন জ্বলতে থাকে। তাঁর কার্টেলের সদস্যরা বন্দুক নিয়ে রাস্তায় নামে। পশ্চিম জালিস্কো শহরের কমপক্ষে ২০টিরও বেশি রাস্তা অবরোধ করে তারা। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় রাস্তায় থাকা গাড়ি-ট্রাক। এরপরে আশেপাশের রাজ্যগুলিতেও ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। বিমানবন্দরে ঢুকেও তাণ্ডব চালানো হয়।

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবম নাগরিকদের শান্ত থাকতে আবেদন করেছেন। কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্য় প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করছে শান্তি ফেরাতে।

জানা গিয়েছে, মেক্সিকোর সেনাবাহিনী অভিযান চালালেও, তাদের বিভিন্ন তথ্য দিয়ে মদত দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।  অভিযানে এল মেনচো ছাড়াও ড্রাগ  কার্টেলের আরও ছয়জনকে নিকেশ করেছে সেনা। গ্রেফতার করা হয়েছে দুইজনকে। তাদের কাছ থেকে রকেট লঞ্চার থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তিনজন সেনা জওয়ান আহত হয়েছেন সংঘর্ষে।


 কয়েকদিনের মধ্যেই রাজ্যে নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে পারে। এদিন সেলিম জানিয়ে দিলেন, ১ মার্চ থেকে সিপিএম নির্বাচনী প্রচার শুরু করবে। সিপিএমের ইস্তাহার নিয়ে তিনি বলেন, রাজ্যের জন্য যেমন ইস্তাহার তৈরি হবে। তেমনই জেলাভিত্তিক ও বিধানসভাভিত্তিক ইস্তাহার হবে। একইসঙ্গে জানালেন, অন‍্যবারের থেকে এবার মহিলা প্রার্থী বেশি থাকবে সিপিএমের।

অনেক বেশি দেব', মমতার 'চটিতে' পা গলালেন সেলিম?
লক্ষ্মীর ভান্ডার নিয়ে কী বললেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম?

বিধানসভা নির্বাচনের আগেই লক্ষ্মীর ভান্ডারে ৫০০ টাকা বাড়িয়েছে রাজ্য সরকার। বিজেপি আরও বেশি টাকা ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। নতুন দল গঠন করে হুমায়ুন কবীরও বলছেন, ক্ষমতায় এলে তাঁরা মহিলাদের আরও বেশি টাকা দেবেন। পিছিয়ে রইলেন না সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমও। এবার তিনিও প্রতিশ্রুতি দিলেন, বামপন্থীরা ক্ষমতায় এলে আরও বেশি দেওয়া হবে। কীভাবে তা সম্ভব হবে, তাও জানিয়ে দিলেন। একইসঙ্গে তৃণমূল ও বিজেপিকে খোঁচা দিলেন তিনি।


রবিবার সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির একটি অনুষ্ঠানে এসেছিলেন সেলিম। সেখানে বৃন্দা কারাতের লেখা ‘রীতা হয়ে ওঠা’ বইয়ের উদ্বোধন করেন তিনি। এই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “মেয়েদের শিক্ষার জন্য আজও লড়তে হয়। স্কুলছুটের সংখ্যা বাড়ছে। তার মানে অল্প বয়সে বিয়ে। অল্প বয়সে সন্তান। কুসংস্কার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হচ্ছে। মেয়ে পাচার বেড়ে যাচ্ছে। ড্রপ আউট কমানোর জন্য স্কুল, কলেজের মেয়েদের পরিবহণ ফ্রি করা যেতে পারে।”


আর এই অনুষ্ঠানেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভিন্ন প্রকল্পের সমালোচনা করেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক। তিনি জানান, কেরল ২৫ বছর আগে কুটুম্বশ্রী চালু করেছে। মমতা সরকারের সব ‘শ্রী’ টুকলি বলে কটাক্ষ করেন। এরপরই রাজ্য সরকারের লক্ষ্মীর ভান্ডার নিয়ে তিনি বলেন, “মহিলাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তাঁদের মজুরি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। কাজ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রান্না-বান্নার খরচ বেড়ে গিয়েছে। ফলে আয় কমে গিয়েছে। ব্যয় বেড়ে গিয়েছে। এখন নির্বাচন যেহেতু পার হতে হবে, এজন্য বিজেপি হোক কিংবা তৃণমূল এসব করে। এগুলোকে বলে মন ভোলানো। কিন্তু, এটা অধিকার নয়। আমরা চাই, এগুলো অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। তামিলনাড়ু ২ হাজার দিচ্ছে। কেরল দিচ্ছে। অন্যান্য রাজ্য দিচ্ছে। এখানে যেন মনে হচ্ছে, এটাই বিশাল ভান্ডার। অর্পিতার খাটের নিচ থেকে যেটা বেরিয়েছিল সেটা ভান্ডার। মন্ত্রীদের ঘর থেকে যেটা বেরিয়েছে সেটা ভান্ডার। ৫০০, ১০০০, ১৫০০ টাকা দিয়ে ভান্ডার কেন বলছে? লুঠ করেছে ভান্ডার। দিচ্ছে ক্ষুদ্র জরিমানা।”


এরপরই বুকে আঙুল ঠেকিয়ে সেলিম বলেন, “বামপন্থীরা আসলে এর থেকে অনেক বেশি দিতে পারব। কারণ, দুর্নীতি বন্ধ করতে পারব। আমরা সার্ভে করেছি, কত মহিলা পাননি। ওরা বলেছে, আমাদের মিছিলে এসো, তবে ভাতা দেব। আমরা অধিকারবোধ তৈরি করতে চাই।”

বিজেপিকে নিশানা করে তৃণমূল প্রায়ই বলে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ করে দেবে। এই নিয়ে এদিন সেলিম বলেন, “যোগীরাজ্যে যা যা হচ্ছে, সবই তো এ রাজ্যে হচ্ছে। ব্রিগেডে প্যাটিস বিক্রির জন্য মারধর থেকে শুরু করে গণপিটুনি, সবই তো হচ্ছে। মোদী এবং মমতা ভয় দেখান। তারপর বলেন, আমি ছাড়া তোমাদের কে বাঁচাবে। তারপর তাঁরাই মারেন।”

কয়েকদিনের মধ্যেই রাজ্যে নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে পারে। এদিন সেলিম জানিয়ে দিলেন, ১ মার্চ থেকে সিপিএম নির্বাচনী প্রচার শুরু করবে। সিপিএমের ইস্তাহার নিয়ে তিনি বলেন, রাজ্যের জন্য যেমন ইস্তাহার তৈরি হবে। তেমনই জেলাভিত্তিক ও বিধানসভাভিত্তিক ইস্তাহার হবে। একইসঙ্গে জানালেন, অন‍্যবারের থেকে এবার মহিলা প্রার্থী বেশি থাকবে সিপিএমের।


এই তালিকায় মালদহ জেলা পরিষদ সদস্য এবং পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যরাও রয়েছেন। তাঁর রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন বলে দাবি খগেনের। যদিও তাঁদের নাম বলতে চাননি তিনি। খগেনের আশঙ্কা, "খুব গোপনে তাঁরা যোগাযোগ রাখছেন। তাঁদের নাম প্রকাশ করলে তৃণমূল তাঁদের ক্ষতি করে দিতে পারে।"

তৃণমূলের কয়েকজন নেতা বিজেপির সঙ্গে রাতে যোগাযোগ করছেন', বিস্ফোরক মৌসম বেনজির নূর
মৌসম বেনজির নূর, কংগ্রেস নেত্রী

রাতের অন্ধকারে তৃণমূলের কিছু নেতা বিজেপির সঙ্গে গোপন বৈঠক করছেন। কংগ্রেসে ফিরে এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সাংসদ মৌসম বেনজির নূর। তাঁর বক্তব্য, “তৃণমূল বিজেপি সেটিং আছে। আমি যখন তৃণমূলে ছিলাম, তখনও দেখেছি টাকার লেনদেন আর ক্ষমতার জন্যে কিছু নেতা এসব করেন।” উল্লেখ্য, এদিনই আবার প্রায় একই ধরনের বিস্ফোরক দাবি করেন বিজেপির রাজ্য নেতা তথা উত্তর মালদহের সাংসদ খগেন মুর্মু। তাঁর বক্তব্য, মালদহের তৃণমূলের এক বিধায়ক, জেলার দুই সহ সভাপতি, তিন সাধারণ সম্পাদক এবং তৃণমূলের আরও আট জন নেতা গোপনে যোগাযোগ করছেন বিজেপির সঙ্গে। গোপন বৈঠকও করেছেন তাঁরা।


তাঁর দাবি, এই তালিকায় মালদহ জেলা পরিষদ সদস্য এবং পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যরাও রয়েছেন। তাঁর রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন বলে দাবি খগেনের। যদিও তাঁদের নাম বলতে চাননি তিনি। খগেনের আশঙ্কা, “খুব গোপনে তাঁরা যোগাযোগ রাখছেন। তাঁদের নাম প্রকাশ করলে তৃণমূল তাঁদের ক্ষতি করে দিতে পারে।” একই সাথে তাঁর বক্তব্য, তবে যোগাযোগ যাঁরাই করুক, তৃণমূলের পচে যাওয়াদের বিজেপিতে স্থান নেই। দুর্নীতির সঙ্গে যুক্তদের নেওয়া হবে না।




গলা টিপে ধরে', বাগুইআটিতে বাড়ির সামনে মদ্যপানের প্রতিবাদ করে আক্রান্ত মহিলা ও ছেলে
অন্যদিকে তৃণমূলের মালদহ জেলার চেয়ারপার্সন চৈতালি সরকারও এই গোপন যোগাযোগের কথা উড়িয়ে দেননি। তাঁর কথায়, দলে এমন কিছু নেতা রয়েছেন, যাঁরা দলের মধ্যে থাকে শুধু টাকা আর ক্ষমতার জন্যে। সেই সব নেতারাই বিজেপির সাথে যোগাযোগ করছেন। উল্লেখ্য, তৃণমূলের নতুন কমিটি গঠনের পরেই মালদহ জেলা তৃণমূলের অন্দরে নেতাদের মধ্যে সংঘাত চরমে। সম্পাদকের পদ বা অন্য পদ না পেয়ে ক্ষুব্ধ বহু নেতা।

 বন্ধুর চিন্তাভাবনা ধরতে পারেননি? প্রশ্নটা করতেই বললেন, "বন্ধু হিসাবে আমার ব্যর্থতাও হতে পারে। কেন শুনল না! আমি তো ওকেও চিনি। একেবারেই দায়িত্বজ্ঞানহীন-হঠকারী সিদ্ধান্ত। দূরটা দেখল না, হয়তো ইমিডিয়েট কোনও লাভ ক্ষতি দেখেছে। আমার ধারণা পস্তাবে। আমার ধারণা বেশি দিন লাগবে না, বাড়ি ফিরে আফসোস করবে, এটা কেন করলাম।"   


তাজমহল ভেঙে যেতে পারে, মানুষ ভালবাসা বন্ধ করে দেবে না', বন্ধুকে কী বার্তা সৃজনের?
সৃজন ভট্টাচার্য, সিপিএম নেতা

 বন্ধু-বিয়োগ! গত ২৪ ঘণ্টায় তাঁর সাক্ষাৎ অনেকেই পেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেভাবে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে চাননি তিনি। তিনিও কি বন্ধুর পথেই পা বাড়িয়ে রয়েছেন? গত তিন-চার দিনে প্রতীক-উর পর্বে এ জল্পনাও উল্কাগতিতে ছড়িয়েছে। প্রতীক-উরের তৃণমূলে যোগ দেওয়ার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়েছে। বন্ধুকে বোঝানো তাঁর সমস্ত চেষ্টা-প্রয়াস ব্যর্থ হয়েছে, তাঁর কথামতো ব্যর্থ হয়েছে ‘বন্ধুত্বও’, মনের ভিতর দু’দিন ধরে চলা উথালপাতাল এখন শান্ত হয়েছে, তাই খানিকটা মনের কথা বলতে পারলেন, সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন সিপিএমের আরেক তরুণ নেতা সৃজন ভট্টাচার্য। প্রতীক-উরের চলে যাওয়া নিয়ে বললেন বটে, তবে তাঁর গলায়, তাঁর বলা প্রতিটি শব্দে ধরা পড়ল কষ্ট, বন্ধুকে ধরে না রাখতে পারার আক্ষেপ, ‘ব্যর্থ’ বন্ধু হওয়ার দুঃখ! প্রতীক-উরের বিরুদ্ধে একটিও আক্রমণাত্মক শব্দ শোনা গেল না তাঁর মুখে, বরং তাঁর প্রতিটা শব্দচয়নে এটাই বোঝানোর চেষ্টা করলেন সিপিএমের তরুণ নেতারা এখনও তাঁদের আদর্শে অটুট রয়েছেন।


তিনি বললেন, “আমি তো এতদিন একরকমভাবে চিনি এসেছি ওকে। রাতারাতি তেড়ে গালাগাল করার মতো প্রফেশনাল এখনও হয়ে উঠতে পারিনি। মনের মধ্যে, মাথায় অনেক রকম জিনিস ঘুরছে। এখন কিছুটা থিতু হয়েছে।” প্রতীক-উর দলের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। কিন্তু দল যে তাঁকে রাখার জন্য সব রকমের চেষ্টা করেছে, তা এদিনও বললেন সৃজন। বললেন, “শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমাদের পার্টি নেতৃত্ব, আমি ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। খানিকটা নজিরবিহীনভাবেই রাজ্য সম্পাদককে এত কথা বলার পরও রাজ্য কমিটির বৈঠকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বিমান দা ফোন করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত আমাদের দলও চেয়েছিল, কী মান অভিমান রয়েছে, মিটিয়ে নিতে। শেষমেশ বুঝলাম, ও সিদ্ধান্ত নিয়েই নিয়েছে।” তখনই সৃজনের গলায় সেই এক রাশ গ্লানি।



বন্ধুর চিন্তাভাবনা ধরতে পারেননি? প্রশ্নটা করতেই বললেন, “বন্ধু হিসাবে আমার ব্যর্থতাও হতে পারে। কেন শুনল না! আমি তো ওকেও চিনি। একেবারেই দায়িত্বজ্ঞানহীন-হঠকারী সিদ্ধান্ত। দূরটা দেখল না, হয়তো ইমিডিয়েট কোনও লাভ ক্ষতি দেখেছে। আমার ধারণা পস্তাবে। আমার ধারণা বেশি দিন লাগবে না, বাড়ি ফিরে আফসোস করবে, এটা কেন করলাম।”   


দলের প্রতি বন্ধুর ক্ষোভকে মান্যতা দিয়েছেন সৃজন, কিন্তু তাঁর তৃণমূলে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সেই মান্যতাকে মিথ্যা করে দিয়েছে, সেটাও বললেন। তাঁর কথায়, “প্রায় জেদ করে সব বাঁধন ছিন্ন করে বেরিয়ে যাওয়া, এই রাগগুলোর মানে থাকত, যদি ও তৃণমূলের পতাকাটা হাতে না নিয়ে নিত। একবার তৃণমূলে জয়েন করে গেল মানে, এখন মনে হচ্ছে, মনে হবে, তৃণমূলে জয়েন করার উদ্দেশ্য ছিল। সেই পথ প্রশস্ত করতেই এতগুলো কথা বলেছে।”

সিপিএমের তরুণ প্রজন্ম আদর্শ বদলাবে না, এটা সূর্য পূর্ব দিকে ওঠার মতো চিরন্তন সত্য! কিন্তু সেই চিন্তাভাবনায় কিছুটা ভাঙন ধরেছে প্রতীক উরের পদক্ষেপে? প্রশ্নটা রাখা হয়েছিল সৃজনের কাছে। বললেন, “সত্যিই একজন চলে গিয়েছে, অস্বীকার করব কী করে! কিন্তু যারা এটার ওপর দাঁড়িয়ে একটা সরলীকরণের জায়গায় চলে যাবেন, তাদের উদ্দেশে বলব, তাজমহলও তো ভেঙে যেতে পারে, তার মানে মানুষ প্রেম করা বন্ধ করে দেবে, তা নয়। লক্ষ লক্ষ ছেলেমেয়ে গত কয়েক বছরে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।” প্রতীক উরের চলে যাওয়াটা হয়তো সৃজনদের আরও ঐক্যবব্ধ করে দিয়ে গেল- এই বার্তা দিয়েই শেষ করলেন সৃজন! 


প্রয়াত হলেন রাজনীতিক মুকুল রায়। এক সময়ে সবুজ শিবিরে সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলেন এই নেতা। দিনভর মুকুলকে নিয়ে স্মৃতিচারণা চলবে আজ। লক্ষণীয় টলিউডের নায়িকা কৌশানী মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে লড়েছিলেন গেরুয়া শিবিরের হয়ে। সবুজ শিবিরে দীর্ঘদিনের আধিপত্য থাকলেও, এক সময়ে মুকুল দল বদল করেন। সবুজ শিবির টিকিট দিয়েছিল কৌশানীকে। গেরুয়া শিবির থেকে লড়েই অভিনেত্রীকে হারিয়ে দেন মুকুল।


২০২১-এ কৌশানীকে হারিয়ে জিতেছিলেন মুকুল, শিবির বদলে খারাপ লাগে কৌশানীর?


প্রয়াত হলেন রাজনীতিক মুকুল রায়। এক সময়ে সবুজ শিবিরে সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলেন এই নেতা। দিনভর মুকুলকে নিয়ে স্মৃতিচারণা চলবে আজ। লক্ষণীয় টলিউডের নায়িকা কৌশানী মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে লড়েছিলেন গেরুয়া শিবিরের হয়ে। সবুজ শিবিরে দীর্ঘদিনের আধিপত্য থাকলেও, এক সময়ে মুকুল দল বদল করেন। সবুজ শিবির টিকিট দিয়েছিল কৌশানীকে। গেরুয়া শিবির থেকে লড়েই অভিনেত্রীকে হারিয়ে দেন মুকুল।


কৌশানী সম্প্রতি এক সাক্ষাত্‍কারে TV9 বাংলাকে বলেন, ”আমি অত্যন্ত পোড় খাওয়া একজন নেতার বিরুদ্ধেই লড়েছিলাম। ভালো লড়াই করেছিলাম। এমন নয় যে আমি ট্রোল হয়েছিলাম ভোটে লড়াই করে। তবে এটা ঠিক, মানুষ কে জিতলেন, সেটাই মনে রাখেন। সেই হিসাবে ওটা আমার খারাপ সময়।”



আলো জ্বেলে ঘুম? অজান্তেই শরীরের ভেতরে কী ক্ষতি করছেন জানেন?
গেরুয়া শিবিরের হয়ে মুকুল জেতার পর, তিনি আবার শিবির বদল করেন। সুবুজ শিবিরে তিনি ফেরার পর দলও তাঁকে গ্রহণ করে। সেই বিষয়টা কতটা খারাপ লেগেছিল কৌশানীর?  প্রশ্নের উত্তরে কৌশানী খোলসা করলেন, ”আমি ঘুম থেকে উঠতাম এটা ভেবে যে, একজনকে পরের ২৪ ঘণ্টা বিশ্বাস করতে পারব। কিন্তু ৪৮ ঘণ্টা হতে না হতে দেখতাম, কেউ পিছনে ছুরি মেরে দিয়েছে! এটা একটা বড় শিক্ষা হলো। যখন উনি এই দলে ফিরলেন, আমার ব্যক্তিগতভাবে খুব খারাপ লেগেছিল। আমার বাবা-মায়ের সঙ্গে শেয়ার করেছিলাম যে, ‘এটা কী হল!’


পরে বাবা আমাকে বুঝিয়েছিলেন, ”এটাই তো পলিটিক্স। এটাই তোকে শিখতে হবে। এগুলো তোর উপর প্রভাব ফেললে হবে না। তারপর দেখলাম, বিভিন্ন লোক পর-পর শিবির বদল করছে। সোম-বুধ-শুক্র একটা শিবির, বাকিদিনগুলো অন্য শিবির। এটা খুবই স্বাভাবিক। যেমন ছবিতেও হয়। পরিচালক বললেন, আমাকে নিয়েই একটা গল্প ভেবেছেন। লুক সেট হল। তারপর দেখলাম, আমি ছবিটার থেকে বাদ পড়ে গিয়েছি!”


সোমবার থেকেই নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে রবিবার ভার্চুয়াল বৈঠক হয়। মুখ্যসচিব, ডিজিপি, কলকাতা পুলিশের পুলিশ কমিশনার ছিলেন। আগামিকাল থেকে কী কী তাঁদের করণীয়, এই বিষয়টি নিয়েই মূলত বৈঠকে আলোচনা হয়। সূত্রের খবর, শনিবারই প্রধান বিচারপতি উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, ৪৫-৫০ লক্ষ ভোটারের নথি যাচাই কীভাবে এই সময়ের মধ্যে কীভাবে সম্ভব! প্রতি বিধানসভা ক্ষেত্র অনুযায়ী একজন করে জুডিশয়াল অফিসার চাওয়া হয়েছে কমিশনের পক্ষ থেকে।

রাত পোহালেই কী কী করণীয়, কমিশনের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি, পাঠানো হল ২৫০ জন বিচারকের নাম
চূড়ান্ত স্ক্রটিনি! (প্রতীকী চিত্র)

বাংলায় এসআইআর-এর বাকি কাজ হবে বিচারবিভাগের তদারকিতে। আজ ফের কমিশনের সঙ্গে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ভার্চুয়াল বৈঠক হল। ইতিমধ্যেই কমিশনকে ২৫০ জুডিশিয়াল অফিসারের তালিকা পাঠিয়েছে হাইকোর্ট। তালিকায় রয়েছেন NDPS ও পকসো আদালতের ১০০ জন বিচারক। বিধানসভা ভিত্তিক একজন করে জুডিশিয়ার অফিসার চায় কমিশন। অন্যান্য মামলার ১৫০ জন বিচারকের নামও রয়েছে তালিকায়।


সোমবার থেকেই নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে রবিবার ভার্চুয়াল বৈঠক হয়। মুখ্যসচিব, ডিজিপি, কলকাতা পুলিশের পুলিশ কমিশনার ছিলেন। আগামিকাল থেকে কী কী তাঁদের করণীয়, এই বিষয়টি নিয়েই মূলত বৈঠকে আলোচনা হয়।

প্রেমিক তাঁর ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি শেয়ার করেছিলেন, যা করলেন তরুণী
সূত্রের খবর, শনিবারই প্রধান বিচারপতি উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, ৪৫-৫০ লক্ষ ভোটারের নথি যাচাই কীভাবে এই সময়ের মধ্যে কীভাবে সম্ভব! প্রতি বিধানসভা ক্ষেত্র অনুযায়ী একজন করে জুডিশয়াল অফিসার চাওয়া হয়েছে কমিশনের পক্ষ থেকে।


আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “একদমই যাঁরা কোর লেভেলে সিদ্ধান্ত নেবেন, তাঁরা জেলা জল,অতিরিক্ত জেলা জজ।” গোটা বিষয়টি খুবই সুষ্ঠভাবে হচ্ছে বলে মত রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর। তাঁর বক্তব্য, “গোটা প্রক্রিয়া খুব ভাল ভাবে হচ্ছে। যারা সন্দেহজনক, তাদের সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় নাম আসবে। তখন তিনটে কাগজ দিতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা ব্যতিক্রম ও কঠোর।”

 সিপিএমে থাকাকালীন একবার হামলার শিকার হয়েছিলেন প্রতীক উর। তাঁকে মারধরের অভিযোগ ওঠে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এদিন সেলিম বলেন, "তারা প্রথমে মারে। তারপরও যদি শিরদাঁড়া সোজা করে থাকে, তখন লোভ দেখায়। তারপরও শিরদাঁড়া সোজা করে রাখলে, বলে, তুমি তো আমাদেরই লোক।"

আমরা মঞ্চ দিয়েছিলাম, ওরা রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছে', প্রতীক উরের 'দাম' বোঝালেন সেলিম
প্রতীক উর রহমানের তৃণমূলে যোগদান নিয়ে খোঁচা দিলেন মহম্মদ সেলিম

২৪ ঘণ্টা আগেই লাল ঝান্ডা ছেড়ে তৃণমূলে গিয়েছেন প্রতীক উর রহমান। তাঁকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া সরগরম। রাজ্য রাজনীতিতেও আলোচনা চলছে। একজন বাম নেতার তৃণমূলে যাওয়া নিয়ে কাটাছেঁড়া চলছে। এই আবহে প্রতীক উরকে খোঁচা দিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তৃণমূল প্রতীক উরকে এক সপ্তাহে ভুলে যাবে বলে মন্তব্য করলেন। একইসঙ্গে সেলিম বলেন, “আমরা তাঁকে মঞ্চ দিয়েছিলাম। ওরা রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছে।”


রবিবার সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির একটি অনুষ্ঠানে এসেছিলেন সেলিম। সেখানে প্রতীক উরকে নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক বলেন, “বামপন্থীতে বিকাও একজন। বাকিরা টিকাও।” গতকাল আমতলায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে রাজ্যের শাসকদলের পতাকা নেন প্রতীক উর। অভিষেকের অফিসের বাইরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে তৃণমূলের পতাকা হাতে নিয়ে দেখা যায় তাঁকে। এদিন এই নিয়ে খোঁচা দিয়ে সেলিম বলেন, “আমরা যুবদের মঞ্চ দিই। আমরা যাকে মঞ্চ দিয়েছিলাম, তাঁকে প্রথম দিনই রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছে।”



প্ল্যাটফর্মে পিপড়েও গলতে পারবে না! রবিবারও শিয়ালদহে নজিরবিহীন দৃশ্য, দেখুন নিজেই
সিপিএমে থাকাকালীন একবার হামলার শিকার হয়েছিলেন প্রতীক উর। তাঁকে মারধরের অভিযোগ ওঠে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এদিন সেলিম বলেন, “তারা প্রথমে মারে। তারপরও যদি শিরদাঁড়া সোজা করে থাকে, তখন লোভ দেখায়। তারপরও শিরদাঁড়া সোজা করে রাখলে, বলে, তুমি তো আমাদেরই লোক।” প্রতীক উরকে তৃণমূল এক সপ্তাহে ভুলে যাবে বলেও এদিন মন্তব্য করেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক। তাঁর কথায়, “আমি জানি, যারা তাঁকে কিনেছে, এক সপ্তাহে ভুলে যাবে।”


এদিকে, জানা গিয়েছে, প্রতীক উর সিপিএমের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেওয়ার পর তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। এমনকি, প্রতীক উরকে ফোন করেছিলেন সেলিমও। বারবার ফোন করে করে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন সুজন চক্রবর্তী। প্রতীক উরকে শেষ ফোন করেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। তারপরও তৃণমূলের পথেই পা বাড়ান প্রতীক উর।

ছেলের গ্রেফতারিতে মুষড়ে পড়েছেন সুমনের মা মেনকা বিবি। তিনি বলেন, "বহরমপুরে ডেলিভারির কাজ করত ছেলে। কীসের জন্য ছেলেকে ধরেছে, আমাদের বলেনি। জুহাবকে আগে ধরেছে পুলিশ। সে-ই আমার ছেলের নাম বলেছে। আমি চাই, ছেলে ছাড়া পাক।"

 পাকিস্তানে OTP শেয়ার! মুর্শিদাবাদ থেকে গ্রেফতার যুবক

বড়সড় নাশকতার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মালদহ থেকে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল ২ জনকে গ্রেফতার করেছে। এই নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। এরই মধ্যে মুর্শিদাবাদে দুই যুবকের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ সামনে এল। ওই দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে বেঙ্গল এসটিএফ। তার মধ্যে একজনকে কয়েকদিন আগেই গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবার বহরমপুর থেকে অন্য যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃত যুবকের নাম সুমন শেখ।


গত সপ্তাহে মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা জুহাব শেখকে গ্রেফতার করে বেঙ্গল এসটিএফ। তাকে জেরা করে বছর চব্বিশের সুমনের নাম জানতে পারেন তদন্তকারীরা। গতকাল বহরমপুরের গির্জার মোড় এলাকা থেকে প্রথমে সুমনকে আটক করা হয়। তাকে তার বাড়িতে নিয়ে যান তদন্তকারীরা। তারপর গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ, ধৃত ২ জনেই ভারতীয় সিম কার্ডের ওটিপি পাকিস্তানে পাচার করত।


অভিমানে বিজেপিতে গিয়েছিলাম', ভোটের আগেই তৃণমূলে ঘরওয়াপসি দীপেন্দু বিশ্বাসের
ধৃত সুমনের পরিবারের দাবি, তাদের ছেলে ডেলিভারির কাজ করত। তবে, তদন্তকারীদের বক্তব্য, ধৃত ২ জনেই সিম কার্ড বিক্রেতা। সাধারণ মানুষের নথি ব্যবহার করে সিম কার্ড তুলত। সেই নম্বরগুলি দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলত। নম্বর ভেরিফাইয়ের জন্য যে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড বা ওটিপি আসত, সেগুলি পাকিস্তানের ‘হ্যান্ডলারদের’ পাঠিয়ে দিত। বিনিময়ে তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকত। আর ওই সিমগুলি যাঁরা এ দেশে মোবাইলে ব্যবহার করেন, তাঁদের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রিত হয় পাকিস্তান থেকে।


ছেলের গ্রেফতারিতে মুষড়ে পড়েছেন সুমনের মা মেনকা বিবি। তিনি বলেন, “বহরমপুরে ডেলিভারির কাজ করত ছেলে। কীসের জন্য ছেলেকে ধরেছে, আমাদের বলেনি। জুহাবকে আগে ধরেছে পুলিশ। সে-ই আমার ছেলের নাম বলেছে। আমি চাই, ছেলে ছাড়া পাক।”

সুমনের বাবা ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করেন। তিনি বাড়ি নেই। সুমনের জেঠু গোলাম হোসেন বলেন, “সুমনকে কোথায় নিয়ে গিয়েছে আমরা জানি না। আমাদের সই করতে বলেছিল, সই করেছি। কাগজে ইংরেজিতে লেখা ছিল। পড়তে পারিনি। আমাদের পুলিশ কিছু বলেনি। আমরা বহরমপুর গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়েও জানতে পারিনি, ভাইপোকে কোথায় নিয়ে গিয়েছে।”

এর আগে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল মালদহ থেকে ২ জনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের নাম উমর ফারুক এবং রবিউল ইসলাম। উমর মালদহের বাসিন্দার। রবিউল বাংলাদেশি।




রবিবারের সন্ধ্যায় বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করেন গোজিনার প্রধান খুকু রানি মণ্ডল ও পঞ্চায়েত সদস্যা কাকলি চৌধুরী। এরপরই ঘুরে যায় রাজনীতির সমীকরণ। তবে শুধু পঞ্চায়ে তৃণমূলের দখলে এলো গোজিনা গ্রাম পঞ্চায়েত এছাড়াও প্রায় শতাধিক কমীও নেতৃত্ব বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করলেন এই দিন। যদিও, এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত বিজেপির কেউ কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

'লক্ষ্মীর ভান্ডারে দিদি আগে ১০০০ টাকা দিতেন, এখন দেড় হাজার, তাই BJP ছেড়ে তৃণমূলে গেলাম', দলবদলের আসল 'কারণ' নিজেই বললেন পঞ্চায়েত প্রধান
তৃণমূলে যোগদান

নজরে ময়না। বিধানসভা ভোট যত এগিয়ে আসছে ততই যেন রাজনৈতিক পারদ চড়ছে সর্বত্র। তবে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর জেলায় শক্তি কমল বিজেপি-র। বিধায়ক অশোক দিন্দার বিধানসভা ময়নায় গ্রাম-পঞ্চায়েত হাতছাড়া হল বিজেপি-র। রবিবার পঞ্চায়েত প্রধান সহ প্রায় শতাধিক কর্মী বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করতেই কার্যত শক্তি ক্ষয় হল গেরুয়া শিবিরের। আর যোগদান করেই মহিলা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূয়সী প্রশংসা। সঙ্গে তুললেন লক্ষ্মীর ভান্ডারের প্রসঙ্গও।



 শ্রীরামকৃষ্ণের জন্ম মহোৎসব, পুজো অর্চনায় মুখরিত বেলুড় মঠ, দেখুন সরাসরি
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ময়না ব্লকের গোজিনা গ্রাম পঞ্চায়েত গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপি দখলে ছিল বিজেপির পঞ্চায়েত সংখ্যা ছিল ১০ এবং তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য ছিল ৭। রবিবারের সন্ধ্যায় বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করেন গোজিনার প্রধান খুকু রানি মণ্ডল ও পঞ্চায়েত সদস্যা কাকলি চৌধুরী। এরপরই ঘুরে যায় রাজনীতির সমীকরণ। তবে শুধু পঞ্চায়ে তৃণমূলের দখলে এলো গোজিনা গ্রাম পঞ্চায়েত এছাড়াও প্রায় শতাধিক কমীও নেতৃত্ব বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করলেন এই দিন। যদিও, এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত বিজেপির কেউ কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি।


ময়নার রঙ গেরুয়া থেকে সবুজ…

দলবদলের লম্ফঝম্প শুরু হয়েছে ভোটের ঠিক আগে-আগে। পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নার দাপুটে বিজেপি নেতা চন্দন মণ্ডলতে দলে টেনে চমক দিয়েছিল তৃণমূল। ‘রং’ বদলানোর সময় চন্দনবাবু ময়নার বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দার উপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। যদিও, এক-দু’দিন কাটতে না কাটতে ফের যোগদান করলেন ময়নার প্রাক্তন বিধায়ক সংগ্রাম দলুই আবার যোগ দেন পদ্ম শিবিরে। অপরদিকে, ময়নার আরও এক নেতা অলোক বেরাও যোগদান করেছিলেন পদ্মে। এই দলবদলের ঝাঁপাঝাপির মধ্যেই দেখা গেল গতকাল একদম পঞ্চায়েতের প্রধান বিজেপি ছেড়ে যোগ দিলেন তৃণমূলে। আর যোগদানের পর নিজের মুখেই লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের ভূয়সী প্রশংসা করলেন তিনি। ফলে তৃণমূলের শক্তি বাড়াতে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্প অনেকাংশেই সাহায্য করল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।

খুকুরানি বলেন, “২০২৩ সালে আমি বিজেপিতে গিয়েছিলাম। প্রধান হয়েছিলাম। পদে ছিলাম জনগণের উন্নয়নের জন্য। কিন্তু এখন উন্নয়ন করতে পারছি না কারণ কেন্দ্র সব প্রকল্প বন্ধ করে দিয়েছে। আমাদের দিদি মমতার নেতৃত্বে উন্নয়ন হচ্ছে। তারপর লক্ষ্মীর ভান্ডারে আগে ১০০০ টাকা করে দিদি দিতেন। এখন দেড় হাজার টাকা। তাই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে গেলাম।”

তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন মুকুল রায়। ১৯৯৮ সালে যখন জাতীয় কংগ্রেস ভেঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেন, তখন সর্বদা পাশে ছিলেন যিনি, তিনিই মুকুল রায়। বাংলার সাধারণ মানুষকে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে পরিচয় করাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতোই মুকুল রায়ের ভূমিকা বা অবদানও অনস্বীকার্য। সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন মুকুল রায়।

'মুকুল' ধরার সময় থেকেই ছিলেন, কীভাবে কাঁচরাপাড়ার ছেলে তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড হয়েছিলেন?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মুকুল রায়। ফাইল চিত্র।

জীবনাবসান মুকুল রায়ের (Mukul Roy)। চলে গেলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মুকুল রায়। দীর্ঘদিন ধরে নানা অসুস্থতার সঙ্গে লড়ছিলেন তিনি। অবশেষে তাঁকে হার মানতে হল মৃত্যুর কাছে। মুকুল রায়ের প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমেছে রাজনৈতিক মহলে। অনেকেই করছেন স্মৃতিচারণ। চলে গিয়েও মুকুল রায় যেন ফের একবার মনে করিয়ে দিয়ে গেলেন যে কেন তিনি বঙ্গ রাজনীতির চাণক্য় ছিলেন।


জন্ম ও লেখাপড়া-
১৯৫৪ সালের ১৭ এপ্রিল জন্ম গ্রহণ করেন মুকুল রায়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসির ডিগ্রি, তারপর ২০০৬ সালে পাব্লিক অ্যাডমিনিসট্রেশন নিয়ে মাদুরাই কামরাজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ করেন মুকুল রায়। তবে ততদিনে তিনি বাংলার রাজনীতির পরিচিত মুখ হয়ে গিয়েছেন।



কংগ্রেসের গাছে যখন তৃণমূলের মুকুল ধরছিল মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের হাতে, সেই সময় থেকেই ছিলেন মুকুল রায়। যুব কংগ্রেস নেতা হিসাবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন মুকুল রায়। সেখানেই পরিচয় হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। দিদি বলে শ্রদ্ধা করতেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁকে ভাইয়ের স্নেহ দিয়েছিলেন। প্রতি বছর ভাইফোঁটা দিতেন, তবে শেষ কয়েক বছরে সেই রীতিতে ছেদ পড়েছিল নানা কারণে।


তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন মুকুল রায়। ১৯৯৮ সালে যখন জাতীয় কংগ্রেস ভেঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেন, তখন সর্বদা পাশে ছিলেন যিনি, তিনিই মুকুল রায়। একসময়ে তৃণমূলের তিলজলার পার্টি অফিসে সপরিবারে থাকতেন। কোন বিধানসভায় কোথায় কী ক্ষমতা, কোথায় খামতি- সব নখদর্পণে ছিল মুকুল রায়ের। এটাই তাঁর ক্ষমতা ছিল। জেলা থেকে শহর, প্রতিটি ব্লক বা বুথ স্তরে পরিচিতি ছিল। বাংলার সাধারণ মানুষকে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে পরিচয় করাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতোই মুকুল রায়ের ভূমিকা বা অবদানও অনস্বীকার্য। সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন মুকুল রায়।

দিল্লির মুখ হলেন মুকুল-
তৃণমূল স্তরে গিয়ে সংগঠন করেছিলেন মুকুল রায়। তাঁর এই পরিশ্রমের দাম পান ২০০৬ সালে, তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক করা হয় তাঁকে। দলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড ছিলেন তিনি। ২০০১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবার জগদ্দল বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন মুকুল রায়। তবে হেরে যান ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থী হরিপদ বিশ্বাসের কাছে। তবে মুকুল রায়ের হার না মানা স্পিরিটই তাঁর উত্থান কখনও আটকাতে পারেনি। ২০০৬ সালে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সদস্য মনোনীত হন। দিল্লিতে তৃণমূলের মুখ ছিলেন মুকুল রায়। ২০০৯ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত রাজ্যসভায় তৃণমূলের দলনেতা হিসাবে ছিলেন। ২০১৭ সাল পর্যন্ত সাংসদ ছিলেন তিনি। ২০১১ সালে নির্বাচনে তৃণমূলের অন্যতম কাণ্ডারী ছিলেন মুকুল রায়।

২০০৬ সালে জমি আন্দোলনের সময় ফের একবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন মুকুল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে তাঁকে সেকেন্ড ইন কম্যান্ড হিসাবে পরিচয় দিয়েছিলেন।

২০১৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে সাংগঠনিক নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এরপরে দেড় বছর ধরে দলবদল কর্মসূচি চলে মুকুল রায়ের হাত ধরে। কংগ্রেস থেকে বামের বিভিন্ন শরিক দল ভাঙিয়ে নেতা-কর্মীদের তৃণমূলে নিয়ে আসেন। বঙ্গ রাজনীতি ‘ঘোড়া কেনা-বেচা’র সঙ্গে পরিচিত হয়।

দ্বিতীয় ইউপিএ জমানায় জাহাজ মন্ত্রী হন মুকুল রায়। ২০১২ সালে রেল বাজেটে ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে অসন্তোষের কারণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৎকালীন রেলমন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদীর ইস্তফা দাবি করেন। দীনেশ ত্রিবেদী ইস্তফা দিলে মুকুল রায় পরবর্তী রেলমন্ত্রী হন। তবে ছন্দ কাটে ২০১৭ সালে। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেন। কৃষ্ণনগর থেকে বিজেপির টিকিটে জয়ীও হন। তারপরে ২০২১ সালে ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে পতাকা নিয়ে ফের তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন করেন। তবে কিছুদিন পর থেকেই আর সেভাবে সক্রিয় রাজনীতিতে দেখা যায়নি মুকুল রায়কে।

সারদা কেলেঙ্কারি ও নারদা স্টিং অপারেশন কাণ্ডে মুকুল রায়ের নাম জড়ানোর পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে। দলের একাংশ বলতে থাকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর তিনিই দলকে নিয়ন্ত্রণ করছেন। তাঁর ছেলে শুভ্রাংশু রায়কে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হচ্ছে।

ভাইফোঁটা দিতেন মুখ্যমন্ত্রী, দলের সবকিছু থাকত নখদর্পণে, তবুও কেন তৃণমূল ছেড়েছিলেন মুকুল রায়?
মুকুল রায়।

প্রয়াত মুকুল রায়। তৃণমূল কংগ্রেসের একটা অধ্য়ায়ের অবসান হল মুকুল রায়ের প্রয়াণে। যখন কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি হবে কি না, এই সংশয়ে অনেকেই মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের সঙ্গ ছাড়ছিলেন, তখন দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন মুকুল রায়। দলের অগ্রগতির ক্ষেত্রে মুকুল রায়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য ছিল। সাংগঠনিক ক্ষমতা অসাধারণ ছিল তাঁর। প্রতিটা বুথ স্তরের সমস্ত খবর তাঁর নখদর্পণে ছিল। এতটাই দল অন্তপ্রাণ ছিলেন যে তৃণমূলের পার্টি অফিসেই সপরিবারে থাকতেন তিনি। দলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড ছিলেন মুকুল রায়। তবে এত কিছুর পরও কেন তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হল দলের প্রতিষ্ঠার সময়ের সদস্য মুকুল রায়ের?


২০০৬ সালে জমি অধিগ্রহণ অভিযান, সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী ছিলেন মুকুল রায়। পরবর্তী সময়ে জাহাজ মন্ত্রী, রেলমন্ত্রী হয়। ২০১১ সালে পালাবদলের পরও অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন মুকুল রায়। এরপরেই ছিল ২০১৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন। এই নির্বাচনে সাংগঠনিক ভূমিকা পালন করেন। ওই সময়ই দেড় বছর ধরে মুকুল রায়ের নেতৃত্বে দলবদলের কর্মসূচি চলে। প্রায় প্রতিদিনই শরিক দলের নেতা-কর্মীদের ভাঙিয়ে তৃণমূলে যোগদান করাতেন। বাংলার রাজনীতির সমীকরণে বদল আসে মুকুল রায়ের এই ‘দলবদল কর্মসূচি’র দৌলতেই।



 রাত পোহালেই কী কী করণীয়, কমিশনের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি, পাঠানো হল ২৫০ জন বিচারকের নাম
তবে সারদা কেলেঙ্কারি ও নারদা স্টিং অপারেশন কাণ্ডে মুকুল রায়ের নাম জড়ানোর পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে। দলের একাংশ বলতে থাকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর তিনিই দলকে নিয়ন্ত্রণ করছেন। তাঁর ছেলে শুভ্রাংশু রায়কে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হচ্ছে। এই সবকিছুকে কেন্দ্র করেই বর্ষীয়ান নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। তাদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে। অভিযোগ ওঠে, যে মুকুল রায় নিজে সর্বেসর্বা হয়ে উঠছেন। বলা হয় যে প্রশাসনকে প্রভাবিত করার ক্ষমতাও ছিল মুকুল রায়ের।

প্রয়াত বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মুকুল রায়। সোমবার রাত দেড়টা নাগাদ শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্য়ুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তাঁর প্রয়াণের খবরে শোকের ছায়া রাজনৈতিক মহলে।

চলে গেলেন বঙ্গ রাজনীতির চাণক্য, প্রয়াত মুকুল রায়
প্রয়াত মুকুল রায়।




তৃণমূল কংগ্রেসের এক অধ্যায়ের ইতি। প্রয়াত বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মুকুল রায় (Mukul Roy)। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাত দেড়টা নাগাদ শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্য়ুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তাঁর প্রয়াণের খবরে শোকের ছায়া রাজনৈতিক মহলে। গভীর শূন্যস্থান তৈরি হল মুকুল রায়ের প্রয়াণে।


বিগত বেশ কয়েক মাস ধরেই অসুস্থ ছিলেন মুকুল রায়। সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। গতকাল রাত দেড়টা নাগাদ প্রয়াত হন মুকুল রায়। তাঁর পরিবারের তরফেই এই খবর জানানো হয়েছে। তাঁর পুত্র শুভ্রাংশু রায় বলেন, “রাত দেড়টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। বাবা অনেক লড়াইয়েই জিতেছিলেন, কিন্তু এই লড়াইয়ে হেরে গেলেন। আমি চলে আসার পর এটা হয়েছে। চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছি, এখন হাসপাতালে যাচ্ছি। সকলের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেব।” তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে শোকবার্তা এসেছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “কাউকেই জানাতে পারিনি, হয়তো কেউ জানেনই না যে বাবা আর নেই“।



এক মণ্ডপে বিয়ের কথা ছিল দুই বোনের, সকালে উঠে যা দৃশ্য দেখা গেল, তা কল্পনাতেও আসবে না...
তাঁকে বাংলার রাজনীতির চাণক্য বলা হত। এক সময়ে মুকুল রায়ের ব্যাপক দাপট ছিল। তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড ছিলেন তিনি। রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন তিনি। দেশের রেলমন্ত্রী ও জাহাজমন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন।


তবে মন্ত্রী পরিচিতির থেকেও রাজনীতির ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এক সময়ে তাঁকে বঙ্গেশ্বর বলা হত। বর্ণময় রাজনৈতিক জীবন ছিল মুকুল রায়ের। তাঁকে নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি। এক সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরই তাঁর কথা সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তৃণমূলের সংগঠন তৈরি থেকে শুরু করে জমি আন্দোলনের সময়, পরিবর্তনের লড়াইতে গুরুত্বপূর্ণ সৈনিক ছিলেন মুকুল রায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী ছিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী ভাইফোঁটাও দিতেন তাঁকে। তৃণমূলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।

এরপরে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেন। কৃষ্ণনগর থেকে বিজেপির টিকিটে জয়ীও হন। তারপরে ২০২১ সালে ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে পতাকা নিয়ে ফের তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন করেন। তবে তখন সঙ্গ ছেড়ে দেয় শরীর। ধীরে ধীরে মূল মঞ্চ থেকে পর্দার আড়ালে চলে যান মুকুল রায়। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। সম্প্রতিই তাঁর ছেলে জন্মদিনের শুভেচ্ছাবার্তা পোস্ট করতে গিয়ে মুকুল রায়ের অসুস্থতা নিয়ে কথা জানিয়েছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের তরফেও তাঁর অসুস্থতার কথা মাথায় রেখে কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ দিয়ে, তাঁর বিধায়ক পদ রেখে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।



আবারও গাঁজা পাচারে উঠে এল ওড়িশা যোগের তথ্য। এই রাজ্যে গাঁজা পাচারে পড়শি রাজ্য ওড়িশার নাম বারবার উঠে আসে। এবার মথুরাপুর স্টেশন চত্বরে রাজাপুর এলাকা থেকে এই চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে স্টেশন চত্বরে হানা দেয় মথুরাপুর থানার পুলিশ। আর সেখান থেকে ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের ২ জনের বাড়ি ওড়িশাতে, ২ জনের মন্দিরবাজারে। ধৃতদের কাছ থেকে নগদ ১ লাখ টাকা উদ্ধার হয়েছে।

ধৃতদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ ও ১ জন মহিলা ছিল বলে জানা গিয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে প্রায় ২৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে এনডিপিএস আ্যকটে মামলা রুজু আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
ধৃতদের কাছ থেকে একটি স্কুটি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ, সেই সঙ্গে প্রায় ২৪ কেজি গাঁজা পাওয়া গিয়েছে। এই চক্র কিভাবে কাজ করে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। উল্লেখ্য মন্দিরবাজার এলাকায় গাঁজা পাচার চক্র থাকার কথা আগেই জানতে পেরেছিল পুলিশ।

তারা কোন রুট ব্যবহার করে সেই সূত্র ধরে মথুরাপুর থানার পুলিশ সাফল্য পেয়েছে। সেই সঙ্গে আন্ত-রাজ্য গাঁজা পাচার চক্রের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। ওড়িশা থেকে এই রাজ্যে গাঁজা কিভাবে পাচার হয় সেই দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গাঁজা পাচার চক্র রুখতে এই অভিযান জারি থাকবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। গোটা ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।