ইয়াসির উসমানের বই অনুযায়ী, অমিতাভ-রেখার সম্পর্কের রটনা নিয়ে জয়া বচ্চন ছিলেন অত্যন্ত সংযত। এক সাক্ষাৎকারে জয়া বলেছিলেন, “সারা দুনিয়া কী বলছে তাতে আমার কিছু যায় আসে না। অমিতাভ আমার কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যদি ও অন্য কাউকে ভালোবাসে, তবে সেই কথা বলার সাহস ওর থাকা উচিত। আর যদি ও আমার অগোচরে কিছু করে থাকে, তবে সেটা ওর সমস্যা, আমার নয়। ওকেই ওর বিবেক নিয়ে বেঁচে থাকতে হবে।”
দাম্পত্য জীবনের টানাপড়েন নিয়ে সরাসরি রেখার নাম না নিলেও অমিতাভ বচ্চন একবার মুখ খুলেছিলেন। তাঁর সেই মন্তব্য ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট। অমিতাভ বলেছিলেন, “আমাদের ক্ষেত্রে বিচ্ছেদ বা ডিভোর্স শব্দটা কখনওই আসবে না। আমি ডিভোর্সে বিশ্বাসী নই। জয়াকে জীবনসঙ্গিনী হিসেবে বেছে নেওয়াটা ছিল আমার জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত।” মূলত এই বক্তব্যের মাধ্যমেই তিনি সব জল্পনার অবসান ঘটাতে চেয়েছিলেন।
অন্যদিকে, রেখাও কিন্তু সংবাদমাধ্যমের চর্চা জিইয়ে রাখতে পিছপা হননি। ‘স্টারডাস্ট’ ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেখা এক অদ্ভুত দাবি করেন। তিনি জানান, একদিন জয়া বচ্চন তাঁকে নিজের বাড়িতে নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। রেখার কথায়, “যতদিন জয়া ভেবেছিলেন এটা একটা সাধারণ সম্পর্কের টানাপড়েন, ততদিন তাঁর আপত্তি ছিল না। কিন্তু যখন তিনি বুঝলেন অমিতাভ মানসিকভাবে জড়িয়ে পড়েছেন, তখন থেকেই ওঁর কষ্ট শুরু হয়। সেদিন ডিনারে আমাদের মধ্যে সব বিষয় নিয়ে কথা হয়েছিল শুধু অমিতাভকে বাদ দিয়ে। কিন্তু বাড়ি ফেরার আগে জয়া আমাকে একটি কথা পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন— ‘যাই হয়ে যাক, আমি অমিতকে কখনওই ছেড়ে যাব না’।”
আটের দশকের সেই ত্রিকোণ প্রেমের গুঞ্জন আজও বলিউডের ইতিহাসে অমর হয়ে আছে। সম্পর্কের টানাপড়েন, মর্যাদার লড়াই এবং শেষ পর্যন্ত জয়া বচ্চনের অটল সিদ্ধান্ত— সব মিলিয়ে এই কাহিনী কোনও সিনেমার চিত্রনাট্যের চেয়ে কম নয়। আজও ‘সিলসিলা’ যখন টেলিভিশনের পর্দায় দেখা যায়, দর্শকরা তাতে খুঁজে পান সেই সময়ের রক্ত-মাংসের আবেগ আর আভিজাত্যের লড়াইকে।
