WEATHER

Top News


বুধবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের নির্দেশ, বৃহস্পতিবারের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে এই মামলায় যুক্ত করতে হবে। এদিন আদালতে মহুয়া মৈত্রের তরফে অভিযোগ জানানো হয়, নির্দেশের পরেও সবসময়ের জন্য পিএসও পাচ্ছেন না সাংসদ মহুয়া মৈত্র।

মহুয়া মৈত্রের মামলায় একদিনের মধ্যে শাহের মন্ত্রককে যুক্ত করার নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

 কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রের (Mahua Moitra) নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। সংসদীয় এলাকায় গেলেই যাতে তাঁর সঙ্গে কখনও ডিম ছোড়া হয়েছে, কখনও স্লোগান দেওয়া হয়েছে মহুয়াকে। সেই সব অভিযোগের কথা শুনে হাইকোর্ট নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। এবার সেই মামলায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে (Home Ministry) যুক্ত করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।


বুধবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের নির্দেশ, বৃহস্পতিবারের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে এই মামলায় যুক্ত করতে হবে। এদিন আদালতে মহুয়া মৈত্রের তরফে অভিযোগ জানানো হয়, নির্দেশের পরেও সবসময়ের জন্য পিএসও পাচ্ছেন না সাংসদ মহুয়া মৈত্র।



জানা গিয়েছে, এক্স ক্যাটাগরিতে নিরাপত্তা দেওয়ার কথা মহুয়া মৈত্রের। আদালতের নির্দেশ মহুয়া যখনই নিজের সংসদীয় এলাকায় যাবেন, তখন তিনি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা পাবেন। যদিও আদালতে মহুয়ার আইনজীবী অর্ক নাগ জানান, খাতায় কলমে পিএসও দেওয়ার কথা থাকলেও মহুয়ার সঙ্গে সবসময় থাকেন না। এই সংক্রান্ত হলফনামা জমাও দেওয়া হয়েছে।


বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের পর্যবেক্ষণ, আদালতে বিষয়টি জানাতে হবে, প্রয়োজনে পিএসও পরিবর্তন করতে হবে।

নিজের কেন্দ্রে গেলেই ডিম, আলু, পাথর ছোড়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছিলেন মহুয়া। নদিয়ার চাপড়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়েও বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল মহুয়াকে। তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখান একদল বিক্ষোভকারী। গাড়ির সামনে কালো পতাকা হাতে শুয়ে পড়ে পথ অবরোধেরও চেষ্টা করা হয়। এরপরই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মহুয়া।



মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরে হামলার প্রসঙ্গে বলেন, "আমি কালীঘাট কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলাম যখন এই ঘটনাটি ঘটে, আমি যতটুকু শুনেছি বা সংবাদমাধ্যমে দেখেছি, যেভাবে ছুরি নিয়ে এগিয়ে আসা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী কথায় কথায় বলেন যে উনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে জেড প্লাস নিরাপত্তা দেন।"


অভিযোগ করলেই তো হল না...', এবার হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি অভিষেকের
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডে পুলিশি জেরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-কে। তৃণমূল সাংসদকে প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে জেরা করা হয়। শেক্সপিয়ার সরণী থানা থেকে বেরিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “অবৈধ নির্মাণ নিয়ে কমপ্লেন করলে হবে না”। একই ঘটনায় এর আগে ৫ ঘণ্টা জেরা করা হয় অভিষেককে।


গত ২৭ অগস্ট অভিষেকের অফিসের বিলবোর্ড সরানো নিয়ে অশান্তির শুরু। পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতি, বচসা হয়। পুর কর্মীদের মারধোরের অভিযোগ ওঠে। পুর কর্মীদের সরকারি জিনিসপত্রও চুরির অভিযোগে মামলা হয়।


বাকিরা অন্তর থেকে ছটফট করছে' ঋত শিবিরের সাবিনা পদ ছাড়তেই 'আসরে' মমতা শিবিরের কুণাল
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরে হামলার ঘটনার প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, “অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলে নয়, উনি রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলে নয়, উনি একজন মহিলা। যেভাবে কাল ঘটনাটি ঘটেছে। আমি কালীঘাট কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলাম যখন এই ঘটনাটি ঘটে, আমি যতটুকু শুনেছি বা সংবাদমাধ্যমে দেখেছি, যেভাবে ছুরি নিয়ে এগিয়ে আসা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী কথায় কথায় বলেন যে উনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে জেড প্লাস নিরাপত্তা দেন। এই যদি জেড প্লাস নিরাপত্তার নিদর্শন হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ বা নারীদের নিরাপত্তা কোথায়, তা আপনারাই বুঝে নিন।”


পুরসভার কাজে বাধা দেওয়া প্রসঙ্গে বলেন, “পুরো ঘটনাটি ফেসবুক লাইভে হয়েছে। অভিযোগ করলেই তো হল না। আমি একটা অভিযোগ করব, সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত হবে। তদন্ত হয়েছে, পুলিশ আমায় ডেকেছে, যা যা প্রশ্ন করেছে, আমি উত্তর দিয়েছি। বাকি আইনি লড়াই লড়া হবে। এই সব নিয়ে আমি হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্টে যাব।”



শারদীয়া দুর্গাপূজার দিনগুলিতে সাধারণ মানুষ ও দর্শনার্থীদের যাতায়াত মসৃণ রাখতে এবং উৎসবের দিনগুলিতে যানজট এড়াতে বিশেষ পদক্ষেপ নিল সাগর ব্লক প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসন। পুজোর সময় রাস্তায় ভিড় বাড়ার সাথে সাথে টোটো এবং অটো চলাচলের কারণে যানজট সৃষ্টি হয়, যার ফলে দর্শনার্থী ও সাধারণ মানুষকে চরম নাকাল হতে হয়। 


এই ভোগান্তি দূর করতে সাগর ব্লক কার্যালয়ে টোটো ও অটো চালকদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষ প্রশাসনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সাগর ব্লকের বিডিও অনন্ত কুমার গোস্বামী, সিআই, সাগর থানার ওসি অর্পণ নায়ক, গঙ্গাসাগর কোস্টাল থানার ওসি পার্থ সরকার, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সাবিনা বিবি সহ একঝাঁক জনপ্রতিনিধি ও এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গরা। বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, উৎসবের মূল দিনগুলিতে অর্থাৎ সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত মেইন রোডে কোনো প্রকার টোটো বা অটো উঠতে পারবে না। এই নির্দিষ্ট সময়সীমা অত্যন্ত কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দর্শনার্থীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে রুটেও আনা হয়েছে পরিবর্তন: কচুবেড়িয়া থেকে যাত্রী নিয়ে আসা টোটো ও অটোগুলি কেবল মন্দিরতলা বাজারের আগে পর্যন্ত যেতে পারবে।
মন্দিরতলা বাজারের পর থেকে হরিণবাড়ি পর্যন্ত বাকি অংশের জন্য আলাদা পার্ট করে টোটো ও অটো চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যাতে এক জায়গায় অতিরিক্ত গাড়ির ভিড় জমে জট তৈরি না হয়।

 অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের ফলে ঘটা দুর্ঘটনা রুখতে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, কোনো অবস্থাতেই একটি টোটো বা অটোতে ৭ জনের বেশি যাত্রী নেওয়া যাবে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্ত চালকদের পুজোর দিনগুলিতে পুলিশ ও ব্লক প্রশাসনকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সাথে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে, জারি করা এই নিয়মাবলী অমান্য করলে বা যাত্রী সুরক্ষায় ব্যাঘাত ঘটালে সংশ্লিষ্ট চালক ও যানবাহনের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বৈঠক শেষে উপস্থিত চালক সংগঠনের প্রতিনিধিরা প্রশাসনের সমস্ত নির্দেশ মেনে গাড়ি চালানো এবং দর্শনার্থীদের সেরা পরিষেবা দেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন।

এ দিন দুপুর নাগাদ প্রেসিডেন্সির গেটের বাইরে জমায়েত করেন ABVP-র সদস্যরা। ভারতের পতাকার পাশাপাশি সংগঠনের পতাকা নিয়েও বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। পুলিশের ব্যারিকেড নিয়ে টানা-হেঁচড়া করতেও দেখা যায় বিক্ষোভকারীদের। ওঠে স্লোগান।


যাদবপুর, SRFTI-এর পর প্রেসিডেন্সি, তুমুল বিক্ষোভ দেখাল ABVP, এবার কী কারণ?

 সাম্প্রতিককালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, তারপর এসআরএফটিআই-এ অশান্তির অভিযোগ উঠেছিল। আর এবার প্রেসিডেন্সি। ABVP-র পোস্টার বিকৃতির অভিযোগ বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের বাইরেই বিক্ষোভকারীদের আটকে দিল পুলিশ (Police)।


এ দিন দুপুর নাগাদ প্রেসিডেন্সির গেটের বাইরে জমায়েত করেন ABVP-র সদস্যরা। ভারতের পতাকার পাশাপাশি সংগঠনের পতাকা নিয়েও বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। পুলিশের ব্যারিকেড নিয়ে টানা-হেঁচড়া করতেও দেখা যায় বিক্ষোভকারীদের। ওঠে স্লোগান।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, বিবেকানন্দের ছবি দেওয়া একটি পোস্টার তাঁরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে টাঙিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্সিতেও তারা এই ক্যাম্পেন করেন। ABVP-র পোস্টারটির উপর বেশ কিছু শব্দ লেখা রয়েছে যা বিকৃতি করা হয়েছে এই পোস্টারটায়। এই নিয়েই মূলত অশান্তি শুরু হয়েছে। যদিও, তারা ক্যাম্পাসের ভিতর ঢুকতে পারেননি।


স্বামীজির ছবি বিদ্যার্থী পরিষদ ক্যাম্পাসের ভিতর লাগিয়েছিল। সেই ছবিতে ওরা স্বামীজিকে নিয়ে খারাপ মন্তব্য করেছে। যাঁরা স্বামীজিকে অপমান করছে, তাঁরা বাংলা ও বাঙালিকে অপমান করছে। পুজোর সময় এই ঘটনা কেউ ভাবতে পারেনি। এর অর্থ হল বাংলা বাঙালিকে অপমান। স্বামীজির মাটিতে মাও-মাকু বামপন্থীদের জায়গা নেই। এরাই এক সময় স্বামীজিকে ভন্ড সন্ন্যাসী বলেছিল। যাঁরা এই কাজ ক্যাম্পাসে ঢুকে করেছে তাঁদের আমরা সচেতন করছি, আগামী দিনে এমন ঘটনা ফের করলে বিদ্যার্থী পরিষদ তাদের ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে বুঝে নেবে। আগামীতে এদের বাংলাপ মাটি থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেব।

কলকাতার SRFTI-র মূল অডিটোরিয়ামে ‘অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের (ABGP)’ একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। ওই অনুষ্ঠান ঘিরেই পড়ুয়াদের একাংশ আপত্তি জানান। কেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে এই ধরনের সংগঠনের অনুষ্ঠান হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তাঁরা।

পড়ুয়াদের অভিযোগ, অনুষ্ঠানের ব্যানার নিয়ে আপত্তি জানাতে গেলে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং মারধর করা হয়। কয়েকজন পড়ুয়া ও শিক্ষক আহত হন বলেও অভিযোগ। অন্যদিকে, ABGP-র সদস্যদের দাবি, পড়ুয়ারা তাঁদের পোস্টার ও ব্যানার ছিঁড়ে অনুষ্ঠান ভন্ডুল করার চেষ্টা করেন এবং তাঁদেরও মারধর করা হয়। অর্থাৎ, দু’পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলে। এই নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরেই উত্তপ্ত হয়েছিল। তার আগে

ঈশ্বর সন্ধানে মানুষ ছুটে বেড়ায় দূর-দূরান্তের তীর্থক্ষেত্রে। তবে বিশ্ব সংসারের অগণিত জীব, উদ্ভিদ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেই যে আসল দেবতার বসবাস— এই মেলবন্ধনের বার্তা নিয়েই এবার ৩৮তম বর্ষে পদার্পণ করল শ্রী দুর্গা আইডল অ্যাসোসিয়েশনের দুর্গাপূজা। এ বছরের পুজোয় তাদের বিশেষ থিম— "পথের প্রান্তে মোর তীর্থ নয়, পথের দুপাশে আছে মোর দেবালয়"।

মণ্ডপ সজ্জা থেকে প্রতিমা গঠনে উদ্যোক্তারা প্রাধান্য দিয়েছেন সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব ও নিত্যদিনের ব্যবহৃত নানা উপকরণকে। মণ্ডপকে দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে স্থান পেয়েছে কুলো, খড় ও নারকেলের ছিবড়ে। অন্যদিকে প্রতিমা ও তার আনুষঙ্গিক অংশ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছে প্লাস্টিকের চামচ ও স্ট্র-এর মতো সাধারণ সামগ্রী।

কমিটির যুগ্ম সম্পাদক চঞ্চল গিরি জানান, আশপাশের মানুষ ও প্রকৃতির রূপেই ঈশ্বর বিরাজ করেন। মানব রূপী সেই ঈশ্বর ও প্রকৃতিকে সম্মান জানানোই তাঁদের প্রধান উদ্দেশ্য। বিগত বছরগুলির মতো এবারও দর্শনার্থীরা মণ্ডপে এসে এক অনন্য অভিজ্ঞতা পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। পরিবেশবান্ধব শিল্পকর্ম ও সামাজিক বার্তার এই সুন্দর মেলবন্ধন এ বছরের অন্যতম মূল আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।

শাস্ত্র ও লোককথার চিরাচরিত ধারা মেনে গঙ্গাসাগরের গোবিন্দপুর লিটিল স্টার সংঘের দুর্গা প্রতিমা আনা হলো নদীপথে। নামখানা থেকে বিশেষ জলযানে (নৌকায়) করে প্রতিমা নিয়ে দীর্ঘ নদীপথ অতিক্রম করে আজ গোবিন্দপুর ঘাটে পৌঁছান দেবী। ঘাটে উপস্থিত শত শত গ্রামবাসী শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি ও ঢাকের বোলে মা দুর্গাকে বরণ করে মণ্ডপে নিয়ে যান।


১১তম বছরে পা দেওয়া এই পুজো কমিটির এ বছরের প্রধান আকর্ষণ পরিবেশবান্ধব শৈল্পিক প্রতিমা। নামখানার শিল্পীদের নিখুঁত কারুকার্যে মাটির ব্যবহারের পাশাপাশি প্রতিমা তৈরিতে মূলত ব্যবহৃত হয়েছে চটের দড়ি। চটের সূক্ষ্ম বুনন দিয়ে তৈরি হয়েছে দেবীর বসন ও অলঙ্কার, যা পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি বিলুপ্তপ্রায় লোকশিল্পকে তুলে ধরেছে। প্রতিমার পাশাপাশি মণ্ডপসজ্জায় এক স্পর্শকাতর সামাজিক বার্তা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। 


এ বছরের মূল থিম—"বৃদ্ধাশ্রম ও প্রবীণ বাবা-মায়ের একাকিত্ব"।আধুনিক যুগে বয়সের শেষ প্রান্তে বাবা-মায়ের অন্তর্বেদনা ও বৃদ্ধাশ্রমের একাকী জীবনকে মণ্ডপের ভেতরের শিল্পকর্মে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে, যা দর্শনার্থীদের মনে প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগাবে। মণ্ডপ সাজানো ও আধুনিক আলোকসজ্জার কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। নদীপথে প্রতিমার আগমন, চটের নান্দনিক রূপটান এবং অর্থবহ সামাজিক বার্তা—সব মিলিয়ে গঙ্গাসাগরের এই দুর্গাপূজা এবার দর্শনার্থীদের বিশেষ নজর কাড়তে চলেছে।
ফুলতলা দুর্গোৎসব পূজা কমিটির ৭৬ তম বর্ষের পুজোর উদ্বোধন হল তৃতীয়ার দুপুরে। এবছর তাদের ভাবনা ‘সুতোয় বোনা স্বপ্ন’। মণ্ডপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রাক্তন সাংসদ ও বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।

এদিন দুপুরে বারুইপুরের ফুলতলা দুর্গোৎসব প্রাঙ্গণে পৌঁছন তিনি। তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেন পুজো কমিটির সদস্যরা। প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে মণ্ডপের উদ্বোধন করেন তিনি।

পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন,
"আমি এবারের জেলার পুজোতে থাকছি সব জায়গায়। গতকাল উত্তর ২৪ পরগণা, আজকে দক্ষিণ ২৪ পরগণা হয়েছে। বারুইপুর থেকে আরম্ভ করে সোনারপুর, গড়িয়া, বকরা হাট থেকে আরম্ভ করে বজবজ, বাটা সব জায়গায় যাব। অনেক বছর পরে ফুলতলার পুজোতে এলাম বারুইপুরে। খুব উৎসাহের সঙ্গে সুন্দর মূর্তি এবং মণ্ডপ তৈরি হয়েছে। সবাই খুব আনন্দ করবেন।"
পুজো কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবছর সুতোর কারুকার্য ও বাংলার হস্তশিল্পকে তুলে ধরাই তাদের মূল থিম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এলাকার বিশিষ্টজনেরা।

গ্রামীণ স্বাস্থ্য ও শিশু কল্যাণে নিয়োজিত কর্মীদের উৎসাহিত করতে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার গঙ্গাসাগরের মহেন্দ্রগঞ্জে আশা কর্মী আইসিডিএস এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের নিয়ে বিশেষ 'অঙ্গন মিলন ও সেবা সংকল্প অভিযান' কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।


অনুষ্ঠানে মূল লক্ষ্য ছিল অঙ্গনওয়াড়ি ও স্বাস্থ্য পরিষেবার মান আরও উন্নত করা এবং কর্মীদের সম্মানিত করা। এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সাগর মণ্ডল ২-এর মণ্ডল সভাপতি ভোলানাথ মাইতি।


 এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মণ্ডল ২-এর সাধারণ সম্পাদক সহ-সভাপতি ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং মণ্ডল কমিটির অন্যান্য নেতৃত্ব ও সদস্যবৃন্দ। বক্তারা প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কর্মীদের প্রশংসনীয় ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের সেবায় একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

শারদোৎসবকে সামনে রেখে গঙ্গাসাগর কোস্টাল থানার অন্তর্গত একাধিক দুর্গাপুজো কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আর্থিক সহযোগিতার চেক। থানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে সাতটি পুজো কমিটির কর্মকর্তাদের হাতে ১ লক্ষ টাকা করে অনুদানের এই চেক আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে পুজো কমিটিগুলির হাতে চেক তুলে দেন সাগর বিধানসভার বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল।



উৎসবের দিনগুলিতে প্রশাসনিক নিয়মকানুন মেনে ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পুজো পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি। উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাগরের এসডিপিও সুমন কান্তি ঘোষ, গঙ্গাসাগর কোস্টাল থানার ওসি পার্থ সরকার, সাগর ব্লকের জয়েন্ট বিডিও এবং সাগরের এস আই। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ইসকন মন্দির ও ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের মহারাজগণসহ অঞ্চলের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।


পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অঞ্চলের পুজো কমিটির উদ্যোক্তারা।সরকারের এই আর্থিক সহযোগিতা উৎসবের আয়োজনকে আরও সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে বিশেষ সাহায্য করবে বলে জানান তাঁরা।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরদ্বীপের কালীবাজারে রবিবার রাজনৈতিক সংঘাতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল। তৃণমূল নেতৃত্বাধীন সাগর পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি তথা প্রাক্তন মন্ত্রী বঙ্কিম হাজরার জামাই স্বপন প্রধানকে ঘিরে ধরে মারধরের অভিযোগ উঠল বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে।


অভিযোগ, রবিবারে একটি চায়ের দোকানে তাঁকে কিল, চড় ও থাপ্পড় মারা হয়। স্থানীয়রা তাঁকে বাঁচাতে এলে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। গঙ্গাসাগর উপকূল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় এবং প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাতে ছেড়ে দেয়। ইতিমধ্যে এই ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

 তৃণমূল এর তীব্র নিন্দা করলেও বিজেপি দাবি করেছে, অতীতে বিভিন্ন দুর্নীতি ও হুমকির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। বর্তমানে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সাগরদ্বীপের কমলপুর গ্রামে শুরু হতে চলেছে প্রথম শারদোৎসব।বাগুলি বাজারের পাশেই অবস্থিত এই শান্ত-শ্যামল গ্রামে এতদিন পুজো না হওয়ায় বাসিন্দাদের দর্শকমাত্র হয়ে থাকতে হতো।তবে এ বছর গ্রামবাসীর যৌথ উদ্যোগে গঠিত 'কমলপুর সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি'র উদ্যোগে তৈরি হচ্ছে নিজস্ব পুজো মণ্ডপ।


আর এই ঐতিহাসিক প্রথম বছরেই কমলপুরের পুজো উদ্যোক্তারা বেছে নিয়েছেন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক থিম—"চাষির ঘরে মা দুর্গা"। সমাজের অন্নদাতা প্রান্তিক কৃষকদের অবদান ও তাঁদের যাপিত সংগ্রামকে সম্মান জানাতেই এই অভিনব আয়োজন।আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে মণ্ডপ তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে না কোনো কৃত্রিম প্লাস্টিক বা ক্ষতিকর কেমিক্যাল। বাঁশ, খড়, মাটি এবং নিখাদ কৃষিজাত নানা উপাদান দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে বিলুপ্তপ্রায় ধানের গোলা, প্রাচীন লাঙল ও বলদে টানা গরুর গাড়ি। পুজো কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত এই আলোর রোশনাইতে মুখরিত থাকবে গোটা গ্রাম।


দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ঘুচিয়ে এ বছর গ্রামের মণ্ডপেই অনুষ্ঠিত হবে মহা নবমীর কুমারী পুজো। পাশাপাশি দর্শনার্থী ও ভক্তদের জন্য মহাপ্রসাদ বিতরণের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সাগরদ্বীপের প্রাচীন বাগুলি বাজারের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই প্রথম পুজো ঘিরে এখন থেকেই সাগরদ্বীপের সমস্ত পুজোপ্রেমী মানুষের মধ্যে চরম উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ করা যাচ্ছে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার কাকদ্বীপ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে হানা দিলেন স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকেরা। সোমবার হাসপাতালে পৌঁছে রান্নাঘরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রোগীদের জন্য তৈরি খাবারের গুণমান এবং খাবার সংরক্ষণের পদ্ধতি খতিয়ে দেখেন তাঁরা। পাশাপাশি, হাসপাতালে মজুত থাকা বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী কীভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে, তা-ও পরিদর্শন করেন আধিকারিকেরা।

শুধু রান্নাঘর কিংবা খাবার তৈরির ব্যবস্থাই নয়, সরাসরি রোগীদের সঙ্গেও কথা বলেন স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকেরা। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীরা নিয়মিত সঠিক পরিমাণে খাবার পাচ্ছেন কি না, তাঁদের নির্ধারিত খাবার যথাযথভাবে দেওয়া হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও খোঁজখবর নেন তাঁরা। রোগীদের কাছ থেকে খাবারের মান ও পরিষেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য জানার চেষ্টা করেন আধিকারিকেরা।
এ বিষয়ে কাকদ্বীপ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সুপার জানান, বিগত দিনে হাসপাতালের খাবার সংক্রান্ত একটি অভিযোগ জমা পড়েছিল। সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকেরা হাসপাতালে এসে সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।



প্রজাদের মঙ্গল কামনায় জমিদাবাবু হাতানিয়া-দোয়ানিয়া নদীর অদূরে শুরু করেছিলেন দুর্গাপূজা। নিজের জমিতে দুর্গামন্দির স্থাপন করেছিলেন। তারপর পুজো শুরু। বর্তমানে জমিদারি নেই। সে বাড়ির বংশধরেরাও সেখানে থাকেন না। কিন্তু জমিদারের প্রজারা স্থানীয় ঐতিহ্য বজায় রাখতে দুর্গাপুজোর ভার নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। পুজো চলছে মহাসমারোহে।


জমিদারের প্রজাদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারাও এখন পুজোয় যুক্ত হয়েছেন। এভাবেই নামখানা ব্লকের নারায়ণপুরে প্রথম ঘেরির দুর্গাপুজো সার্বজনীন হয়ে ওঠে। একসময় নামখানা ব্লকের নারায়ণপুর ছিল জঙ্গলে ঘেরা। কোনো জনবসতি ছিল না। তখন জমিদার ধনঞ্জয় গায়েন জঙ্গল কেটে লাট পত্তন করেছিলেন। জঙ্গল কাটার আগে বিশালাক্ষী দেবীর পুজো করা হয়েছিল। 


কারণ তখন সুন্দরবনের ওই এলাকায় বাঘের ভয়ঙ্কর দাপট। বিশালাক্ষী দেবীর বাহন হল বাঘ। তাই বাঘের হাত থেকে বাঁচতে বিশালাক্ষী দেবীর পুজো শেষ করে কুড়ুল দিয়ে প্রথমেই গাছের গায়ে কোপ মারা হয়েছিল। তারপর জমিদার ধনঞ্জয় জমি দান করেন কিছু মানুষকে। তাঁরাই হয় প্রজা। তাঁরা বসতি স্থাপন করেন। তারপর জমিদারি যায় ধনঞ্জয়ের পুত্র নারায়ণ গায়েনের হাতে। তাঁর নাম অনুসারেই অঞ্চলের নাম হয় 'নারায়ণপুর'।