WEATHER

Top News


ভাঙড়ের তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলামের নামে হেয়ারিং নোটিশ, বাবার নামের বানান ভুল ঘিরে বিতর্ক।
  

ভাঙড়ের তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন বিধায়ক আরাবুল ইসলামের নামে হেয়ারিং নোটিশ জারি হয়েছে। বাবার নামের বানানে ভুল থাকার কারণ দেখিয়ে আগামী ৩১শে জানুয়ারি হেয়ারিংয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে বলে জানা গেছে।

একসময়ে ভাঙড়ের ‘বেতাজ বাদশা’ হিসেবে পরিচিত আরাবুল ইসলাম বর্তমানে গোটা বাংলারই পরিচিত মুখ। ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ছিলেন। বিধায়ক পদ ছাড়ার পর টানা তিনবার তিনি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।

এবার সেই আরাবুল ইসলামের নামেই হেয়ারিং নোটিশ আসায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। নোটিশ প্রসঙ্গে আরাবুল ইসলাম দাবি করেন, শুধুমাত্র বাবার নামের বানান ভুলের কারণ দেখিয়ে এই হেয়ারিং নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “সাধারণ মানুষকে অকারণে হয়রানি করা হচ্ছে। বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন পরিকল্পিতভাবে এই চক্রান্ত করছে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে।”

অল্পের জন্য রক্ষা তিন প্রাণ, হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল অপোক্ত বাড়ি—আবাস যোজনার ঘর না পাওয়ার অভিযোগ

সোনারপুরঃ অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেল তিনটি মানুষ। মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল একটি অপোক্ত বাড়ি। ঘটনাটি ঘটেছে সোনারপুর–২ গ্রাম পঞ্চায়েতের মথুরাপুর পূর্ব ব্রাহ্মণপাড়া এলাকায়, মথুরাপুর প্রাইমারি স্কুলের পিছনে। ভেঙে পড়া বাড়িটিতে বসবাস করতেন পিনাকী ভট্টাচার্য (পিতা: ধীরাজ ভট্টাচার্য), তাঁর স্ত্রী সোমা ভট্টাচার্য ও সন্তান।
জানা গিয়েছে, ২০১৮ সাল থেকে বাংলার আবাস যোজনার তালিকাভুক্ত ছিলেন পিনাকী ভট্টাচার্য।
 কিছুদিন আগে সরকারি কর্মচারীদের দ্বারা বাড়ি পরিদর্শনের পর অজ্ঞাত কারণে তাঁর নাম তালিকা থেকে বাতিল হয়ে যায় বলে অভিযোগ। বাড়িটি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ায় বর্তমানে বাড়ির সামনে ফাঁকা জায়গায় প্লাস্টিক টাঙিয়ে কোনওরকমে থাকছিল পরিবারটি। ঘটনার সময় তাঁরা ঘরের মধ্যেই ছিলেন। দুপুরের দিকে আচমকাই বাড়িটি ভেঙে পড়ে, কোনওরকমে প্রাণে বাঁচেন তাঁরা। সোমা ভট্টাচার্য জানান, ভাড়া দেওয়ার সামর্থ্য নেই বলেই আপাতত অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হচ্ছে। অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চলে, কাজ না পেলে খাবারও জোটে না। বারবার পঞ্চায়েতকে জানিয়েও কোনও স্থায়ী সমাধান মেলেনি বলে অভিযোগ তাঁর। প্রতিবেশী শুভঙ্কর কয়াল জানান, বাড়িটি পাকাবাড়ি ছিল না, ইটের উপর কাদা দিয়ে তৈরি। পঞ্চায়েতকে জানানো হলেও সেটিকে পাকাবাড়ি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
এ বিষয়ে সোনারপুর–২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রবীন সরদার জানান, কেন তাঁর নাম তালিকা থেকে কাটা গিয়েছিল তা তিনি জানেন না। তবে পিনাকী ভট্টাচার্য প্রকৃত উপভোক্তা বলেই স্বীকার করেন তিনি। নতুন করে তাঁর নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং আপাতত ত্রিপলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, ঘটনাচক্রে আজই বাংলার বাড়ি প্রকল্পে উপভোক্তাদের হাতে বাড়ি তৈরির চেক তুলে দেওয়া হবে। সিঙ্গুর থেকে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোনারপুর ব্লক সহ প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতেও এই উপলক্ষে অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

গঙ্গাসাগরে পুণ্যার্থী বোঝাই গাড়ি উল্টে বিপত্তি: শিশু বাঁচাতে গিয়ে জখম ৫


গঙ্গাসাগরে কপিল মুনির আশ্রম দর্শন সেরে ফেরার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়লেন পুণ্যার্থীরা। আজ সকাল ১০টা নাগাদ সাগর থেকে কচুবেড়িয়া ভেসেল ঘাটের দিকে যাওয়ার পথে সূর্য বৃন্দা মোড়ের কাছে একটি যাত্রীবোঝাই ‘ম্যাজিক’ গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এই ঘটনায় অন্তত ৫ জন পুণ্যার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দ্রুত গতিতে থাকা গাড়িটির সামনে আচমকাই একটি শিশু সাইকেল নিয়ে চলে আসে। শিশুটিকে বাঁচাতে গিয়ে চালক সজোরে ব্রেক কষলে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ওপর উল্টে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা তৎক্ষণাৎ উদ্ধারকাজে হাত লাগান। পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের দ্রুত সাগর গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে সাগর কোস্টাল থানার পুলিশ পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। তবে এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই মোড়ে কোনও স্পিড ব্রেকার বা বাম্পার না থাকায় প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটছে। বড়সড় বিপদ এড়াতে অবিলম্বে সেখানে বাম্পার বসানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

সুরক্ষিত তট, সমৃদ্ধ ভারত’—এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আজ সকালে সিআইএসএফের উদ্যোগে বন্দেমাতরম কোস্টাল সাইক্লোথন–২-এর সূচনা হল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বকখালির উপকূল থেকে। 


সকালেই পতাকা নাড়িয়ে সাইক্লোথনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন প্রখ্যাত ফুটবলার গৌতম সরকার এবং গার্ডেনরিচ শিপ বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এর অবসরপ্রাপ্ত সিএমডি পি. আর. হরি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিআইএসএফের আইজি নীলিমা রাণী, ডিআইজি কে. প্রতাপ সিং-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক। পাশাপাশি ফ্রেজারগঞ্জ কোস্ট গার্ড ঘাঁটির আধিকারিকদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য।

এই কোস্টাল সাইক্লোথন আগামী ১লা এপ্রিল কন্যাকুমারিতে গিয়ে শেষ হবে। মোট ২৫ দিনে পূর্ব ও পশ্চিম ভারতের ৯টি রাজ্যের প্রায় ৬,৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রতট অতিক্রম করবেন সিআইএসএফের জওয়ানরা। বকখালি থেকে শুরু হওয়া এই অভিযাত্রায় অংশ নিয়েছেন মোট ১৩০ জন জওয়ান, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন ৬৫ জন মহিলা জওয়ান।

যাত্রাপথে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি মৎস্যজীবী পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন অভিযাত্রীরা। উপকূলের স্বচ্ছতা রক্ষা, নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধিই এই সাইক্লোথনের মূল উদ্দেশ্য। সাইকেল চালিয়ে উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা ও পরিবেশ সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেওয়াই সিআইএসএফের এই বিশেষ উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।



লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কারণে শুনানিতে ডাক, আতঙ্কে কেরোসিন খেয়ে আত্মঘাতী চেষ্টার অভিযোগ ভাঙড়ে

মঙ্গলবার ঘটনাটি ঘটেছে ভাঙ্গড়ের উত্তর কাশীপুর থানার শোনপুর এলাকায়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে বর্তমানে কলকাতার আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

জানা গিয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তির নাম ইসরাফিল খান। তাঁর বাড়ি শোনপুর এলাকায়। পরিবার সূত্রে খবর, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ইসরাফিলের নাম না থাকলেও তার বাবা- মায়ের নাম আছে। তবে তাঁর পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেশি হওয়ায় ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র কারণ দেখিয়ে ইসরাফিলকে শুনানিতে ডাকা হয় বলে অভিযোগ।

পরিবারের দাবি, শুনানির নোটিস পাওয়ার পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন ইসরাফিল। মঙ্গলবার আচমকাই তিনি বাড়িতে কেরোসিন তেল পান করেন বলে অভিযোগ। দ্রুত শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে প্রথমে জিরেনগাছা ব্লক হসপিটাল তারপর নলমুড়ি ব্লক হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে কলকাতার আর জি কর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্য একরামুল মোল্লা বলেন, হেয়ারিং এর নোটিশ পাওয়ার পর আতঙ্কে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ইসরাফিল খান, ২০০২ সালে ভোটার লিস্টে তার বাবা মায়ের নাম আছে সমস্ত ডকুমেন্ট আছে স্থানীয় বাসিন্দা তারা, কিন্তু ইয়ারিং এর নোটিশ পাওয়ার পর আতঙ্কে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

বাইট 

১ তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য একরামুল মোল্লা

২ নাজিমা বিবি, আক্রান্ত ইসরাফিলের বৌদি 

৩ রবিউল মোল্লা, আত্মীয়

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার আনন্দপুর এলাকায় মমো তৈরির কারখানা এবং প্যান্ডেলের গোডাউনে বিধ্বংসী আগুন এর ঘটনায় বেসরকারি মতে অনেকের মৃত্যুর ঘটনা উঠে এলেও তার সত্যতা পাওয়া যায়নি, এতে বাদে বেশ কিছু মেশিন ডায়েরি করা হয়েছে,

তবে প্রশাসনিক মতে আটজনের মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশে আনা হয়েছে।তবে অধিকাংশ ভিতর দেওয়া সনাক্ত করা স্বভাব হয়নি। 
ফিরহাদ হাকিম ওরফে ববি সাংবাদিকদের মুখোমুখি বলেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তিনি এসেছেন, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ টিম আসছে আগামীকাল, এমনকি মৃত্যুর পরিবারের সঙ্গে ডিএনএ টেস্ট করা হবে। 

ইতিমধ্যে প্যান্ডেলের মালিক গঙ্গাধর দাসকে বারাইপুর থেকে হয়েছে। 
ঘটনাস্থল আনন্দপুর থেকে ফিরহাদ হাকিম এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা খেয়াদা দু'নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে পৌছালেন। কিছুক্ষণের বাদেই সাংবাদিক সম্মেলন করবেন।

চলছে এসআই আর হেয়ারিং, হেয়ারিং এ আসা মানুষ জনের কাগজ জমা নেওয়ার্র পর রিসিভ না দেওয়ায় ভাঙচুর গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য নেতৃত্বে,পঞ্চায়েত সদস্যের নাম আশিক ইকবাল, নির্দল পঞ্চায়েত সদস্য। 
ঘটনাটি দক্ষিণ 24 পরগনা জেলার জয়নগর মজিলপুর বোর্ড অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।
এস আই আর এর নোটিস পেয়ে সকাল থেকে দেখা যায় শতাধিক মানুষের লম্বা লাইন হেয়ারিং এর কাগজ জমা দেওয়ার পর কোন রিসিভ না দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠল এলাকা, রিসিভ কেন দেওয়া হচ্ছে না তাই নিয়ে বিতর্ক শুরু,ক্ষিপ্ত লোকজন ভাঙচুর করে বলে বলে অভিযোগ। নির্বাচন আধিকারিকের কাজকর্মে বাধা এবং স্কুলের সম্পত্তি ভাঙচুর করার অভিযোগ এলাকার বিরোধী দলনেতা পবিত্র পাত্রর, তার দাবি এটা শাসকদলের কাজকর্ম শাসকদলের কালচার। 

স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য আশিক ইকবাল সরদার এই ভাঙচুরের নেতৃত্ব দেন। 
এই ব্যাপারে আশিক ইকবাল এর সঙ্গে ফোনে কথা বলা হলে তিনি জানান নির্বাচন কমিশনারের নিয়ম থাকা সত্ত্বেও কোনরকম রিসিভ দেওয়া হচ্ছে না ঘটনাটি কি বিডিও কে জানান, তবু কোন কাজ হয়নি লাইনে দাঁড়ানো মানুষ যখন জেরক্স কাগজ নিয়ে এসে তারা নিয়ে যান। তিনি কোন ভাঙচুরের মদত দেননি। লাইনে দাঁড়ানো মানুষ তারা অন্যায়ের প্রতিবাদ স্বরূপ ভাঙচুর চালান।তিনি আরো স্বীকার করেন তিনি সক্রিয় তৃণমূলের সমর্থক, এমনকি সাংসদ ঘনিষ্ঠ, তবেই তিনি তৃণমূলের কাছ থেকে টিকিট না পাওয়ায় নির্দল হয়ে যেতেন। 
তুমি আরো বলেন মানুষের পাশে ছিলেন মানুষের পাশে আছেন অন্যায়ের প্রতিবাদ তিনি করেছেন। তবে তিনি কোন ভাঙচুর করেন নি সাধারণ মানুষই মানুষের চালিয়েছে।
সাগরের ফুটবল ময়দানে বিতর্কের ছায়া: ভাইরাল ভিডিওকে 'ফেক' বলে ওড়ালো তৃণমূল, ধিক্কার সন্দীপ পাত্রের


গত ২৫শে জানুয়ারি, রবিবার গঙ্গাসাগরের বঙ্কিমনগর ভাতৃ সঙ্ঘের পরিচালনায় আয়োজিত ফুটবল প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তর্জা তুঙ্গে। মেগা ফাইনালের দিন মাঠে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টলিউড কুইন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। অভিনেত্রীকে হুডখোলা জিপে নিয়ে মাঠ প্রদক্ষিণ করার সময় "জয় শ্রীরাম" ধ্বনি দেওয়া হয়েছে বলে একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই ভিডিওটিকে সম্পূর্ণ 'ভুয়ো' বা 'এডিটেড' বলে দাবি করা হয়েছে। এদিন মাঠে অভিনেত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মথুরাপুরের সাংসদ বাপি হালদার এবং স্থানীয় বিধায়ক তথা সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বিরোধী পক্ষ সুপরিকল্পিতভাবে অন্য জায়গার শব্দ ব্যবহার করে এই ভিডিওটি এডিট করেছে যাতে এলাকায় সাম্প্রদায়িক উস্কানি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করা যায়। এই বিতর্ক প্রসঙ্গে জেলা পরিষদের সদস্য তথা জিবিডিএ এর ভাইস চেয়ারম্যান সন্দীপ কুমার পাত্র তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান: "এই খেলার সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। এই টুর্নামেন্ট কমিটির মধ্যে যেমন তৃণমূলের লোক আছে, তেমনি বিজেপি ও সিপিএমের কর্মীরাও রয়েছেন। মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এই খেলা আজ এক বিশাল আকার ধারণ করেছে। গত বছর সায়নী ঘোষ এসেছিলেন, এবার ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত এসেছেন।

 যারা এই ধরনের নির্লজ্জ ফেক ভিডিও তৈরি করে প্রচার করছে, তারা জীবনে কোনোদিন বড় কিছু করতে পারবে না।" তিনি আরও যোগ করেন যে, সাগরদ্বীপের মানুষের কাছে এই ফুটবল টুর্নামেন্ট একটি আবেগের জায়গা। সেই প্রাণের খেলাকে নিয়ে যারা রাজনীতি করছে, তাদের তীব্র ভাষায় ধিক্কার জানান তিনি। শাসকদলের স্পষ্ট দাবি, সেদিনের অনুষ্ঠানে এরকম কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বিরোধীরা রাজনৈতিকভাবে লড়াই করতে না পেরে এখন প্রযুক্তির অপব্যবহার করে অপপ্রচার চালাচ্ছে। বিজেপি এই ঘটনাকে 'জনসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত আবেগ' বলে দাবি করলেও, তৃণমূলের পাল্টা যুক্তি—মানুষের এই জমায়েত ছিল নিছকই ফুটবল প্রেম ও প্রিয় অভিনেত্রীকে দেখার জন্য, সেখানে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক স্লোগান ওঠেনি। সব মিলিয়ে সাগরের খেলার মাঠ এখন রাজনৈতিক চাপানউতোরের কেন্দ্রবিন্দুতে।

গঙ্গাসাগরে কৃষকদের মুখে হাসি: বিনামূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ করলেন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা 


মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় সুন্দরবনের প্রান্তিক কৃষকদের স্বনির্ভর করতে এক বিশেষ উদ্যোগ নিল সুন্দরবন উন্নয়ন দপ্তর। মঙ্গলবার সুন্দরবন উন্নয়ন পর্ষদের পক্ষ থেকে গঙ্গাসাগরের রুদ্রনগরে কয়েকশো কৃষকের হাতে বিনামূল্যে আধুনিক কৃষি উপকরণ ও যন্ত্রপাতি তুলে দেওয়া হয়। উক্ত কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে রাজ্যের সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা কৃষকদের হাতে ধান ঝাড়াই মেশিন, অত্যাধুনিক স্প্রে মেশিন, এসি নেট এবং ওল বীজসহ একাধিক সরঞ্জাম তুলে দেন।
 প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করা সুন্দরবনের কৃষকরা যাতে উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে চাষবাস করে লাভের মুখ দেখতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাগর ব্লকের বিডিও কানাইয়া কুমার রাও, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সাবিনা বিবি, সহকারী সভাপতি স্বপন কুমার প্রধান সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। "মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা সব সময় কৃষকদের পাশে আছি। এই আধুনিক সরঞ্জামগুলো ব্যবহারের ফলে কৃষকদের শ্রম কমবে এবং ফলন বৃদ্ধি পাবে। সুন্দরবনের কৃষি ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করাই আমাদের লক্ষ্য।"
বিনামূল্যে এই সব মূল্যবান যন্ত্রপাতি হাতে পেয়ে খুশি এলাকার কৃষকরা। তাদের মতে, সরকারি এই সাহায্য আগামী মরসুমে চাষের খরচ অনেকটা কমিয়ে দেবে।
 মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের প্রকল্প ‘বাংলার বাড়ি’-তে সাফল্যের মুখ দেখল নামখানার শিবরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েত। এই পঞ্চায়েত এলাকার প্রায় ৪০০টি পরিবারের হাতে বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে বাড়ি তৈরির প্রথম কিস্তির চেক তুলে দেওয়া হলো। 


এতদিন সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর নিয়ম থাকলেও, এবার গ্রাহকদের স্বচ্ছতা ও নিশ্চয়তা দিতে সরাসরি হাতে চেক প্রদানের অভিনব সিদ্ধান্ত নিয়েছে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ।


সরাসরি প্রথম কিস্তির চেক হাতে পেয়ে দীর্ঘদিনের পাকা বাড়ির স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে দেখে শিবরামপুরের বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক খুশির হাওয়া লক্ষ্য করা গিয়েছে। উপভোক্তারা জানিয়েছেন, হাতে চেক পাওয়ায় তাঁরা দ্রুত নির্মাণ সামগ্রী কিনে কাজ শুরু করতে পারবেন। পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম কিস্তির কাজ শুরু হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই দ্বিতীয় কিস্তির টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।


বুধবার শিবরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে এই চেক প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত প্রধান অর্চনা বারুই মাইতি, উপপ্রধান দেবাশিস দাস এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের অন্যতম সদস্য অখিলেশ বারুই। এ ছাড়াও পঞ্চায়েতের অন্যান্য সদস্যরা এই প্রক্রিয়ায় তদারকি করেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন ব্লকে এদিন চেক বিলি করা হলেও, শিবরামপুরের উদ্যোগ ছিল চোখে পড়ার মতো।
পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের মতে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ অনুসারে গ্রামবাংলার প্রতিটি মানুষের মাথার ওপর পাকা ছাদ নিশ্চিত করতেই এই তৎপরতা। সরাসরি চেক প্রদানের মাধ্যমে উপভোক্তাদের সঙ্গে পঞ্চায়েতের যোগাযোগ আরও নিবিড় হলো এবং দুর্নীতির ফাঁকফোকর বন্ধ করে স্বচ্ছতা বজায় রাখা সম্ভব হলো।

সুরক্ষিত তট, সমৃদ্ধ ভারত’—এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আজ সকালে সিআইএসএফের উদ্যোগে বন্দেমাতরম কোস্টাল সাইক্লোথন–২-এর সূচনা হল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বকখালির উপকূল থেকে। 


সকালেই পতাকা নাড়িয়ে সাইক্লোথনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন প্রখ্যাত ফুটবলার গৌতম সরকার এবং গার্ডেনরিচ শিপ বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এর অবসরপ্রাপ্ত সিএমডি পি. আর. হরি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিআইএসএফের আইজি নীলিমা রাণী, ডিআইজি কে. প্রতাপ সিং-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক। পাশাপাশি ফ্রেজারগঞ্জ কোস্ট গার্ড ঘাঁটির আধিকারিকদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য।
এই কোস্টাল সাইক্লোথন আগামী ১লা এপ্রিল কন্যাকুমারিতে গিয়ে শেষ হবে। মোট ২৫ দিনে পূর্ব ও পশ্চিম ভারতের ৯টি রাজ্যের প্রায় ৬,৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রতট অতিক্রম করবেন সিআইএসএফের জওয়ানরা। বকখালি থেকে শুরু হওয়া এই অভিযাত্রায় অংশ নিয়েছেন মোট ১৩০ জন জওয়ান, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন ৬৫ জন মহিলা জওয়ান।

যাত্রাপথে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি মৎস্যজীবী পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন অভিযাত্রীরা। উপকূলের স্বচ্ছতা রক্ষা, নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধিই এই সাইক্লোথনের মূল উদ্দেশ্য। সাইকেল চালিয়ে উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা ও পরিবেশ সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেওয়াই সিআইএসএফের এই বিশেষ উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।



 দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। ভারতীয় জলসীমায় অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক হওয়া ১১৫ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবী অবশেষে মুক্তি পেয়ে নিজেদের দেশে ফিরছেন।



বুধবার সকালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানা ব্লকের ফ্রেজারগঞ্জ মৎস্য বন্দর থেকে পাঁচটি ট্রলারসহ তাঁদের বাংলাদেশের উদ্দেশে বিদায় জানানো হয়। ২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়ে বঙ্গোপসাগরে আন্তর্জাতিক জলসীমা লঙ্ঘন করে ভারতীয় অংশে ঢুকে পড়ার অভিযোগে এই মৎস্যজীবীদের আটক করেছিল ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী (Indian Coast Guard)। তাঁদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও ভারতীয় জলসীমায় মাছ ধরার অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছিল। আইনি প্রক্রিয়া শেষে কয়েক মাস ভারতীয় জেলে বন্দি থাকার পর সম্প্রতি আদালত তাঁদের মুক্তির নির্দেশ দেয়।

বুধবার সকাল ১০টা নাগাদ ফ্রেজারগঞ্জ মৎস্য বন্দরে এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁদের বিদায় জানানো হয়। এই প্রক্রিয়ায় উপস্থিত ছিলেন
কাকদ্বীপের মহকুমা শাসক প্রীতম সাহা। নামখানার বিডিও সুব্রত মল্লিক। ফ্রেজারগঞ্জ থানার ওসি সুদীপ মণ্ডল ও উপকূলরক্ষী বাহিনীর পদস্থ আধিকারিকগণ।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ফ্রেজারগঞ্জ থেকে রওনা হওয়া এই মৎস্যজীবীদের আজ বিকেলে ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক জলসীমানায় নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের হাতে তুলে দেবে। দীর্ঘদিন পর ঘরের ছেলেরা দেশে ফেরায় খুশি মৎস্যজীবীদের পরিবার। প্রশাসনিক আধিকারিকদের মতে, দুই দেশের আইনি ও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই দ্রুত এই প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়েছে। পাঁচটি বাংলাদেশি ট্রলারও যথাযথ মেরামতির পর তাঁদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।


বকখালি থেকে মুন্না সরদারে রিপোর্ট কাকদ্বীপ ডট কম

ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, গোপন ভিডিও তুলে ব্ল্যাকমেল,সোনারপুর থানার পুলিশে গ্রেফতার অমিত দে

ভূমি সংস্কার দপ্তরের এক আধিকারিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়াল সোনারপুরে। এক তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত আধিকারিক অমিত দে-কে গ্রেফতার করেছে সোনারপুর থানার পুলিশ। ধৃতকে বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
নির্যাতিতা তরুণীর অভিযোগ, ২০১৯ সালে তাঁর বাবা অভিযুক্তের বাড়িতে পাইপলাইনের কাজে যাওয়ার সূত্রে দুই পরিবারের মধ্যে পরিচয় ও যাতায়াত গড়ে ওঠে। অভিযুক্তকে তিনি ‘কাকু’ বলে ডাকতেন। সে সময় তিনি নাবালিকা ছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ। পারিবারিক বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত মাঝেমধ্যেই তাঁকে নিয়ে যেতেন বলে দাবি।
অভিযোগ , ওই সময় জোর করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয় এবং ছবি ও ভিডিও তুলে রেখে তা ভাইরাল করার হুমকি দিয়ে বারবার নির্যাতন চালানো হয়। পরে তরুণীর বিয়ে ঠিক হলে অভিযুক্ত তাঁর হবু বরের বাড়িতে গিয়ে বিয়ে ভেঙে দেয় এবং হুমকি দেয় বলে অভিযোগ।

এই ঘটনার পর আতঙ্কিত হয়ে তরুণী ও তাঁর পরিবার সোনারপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের তদন্তে নেমে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত বিবাহিত এবং তাঁর স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।