তিনি বলেন, "আমরা মুখে বলি না কাজে করি। ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা খরচ করে রাজ্য সরকার আপনাদের এটা আপনাদের উপহার দিল। মুড়িগঙ্গা নদীর উপর এই সেতু হল। কাকদ্বীপের লর্ট ৮ ও কচুবেড়িয়ার মধ্যে সেতু। ৫ কিমি লম্বা ও ৪ লেনের এই সেতুর খরচ হবে ৪০০ কোটি। এখন মানুষ বলেন গঙ্গাসাগর বারবার।"
এই ক'দিন আগে এসেছিলেন, মিথ্যা কথা বলে গেলেন, আমি ক্ষমা করে দিলাম: মমতা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
জন্মদিনের দিন গঙ্গাসাগরে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি পরিদর্শনে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।মুড়িগঙ্গা নদীর উপর তৈরি হতে চলেছে বহু চর্চিত গঙ্গাসাগর সেতু। তার শিলান্যাস করেন তিনি। আজ মমতা কী কী বলেন সবটা এক নজরে…
সর্বশেষ তথ্য উপরে
ভোটের আগে মেদিনীপুরে বিজেপির আইটি সেলে ভাঙন?
বিষ খাওয়াতে চেয়েছিলেন মা! দেবলীনার কোন ভয়ঙ্কর সত্য সামনে এল?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: মিস্টার ভ্যানিশ কুমার, বাংলায় নো ডিটেনশন সেন্টার স্যার। অপেক্ষা করুন বিচারের জন্য, বিচার তো মানুষই দেবে। আর বাংলার দুর্যোধন দুংশাসনরা খেয়াল রাখবেন
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: আমরা আইনের সাহায্য নিচ্ছি। আগামিকাল কোর্ট খুলবে। আমরাও আইনে যাব। এত মানুষের মৃত্য, এত মানুষকে যেভাবে হ্যারাস করেছে… প্রয়োজন পড়লে আমি নিজেও পারমিশন চাইব। দরকার হলে সুপ্রিম কোর্টে মানুষের হয়ে প্লিড করব। আমি মানুষের হয়ে কথা বলব। লইয়ার আছি। তবে আমি not as লইয়ার যাব। আমি একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবে আমার কথা বলতে পারি। কথা বলার অনুমতি নেব আর চোখে আঙুল দিয়ে দেখানোর চেষ্টা করব তৃণমূলস্তরে কী চলছে। যতই চেষ্টা করো বিজেপি, মিলবে না কো জিলিপি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: দিল্লির কোনও এক নেতাদের নেতা বলেছেন, লক্ষ্মীদের বাড়ি থেকে বেরতে দেবেন না ভোটের দিন। আমি বলি লক্ষ্মীদের চেনো না। এরা পাঁচালি পড়ে, এরা সৃষ্টিও করে। আজ শাসানি দিচ্ছে। এটা ক্রিমিনাল অফেন্স। AI বেরিয়েছে। এআই দিয়ে কাটিয়ে দিয়েছে। এআই ঠিক করছে সব। ৫৪ লক্ষ নাম বাদ দিয়েছে। ওরা করতে পারেন না এমন কিছু নেই। মানুষের নাম ভ্যানিশ করে দিচ্ছে। যে ৫৪ লক্ষের নাম বাদ দিয়েছে তাদের অধিকার ছিল ৭ নম্বর বা ৮ নম্বর ফর্ম ফিলাপ করার। হোয়াটসঅ্যাপ এ চলছে ইলেকশন কমিশন। মানুষের অধিকার ভ্যানিশ করলে আপনারাও ভ্যানিশ হয়ে যাবেন। নিজের নাম তুলবেন সকলে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: এখানকার বনবিবি উৎসব কী করে? এখানে রয়াল বেঙ্গল টাইগার আছে। এখানে কামড়াতে এলে উল্টে কামড় খাবে। নখ-কান মাথা সাইজ করে দেবে। আসো একবার কুমির-বাঘের সঙ্গে লড়াই করো। এখান মানুষ লড়াই করে বেঁচে থাকে। লড়াই মানুষের জীবন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: যে অন্যায় ভোটার লিস্টে নাম তোলা নিয়ে হচ্ছে। মেয়ে বিয়ের পর পদবী চেঞ্জ করছে, টাইটেল চেঞ্জ করছে, বলছে নাম বাদ। ধরুন আমার নাম মমতা। আমি তো নামের ভিন্ন বানান লিখতে পারি। গর্ধবগুলো বোঝেই না। বাংলায় আর ইংরেজি বানান আলাদা। উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, দিল্লিতে বাংলা বলা যাবে না। বাংলা বললেই খুন করে দিতে হবে। আমি বলি সাহস থাকলে আমায় খুন কর। আমি বাংলা হাজারবার বলব। ইংরেজি মিডিয়ামে পড়ে তাঁরা ইংরেজিতে বলবে। বাংলা মিডিয়ামে পড়লে বাংলা বলবে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: দেশটাকে ধ্বংস করতে ওরা এসেছে। বাংলা মাথা নত করেননি, কবে না।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: যারা বড়-বড় কথা বলে তাঁদের নাম কাটছেন, তাঁদের মা-বাবার সার্টিফিকেট আছে? আমি আমার মা-বাবার জন্মের সার্টিফিকেট জানি না। কারণ, বাড়িতে সব হোমডেলিভারি। আমিও গ্রামে জন্ম নিয়েছি। বাংলা ছিল আছে থাকবে। বাংলাকে বিনাশের ক্ষমতা নেই। একদিকে মা দুর্গা, অন্যদিকে দক্ষিণা কালী, মা তারা, রক্ষাকালী, ছিন্নমস্তা দাঁড়িয়ে আছে। আগে বারো, তৈরি হও। ছেলেমেয়েরা এগিয়ে এসো। নতুন প্রজন্ম তৈরি হও।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: পারমানবিক বোমা ভারত তৈরি করেন। সাথী কে ছিল জানেন? একজন বঙ্গ সন্তান ছিল। নাসা থেকে ভাষা একটাই আশা। ভবিষ্যত বাংলা-বাংলা আর বাংলা।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: ওরা গান্ধীজীকে বর্জন করেছে, আমরা অর্জন করেছি। কর্মশ্রীর নাম গান্ধীজী হয়েছে। ওরা বাঙালি অস্মিতাকে অসম্মান করেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: ওরা নাকি ধর্ম মানে। সেই ধর্মের না আছে ধ আর না আছে র্ম। শ্রীকৃষ্ণ বলেছিলেন, ধর্ম মানে ধারণ। আর যাঁরা উন্নয়নের পাঁচালীকে নিয়ে চাঁচালি করছেন, কোনও যায় আসেন না। কোনও দিন পাঁচালী ?জয়-জয় দেবী। বেদ-বেদান্ত পড়েছে?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: এটা হল উন্নয়নের পাঁচালী। কেউ কেউ নকল করে আমাদের ব্যাঙ্গ করে ব্যাঙ্গমার গল্প বলছেন। আমরা বলি বিজেপির ব্যাঙ্গমার গল্প বলুন। আপনারা কী করেছেন ? ঘেচু , লবডঙ্কা, আপনারা বাংলার জন্য ঘেচু করেছেন। খালি ঘ্যাচাং ফু করছেন। ক্ষমতা থাকলে এর ইংরেজি বের করুন। এগুলো বাংলা কথা।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: গত বছর ঝড়ে-জলে বিপ্ন্ন হয়েছিল কপিলমুনির আশ্রম। কুপিলমুনি অর্ধেক জলে ডুবে গিয়েছিল। আজ মাত্র ২ লাখ ২৬ হাজার মানুষ পরিষেবা পেলেন। ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ -৭০/৮০ শতাংশ কাজ হয়ে গেছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: এখানে আরও ২০টি টুরিজম কটেজ তৈরি হল। নাম দিলাম গঙ্গান্ন। কেমন নাম? নবান্ন, সৌজন্য, সম্পন্ন, শুভন্ন্য, ঐকন্য, সুরান্ন, আপন্য, অরণ্য, গঙ্গান্ন সব মিলিয়ে দেওয়া। নবান্নর একটা গঙ্গান্ন থাকবে না?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: এই ক’দিন আগে এসেছিলেন। মিথ্যা কথা বলে গেলেন। আমি ক্ষমা করে দিলাম। স্বৈরাচারী, মিথ্যাচার করা ওদের কাজ। মিথ্যাবাদী লগ্নে জন্মগ্রহণ করেন তাঁদের সত্যবাদী বলা যায় না। আমরা কারও খারাপ চাই না। আগে বলতাম লোডসেডিংয়ের সরকার আর নেই দরকার। এখন বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে সাগরদ্বীপের মতো জায়গায়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: আগে গঙ্গাসাগরের পরিকাঠামো ছিল খুব খারাপ। কিন্তু ২০১১ সালের পর থেকে এই গঙ্গাসাগরের জন্য প্রচুর উন্নয়ন করা হয়েছে । প্রতি বছর মন্ত্রীরা এই মেলার সময় দেখভাল করেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: সুন্দরবন বিপজ্জনক অঞ্চল। নবকুমার পথ হারান এখানে। এই সেতুর ফলে এখানকার স্থানীয় মানুষের, পর্যটকদের এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে যেতে সুবিধা হবে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: আমরা মুখে বলি না কাজে করি। ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা খরচ করে রাজ্য সরকার আপনাদের এটা আপনাদের উপহার দিল। মুড়িগঙ্গা নদীর উপর এই সেতু হল। কাকদ্বীপের লর্ট ৮ ও কচুবেড়িয়ার মধ্যে সেতু। ৫ কিমি লম্বা ও ৪ লেনের এই সেতুর খরচ হবে ৪০০ কোটি। এখন মানুষ বলেন গঙ্গাসাগর বারবার।